📄 সুখের মূলনীতি- যেসব আয়াত নিয়ে ভাবতে হবে
বল, 'হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়োনা; নিশ্চয় আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' (৩৯-সূরা যুমার : আয়াত-৫৩)
“এবং তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না, কেননা, কাফের সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয় না।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-৮৭)
“পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে তার প্রতিপালকের দয়া হতে নিরাশ হয়?” (১৫-সূরা হিজর : আয়াত-৫৬)
“অবশ্যই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-৫৬)
“তুমি জান না, আল্লাহ হয়ত নতুন কোন উপায় করবেন।” (৬৫-সূরা আত তালাক্ব : আয়াত-১)
“হয়তো তোমরা যা পছন্দ কর না তা তোমাদের জন্য ভালো এবং তোমরা যা পছন্দ করো তা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না।” (২-সূরা বাকারা: আয়াত-২১৬)
“আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বড়ই মেহেরবান।” (৪২-সূরা আশ শুরা: আয়াত-১৯)
“এবং আমার করুণা সব কিছুকে ঘিরে আছে।” (৭-সূরা আল আ'রাফ: আয়াত-১৫৬)
“ভয় করিও না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” (৯-সূরা তাওবা: আয়াত-৪০)
“(তখনকার কথা স্মরণ কর) যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে তাই তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন।” (৮-সূরা আনফাল: আয়াত-৯)
“এবং তাঁরা হতাশ হয়ে যাবার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত, করুণা ও দয়াকে চতুর্দিকে বিস্তৃত করে দেন।” (৪২-সূরা আশ শুরা: আয়াত-২৮)
“এবং তাঁরা আমাকে আশা নিয়ে ও ভয়ের সাথে ডাকত এবং তাঁরা আমার নিকট বিনীত ছিল।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া: আয়াত-৯০)
📄 যা সুখ বয়ে আনে
১. আমলে সালেহ বা নেক আমল বা পূণ্যকর্ম বা সৎ কাজ বা ভালো কাজ : “মুমিন পুরুষ বা মহিলা যে কেহ আমলে সালেহ করে তাকে আমি পবিত্র তথা উত্তম জীবন যাপন করাব।” (১৬-সুরা আন নাহল : আয়াত-৯৭)
২. নেক বিবি বা ধার্মিক স্ত্রী : “হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে চোখ জুড়ানো স্ত্রী-পুত্র কন্যা দান করুন।” (২৫-সুরা আল ফুরকান : আয়াত-৭৪)
৩. একটি প্রশস্ত বাড়ি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “হে আল্লাহ! আমার বাড়িকে আমার জন্য প্রশস্ত করে দিন।”
৪. হালাল রুজী : আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “নিশ্চয় আল্লাহ্ পবিত্র, পবিত্র জিনিস ছাড়া অন্য কিছু তিনি কবুল করেন না।”
৫. উত্তম আচরণ ও মানুষের প্রতি দয়া-মমতা স্নেহ পরায়ণতা। “এবং আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে সৌভাগ্যবান করেন।” (১৯-সুরা মারইয়াম : আয়াত-৩১)
৬. অভাবমুক্ত হওয়া এবং বেপরোয়া খরচকারী না হওয়া। “এবং তারা যারা অপচয়ও করে না এবং কার্পণ্যও করে না।” (২৫-সুরা আল ফুরকান : আয়াত-৬৭)
“এবং (কৃপণের মতো) তোমার হাতকে তোমার ঘাড়ের নিকট গুটিয়ে রেখো না এবং (অপচয়কারীর মতো) তোমার হাতকে পুরাপুরি প্রশস্ত করে দিও না।” (১৭-সুরা বনী ইসরাঈল : আয়াত-২৯)
📄 সুখের উপকরণ
