📄 সুখ-শিল্পের মূলকথা
আমাদের চিন্তাসমূহকে যথেচ্ছ ঘুরে বেড়াতে, বিপথে যেতে, মুক্ত হতে ও বন্য-হন্যে হতে না দিয়ে ওগুলোকে লাগাম পড়ানো ও নিয়ন্ত্রণে রাখা। কারণ, যদি আপনি আপনার চিন্তালোকে যথেচ্ছ ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দেন তবে ওগুলো বন্য হয়ে গিয়ে আপনাকেই নিয়ন্ত্রণ করবে। ওগুলো আপনার অতীত দুঃখ-দুর্বিপাকের সুবিণ্যস্ত তালিকা খুলে বসবে। আপনার মা আপনাকে যেদিন জন্ম দিয়েছিলেন সেদিন থেকে শুরু করে আপনার দুঃখ দুর্দশার ইতিহাস এগুলো আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিবে।
যদি আপনার চিন্তা-ভাবনাসমূহকে পায়চারী করার বা উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় তবে ওগুলো আপনার সামনে আপনার অতীত দুঃখ-কষ্টের চিত্র ও একটি ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরবে। এসব চিন্তা-ভাবনা স্বয়ং আপনাকেই বিচলিত-শিহরিত করে তুলবে। আপনার অনুভূতিকে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতে বাধ্য করবে। অতএব, যে ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তায় ফলপ্রদ ও উপকারী কাজ হয়, সে ধরনের কেন্দ্রীভূত চিন্তা-চর্চার দিকে অভিমুখী করে ওগুলোকে (আপনার চিন্তাসমূহকে) লাগাম পড়ান ও নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
“এবং সেই চিরজীবীর উপর নির্ভর করুন, যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।” (২৫-সুরা আল ফুরকান : আয়াত-৫৮)
সুখ-শাস্ত্রের একটি মূলনীতি হলো পার্থিব জীবনকে এর সত্যিকার গুণ ও মূল্যানুযায়ী মূল্যায়ন করা। এ জীবন তুচ্ছ এবং এটা আপনার নিকট শুধু এতটুকু দাবি রাখে যে, আপনি এর থেকে পালিয়ে যান। এ জীবন দুর্ভোগ, দুর্দশা, দুর্ঘটনা, ব্যথা-বেদনা ও আঘাতে ভরা, এই যদি হয় এ জীবনের বিবরণ—তাহলে মানুষ কি করে তার নগণ্য দুর্ঘটনা-দুর্গতিতে অযৌক্তিকভাবে বিচলিত হতে পারে এবং কী করে তার ঘটে যাওয়া এমন সব পার্থিব বিষয়ের উপর দুঃখ করতে পারে? জীবনের সর্বোত্তম মুহূর্তগুলো কলঙ্কিত, এর ভবিষ্যৎ অঙ্গীকারসমূহ শুধু মরীচিকা, এর সফল ব্যক্তিদেরকে হিংসা করা হয়, ধন্যরা সদা হুমকিপাপ্ত, আর প্রেমিকরা কোনো অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনায় ধরাশায়ী হয়।
হাদীসে আছে “নিশ্চয়, জ্ঞান-চর্চার মাধ্যমেই কেবল জ্ঞান অর্জিত হয় এবং ধৈর্য-চর্চার মাধ্যমেই সহনশীলতা অর্জিত হয়।” আলোচ্য বিষয়ের এ হাদীসের অর্থের উপর কেউ যদি আমল করতে চায় বা এর অর্থকে বাস্তবায়িত করার উদ্যোগ নেয় তবে তিনি আরেকটু অগ্রসর হয়ে বলতে পারেন যে, অনুমানের মাধ্যমেই সুখ লাভ করা যায়। সদা হাসি-খুশি থেকে, যা আপনাকে সুখী করে তার সন্ধান করে এবং যতই অদ্ভুত মনে হোক না কেন, নিজের ভিতরে জোর করে সুখ-বোধ সঞ্চারিত করে সুখ অর্জন করা যায়। সুখ দ্বিতীয় প্রকৃতি বা স্বভাব না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে এ কাজগুলো করে যেতে হবে।
আসল ব্যাপার হলো দুঃখ-বেদনার সকল স্মৃতি আপনার থেকে আপনি দূর করে ফেলতে পারবেন না। এর কারণ হলো জীবনকে পরীক্ষার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। “অবশ্যই, আমি মানুষকে কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে (জীবন-যাপনকারী হিসেবে) সৃষ্টি করেছি।” (৯০-সুরা আল বালাদ : আয়াত-৪) “যাতে তিনি পরীক্ষা করতে পারেন তোমাদের মধ্যে কে আমলে উত্তম।” (১১-সূরা হুদ: আয়াত-৭)
