📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 কারো ধন্যবাদ পাবার আশা করবেন না

📄 কারো ধন্যবাদ পাবার আশা করবেন না


সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর যিকির (স্মরণ) করার জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তাদেরকে এজন্য রিযিক দিয়েছেন যে, তারা তাঁর শুকরিয়া আদায় করবে। এতদসত্ত্বেও অনেকে তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদত করছে। অধিকাংশ লোকই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞশীল নয়, কেননা, মানবজাতির মধ্যে অকৃতজ্ঞতার বৈশিষ্ট্য খুবই জোরালো। অতএব, আপনি যখন দেখবেন যে, অন্যেরা আপনার করুণাসমূহকে ভুলে যাচ্ছে ও আপনার সদয় আচরণসমূহকে অবজ্ঞা করছে তখন হতাশ হবেন না। কিছু লোক তো আপনাকে এমনকি ঘৃণার সাথেও দেখতে পারে এবং আপনি যে তাদের প্রতি দয়া দেখিয়েছেন শুধুমাত্র একারণেই আপনাকে শত্রু ভাবতে পারে।

“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ তাদেরকে নিজ গুণে সম্পদশালী করেছিলেন, শুধুমাত্র এ কারণ ছাড়া তারা আক্রোশ পোষণ করার অন্য কোনো কারণ খুঁজে পায়নি।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৭৪)

ইতিহাসের পাতায় এরূপ যে ঘটনা সর্বাপেক্ষা বেশি ঘটে তা হলো পিতা-পুত্রের ঘটনা। পিতা পুত্রকে বড় করে তোলে, প্রতিষ্ঠিত করে, পুত্রের মুখে খাবার তুলে দেয়, তার পোশাক পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করে এবং তাকে উত্তম শিক্ষা দেয়, পিতা রাতকে রাত বিনিদ্র অবস্থায় কাটায় যাতে করে তাঁর পুত্র আরামে ঘুমাতে পারে, পুত্রের খাবারের জন্য নিজে না খেয়ে থাকে এবং পুত্রের আরামের জন্য নিজে কঠোর পরিশ্রম করে। আর যখন ছেলে বড় হয় ও শক্তিশালী হয় তখন পিতাকে অবাধ্যতা, অসম্মান ও অবজ্ঞার মাধ্যমে পুরস্কৃত করে!

সুতরাং আপনি যে ভালো কাজ করেছেন তার বিনিময় যদি আপনাকে অকৃতজ্ঞতার মাধ্যমে দেয়া হয় তবে আপনি শান্ত থাকুন। একথা জেনে আনন্দিত হবেন যে, যাঁর অধিকারে সীমাহীন সম্পদ আছে তিনিই আপনাকে পুরস্কৃত করবেন। একথা বলবেন না যে, অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা থেকে আপনার বিরত থাকা উচিত। বরং আসল কথা হলো অকৃতজ্ঞতা পাবার জন্যই দান করুন। কেননা, এ মনোভাব থাকলেই আপনি নিশ্চিতভাবে সফল হবেন। অকৃতজ্ঞ লোকেরা আসলে আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এজন্য আপনি আল্লাহর প্রশংসা করুন যে, সে লোক সীমালঙ্ঘনকারী আর আপনি অনুগত বান্দা। একথাও মনে রাখুন যে, দান গ্রহণকারীর চেয়ে দানকারী উত্তম।

“আমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই তোমাদেরকে খাদ্য খাওয়াই। আমরা তোমাদের নিকট না কোনো পুরস্কার আশা করি, আর না কোনো ধন্যবাদ।” (৭৬-সূরা আদ দাহর বা ইনসান : আয়াত-৯)

অনেকেই অন্যের অকৃতজ্ঞতায় মর্মাহত হন, যেন তারা কখনও এই আয়াত বা এমন অন্যান্য আয়াত দেখেনি, আর তা হলো— “আর যখন মানুষকে কোনো মুসিবত (বিপদ) পেয়ে বসে তখন সে শুয়ে, বসে ও দাঁড়ানো অবস্থায় আমার নিকট আকুল আবেদন করে, কিন্তু আমি যখন তার থেকে মুসিবত দূর করে দিই তখন সে এমনভাবে চলে যেন সে কখনও তার উপর আপতিত মুসিবতের জন্য আমার নিকট প্রার্থনা করেনি!” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-১২)