১. কৃতজ্ঞ আত্মা এবং আল্লাহর জিকিরে সিক্ত জিহ্বা। একজন আরব কবি বলেছেন— “কৃতজ্ঞতা, জিকির ও ধৈর্যের মাঝেই রয়েছে নেয়ামত ও পুরস্কার।”
২. সুখের আরেকটি উপাদান হলো গোপনীয়তা রক্ষা করা, বিশেষ করে নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা। আরবদের মাঝে এক বেদুইনের এক প্রসিদ্ধ ঘটনা প্রচলিত আছে। বিশ দিনারের বদলে সে একটি বিষয় গোপন রাখার অঙ্গীকার করেছিল। প্রথমে সে চুক্তির প্রতি সৎ ছিল অর্থাৎ চুক্তি রক্ষা করেছিল; কিন্তু পরে হঠাৎ করে অধৈর্য হয়ে সে গিয়ে টাকাটা ফেরত দিয়ে দিল—সে গোপনীয়তা রক্ষা করার বোঝা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছিল। এমনটি হওয়ার কারণ এই যে, গোপনীয়তা রক্ষা করতে দৃঢ়তা, ধৈর্য ও ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন।
“হে আমার বৎস! তোমার ভাইদের নিকট তোমার স্বপ্ন বর্ণনা করিও না।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-৫)
মানুষের বহুবিধ দুর্বল বৈশিষ্ট্যের মাঝে একটি দুর্বলতা এই যে, সে তার নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারাদি অন্যের কাছে ব্যক্ত করার সদা এক বেগ অনুভব করে। মন গোপন বিষয় ও গল্প প্রচার করতে ভালোবাসে। যে ব্যক্তি তার গোপন বিষয় প্রচার করবে সে অতি অবশ্যই অনুতপ্ত, দুঃখিত ও দুর্দশাপন্ন হবে।
“সে যেন সতর্ক থাকে এবং কাউকে তোমাদের সম্বন্ধে জানতে না দেয়।” (১৮-সূরা আল কাহাফ : আয়াত-১৯)
📄 সুখের উপাদান
নবী করীম ﷺ বলেছেন : “যে ব্যক্তি মনের শান্তিতে, সুস্থ দেহে দিবসের পূর্ণ খোরাক নিয়ে রাত কাটাল তাকে যেন গোটা দুনিয়াটা দেওয়া হলো।” এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
এর অর্থ এই যে, কারো যদি যথেষ্ট খাবার থাকে ও নিরাপদে ঘুমানোর জায়গা থাকে তবে তার পৃথিবীর সর্বোত্তম জিনিস আছে। অনেকেই জীবনে এ পর্যায়ে আছে তবুও তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে না। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে বলেন— “আমি আপনার উপর আমার নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি।” (৫-সুরা মায়িদা : আয়াত-৩)
এ আয়াত পড়ার পর আপনার উচিত নিজেকে এ প্রশ্ন করা—নবী করীম ﷺ-এর জন্য কি নেয়ামত পূর্ণ করে দেয়া হয়েছিল? এটা কি পার্থিব সম্পদ ছিল? এটা কি দালান-কোঠা-অট্টালিকা ও সোনা-রুপার মালিকা ছিল? আল্লাহ যে নেয়ামতের কথা বলেছেন তা এসব নয়; কেননা নবী করীম ﷺ ধনী ছিলেন না। নবী করীম ﷺ মাটির তৈরি ঘরে ঘুমাতেন। তাঁর ঘরের ছাদ বা চাল খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি ছিল। প্রচণ্ড ক্ষুধার জ্বালায় তিনি মাঝে মাঝে পেটে পাথর বেঁধে রাখতেন আর এতে ক্ষুধার জ্বালা কিছুটা কমত। তাঁর মাদুর ছিল খেজুর গাছের ডাল যাতে তিনি শয়নকালে তাঁর পার্শ্বদেশে ব্যথা পেতেন। তিনি তাঁর বর্মখানিকে একটি ইহুদীর নিকট টাকা পরিশোধ করার আগ পর্যন্ত বন্ধক রেখে কিছু গম ক্রয় করেছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি একটানা তিন দিন পর্যন্ত একটি পচা খেজুরও খেতে পেতেন না।
“এবং অবশ্যই পরকাল আপনার জন্য দুনিয়ার চেয়ে উত্তম। আর অচিরেই আপনার প্রতিপালক অবশ্যই আপনাকে এমন দান করবেন যার ফলে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।” (৯৩-সূরা আদ দোহা: আয়াত-৪-৫)