📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ছয়টি মূলকথা যখন আপনার নিকট তখন কেন দুঃখ করা?

📄 ছয়টি মূলকথা যখন আপনার নিকট তখন কেন দুঃখ করা?


“দুঃখের পরে সুখ” পুস্তকের গ্রন্থকার একজন বিজ্ঞলোকের ঘটনা উল্লেখ করেছেন যিনি দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছিলেন। তাঁর ভাইয়েরা তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর ক্ষতির জন্য তাঁকে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করলেন। তিনি উত্তর দিলেন, ‘ছয়টি উপাদানে আমি একটি ঔষধ বানিয়েছি।’ সে উপাদান ছয়টি কী তারা তাকে তা জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন-
১. সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর দৃঢ় ঈমান রাখা।
২. তকদীরে যা আছে তা অলঙ্ঘনীয়ভাবে ঘটবে এই অলঙ্ঘনীয় সত্য কথাকে মেনে নেয়া।
৩. দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি ধৈর্যের সুফল পাবে, এর কোন বিকল্প নেই।
৪. ধৈর্য না ধরে আমি কী করতে পারি? একথার নিহিতার্থে অবিচল আস্থা রাখা।
৫. নিজেকে নিজে এ প্রশ্ন করা, “আমার নিজের ক্ষতি করার জন্য আমি কেন একজন ইচ্ছুক ব্যক্তি হব?”
৬. একথা জানা যে, মুহূর্তেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে মসিবত দূর হয়ে যায় বা যেতে পারে。

অন্যরা যদি আপনার ক্ষতি করে বা আপনাকে যাতনা দেয় বা আপনি অত্যাচারিত হন অথবা অন্যের হিংসার শিকার হন তবে দুঃখ করবেন না। শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ (র) বলেছেন- “মুমিন ব্যক্তি ঝগড়া করে না প্রতিশোধও নেয় না এবং অন্যের ছিদ্রান্বেষণও করে না অর্থাৎ অন্যের দোষও তালাশ করে না।” বাধা-বিপত্তি বা সমস্যার সম্মুখীন হলে হতাশ না হয়ে বরং সহ্য করুন ও ধৈর্য ধরুন।

একজন বিজ্ঞ লোক বলেছেন- “হে সময়! তোমার নিকট যদি অবশিষ্ট কিছু (সময়) থাকে যা দিয়ে তুমি যোগ্য ও মর্যাদাবানদেরকে অপদস্ত কর তবে তা তুমি আমাকে দাও।” অর্থাৎ হে সময়! তুমি যতই দীর্ঘ হও না কেন তোমার দীর্ঘতার চেয়ে আমার ধৈর্য অনেক বেশি। সুতরাং, তুমি আমার যোগ্যতার ও মর্যাদার হানি করতে পারবে না। ধৈর্য হলো উদ্বিগ্নতার বিপরীত, ধৈর্য শান্তির ফল বহন করে। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ধৈর্য ধরে না, পরিস্থিতির কারণে সে ধৈর্য ধরতে বাধ্য হয়।

আল মুতানাব্বি বলেছেন- “সময় আমার উপর এতটাই সমস্যার (তীর) নিক্ষেপ করেছে যে, তীরে তীরে আমার হৃদয়ে আবরণ পড়ে গেছে এখন যখন আমি কোন তীর দ্বারা আক্রান্ত হই তখন আমি সমস্যার প্রতি ভ্রূক্ষেপ ছাড়াই বেঁচে আছি; কেননা, উদ্বিগ্ন হয়ে আমি লাভবান হইনি।”

কেউ যদি আপনার কোন উপকার করতে অস্বীকৃতি জানায় অথবা আপনাকে যদি ভ্রূকুটি করা হয় অথবা কোন কৃপণ ব্যক্তি যদি আপনাকে ফিরিয়ে দেয় তবে ব্যথাতুর হবেন না। যদি আপনি অন্যের কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত থেকে লাঞ্ছনা থেকে বাঁচতে পারেন তবে বিশাল বাড়ি ও সুন্দর বাগানের চেয়ে কুঁড়ে ঘর বা তাঁবুই আপনার জন্য শ্রেয় এবং সেসব পার্থিব জিনিসের চেয়ে ভালো যা আপনাকে শুধু দুশ্চিন্তা ও অশান্তিই বয়ে এনে দেয়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সুখের মূলনীতি- যেসব আয়াত নিয়ে ভাবতে হবে

📄 সুখের মূলনীতি- যেসব আয়াত নিয়ে ভাবতে হবে


বল, 'হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়োনা; নিশ্চয় আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' (৩৯-সূরা যুমার : আয়াত-৫৩)

“এবং তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না, কেননা, কাফের সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয় না।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-৮৭)

“পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে তার প্রতিপালকের দয়া হতে নিরাশ হয়?” (১৫-সূরা হিজর : আয়াত-৫৬)

“অবশ্যই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-৫৬)

“তুমি জান না, আল্লাহ হয়ত নতুন কোন উপায় করবেন।” (৬৫-সূরা আত তালাক্ব : আয়াত-১)

