📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 শাসক থেকে কাঠমিস্ত্রি

📄 শাসক থেকে কাঠমিস্ত্রি


আলী ইবনুল মাইমুনিল আব্বাসী নিজে একজন শাসক ও একজন খলিফার পুত্র ছিলেন। তিনি এক বিশাল প্রাসাদে ধনাঢ্য জীবন-যাপন করতেন। পৃথিবীর যা কিছু তিনি পেতে চাইতেন তাই তাঁর জন্য সহজপ্রাপ্য ছিল।

একদিন প্রাসাদের এক বারান্দা দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে মাঠে এক লোক কঠোর পরিশ্রম করছে। আলী পরপর কয়েক দিন তাঁর প্রতি অধিক থেকে অবিরাম মনোযোগ দিলেন এবং লক্ষ্য করলেন যে সে সারাদিন কাজ করার পর একটু বিরতি দেয় ও তখন ওজু করে দু’রাকাত সালাত আদায় করে, কেবলমাত্র সন্ধ্যা হলেই সে তাঁর কাজ ছাড়ে ও বাড়িতে তাঁর পরিবার পরিজনদের কাছে যায়। তাঁর সম্বন্ধে আরো কিছু জানার জন্য আলী একদিন তাঁকে দাওয়াত করলেন ও তাঁকে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি শীঘ্রই জেনে নিলেন যে কাজের লোকটির একজন স্ত্রী, দু’জন বোন ও একজন মা আছেন এবং এদের সকলকেই তাঁর দেখাশুনা করতে হয়। আর তাঁদের জন্যই তাঁকে এতটা অধ্যবসায়ের সাথে কাজ করতে হয়।

তিনি (সে কর্মচারীটি) সারাদিন রোযা রাখতেন ও সন্ধ্যা হলে দিনের উপার্জিত অর্থ দ্বারা (খাদ্য ক্রয় করে) রোযা ভাঙতেন। আলী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার কি কোন অভিযোগ আছে?” তিনি উত্তর দিলেন, “না, সকল প্রশংসা সমগ্র বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই।”

এই সামান্য কর্মচারীর কথায় আলী এতটাই অভিভূত হয়ে পড়লেন যে, তিনি রাজপ্রাসাদ ও রাজপদ ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি দিলেন। কয়েক বছর পরে তাঁকে খোরাসানের নিকটবর্তী অঞ্চলে মৃত পাওয়া গিয়েছিল। তিনি কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং তাঁর নতুন জীবনে তিনি এমন সুখ পেয়েছিলেন যা তাঁর আগের জীবনে তাঁর নিকট সম্পূর্ণ অজানা ছিল।

“পক্ষান্তরে যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের সৎপথে চলার ক্ষমতা আরো বাড়িয়ে দেন এবং তাদেরকে তাদের (প্রাপ্য) তাকওয়া দান করেন।” (৪৭-সুরা মুহাম্মাদ : আয়াত-১৭)

এ ঘটনা আমাকে আসহাবে কাহাফের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। তারা এক রাজার নিকট তাঁর রাজপ্রাসাদে থাকত। তবুও তারা নিজেদেরকে সংকীর্ণ, বিভ্রান্ত ও সমস্যাগ্রস্ত মনে করত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধনাঢ্য জীবনে কুফুরী ও অপচয় প্রাধান্য পায়। তাই তারা সে স্থান ত্যাগ করে চলে গেল। তাঁদের একজন বলেছিলেন : “অতএব তোমরা গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর, তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য তাঁর দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের কাজকে কার্যকর করবার বন্দোবস্ত করবেন।” (১৮-সুরা আল কাহাফ : আয়াত-১৬)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 শান্তির মূলকথা

📄 শান্তির মূলকথা


ড. হাসসান শামসী পাশা ১৯৯৪ সনের কোন এক সংখ্যায় আহলান-সাহলান নামক পত্রিকার “দুশ্চিন্তা দূর করার বিশটি উপায়” নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। নিম্নে তার সারমর্ম দেয়া হলো-

১. আপনার জীবনকাল (অর্থাৎ আয়ু কত বছর তা) নির্ধারিত করা আছে, কেননা সব কিছুই তাকদীর (পূর্ব নির্ধারিত বিধান) অনুসারেই ঘটে। অতএব সে বিষয়ে দুশ্চিন্তা করার কোন প্রয়োজন নেই।

২. আমাদের প্রত্যেকের কতটা পরিমাণ রিযিক গ্রহণ করব তা সিদ্ধান্ত একমাত্র আল্লাহর নিকটেই। অন্য কেউই সে রিযিকের মালিক নয় বা আপনার থেকে তা ছিনিয়ে নেয়ার ক্ষমতা অন্য কারো নেই।

৩. অতীত তার সকল দুঃখ-কষ্ট নিয়ে চলে গেছে। সমগ্র মানবজাতিও যদি একযোগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবুও তা ফিরে আসতে পারে না।

