📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হিংসুক ও দুর্বলমনা লোকদের সমালোচনায় দুঃখিত হবেন না

📄 হিংসুক ও দুর্বলমনা লোকদের সমালোচনায় দুঃখিত হবেন না


যদি আপনি তাদের সমালোচনায় এবং তাদের অসংগত, অশিষ্ট ও ধৃষ্ট বক্তব্যে ধৈর্য প্রদর্শন করতে পারেন তবে আপনি পুরস্কৃত হবেন। তারা যতই আপনার সমালোচনা করবে ততই আপনার মূল্য বৃদ্ধি পাবে। কারণ, যে ব্যক্তি অকৌশলী ও অদক্ষ তার কোন হিংসুক নেই। আরবী প্রবাদ অনুসারে বলতে গেলে বলতে হয় : “লোকেরা মৃত কুকুরকে লাথি মারে না।”

একজন কবি বলেন— “তাদেরকে যে উৎকর্ষতায় ছাড়িয়ে গেছে তাঁকে তারা হিংসা করে, লোকেরা তাঁর সাথে শত্রুতা ও বিরোধিতা করে, ঠিক হিংসুটে রমণীদের মতো যারা হিংসা-বিদ্বেষের কারণে সুন্দরী কুমারীর সম্বন্ধে বলে যে, সে হীন চরিত্রের।”

যুহাইর বলেছেন— “সে নিয়ামতে ধন্য হয়েছে তা নিয়ে তারা হিংসা করে, আল্লাহ তাঁর থেকে তাদের অসন্তোষের কারণ (নেয়ামত) ছিনিয়ে নিবেন না।”

আরেকজন কবি বলেছেন— “তারা আমার মৃত্যুতেও হিংসা করবে, এটা কতই না হতভাগ্যের বিষয় যে, এমনকি আমার মৃত্যুতেও আমি তাদের হিংসা থেকে বাদ পড়ব না।”

আরো একজন কবি বলেছেন— “গল্প-বাগীশ ও গুজব রটনাকারীদের অবিচার সম্বন্ধে আমি অভিযোগ করলাম, তুমি এমন কোন সম্মানিত ও সফল ব্যক্তি পাবে না যে নাকি হিংসার ছোবল থেকে বাঁচতে পেরেছে। হে সম্মানিত ও যোগ্য বন্ধু! তুমিও এর শিকার, তবে গোবেচারা ও হতভাগ্যদের কেউ হিংসা করে না।”

অন্য একটি কবিতায় আছে— “কেউ যদি তাঁর মাহাত্ম্য আকাশে পৌঁছে যায়, তবে আকাশের তারার সমান সংখ্যায় তার শত্রু হবে, সর্বপ্রকার অত্যাচার সম্পর্কিত ধনুক দিয়ে তাঁর প্রতি (অত্যাচারের তীর) নিক্ষেপ করবে। তবুও তাদের অপব্যবহার ও গালাগালি কখনও তাদেরকে তাঁর মাহাত্ম্যের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না।”

নবী মূসা (আ) তাঁর প্রতিপালককে বলেছিলেন যে, লোকদেরকে তাঁকে গালাগালি করা থেকে বিরত রাখো। আল্লাহ বলেন, “হে মূসা! আমি আমার জন্যও এ কাজ করিনি। আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি ও তাদেরকে রিজিক দিয়েছি অথচ তারা আমাকে গালি দেয়।” নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সা) বলেছেন : “আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তান আমাকে গালিগালাজ করে, অথচ তার এ কাজ করার অধিকার নেই। সে যে যুগকে গালি দেয় এতেই আমাকে গালি দেওয়া হয়, কেননা, আমিই যুগ অর্থাৎ আমিই যুগকে পরিবর্তন ও আবর্তন করি। আমিই যেভাবে ইচ্ছা দিন-রাতের আবর্তন ঘটাই। তারা যে বলে আমার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা আছে—এতেই আমাকে গালি দেয়া হয়, কারণ, আমার কোন স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নেই’।”

