📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 পরম সুখ-শান্তি জান্নাতেই

📄 পরম সুখ-শান্তি জান্নাতেই


“আমি অবশ্যই মানুষ সৃষ্টি করেছি কষ্ট সহিষ্ণু করার জন্য (তারা যাতে কষ্ট সহ্য করে পরিশ্রম ও নেক আমল করে)।” (৯০-সূরা আল বালাদ : আয়াত-৪)

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “কখন বিশ্রাম পাওয়া যাবে?” তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “তুমি যখন জান্নাতে পা রাখবে তখন তুমি বিশ্রাম পাবে।”

জান্নাতে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত স্থায়ী প্রকৃতির কোনো বিশ্রামও নেই, কোন শান্তিও নেই। এ জীবন সমস্যা, ফেতনা-ফাসাদ, রোগ-শোক ও দুশ্চিন্তায় ভরা। আমার এক নাইজেরীয় সহপাঠী আমাকে বলেছেন যে, সে যখন শিশু ছিল তখন তাঁর মা তাঁকে রাতের শেষ তৃতীয়ায় সালাত পড়ার জন্য জাগিয়ে দিত। তখন সে বলত, “মা, আমি আরেকটু বিশ্রাম করতে চাই।” তাঁর মা তখন বলত, “শুধুমাত্র তোমার আরামের খাতিরেই আমি তোমাকে জাগাচ্ছি, বাবা, তুমি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন তুমি পরম শান্তি পাবে।”

মাসরুক নামে ইসলামের প্রাথমিক যুগের একজন আলেম সেজদায় গিয়ে এত সময় থাকতেন যে তাঁর ঘুম এসে পড়ত। একবার এমন ঘটনার সময় তাঁর এক সঙ্গী তাঁকে বললেন, “খানিক বিশ্রাম করুন।” তিনি উত্তর দিলেন, “আমি তো বিশ্রামই খুঁজছি।”

বাস্তবতামূলক সালাত বাদ দিয়ে যারা এ দুনিয়ায় শান্তি তালাশ করে তারা শুধুমাত্র ভুরি ভুরি দুশ্চিন্তার ব্যবস্থা করবে। অবিশ্বাসীরা এখানে তাঁর পূর্ণ শান্তি চায়, একারণেই সে বলে— “হে আমাদের প্রতিপালক! বিচার দিবসের পূর্বেই আমাদেরকে আমাদের প্রাপ্য দিয়ে দিন।” (৩৮-সূরা ছোয়াদ : আয়াত-১৬)

আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ ‘কিতলানা’ অর্থ হলো আমাদের ভালো-মন্দ কাজের নথিপত্র অর্থাৎ আমাদেরকে বিচার দিবসের আগেই আমাদের ভালো-মন্দ কাজের নথিপত্র দিয়ে দিন যাতে আমরা তা দেখতে পারি। কোন কোন আলেম কিতলানার ব্যাখ্যা করেছেন, “আমাদের ভালো অংশ এবং আমাদের রিযিকের অংশ বিচার দিবসের পূর্বেই আমাদেরকে দিয়ে দিন।”

“নিশ্চয় এরা (এই কাফেররা) এ দুনিয়ার জীবনকে ভালোবাসে এবং তাদের পিছনে ফেলে রাখে এক গুরুতর দিনকে।” (৭৬-সূরা দাহর বা ইনসান : আয়াত-২৭)

তারা আগামীকাল বা ভবিষ্যৎতের কথা ভাবে না। আর এ কারণেই তারা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টাই হারায়। এ জীবন পরিবর্তনশীল; এ জীবন একদিন শান্তির ও ধনাঢ্যতার আরেক দিন কষ্টের ও দারিদ্র্যতার। এটাই এ দুনিয়ার সার কথা। “অতঃপর তাঁদেরকে তাঁদের সত্যিকার প্রভুর নিকট ফিরিয়ে আনা হবে। জেনে রাখ! বিচার করার অধিকার তারই। আর তিনি সর্বাপেক্ষা ত্বরিত হিসাব গ্রহণকারী।” (৬-সূরা আল আনআম : আয়াত-৬২)

ফন্ট সাইজ
15px
17px