৪. ভবিষ্যৎ অদৃশ্য জগতের অন্তর্ভুক্ত এবং এখনও তা আসেনি। আপনার অনুমতি বা অনুভূতি প্রতি কোনরূপ শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করেই এটি বিস্ময়াদি নিয়ে আসে। অতএব এটা সত্যি সত্যি আগমন করার আগেই এটাকে ডাকবেন না।

৫. অন্যের উপকার করলে নিজের মনে শান্তি পাওয়া যায়। একটি ভালো কাজ বা কল্যাণমূলক কাজ দাতাকে গ্রহণীয়তার তুলনায় অনেক বেশি দয়া (রহমত), পুরস্কার ও শান্তি ইত্যাদি বহুবিধ উপকার করে।

৬. মু'মিনের একটি মহৎ গুণ হল যে, সে মিথ্যা সমালোচনার ধার ধারে না, কেউ সমালোচনা থেকে বাঁচতে পারে না। এমনকি সমগ্র বিশ্ব জগতের প্রতিপালক, নিখুঁত মহান আল্লাহও না। (মানুষ আল্লাহ তায়ালাকেও গালি দেয়, সুতরাং আপনি কেন মনে করেন যে, আপনাকে কেউ গালি দিবে না, কেউ আপনার সমালোচনা করবে না। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব নবীদেরকে প্রত্যেক জাতি মিথ্যা বলেছে, তাদেরকে কষ্ট দিয়েছে; এমনভাবে সকল মহানবীগণও একই অবস্থার শিকার হয়েছে।)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সুখ স্বর্গীয়

📄 সুখ স্বর্গীয়


ভূমিকা দিন দিন এমন যায় (উদ্দেশ্য-যে দিনকার আয় সে দিনেই খেয়ে শেষ করে) এমনটা দেখা অসাধারণ কিছু নয়। তবুও তাঁদের অনেকেই সুখী, শান্তিপূৰ্ণ এবং শক্তিশালী ও প্রশান্ত আত্মার অধিকারী। এর কারণ হলো-তারা এত ব্যস্ত যে তারা গতকাল বা আগামীকাল সম্বন্ধে ভাববার সময় পায় না। তাঁদের জীবন যাপন ধারণা তাঁদের শুধুমাত্র আজকের দিনের মূল্যায়নই শিক্ষা দেয় বা আজকের দিনটির গুরুত্ব বুঝতে দেয়, একারণেই তারা অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সুযোগ পায় না।

যারা অরাজিকতায় বাস করে তাদের সাথে এদের তুলনা করে দেখুন। কার্যহীনতা ও অবসর সময় মুমিনরা তাঁদের সমস্যা ও জীবনের উদ্দেশ্যহীনতা নিয়ে ভাবতে প্রচুর সময় যোগায়। এভাবে তাঁদের অনেকেই দিন-রাত দুর্দশা ও দুশ্চিন্তা আক্রান্ত করে।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সবাইতো সুখী হতে চায়, কিন্তু,

📄 সবাইতো সুখী হতে চায়, কিন্তু,


যে পথে চললে সুখ পাওয়া যায় সে পথে কম লোকই চলে। সুখের পথ সম্বন্ধে তিনটি বিষয় নিয়ে আপনাকে ভেবে দেখতে হবে।

১. যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের প্রধান বিষয় বানায় না, সে অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শেষ হয়ে যাবে। “আমি অচিরেই তাদেরকে ক্রমে ক্রমে শান্তি দিয়ে এমনভাবে ধ্বংস করে ফেলব যে তারা টেরও পাবে না।” (৭-সূরা আল আ'রাফ: আয়াত-১৮২)

২. সুখ লাভের আশায় মানুষেরা বিভিন্ন জটিল ও চাতুর্যপূর্ণ পথ অনুসরণ করে। তারা খুব কমই জানে যে, ইসলাম ধর্মে তাঁদের জন্য একটি সহজতম পথ প্রস্তুত করাই আছে। সে পথ তাঁদের জন্য সর্বোত্তম ইহজীবন ও পরকাল বয়ে আনবে। “কিন্তু তোমাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল যদি তারা তা (অনুসারে কাজ) করত তবে অবশ্যই তা তাঁদের জন্য ভালো হতো এবং (চিত্তের) স্থিরতার জন্য তা দৃঢ়তর হতো।” (৪-সূরা আন নিসা: আয়াত-৬৬)

৩. এ পৃথিবীতে অনেক লোক আছে যারা মনে করে যে, তারা ভালো কাজ করছে। কিন্তু আসলে তারা ইহজীবনে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধুমাত্র এ কারণে যে, তারা সত্য ধর্মকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করছে। “আর সত্য সত্ত্বাই এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে তোমার প্রভুর বাণী পূর্ণ হয়েছে।” (৬-সূরা আল আ'নআম: আয়াত-১১৫)

ফন্ট সাইজ
15px
17px