এ কারণেই, যদি আপনি কাউকে উপহারস্বরূপ একটি কলম দেন আর সে এটাকে আপনার জন্য বিদ্রূপের বিষয় বানায় অথবা আপনি যদি কাউকে ভর দিয়ে হাঁটার জন্য একটি লাঠি দেন আর সে এ লাঠি দিয়ে আপনাকে প্রহার করে তবে আপনি রাগান্বিত হবেন না। অধিকাংশ মানুষই তাদের প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ। সুতরাং আপনি ও আমি কী ধরনের আচরণ আশা করতে পারি?

সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর যিকির (স্মরণ) করার জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তাদেরকে এজন্য রিযিক দিয়েছেন যে, তারা তাঁর শুকরিয়া আদায় করবে। এতদসত্ত্বেও অনেকে তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদত করছে। অধিকাংশ লোকই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞশীল নয়, কেননা, মানবজাতির মধ্যে অকৃতজ্ঞতার বৈশিষ্ট্য খুবই জোরালো। অতএব, আপনি যখন দেখবেন যে, অন্যেরা আপনার করুণাসমূহকে ভুলে যাচ্ছে ও আপনার সদয় আচরণসমূহকে অবজ্ঞা করছে তখন হতাশ হবেন না। কিছু লোক তো আপনাকে এমনকি ঘৃণার সাথেও দেখতে পারে এবং আপনি যে তাদের প্রতি দয়া দেখিয়েছেন শুধুমাত্র একারণেই আপনাকে শত্রু ভাবতে পারে।

“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ তাদেরকে নিজ গুণে সম্পদশালী করেছিলেন, শুধুমাত্র এ কারণ ছাড়া তারা আক্রোশ পোষণ করার অন্য কোনো কারণ খুঁজে পায়নি।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৭৪)

ইতিহাসের পাতায় এরূপ যে ঘটনা সর্বাপেক্ষা বেশি ঘটে তা হলো পিতা-পুত্রের ঘটনা। পিতা পুত্রকে বড় করে তোলে, প্রতিষ্ঠিত করে, পুত্রের মুখে খাবার তুলে দেয়, তার পোশাক পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করে এবং তাকে উত্তম শিক্ষা দেয়, পিতা রাতকে রাত বিনিদ্র অবস্থায় কাটায় যাতে করে তাঁর পুত্র আরামে ঘুমাতে পারে, পুত্রের খাবারের জন্য নিজে না খেয়ে থাকে এবং পুত্রের আরামের জন্য নিজে কঠোর পরিশ্রম করে। আর যখন ছেলে বড় হয় ও শক্তিশালী হয় তখন পিতাকে অবাধ্যতা, অসম্মান ও অবজ্ঞার মাধ্যমে পুরস্কৃত করে!

সুতরাং আপনি যে ভালো কাজ করেছেন তার বিনিময় যদি আপনাকে অকৃতজ্ঞতার মাধ্যমে দেয়া হয় তবে আপনি শান্ত থাকুন। একথা জেনে আনন্দিত হবেন যে, যাঁর অধিকারে সীমাহীন সম্পদ আছে তিনিই আপনাকে পুরস্কৃত করবেন। একথা বলবেন না যে, অন্যের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা থেকে আপনার বিরত থাকা উচিত। বরং আসল কথা হলো অকৃতজ্ঞতা পাবার জন্যই দান করুন। কেননা, এ মনোভাব থাকলেই আপনি নিশ্চিতভাবে সফল হবেন। অকৃতজ্ঞ লোকেরা আসলে আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এজন্য আপনি আল্লাহর প্রশংসা করুন যে, সে লোক সীমালঙ্ঘনকারী আর আপনি অনুগত বান্দা। একথাও মনে রাখুন যে, দান গ্রহণকারীর চেয়ে দানকারী উত্তম।

“আমরা তো শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই তোমাদেরকে খাদ্য খাওয়াই। আমরা তোমাদের নিকট না কোনো পুরস্কার আশা করি, আর না কোনো ধন্যবাদ।” (৭৬-সূরা আদ দাহর বা ইনসান : আয়াত-৯)