আপনার মান-মর্যাদাকে আক্রমণ করা থেকে আপনি জনগণকে বিরত রাখতে সক্ষম নাও হতে পারেন, কিন্তু, আপনি ভালো কাজ করতে পারেন এবং পরিণামে তাদের নিন্দা ও বিদ্বেষকে অবজ্ঞা করতে পারেন।

আরেকজন কবি বলেছেন— “আমাকে গালি দেয় এমন এক বোকার পাশ দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম, ‘সে আমাকে গালি দিচ্ছে না।’ একথা (মনে মনে) বলে আমি সে স্থান অতিক্রম করে গেলাম।”

আরোও একজন কবি বলেন— “বোকার কথার জবাব দিও না, কেননা, তার কথার জবাব দেয়ার চেয়ে চুপ থাকা উত্তম।”

যারা সমৃদ্ধ, যারা মহৎ এবং যারা প্রতিভা দেখায় তাঁদের কাজে মূর্খ ও বোকারা স্পষ্টভাবে অপমান বোধ করতে পারে। “আমার চারিত্রিক সৌন্দর্যই যদি আমার পাপ হয়ে থাকে তবে অনুগ্রহ করে বলুন কিভাবে আমি তার ক্ষতিপূরণ করব।”

“প্রত্যেক সামনে ও পিছনে সমালোচনাকারীদের জন্য ধ্বংস! যে সম্পদ জমা করে বারবার গণনা করে রেখেছে। সে মনে করে যে, তার সম্পদ তাকে চিরঞ্জীব করে রাখবে। কখনও নহে! অবশ্যই সে দাউদাউ করে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে।” (১০৪-সূরা হুমাযাহ: আয়াত-১-৪)

একজন সুপ্রসিদ্ধ পাশ্চাত্য লেখক বলেছেন— "Do what is right, and then turn your back to every vulgar criticism." (যা সঠিক তা করো এবং প্রত্যেক অমার্জিত নিন্দাবাদকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো।)

আপনাকে লক্ষ্য করে যে ক্ষতিকর মন্তব্য করা হয় তার জবাব দিবেন না। সহনশীলতা আপনার দোষ ত্রুটিকে ঢেকে রাখবে। সহনশীলতা হলো মহত্তর গুণ। নীরবতা শত্রুকে জয় করে। ক্ষমা এমন এক সম্মান যার জন্য আপনি পুরস্কৃত হবেন। আপনার সম্বন্ধে যদি কোন মানহানিকর মন্তব্য ছাপানো হয় তবে আপনি জেনে রাখুন যে, অর্ধেক পাঠক তা ভুলে যাবে আর বাকি অর্ধেক প্রধানত তা পড়ার প্রতি অনাগ্রহী থাকবে। অতএব, যা বলা হয়েছে তা রদ করতে যেয়ে বাড়তি গন্ডগোল সৃষ্টি করবেন না।

একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন— “জনতা আপনার আমার কথা ভুলে তাদের রুটির জন্যই বা রোজগারের জন্যই ব্যস্ত। তাদের কেউ যদি পিপাসার্ত থাকে তবে তো সে আপনার আমার মৃত্যুর কথা ও ভুলে যাবে।”

একজন কবি বলেছেন— “তোমার পাশে বসা সঙ্গীদের নিকট তোমার বিষয় প্রচার করিও না। কেননা, তারা হিংসুটে এবং তোমার দুর্দশায় তারা আনন্দ করবে।”

যে গৃহ নানা প্রকার মূল্যবান খাদ্যে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও তা সমস্যা ও অশান্তির জায়গা সে ঘরের চেয়ে যে গৃহে শান্তি ও প্রয়োজনীয় খাবার আছে সে ঘর ভালো।

যদি আপনি তাদের সমালোচনায় এবং তাদের অসংগত, অশিষ্ট ও ধৃষ্ট বক্তব্যে ধৈর্য প্রদর্শন করতে পারেন তবে আপনি পুরস্কৃত হবেন। তারা যতই আপনার সমালোচনা করবে ততই আপনার মূল্য বৃদ্ধি পাবে। কারণ, যে ব্যক্তি অকৌশলী ও অদক্ষ তার কোন হিংসুক নেই। আরবী প্রবাদ অনুসারে বলতে গেলে বলতে হয় : “লোকেরা মৃত কুকুরকে লাথি মারে না।”