কিন্তু আমি আপনাদের নিকট যে সংবাদ পৌঁছে দিতে চাই, তা হলো আপনার দুঃখের পরিমাণ ও প্রাবল্য যথাসম্ভব কমিয়ে ফেলা। সম্পূর্ণরূপে দুঃখমুক্ত হওয়া তো পরকালে জান্নাতবাসীদের জন্য (নির্ধারিত)। এ কারণে জান্নাতবাসীরা বলবে- “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের থেকে সকল দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন।” (৩৫-সূরা ফাতির: আয়াত-৩৪)
সুতরাং, যখন কেউ এ দুনিয়ার প্রকৃতি ও গুণাগুণ জানতে পারে, তখন সে বুঝতে পারে, এ দুনিয়া নিরস, প্রবঞ্চনাময় ও মূল্যহীন এবং সে পুরোপুরি বুঝতে পারে, ওটাই হলো দুনিয়ার প্রকৃতি ও পরিচয়। আরবের একজন কবি বলেন- “তুমি তো আমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ না করার শপথ করেছ।”
আমি যেমনটি বর্ণনা করেছি দুনিয়ার পরিচয় যদি তেমনই হয়, তবে বুদ্ধিমান লোকদের উচিত নয় এর আক্রমণে সাহায্য করা এবং হতাশা ও দুশ্চিন্তার কাছে আত্মসমর্পণ করা। আমাদের যা করা উচিত তা হলো, আমাদের জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে এমন সব আবেগ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করা। (এভাবে আত্মরক্ষা করে) আমাদের সর্বশক্তি দ্বারা অবশ্যই আমাদেরকে এ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।
“এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখ। এ দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রুকে ও তোমাদের শত্রুকে ভীত করবে।” (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-৬০) “আল্লাহর পথে তাদের যা ঘটেছিল, তাতে তারা নিরুৎসাহিত হয়নি, দুর্বল এবং নতও হয়নি।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৪৬)
📄 সুখ-কলা : একটু ভাবুন
দুঃখ করবেন না। আপনি যদি গরীব হয়ে থাকেন, তবে কেউ না কেউ ঋণে জর্জরিত হয়ে আছে (তার কথা ভেবে দেখুন)। আপনার যদি যাতায়াত ভাড়া না থাকে তবে অন্য কারো তো পা-ই নেই। রোগ-যন্ত্রণার অভিযোগ করার যুক্তি বা কারণ যদি আপনার থেকেও থাকে তবে অন্য কেউ তো বছরের পর বছর রোগ-শয্যায় পড়ে আছে। আপনি যদি একটি সন্তান হারিয়ে থাকেন তবে অন্য কেউ তো সামান্য গাড়ি দুর্ঘটনায় কয়েক সন্তান হারিয়েছে।
দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনি তো এমন একজন মুসলমান, যিনি আল্লাহতে, তাঁর নবী-রাসূলগণে, তাঁর ফেরেশতাকুলে, আখিরাতে এবং তকদীরের ভালো-মন্দে বিশ্বাস করেন। যখন নাকি আপনি সর্বোত্তম দৌলত ঈমানের বদৌলতে ধন্য, তখন অন্যরা আল্লাহতে অবিশ্বাস, নবী-রাসূলগণকে অস্বীকার, কিতাব সম্বন্ধে নিজেদের মাঝে মতভেদ ও আখিরাতকে অস্বীকার করেছে এবং ঐশী পূর্বনির্ধারণী বা এলাহী তকদীরকে ভুল বুঝেছে। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না, যদি হন, তবে আপনি আপনার মন-মানসিকতার ক্ষতি করবেন এবং আপনার ঘুম বিনষ্ট করবেন।
একজন আরব কবি বলেছেন-
“যুবকরা কতইনা মসিবতে পড়ে নাজেহাল হয়, অথচ আল্লাহর নিকট এর পরিত্রাণের উপায় আছে। অবস্থা অসহনীয় হয়ে যায় তারপর যখন রশি শক্তভাবে কষে তখন রশি ছিঁড়ে যায়, অথচ তারা ভাবত যে রশি ছিঁড়বে না।”
📄 দুঃখিত হবেন না- সুখের মূলনীতি