অনেকেই অন্যের অকৃতজ্ঞতায় মর্মাহত হন, যেন তারা কখনও এই আয়াত বা এমন অন্যান্য আয়াত দেখেনি, আর তা হলো— “আর যখন মানুষকে কোনো মুসিবত (বিপদ) পেয়ে বসে তখন সে শুয়ে, বসে ও দাঁড়ানো অবস্থায় আমার নিকট আকুল আবেদন করে, কিন্তু আমি যখন তার থেকে মুসিবত দূর করে দিই তখন সে এমনভাবে চলে যেন সে কখনও তার উপর আপতিত মুসিবতের জন্য আমার নিকট প্রার্থনা করেনি!” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-১২)

এ কারণেই, যদি আপনি কাউকে উপহারস্বরূপ একটি কলম দেন আর সে এটাকে আপনার জন্য বিদ্রূপের বিষয় বানায় অথবা আপনি যদি কাউকে ভর দিয়ে হাঁটার জন্য একটি লাঠি দেন আর সে এ লাঠি দিয়ে আপনাকে প্রহার করে তবে আপনি রাগান্বিত হবেন না। অধিকাংশ মানুষই তাদের প্রতিপালকের প্রতি অকৃতজ্ঞ। সুতরাং আপনি ও আমি কী ধরনের আচরণ আশা করতে পারি?

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্যদের দোষারোপ ও অবজ্ঞায় দুঃখ করবেন না

📄 অন্যদের দোষারোপ ও অবজ্ঞায় দুঃখ করবেন না


“সামান্য কষ্ট দেওয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবে না।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১১১)
“তারা যে ষড়যন্ত্র করে তাতে আপনি মনোকষ্ট পাবেন না।” (১৬-সূরা আন নাহল : ১২৭)
“এবং তাদেরকে কষ্ট দিবেন না (বা তাদের কষ্টকে উপেক্ষা করুন) এবং আল্লাহর উপর ভরসা করুন।” (৩৩-সুরা আল আহযাব : ৪৮)
“অতঃপর আল্লাহ তাকে [অর্থাৎ মূসা (আ)-কে] তাদের অভিযোগ থেকে নির্ভুল প্রমাণিত করলেন।” (৩৩-সুরা আল আহযাব : ৬৯)

একজন আরবদেশী কবি বলেছেন— “বালকেরা যখন বিশাল সাগরে পাথরের নুড়ি নিক্ষেপ করে তখন এ বিশাল সাগরের কোন ক্ষতি হয় না।” একখানি হাসান হাদীসে আছে নবী কারীম ﷺ বলেছেন— “আমার নিকট আমার সাহাবীদের দোষ বর্ণনা করো না, আমি প্রশান্ত চিত্তে তোমাদেরকে ত্যাগ করে চলে যেতে চাই।”

“সামান্য কষ্ট দেওয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবে না।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১১১)
“তারা যে ষড়যন্ত্র করে তাতে আপনি মনোকষ্ট পাবেন না।” (১৬-সূরা আন নাহল : ১২৭)
“এবং তাদেরকে কষ্ট দিবেন না (বা তাদের কষ্টকে উপেক্ষা করুন) এবং আল্লাহর উপর ভরসা করুন।” (৩৩-সুরা আল আহযাব : ৪৮)
“অতঃপর আল্লাহ তাকে [অর্থাৎ মূসা (আ)-কে] তাদের অভিযোগ থেকে নির্ভুল প্রমাণিত করলেন।” (৩৩-সুরা আল আহযাব : ৬৯)

একজন আরবদেশী কবি বলেছেন— “বালকেরা যখন বিশাল সাগরে পাথরের নুড়ি নিক্ষেপ করে তখন এ বিশাল সাগরের কোন ক্ষতি হয় না।” একখানি হাসান হাদীসে আছে নবী কারীম ﷺ বলেছেন— “আমার নিকট আমার সাহাবীদের দোষ বর্ণনা করো না, আমি প্রশান্ত চিত্তে তোমাদেরকে ত্যাগ করে চলে যেতে চাই।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হিংসুক ও দুর্বলমনা লোকদের সমালোচনায় দুঃখিত হবেন না