একজন কবি বলেন— “তাদেরকে যে উৎকর্ষতায় ছাড়িয়ে গেছে তাঁকে তারা হিংসা করে, লোকেরা তাঁর সাথে শত্রুতা ও বিরোধিতা করে, ঠিক হিংসুটে রমণীদের মতো যারা হিংসা-বিদ্বেষের কারণে সুন্দরী কুমারীর সম্বন্ধে বলে যে, সে হীন চরিত্রের।”

যুহাইর বলেছেন— “সে নিয়ামতে ধন্য হয়েছে তা নিয়ে তারা হিংসা করে, আল্লাহ তাঁর থেকে তাদের অসন্তোষের কারণ (নেয়ামত) ছিনিয়ে নিবেন না।”

আরেকজন কবি বলেছেন— “তারা আমার মৃত্যুতেও হিংসা করবে, এটা কতই না হতভাগ্যের বিষয় যে, এমনকি আমার মৃত্যুতেও আমি তাদের হিংসা থেকে বাদ পড়ব না।”

আরো একজন কবি বলেছেন— “গল্প-বাগীশ ও গুজব রটনাকারীদের অবিচার সম্বন্ধে আমি অভিযোগ করলাম, তুমি এমন কোন সম্মানিত ও সফল ব্যক্তি পাবে না যে নাকি হিংসার ছোবল থেকে বাঁচতে পেরেছে। হে সম্মানিত ও যোগ্য বন্ধু! তুমিও এর শিকার, তবে গোবেচারা ও হতভাগ্যদের কেউ হিংসা করে না।”

অন্য একটি কবিতায় আছে— “কেউ যদি তাঁর মাহাত্ম্য আকাশে পৌঁছে যায়, তবে আকাশের তারার সমান সংখ্যায় তার শত্রু হবে, সর্বপ্রকার অত্যাচার সম্পর্কিত ধনুক দিয়ে তাঁর প্রতি (অত্যাচারের তীর) নিক্ষেপ করবে। তবুও তাদের অপব্যবহার ও গালাগালি কখনও তাদেরকে তাঁর মাহাত্ম্যের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না।”

নবী মূসা (আ) তাঁর প্রতিপালককে বলেছিলেন যে, লোকদেরকে তাঁকে গালাগালি করা থেকে বিরত রাখো। আল্লাহ বলেন, “হে মূসা! আমি আমার জন্যও এ কাজ করিনি। আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি ও তাদেরকে রিজিক দিয়েছি অথচ তারা আমাকে গালি দেয়।” নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সা) বলেছেন : “আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তান আমাকে গালিগালাজ করে, অথচ তার এ কাজ করার অধিকার নেই। সে যে যুগকে গালি দেয় এতেই আমাকে গালি দেওয়া হয়, কেননা, আমিই যুগ অর্থাৎ আমিই যুগকে পরিবর্তন ও আবর্তন করি। আমিই যেভাবে ইচ্ছা দিন-রাতের আবর্তন ঘটাই। তারা যে বলে আমার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা আছে—এতেই আমাকে গালি দেয়া হয়, কারণ, আমার কোন স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নেই’।”

আপনার মান-মর্যাদাকে আক্রমণ করা থেকে আপনি জনগণকে বিরত রাখতে সক্ষম নাও হতে পারেন, কিন্তু, আপনি ভালো কাজ করতে পারেন এবং পরিণামে তাদের নিন্দা ও বিদ্বেষকে অবজ্ঞা করতে পারেন।

আরেকজন কবি বলেছেন— “আমাকে গালি দেয় এমন এক বোকার পাশ দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম, ‘সে আমাকে গালি দিচ্ছে না।’ একথা (মনে মনে) বলে আমি সে স্থান অতিক্রম করে গেলাম।”

আরোও একজন কবি বলেন— “বোকার কথার জবাব দিও না, কেননা, তার কথার জবাব দেয়ার চেয়ে চুপ থাকা উত্তম।”