১. জেনে রাখুন আপনি যদি আজকের সীমার মধ্যে বসবাস না করেন, তবে আপনার চিন্তা-ভাবনা বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে, আপনার কাজ কর্ম তালগোল পাকিয়ে ফেলবে এবং আপনার দুশ্চিন্তা বেড়ে যাবে। একটি হাদীস এটিকে ব্যাখ্যা করে– “সকাল বেলা সন্ধ্যাকে দেখার আশা করিও না এবং সন্ধ্যাকালে সকালকে দেখার আশা করিও না।”
২. অতীত ও অতীতের সব ঘটনাকে ভুলে যান। গত জিনিসের চিন্তায় বিভোর হওয়া হলো নেহায়েত পাগলামি।
৩. ভবিষ্যৎ নিয়ে আগাম দুশ্চিন্তায় ভুগবেন না। কেননা, ভবিষ্যৎ অজ্ঞাত ও অদৃশ্য জগতে আছে; এটা আগমন করার আগেই যেন এটা আপনাকে কষ্ট না দেয়।
৪. নিন্দা ও সমালোচনায় বিচলিত হবেন না; বরং শক্ত হোন আর জেনে রাখুন যে, আপনার যোগ্যতার অনুসারেই সমালোচনায় ঝড় ওঠে।
৫. আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আমলে সালেহ এ দু'টি জীবনকে উত্তম ও সুখী করার মূল উপাদান।
৬. যে ব্যক্তিই শান্তি, প্রশান্তি ও সুখ চায় সে ব্যক্তিই এসব কিছু আল্লাহর জিকিরের মাঝে খুঁজে পেতে পারে।
৭. আপনার নিশ্চিতরূপে একথা জানা উচিত যে, যা কিছু ঘটে তা এক স্বর্গীয় বিধি অর্থাৎ তকদীর অনুসারেই ঘটে।
৮. অন্যের থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ পাওয়ার আশা করবেন না।
৯. সর্বাপেক্ষা শোচনীয় ঘটনার জন্য প্রস্তুত হতে নিজেকে তালিম, প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং দিন।
১০. যা ঘটেছে সম্ভবত তা আপনার জন্য সর্বাপেক্ষা উপকারী (যদিও আপনি বুঝতে পারেন না যে, তা কীভাবে হলো)।
১১. মুসলমানের তকদীরে যা আছে তা তাঁর জন্য কল্যাণকর।
১২. আল্লাহর অনুগ্রহ, করুণা, দয়া ও নেয়ামতসমূহকে গণনা করার চেষ্টা করুন এবং সেগুলোর জন্য শুকরিয়া আদায় করুন।
১৩. অন্য অনেকের চেয়েও আপনি ভালো আছেন।
১৪. প্রতি মুহূর্তেই (আল্লাহর) সাহায্য আসে।
১৫. সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায়ই দোয়া করা ও সালাত পড়া উচিত।
১৬. দুর্বিপাক আপনার মনকে শক্ত করবেই এবং আপনার দৃষ্টিভঙ্গীকে পাল্টে দিবে।
১৭. অবশ্যই প্রতিটি দুঃখের পরেই সুখ আছে।
১৮. তুচ্ছ বিষয় যেন আপনার ধ্বংসের কারণ না হয়।
১৯. নিশ্চয় আপনার প্রভু মহা ক্ষমাশীল।
২০. ক্রুদ্ধ হবেন না, রাগান্বিত হবেন না, রাগ করবেন না।
২১. জীবনে খাদ্য, পানি ও ছায়া (অর্থাৎ গৃহ) থাকলেই যথেষ্ট; সুতরাং অন্য কোনো কিছুর অভাবে অস্থির ও উদ্বিগ্ন হবেন না।
২২. যে সব ক্ষতির আশঙ্কা করা হয় তার অধিকাংশই ঘটে না।
২৩. যারা দুর্দশাগ্রস্ত তাদের দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞ হোন।
২৪. আল্লাহ যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন তখন তাদেরকে পরীক্ষা করেন।
২৫. আপনার বারবার সেসব দোয়া করা উচিত যেসব দোয়া নবী করীম আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন।
২৬. উৎপাদনশীল কোন কাজে কঠোর পরিশ্রম করুন এবং আলস্যকে দূরে নিক্ষেপ করুন।
২৭. গুজব ছড়াবেন না এবং গুজবে কান দিবেন না। অনিচ্ছাসত্ত্বেও কোন গুজব শুনে ফেললে তা বিশ্বাস করবেন না।
২৮. আপনার বিদ্বেষ ও প্রতিশোধ গ্রহণের চেষ্টা আপনার শত্রুর চেয়ে আপনার স্বাস্থ্যের অনেক বেশি ক্ষতিকর।
২৯. আপনার যে সংকট, বালা মুসিবত, দুঃখ-কষ্ট ও অভাব- অনটন হয় তাতে আপনার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয় বা পাপ মার্জনা হয়।
📄 ছয়টি মূলকথা যখন আপনার নিকট তখন কেন দুঃখ করা?