📄 হিংসুক ও দুর্বলমনা লোকদের সমালোচনায় দুঃখিত হবেন না


যদি আপনি তাদের সমালোচনায় এবং তাদের অসংগত, অশিষ্ট ও ধৃষ্ট বক্তব্যে ধৈর্য প্রদর্শন করতে পারেন তবে আপনি পুরস্কৃত হবেন। তারা যতই আপনার সমালোচনা করবে ততই আপনার মূল্য বৃদ্ধি পাবে। কারণ, যে ব্যক্তি অকৌশলী ও অদক্ষ তার কোন হিংসুক নেই। আরবী প্রবাদ অনুসারে বলতে গেলে বলতে হয় : “লোকেরা মৃত কুকুরকে লাথি মারে না।”

একজন কবি বলেন— “তাদেরকে যে উৎকর্ষতায় ছাড়িয়ে গেছে তাঁকে তারা হিংসা করে, লোকেরা তাঁর সাথে শত্রুতা ও বিরোধিতা করে, ঠিক হিংসুটে রমণীদের মতো যারা হিংসা-বিদ্বেষের কারণে সুন্দরী কুমারীর সম্বন্ধে বলে যে, সে হীন চরিত্রের।”

যুহাইর বলেছেন— “সে নিয়ামতে ধন্য হয়েছে তা নিয়ে তারা হিংসা করে, আল্লাহ তাঁর থেকে তাদের অসন্তোষের কারণ (নেয়ামত) ছিনিয়ে নিবেন না।”

আরেকজন কবি বলেছেন— “তারা আমার মৃত্যুতেও হিংসা করবে, এটা কতই না হতভাগ্যের বিষয় যে, এমনকি আমার মৃত্যুতেও আমি তাদের হিংসা থেকে বাদ পড়ব না।”

আরো একজন কবি বলেছেন— “গল্প-বাগীশ ও গুজব রটনাকারীদের অবিচার সম্বন্ধে আমি অভিযোগ করলাম, তুমি এমন কোন সম্মানিত ও সফল ব্যক্তি পাবে না যে নাকি হিংসার ছোবল থেকে বাঁচতে পেরেছে। হে সম্মানিত ও যোগ্য বন্ধু! তুমিও এর শিকার, তবে গোবেচারা ও হতভাগ্যদের কেউ হিংসা করে না।”

অন্য একটি কবিতায় আছে— “কেউ যদি তাঁর মাহাত্ম্য আকাশে পৌঁছে যায়, তবে আকাশের তারার সমান সংখ্যায় তার শত্রু হবে, সর্বপ্রকার অত্যাচার সম্পর্কিত ধনুক দিয়ে তাঁর প্রতি (অত্যাচারের তীর) নিক্ষেপ করবে। তবুও তাদের অপব্যবহার ও গালাগালি কখনও তাদেরকে তাঁর মাহাত্ম্যের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না।”

নবী মূসা (আ) তাঁর প্রতিপালককে বলেছিলেন যে, লোকদেরকে তাঁকে গালাগালি করা থেকে বিরত রাখো। আল্লাহ বলেন, “হে মূসা! আমি আমার জন্যও এ কাজ করিনি। আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি ও তাদেরকে রিজিক দিয়েছি অথচ তারা আমাকে গালি দেয়।” নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সা) বলেছেন : “আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তান আমাকে গালিগালাজ করে, অথচ তার এ কাজ করার অধিকার নেই। সে যে যুগকে গালি দেয় এতেই আমাকে গালি দেওয়া হয়, কেননা, আমিই যুগ অর্থাৎ আমিই যুগকে পরিবর্তন ও আবর্তন করি। আমিই যেভাবে ইচ্ছা দিন-রাতের আবর্তন ঘটাই। তারা যে বলে আমার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা আছে—এতেই আমাকে গালি দেয়া হয়, কারণ, আমার কোন স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নেই’।”

আপনার মান-মর্যাদাকে আক্রমণ করা থেকে আপনি জনগণকে বিরত রাখতে সক্ষম নাও হতে পারেন, কিন্তু, আপনি ভালো কাজ করতে পারেন এবং পরিণামে তাদের নিন্দা ও বিদ্বেষকে অবজ্ঞা করতে পারেন।