যারা সমৃদ্ধ, যারা মহৎ এবং যারা প্রতিভা দেখায় তাঁদের কাজে মূর্খ ও বোকারা স্পষ্টভাবে অপমান বোধ করতে পারে। “আমার চারিত্রিক সৌন্দর্যই যদি আমার পাপ হয়ে থাকে তবে অনুগ্রহ করে বলুন কিভাবে আমি তার ক্ষতিপূরণ করব।”

“প্রত্যেক সামনে ও পিছনে সমালোচনাকারীদের জন্য ধ্বংস! যে সম্পদ জমা করে বারবার গণনা করে রেখেছে। সে মনে করে যে, তার সম্পদ তাকে চিরঞ্জীব করে রাখবে। কখনও নহে! অবশ্যই সে দাউদাউ করে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে।” (১০৪-সূরা হুমাযাহ: আয়াত-১-৪)

একজন সুপ্রসিদ্ধ পাশ্চাত্য লেখক বলেছেন— "Do what is right, and then turn your back to every vulgar criticism." (যা সঠিক তা করো এবং প্রত্যেক অমার্জিত নিন্দাবাদকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো।)

আপনাকে লক্ষ্য করে যে ক্ষতিকর মন্তব্য করা হয় তার জবাব দিবেন না। সহনশীলতা আপনার দোষ ত্রুটিকে ঢেকে রাখবে। সহনশীলতা হলো মহত্তর গুণ। নীরবতা শত্রুকে জয় করে। ক্ষমা এমন এক সম্মান যার জন্য আপনি পুরস্কৃত হবেন। আপনার সম্বন্ধে যদি কোন মানহানিকর মন্তব্য ছাপানো হয় তবে আপনি জেনে রাখুন যে, অর্ধেক পাঠক তা ভুলে যাবে আর বাকি অর্ধেক প্রধানত তা পড়ার প্রতি অনাগ্রহী থাকবে। অতএব, যা বলা হয়েছে তা রদ করতে যেয়ে বাড়তি গন্ডগোল সৃষ্টি করবেন না।

একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন— “জনতা আপনার আমার কথা ভুলে তাদের রুটির জন্যই বা রোজগারের জন্যই ব্যস্ত। তাদের কেউ যদি পিপাসার্ত থাকে তবে তো সে আপনার আমার মৃত্যুর কথা ও ভুলে যাবে।”

একজন কবি বলেছেন— “তোমার পাশে বসা সঙ্গীদের নিকট তোমার বিষয় প্রচার করিও না। কেননা, তারা হিংসুটে এবং তোমার দুর্দশায় তারা আনন্দ করবে।”

যে গৃহ নানা প্রকার মূল্যবান খাদ্যে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও তা সমস্যা ও অশান্তির জায়গা সে ঘরের চেয়ে যে গৃহে শান্তি ও প্রয়োজনীয় খাবার আছে সে ঘর ভালো।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্যদের তুলনায় আপনার পরীক্ষা সহজেই

📄 অন্যদের তুলনায় আপনার পরীক্ষা সহজেই


আপনি যদি একথা জেনে থাকেন যে, আপনার পরীক্ষা আপনার ধর্মীয় বিষয়ে নহে, বরং আপনার পার্থিব ব্যাপারে তবে সন্তুষ্ট থাকুন। যা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে তা রদ করার জন্য কোন ছল-চাতুরীই কাজে লাগান যেতে পারে না। একজন কবি বলেছেন— “পরিস্থিতি বদলানোর জন্য কোন কৌশলই অবলম্বন করো না, কেননা, সব কৌশল ত্যাগ করাই হলো আসল কৌশল।” একথা বুঝার চেষ্টা করুন যে, আপনার জন্য কি ভালো আর কি ভালো না তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আল্লাহরই— “এমনও হতে পারে যে, তোমাদের যা কল্যাণকর তাই তোমরা অপছন্দ করছ।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২১৬)