“হয়তো তোমরা যা পছন্দ কর না তা তোমাদের জন্য ভালো এবং তোমরা যা পছন্দ করো তা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না।” (২-সূরা বাকারা: আয়াত-২১৬)

“আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বড়ই মেহেরবান।” (৪২-সূরা আশ শুরা: আয়াত-১৯)

“এবং আমার করুণা সব কিছুকে ঘিরে আছে।” (৭-সূরা আল আ'রাফ: আয়াত-১৫৬)

“ভয় করিও না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” (৯-সূরা তাওবা: আয়াত-৪০)

“(তখনকার কথা স্মরণ কর) যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে তাই তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন।” (৮-সূরা আনফাল: আয়াত-৯)

“এবং তাঁরা হতাশ হয়ে যাবার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত, করুণা ও দয়াকে চতুর্দিকে বিস্তৃত করে দেন।” (৪২-সূরা আশ শুরা: আয়াত-২৮)

“এবং তাঁরা আমাকে আশা নিয়ে ও ভয়ের সাথে ডাকত এবং তাঁরা আমার নিকট বিনীত ছিল।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া: আয়াত-৯০)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 যা সুখ বয়ে আনে

📄 যা সুখ বয়ে আনে


১. আমলে সালেহ বা নেক আমল বা পূণ্যকর্ম বা সৎ কাজ বা ভালো কাজ : “মুমিন পুরুষ বা মহিলা যে কেহ আমলে সালেহ করে তাকে আমি পবিত্র তথা উত্তম জীবন যাপন করাব।” (১৬-সুরা আন নাহল : আয়াত-৯৭)
২. নেক বিবি বা ধার্মিক স্ত্রী : “হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে চোখ জুড়ানো স্ত্রী-পুত্র কন্যা দান করুন।” (২৫-সুরা আল ফুরকান : আয়াত-৭৪)
৩. একটি প্রশস্ত বাড়ি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “হে আল্লাহ! আমার বাড়িকে আমার জন্য প্রশস্ত করে দিন।”
৪. হালাল রুজী : আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “নিশ্চয় আল্লাহ্ পবিত্র, পবিত্র জিনিস ছাড়া অন্য কিছু তিনি কবুল করেন না।”
৫. উত্তম আচরণ ও মানুষের প্রতি দয়া-মমতা স্নেহ পরায়ণতা। “এবং আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে সৌভাগ্যবান করেন।” (১৯-সুরা মারইয়াম : আয়াত-৩১)
৬. অভাবমুক্ত হওয়া এবং বেপরোয়া খরচকারী না হওয়া। “এবং তারা যারা অপচয়ও করে না এবং কার্পণ্যও করে না।” (২৫-সুরা আল ফুরকান : আয়াত-৬৭)
“এবং (কৃপণের মতো) তোমার হাতকে তোমার ঘাড়ের নিকট গুটিয়ে রেখো না এবং (অপচয়কারীর মতো) তোমার হাতকে পুরাপুরি প্রশস্ত করে দিও না।” (১৭-সুরা বনী ইসরাঈল : আয়াত-২৯)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সুখের উপকরণ

📄 সুখের উপকরণ


১. কৃতজ্ঞ আত্মা এবং আল্লাহর জিকিরে সিক্ত জিহ্বা। একজন আরব কবি বলেছেন— “কৃতজ্ঞতা, জিকির ও ধৈর্যের মাঝেই রয়েছে নেয়ামত ও পুরস্কার।”
২. সুখের আরেকটি উপাদান হলো গোপনীয়তা রক্ষা করা, বিশেষ করে নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা। আরবদের মাঝে এক বেদুইনের এক প্রসিদ্ধ ঘটনা প্রচলিত আছে। বিশ দিনারের বদলে সে একটি বিষয় গোপন রাখার অঙ্গীকার করেছিল। প্রথমে সে চুক্তির প্রতি সৎ ছিল অর্থাৎ চুক্তি রক্ষা করেছিল; কিন্তু পরে হঠাৎ করে অধৈর্য হয়ে সে গিয়ে টাকাটা ফেরত দিয়ে দিল—সে গোপনীয়তা রক্ষা করার বোঝা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছিল। এমনটি হওয়ার কারণ এই যে, গোপনীয়তা রক্ষা করতে দৃঢ়তা, ধৈর্য ও ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন।

“হে আমার বৎস! তোমার ভাইদের নিকট তোমার স্বপ্ন বর্ণনা করিও না।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-৫)

মানুষের বহুবিধ দুর্বল বৈশিষ্ট্যের মাঝে একটি দুর্বলতা এই যে, সে তার নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারাদি অন্যের কাছে ব্যক্ত করার সদা এক বেগ অনুভব করে। মন গোপন বিষয় ও গল্প প্রচার করতে ভালোবাসে। যে ব্যক্তি তার গোপন বিষয় প্রচার করবে সে অতি অবশ্যই অনুতপ্ত, দুঃখিত ও দুর্দশাপন্ন হবে।

“সে যেন সতর্ক থাকে এবং কাউকে তোমাদের সম্বন্ধে জানতে না দেয়।” (১৮-সূরা আল কাহাফ : আয়াত-১৯)

ফন্ট সাইজ
15px
17px