আরেকজন কবি বলেছেন— “আমাকে গালি দেয় এমন এক বোকার পাশ দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম, ‘সে আমাকে গালি দিচ্ছে না।’ একথা (মনে মনে) বলে আমি সে স্থান অতিক্রম করে গেলাম।”

আরোও একজন কবি বলেন— “বোকার কথার জবাব দিও না, কেননা, তার কথার জবাব দেয়ার চেয়ে চুপ থাকা উত্তম।”

যারা সমৃদ্ধ, যারা মহৎ এবং যারা প্রতিভা দেখায় তাঁদের কাজে মূর্খ ও বোকারা স্পষ্টভাবে অপমান বোধ করতে পারে। “আমার চারিত্রিক সৌন্দর্যই যদি আমার পাপ হয়ে থাকে তবে অনুগ্রহ করে বলুন কিভাবে আমি তার ক্ষতিপূরণ করব।”

“প্রত্যেক সামনে ও পিছনে সমালোচনাকারীদের জন্য ধ্বংস! যে সম্পদ জমা করে বারবার গণনা করে রেখেছে। সে মনে করে যে, তার সম্পদ তাকে চিরঞ্জীব করে রাখবে। কখনও নহে! অবশ্যই সে দাউদাউ করে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে।” (১০৪-সূরা হুমাযাহ: আয়াত-১-৪)

একজন সুপ্রসিদ্ধ পাশ্চাত্য লেখক বলেছেন— "Do what is right, and then turn your back to every vulgar criticism." (যা সঠিক তা করো এবং প্রত্যেক অমার্জিত নিন্দাবাদকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো।)

আপনাকে লক্ষ্য করে যে ক্ষতিকর মন্তব্য করা হয় তার জবাব দিবেন না। সহনশীলতা আপনার দোষ ত্রুটিকে ঢেকে রাখবে। সহনশীলতা হলো মহত্তর গুণ। নীরবতা শত্রুকে জয় করে। ক্ষমা এমন এক সম্মান যার জন্য আপনি পুরস্কৃত হবেন। আপনার সম্বন্ধে যদি কোন মানহানিকর মন্তব্য ছাপানো হয় তবে আপনি জেনে রাখুন যে, অর্ধেক পাঠক তা ভুলে যাবে আর বাকি অর্ধেক প্রধানত তা পড়ার প্রতি অনাগ্রহী থাকবে। অতএব, যা বলা হয়েছে তা রদ করতে যেয়ে বাড়তি গন্ডগোল সৃষ্টি করবেন না।

একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন— “জনতা আপনার আমার কথা ভুলে তাদের রুটির জন্যই বা রোজগারের জন্যই ব্যস্ত। তাদের কেউ যদি পিপাসার্ত থাকে তবে তো সে আপনার আমার মৃত্যুর কথা ও ভুলে যাবে।”

একজন কবি বলেছেন— “তোমার পাশে বসা সঙ্গীদের নিকট তোমার বিষয় প্রচার করিও না। কেননা, তারা হিংসুটে এবং তোমার দুর্দশায় তারা আনন্দ করবে।”

যে গৃহ নানা প্রকার মূল্যবান খাদ্যে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও তা সমস্যা ও অশান্তির জায়গা সে ঘরের চেয়ে যে গৃহে শান্তি ও প্রয়োজনীয় খাবার আছে সে ঘর ভালো।

যদি আপনি তাদের সমালোচনায় এবং তাদের অসংগত, অশিষ্ট ও ধৃষ্ট বক্তব্যে ধৈর্য প্রদর্শন করতে পারেন তবে আপনি পুরস্কৃত হবেন। তারা যতই আপনার সমালোচনা করবে ততই আপনার মূল্য বৃদ্ধি পাবে। কারণ, যে ব্যক্তি অকৌশলী ও অদক্ষ তার কোন হিংসুক নেই। আরবী প্রবাদ অনুসারে বলতে গেলে বলতে হয় : “লোকেরা মৃত কুকুরকে লাথি মারে না।”

একজন কবি বলেন— “তাদেরকে যে উৎকর্ষতায় ছাড়িয়ে গেছে তাঁকে তারা হিংসা করে, লোকেরা তাঁর সাথে শত্রুতা ও বিরোধিতা করে, ঠিক হিংসুটে রমণীদের মতো যারা হিংসা-বিদ্বেষের কারণে সুন্দরী কুমারীর সম্বন্ধে বলে যে, সে হীন চরিত্রের।”