আপনি যদি একথা জেনে থাকেন যে, আপনার পরীক্ষা আপনার ধর্মীয় বিষয়ে নহে, বরং আপনার পার্থিব ব্যাপারে তবে সন্তুষ্ট থাকুন। যা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে তা রদ করার জন্য কোন ছল-চাতুরীই কাজে লাগান যেতে পারে না। একজন কবি বলেছেন— “পরিস্থিতি বদলানোর জন্য কোন কৌশলই অবলম্বন করো না, কেননা, সব কৌশল ত্যাগ করাই হলো আসল কৌশল।” একথা বুঝার চেষ্টা করুন যে, আপনার জন্য কি ভালো আর কি ভালো না তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আল্লাহরই— “এমনও হতে পারে যে, তোমাদের যা কল্যাণকর তাই তোমরা অপছন্দ করছ।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২১৬)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্যদের ব্যক্তিত্বের অনুকরণ করবেন না

📄 অন্যদের ব্যক্তিত্বের অনুকরণ করবেন না


“প্রত্যেক জাতির জন্যই একটি দিক আছে যেদিকে সে মুখ করে। অতএব, তোমরা নেক কাজে প্রতিযোগিতা কর।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-১৪৮)
“এবং তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন এবং তোমাদের কাউকে মর্যাদায় অন্যের উপরে স্থান দিয়েছেন।” (৬-সূরা আল আ'নআম : আয়াত-১৬৫)
“প্রতিটি লোকই তাদের পানির ঘাট চিনে নিয়েছিল।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-৬০)

প্রতিটি লোকেরই তার নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পছন্দ-অপছন্দ আছে। নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্রের একটি দিক ছিল তাঁর পরিচালনা করার যোগ্যতা; তিনি সাহাবীদেরকে প্রত্যেকের মেধা ও যোগ্যতা অনুসারে কাজে লাগাতেন। আলী (রা) সৎ ও বিজ্ঞ ছিলেন; তাই নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায (রা)-কে ইলমের জন্য, উবাই (রা)-কে কুরআনের জন্য, যায়িদ (রা)-কে ফারায়েযের জন্য, খালিদ (রা)-কে জিহাদের জন্য, হাসসান (রা)-কে কবিতার জন্য এবং কায়েস ইবনে সাবিত (রা)-কে জনসমক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য কাজে লাগিয়ে ছিলেন।

যে কোন কারণেই হোক, অন্যের ব্যক্তিত্বে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া আত্মহত্যার শামিল। অন্যের প্রাকৃতিক স্বভাবকে অনুকরণ করা নিজেকে মৃত্যুর আঘাত হানার শামিল। আল্লাহর যে সমস্ত নিদর্শনাবলিতে সকলের বিস্মিত হওয়া উচিত তার মধ্যে মানুষের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যাবলি অন্যতম যেমন তাদের মেধা, তারা যে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে তা এবং তাদের বিভিন্ন রং। উদাহরণস্বরূপ, আবু বকর (রা) তাঁর ভদ্রতা ও উদারতার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম জাতির অনেক উপকার করেছেন। অপর পক্ষে, ওমর (রা) তাঁর দৃঢ় আচরণ, কঠোর আত্মসংযম ও অনাড়ম্বরতার দ্বারা ইসলাম ও এর অনুসারীদেরকে সাহায্য করেছেন। তাই আপনার সহজাত প্রতিভা ও অক্ষমতাতে সন্তুষ্ট থাকুন। সেগুলোকে উন্নত করুন। সেগুলোকে প্রসারিত করুন এবং সেগুলো হতে উপকৃত হোন।
“আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপান না।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৮৬)

“প্রত্যেক জাতির জন্যই একটি দিক আছে যেদিকে সে মুখ করে। অতএব, তোমরা নেক কাজে প্রতিযোগিতা কর।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-১৪৮)
“এবং তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন এবং তোমাদের কাউকে মর্যাদায় অন্যের উপরে স্থান দিয়েছেন।” (৬-সূরা আল আ'নআম : আয়াত-১৬৫)
“প্রতিটি লোকই তাদের পানির ঘাট চিনে নিয়েছিল।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-৬০)