“দুঃখের পরে সুখ” পুস্তকের গ্রন্থকার একজন বিজ্ঞলোকের ঘটনা উল্লেখ করেছেন যিনি দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছিলেন। তাঁর ভাইয়েরা তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর ক্ষতির জন্য তাঁকে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করলেন। তিনি উত্তর দিলেন, ‘ছয়টি উপাদানে আমি একটি ঔষধ বানিয়েছি।’ সে উপাদান ছয়টি কী তারা তাকে তা জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন-
১. সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর দৃঢ় ঈমান রাখা।
২. তকদীরে যা আছে তা অলঙ্ঘনীয়ভাবে ঘটবে এই অলঙ্ঘনীয় সত্য কথাকে মেনে নেয়া।
৩. দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি ধৈর্যের সুফল পাবে, এর কোন বিকল্প নেই।
৪. ধৈর্য না ধরে আমি কী করতে পারি? একথার নিহিতার্থে অবিচল আস্থা রাখা।
৫. নিজেকে নিজে এ প্রশ্ন করা, “আমার নিজের ক্ষতি করার জন্য আমি কেন একজন ইচ্ছুক ব্যক্তি হব?”
৬. একথা জানা যে, মুহূর্তেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে মসিবত দূর হয়ে যায় বা যেতে পারে。
অন্যরা যদি আপনার ক্ষতি করে বা আপনাকে যাতনা দেয় বা আপনি অত্যাচারিত হন অথবা অন্যের হিংসার শিকার হন তবে দুঃখ করবেন না। শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যাহ (র) বলেছেন- “মুমিন ব্যক্তি ঝগড়া করে না প্রতিশোধও নেয় না এবং অন্যের ছিদ্রান্বেষণও করে না অর্থাৎ অন্যের দোষও তালাশ করে না।” বাধা-বিপত্তি বা সমস্যার সম্মুখীন হলে হতাশ না হয়ে বরং সহ্য করুন ও ধৈর্য ধরুন।
একজন বিজ্ঞ লোক বলেছেন- “হে সময়! তোমার নিকট যদি অবশিষ্ট কিছু (সময়) থাকে যা দিয়ে তুমি যোগ্য ও মর্যাদাবানদেরকে অপদস্ত কর তবে তা তুমি আমাকে দাও।” অর্থাৎ হে সময়! তুমি যতই দীর্ঘ হও না কেন তোমার দীর্ঘতার চেয়ে আমার ধৈর্য অনেক বেশি। সুতরাং, তুমি আমার যোগ্যতার ও মর্যাদার হানি করতে পারবে না। ধৈর্য হলো উদ্বিগ্নতার বিপরীত, ধৈর্য শান্তির ফল বহন করে। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ধৈর্য ধরে না, পরিস্থিতির কারণে সে ধৈর্য ধরতে বাধ্য হয়।
আল মুতানাব্বি বলেছেন- “সময় আমার উপর এতটাই সমস্যার (তীর) নিক্ষেপ করেছে যে, তীরে তীরে আমার হৃদয়ে আবরণ পড়ে গেছে এখন যখন আমি কোন তীর দ্বারা আক্রান্ত হই তখন আমি সমস্যার প্রতি ভ্রূক্ষেপ ছাড়াই বেঁচে আছি; কেননা, উদ্বিগ্ন হয়ে আমি লাভবান হইনি।”
কেউ যদি আপনার কোন উপকার করতে অস্বীকৃতি জানায় অথবা আপনাকে যদি ভ্রূকুটি করা হয় অথবা কোন কৃপণ ব্যক্তি যদি আপনাকে ফিরিয়ে দেয় তবে ব্যথাতুর হবেন না। যদি আপনি অন্যের কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত থেকে লাঞ্ছনা থেকে বাঁচতে পারেন তবে বিশাল বাড়ি ও সুন্দর বাগানের চেয়ে কুঁড়ে ঘর বা তাঁবুই আপনার জন্য শ্রেয় এবং সেসব পার্থিব জিনিসের চেয়ে ভালো যা আপনাকে শুধু দুশ্চিন্তা ও অশান্তিই বয়ে এনে দেয়।