যুহাইর বলেছেন— “সে নিয়ামতে ধন্য হয়েছে তা নিয়ে তারা হিংসা করে, আল্লাহ তাঁর থেকে তাদের অসন্তোষের কারণ (নেয়ামত) ছিনিয়ে নিবেন না।”

আরেকজন কবি বলেছেন— “তারা আমার মৃত্যুতেও হিংসা করবে, এটা কতই না হতভাগ্যের বিষয় যে, এমনকি আমার মৃত্যুতেও আমি তাদের হিংসা থেকে বাদ পড়ব না।”

আরো একজন কবি বলেছেন— “গল্প-বাগীশ ও গুজব রটনাকারীদের অবিচার সম্বন্ধে আমি অভিযোগ করলাম, তুমি এমন কোন সম্মানিত ও সফল ব্যক্তি পাবে না যে নাকি হিংসার ছোবল থেকে বাঁচতে পেরেছে। হে সম্মানিত ও যোগ্য বন্ধু! তুমিও এর শিকার, তবে গোবেচারা ও হতভাগ্যদের কেউ হিংসা করে না।”

অন্য একটি কবিতায় আছে— “কেউ যদি তাঁর মাহাত্ম্য আকাশে পৌঁছে যায়, তবে আকাশের তারার সমান সংখ্যায় তার শত্রু হবে, সর্বপ্রকার অত্যাচার সম্পর্কিত ধনুক দিয়ে তাঁর প্রতি (অত্যাচারের তীর) নিক্ষেপ করবে। তবুও তাদের অপব্যবহার ও গালাগালি কখনও তাদেরকে তাঁর মাহাত্ম্যের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না।”

নবী মূসা (আ) তাঁর প্রতিপালককে বলেছিলেন যে, লোকদেরকে তাঁকে গালাগালি করা থেকে বিরত রাখো। আল্লাহ বলেন, “হে মূসা! আমি আমার জন্যও এ কাজ করিনি। আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি ও তাদেরকে রিজিক দিয়েছি অথচ তারা আমাকে গালি দেয়।” নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সা) বলেছেন : “আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তান আমাকে গালিগালাজ করে, অথচ তার এ কাজ করার অধিকার নেই। সে যে যুগকে গালি দেয় এতেই আমাকে গালি দেওয়া হয়, কেননা, আমিই যুগ অর্থাৎ আমিই যুগকে পরিবর্তন ও আবর্তন করি। আমিই যেভাবে ইচ্ছা দিন-রাতের আবর্তন ঘটাই। তারা যে বলে আমার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা আছে—এতেই আমাকে গালি দেয়া হয়, কারণ, আমার কোন স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নেই’।”

আপনার মান-মর্যাদাকে আক্রমণ করা থেকে আপনি জনগণকে বিরত রাখতে সক্ষম নাও হতে পারেন, কিন্তু, আপনি ভালো কাজ করতে পারেন এবং পরিণামে তাদের নিন্দা ও বিদ্বেষকে অবজ্ঞা করতে পারেন।

আরেকজন কবি বলেছেন— “আমাকে গালি দেয় এমন এক বোকার পাশ দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম, ‘সে আমাকে গালি দিচ্ছে না।’ একথা (মনে মনে) বলে আমি সে স্থান অতিক্রম করে গেলাম।”

আরোও একজন কবি বলেন— “বোকার কথার জবাব দিও না, কেননা, তার কথার জবাব দেয়ার চেয়ে চুপ থাকা উত্তম।”

যারা সমৃদ্ধ, যারা মহৎ এবং যারা প্রতিভা দেখায় তাঁদের কাজে মূর্খ ও বোকারা স্পষ্টভাবে অপমান বোধ করতে পারে। “আমার চারিত্রিক সৌন্দর্যই যদি আমার পাপ হয়ে থাকে তবে অনুগ্রহ করে বলুন কিভাবে আমি তার ক্ষতিপূরণ করব।”