প্রতিটি লোকেরই তার নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পছন্দ-অপছন্দ আছে। নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্রের একটি দিক ছিল তাঁর পরিচালনা করার যোগ্যতা; তিনি সাহাবীদেরকে প্রত্যেকের মেধা ও যোগ্যতা অনুসারে কাজে লাগাতেন। আলী (রা) সৎ ও বিজ্ঞ ছিলেন; তাই নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায (রা)-কে ইলমের জন্য, উবাই (রা)-কে কুরআনের জন্য, যায়িদ (রা)-কে ফারায়েযের জন্য, খালিদ (রা)-কে জিহাদের জন্য, হাসসান (রা)-কে কবিতার জন্য এবং কায়েস ইবনে সাবিত (রা)-কে জনসমক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য কাজে লাগিয়ে ছিলেন।

যে কোন কারণেই হোক, অন্যের ব্যক্তিত্বে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া আত্মহত্যার শামিল। অন্যের প্রাকৃতিক স্বভাবকে অনুকরণ করা নিজেকে মৃত্যুর আঘাত হানার শামিল। আল্লাহর যে সমস্ত নিদর্শনাবলিতে সকলের বিস্মিত হওয়া উচিত তার মধ্যে মানুষের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যাবলি অন্যতম যেমন তাদের মেধা, তারা যে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে তা এবং তাদের বিভিন্ন রং। উদাহরণস্বরূপ, আবু বকর (রা) তাঁর ভদ্রতা ও উদারতার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম জাতির অনেক উপকার করেছেন। অপর পক্ষে, ওমর (রা) তাঁর দৃঢ় আচরণ, কঠোর আত্মসংযম ও অনাড়ম্বরতার দ্বারা ইসলাম ও এর অনুসারীদেরকে সাহায্য করেছেন। তাই আপনার সহজাত প্রতিভা ও অক্ষমতাতে সন্তুষ্ট থাকুন। সেগুলোকে উন্নত করুন। সেগুলোকে প্রসারিত করুন এবং সেগুলো হতে উপকৃত হোন।
“আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপান না।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৮৬)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 গঠনমূলক সমালোচনাকে সাদরে গ্রহণ করুন

📄 গঠনমূলক সমালোচনাকে সাদরে গ্রহণ করুন


এন্ডি মেরো বলেছেন— “যা কিছু আমাদের ব্যক্তিগত স্বভাবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বা সামঞ্জস্যপূর্ণ তাই আমাদের কাছে সত্য মনে হয় আর অন্য সবকিছু শুধুমাত্র আমাদের ক্রোধ উৎপন্ন করে।”

যখন আমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয় বা আমাদের সমালোচনা করা হয় তখনকার অবস্থার সাথে এ উদাহরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা প্রশংসাকে অত্যন্ত ভালোবাসি এবং যখন আমাদের প্রশংসা করা হয় তখন আমাদের মনটা বড় হয়ে যায় এমনকি আমাদেরকে অযৌক্তিক প্রশংসা করা হলেও। অপরপক্ষে আমরা সমালোচনা ও নিন্দাকে ঘৃণা করি এমনকি আমাদের সম্বন্ধে যা বলা হয় তা সত্য হয়ে থাকলেও।

“এবং যখন তাদের মাঝে ফয়সালা করে দেওয়ার জন্য তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট আহ্বান করা হয় তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর যদি তাদের কোনো হক্ব বা প্রাপ্য থাকে তবে তারা তাঁর নিকট বিনীতভাবে আসে।” (২৪-সূরা আন নূর : আয়াত-৪৮-৪৯)

উইলিয়াম জেমস বলেছেন— “আপনার প্রচেষ্টার ফলাফল সম্বন্ধে যে উদ্বিগ্নতা আপনাকে পেয়ে বসে ও আপনাকে পরাভূত বা পরাজিত করে তা থেকে আপনি তখন সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবেন—যখন আপনি কোনো নির্দিষ্ট দিনে কোনো কিছু করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।” তিনি যা বুঝাতে চাচ্ছেন তা হচ্ছে যখন আপনি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ও সুস্থ প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করবেন তখন আপনার সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করা উচিত। অধিকন্তু আপনাকে অবশ্যই সন্দেহের কাছে পরাজিত হওয়া যাবে না। কেননা, সন্দেহ শুধু আরো সন্দেহেরই জন্ম দেয় এবং তারপর পিছনের দিকে ফিরে তাকানো যাবে না।

আরব দেশের একজন কবি বলেছেন— “যদি তুমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পার, তবে স্থির সিদ্ধান্ত নাও বা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও, কেননা ভুল সিদ্ধান্ত পরিবর্তনশীল।” সিদ্ধান্ত নিতে সাহস প্রদর্শন আপনাকে উদ্বিগ্নতা ও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে সন্দেহাতীতভাবে রক্ষা করতে পারে। “স্থির সিদ্ধান্ত নেবার পর যদি তারা আল্লাহর সত্যতা স্বীকার করত (বা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করত) তবে তা তাদের জন্য অবশ্যই কল্যাণকর হতো।” (৪৭-সূরা মুহাম্মাদ বা কেতাল : আয়াত-২১)

এন্ডি মেরো বলেছেন— “যা কিছু আমাদের ব্যক্তিগত স্বভাবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বা সামঞ্জস্যপূর্ণ তাই আমাদের কাছে সত্য মনে হয় আর অন্য সবকিছু শুধুমাত্র আমাদের ক্রোধ উৎপন্ন করে।”

যখন আমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয় বা আমাদের সমালোচনা করা হয় তখনকার অবস্থার সাথে এ উদাহরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা প্রশংসাকে অত্যন্ত ভালোবাসি এবং যখন আমাদের প্রশংসা করা হয় তখন আমাদের মনটা বড় হয়ে যায় এমনকি আমাদেরকে অযৌক্তিক প্রশংসা করা হলেও। অপরপক্ষে আমরা সমালোচনা ও নিন্দাকে ঘৃণা করি এমনকি আমাদের সম্বন্ধে যা বলা হয় তা সত্য হয়ে থাকলেও।

“এবং যখন তাদের মাঝে ফয়সালা করে দেওয়ার জন্য তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট আহ্বান করা হয় তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর যদি তাদের কোনো হক্ব বা প্রাপ্য থাকে তবে তারা তাঁর নিকট বিনীতভাবে আসে।” (২৪-সূরা আন নূর : আয়াত-৪৮-৪৯)

উইলিয়াম জেমস বলেছেন— “আপনার প্রচেষ্টার ফলাফল সম্বন্ধে যে উদ্বিগ্নতা আপনাকে পেয়ে বসে ও আপনাকে পরাভূত বা পরাজিত করে তা থেকে আপনি তখন সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবেন—যখন আপনি কোনো নির্দিষ্ট দিনে কোনো কিছু করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।” তিনি যা বুঝাতে চাচ্ছেন তা হচ্ছে যখন আপনি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ও সুস্থ প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করবেন তখন আপনার সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করা উচিত। অধিকন্তু আপনাকে অবশ্যই সন্দেহের কাছে পরাজিত হওয়া যাবে না। কেননা, সন্দেহ শুধু আরো সন্দেহেরই জন্ম দেয় এবং তারপর পিছনের দিকে ফিরে তাকানো যাবে না।

আরব দেশের একজন কবি বলেছেন— “যদি তুমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পার, তবে স্থির সিদ্ধান্ত নাও বা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও, কেননা ভুল সিদ্ধান্ত পরিবর্তনশীল।” সিদ্ধান্ত নিতে সাহস প্রদর্শন আপনাকে উদ্বিগ্নতা ও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে সন্দেহাতীতভাবে রক্ষা করতে পারে। “স্থির সিদ্ধান্ত নেবার পর যদি তারা আল্লাহর সত্যতা স্বীকার করত (বা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করত) তবে তা তাদের জন্য অবশ্যই কল্যাণকর হতো।” (৪৭-সূরা মুহাম্মাদ বা কেতাল : আয়াত-২১)

ফন্ট সাইজ
15px
17px