“প্রত্যেক সামনে ও পিছনে সমালোচনাকারীদের জন্য ধ্বংস! যে সম্পদ জমা করে বারবার গণনা করে রেখেছে। সে মনে করে যে, তার সম্পদ তাকে চিরঞ্জীব করে রাখবে। কখনও নহে! অবশ্যই সে দাউদাউ করে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে।” (১০৪-সূরা হুমাযাহ: আয়াত-১-৪)

একজন সুপ্রসিদ্ধ পাশ্চাত্য লেখক বলেছেন— "Do what is right, and then turn your back to every vulgar criticism." (যা সঠিক তা করো এবং প্রত্যেক অমার্জিত নিন্দাবাদকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো।)

আপনাকে লক্ষ্য করে যে ক্ষতিকর মন্তব্য করা হয় তার জবাব দিবেন না। সহনশীলতা আপনার দোষ ত্রুটিকে ঢেকে রাখবে। সহনশীলতা হলো মহত্তর গুণ। নীরবতা শত্রুকে জয় করে। ক্ষমা এমন এক সম্মান যার জন্য আপনি পুরস্কৃত হবেন। আপনার সম্বন্ধে যদি কোন মানহানিকর মন্তব্য ছাপানো হয় তবে আপনি জেনে রাখুন যে, অর্ধেক পাঠক তা ভুলে যাবে আর বাকি অর্ধেক প্রধানত তা পড়ার প্রতি অনাগ্রহী থাকবে। অতএব, যা বলা হয়েছে তা রদ করতে যেয়ে বাড়তি গন্ডগোল সৃষ্টি করবেন না।

একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন— “জনতা আপনার আমার কথা ভুলে তাদের রুটির জন্যই বা রোজগারের জন্যই ব্যস্ত। তাদের কেউ যদি পিপাসার্ত থাকে তবে তো সে আপনার আমার মৃত্যুর কথা ও ভুলে যাবে।”

একজন কবি বলেছেন— “তোমার পাশে বসা সঙ্গীদের নিকট তোমার বিষয় প্রচার করিও না। কেননা, তারা হিংসুটে এবং তোমার দুর্দশায় তারা আনন্দ করবে।”

যে গৃহ নানা প্রকার মূল্যবান খাদ্যে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও তা সমস্যা ও অশান্তির জায়গা সে ঘরের চেয়ে যে গৃহে শান্তি ও প্রয়োজনীয় খাবার আছে সে ঘর ভালো।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অন্যদের তুলনায় আপনার পরীক্ষা সহজেই

📄 অন্যদের তুলনায় আপনার পরীক্ষা সহজেই


আপনি যদি একথা জেনে থাকেন যে, আপনার পরীক্ষা আপনার ধর্মীয় বিষয়ে নহে, বরং আপনার পার্থিব ব্যাপারে তবে সন্তুষ্ট থাকুন। যা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে তা রদ করার জন্য কোন ছল-চাতুরীই কাজে লাগান যেতে পারে না। একজন কবি বলেছেন— “পরিস্থিতি বদলানোর জন্য কোন কৌশলই অবলম্বন করো না, কেননা, সব কৌশল ত্যাগ করাই হলো আসল কৌশল।” একথা বুঝার চেষ্টা করুন যে, আপনার জন্য কি ভালো আর কি ভালো না তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আল্লাহরই— “এমনও হতে পারে যে, তোমাদের যা কল্যাণকর তাই তোমরা অপছন্দ করছ।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২১৬)

আপনি যদি একথা জেনে থাকেন যে, আপনার পরীক্ষা আপনার ধর্মীয় বিষয়ে নহে, বরং আপনার পার্থিব ব্যাপারে তবে সন্তুষ্ট থাকুন। যা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে তা রদ করার জন্য কোন ছল-চাতুরীই কাজে লাগান যেতে পারে না। একজন কবি বলেছেন— “পরিস্থিতি বদলানোর জন্য কোন কৌশলই অবলম্বন করো না, কেননা, সব কৌশল ত্যাগ করাই হলো আসল কৌশল।” একথা বুঝার চেষ্টা করুন যে, আপনার জন্য কি ভালো আর কি ভালো না তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আল্লাহরই— “এমনও হতে পারে যে, তোমাদের যা কল্যাণকর তাই তোমরা অপছন্দ করছ।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২১৬)

ফন্ট সাইজ
15px
17px