📄 তাহাজ্জুদ সালাত পড়ুন
[অর্থাৎ, শেষ রাতে নফল (অতিরিক্ত বা স্বেচ্ছাপ্রদত্ত) সালাত আদায় করুন। – অনুবাদক]
শেষ রাতে (যখন কোন মানুষ আপনাকে দেখে না) সালাতে দাঁড়ানো আপনার অন্তরে প্রশান্তি এনে দিবে। সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে, নবী করীম ﷺ বলেছেন— “যে ব্যক্তি শেষ রাতে জেগে উঠে আল্লাহকে স্মরণ করল, তারপর অযু করে সালাত পড়ল সে চটপটে ও পবিত্র চিত্ত হয়ে গেল।”
“তারা রাতের সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত।” (৫১-সুরা যারিয়াত: আয়াত-১৭)
“এবং রাতের কিছু অংশে এর (কুরআন তিলাওয়াতের) মাধ্যমে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করুন, যা আপনার জন্য নফল (অতিরিক্ত)।” (১৭-সুরা বনী ইসরাঈল: আয়াত-৭৯)
আবু দাউদ শরীফে একটি সহীহ হাদীসে ইঙ্গিত আছে যে, শেষ রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায়ের মাধ্যমে শরীরের অসুস্থতা দূর হয়ে যায়। নবী করীম ﷺ বলেছেন— “অমুক লোকের মতো হয়ো না যে নাকি রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ সালাত পড়ত কিন্তু পরে তা ছেড়ে দিয়েছে।”
নিচের অংশটুকু আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে— “আবদুল্লাহ খুবই ভালো মানুষ। কিন্তু যদি সে রাতে তাহাজ্জুদ সালাত পড়ত তবে কতইনা ভালো হত!”
ক্ষয়শীল বস্তুর জন্য দুঃখ করবেন না: আল্লাহ ছাড়া এ বিশ্বজগতের সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। “তার সত্তা ছাড়া সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে।” (২৮-সুরা কাসাস: আয়াত-৮৮) “এর উপর যা কিছু আছে সবই ধ্বংসশীল। এবং তোমার মহা প্রতাপশালী ও মহাসম্মানিত প্রভুর সত্তাই শুধু চিরকাল ঠিক থাকবেন।” (৫৫-সুরা মারিয়দা: আয়াত-২৬-২৭)
📄 মনাযোগের সাথে আল্লাহর কালাম (বাণী) শুনুন
কুরআন তিলাওয়াত করুন এবং তিলাওয়াত শুনুন। এতে সুখ-শান্তি ও প্রশান্তি পাবেন। নবী করীম ﷺ কোন মহান সাহাবীর মুখে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে ভালোবাসতেন। কুরআন তিলাওয়াতের ক্যাসেট শোনার জন্য আপনি প্রতিদিন কয়েক মিনিট বরাদ্দ করতে পারেন। আপনি রাস্তা-ঘাটে, কর্মস্থলে বা অফিসে যে শব্দ শোনেন তা অবশ্যই আপনার বিরক্তি উৎপাদন করে, তাই আপনার মনকে শান্তি দেওয়ার জন্য কিছু সময় বের করুন।
“যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের অন্তর আল্লাহর জিকিরে প্রশান্ত হয়। জেনে রাখ! আল্লাহর জিকিরে অন্তর প্রশান্ত হয়।” (১৩-সূরা রা'আদ: আয়াত-২৮)
একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে— নবী করীম ﷺ ইবনে মাসউদ (রা)-কে কুরআনের সূরা নিসা পড়তে আদেশ করলেন। তিনি পড়তে থাকলেন আর নবী করীম ﷺ-এর চোখের পানি তাঁর গাল বেয়ে পড়তে লাগল। তখন নবী করীম বললেন, “যথেষ্ট হয়েছে (এখন তুমি থামতে পার)।”
“(হে মুহাম্মদ!) আপনি বলে দিন: ‘যদি মানুষেরা ও জ্বীনরা এই কুরআনের মতো কোন কিছু সৃষ্টি করার জন্য একত্রিত হয় তবুও তারা এর মতো কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।” (১৭-সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত-৮৮)
“যদি আমি এ কুরআনকে পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি অবশ্যই পাহাড়কে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হয়ে যেতে দেখতে পেতে।” (৫৯-সূরা আল হাশর: আয়াত-২১)
দৈনন্দিন জীবনের কার্যকলাপের মাঝে যা মনকে উদাসীন করে তোলে, তাতে খাওয়া আর ঘুম ছাড়া কোন কিছুর প্রতি যত্ন নেয়া হয় না; এভাবে জানোয়ারের পর্যায়ে নেমে যেতে হয়। কিন্তু যখন কেউ তার প্রভুর বাণীর দিকে ফিরে আসে তখন সে আরাম ও শান্তি বোধ করে। এখানে এটা উল্লেখ করা জরুরি যে, গান নয় বরং আল্লাহর কালামই শান্তি বয়ে আনে। গান হলো তুচ্ছ, বাজে ও নিষিদ্ধ বিকল্প। আমাদের নিকট এর চেয়ে ভালো কিছু আছে যা নিয়ে আল্লাহর রাসূল আগমন করেছেন।
“এ কুরআনের সামনে পিছনে কোন দিকেই বাতিল আসতে পারে না, এটা সকল প্রশংসার প্রাপক মহাজ্ঞানীর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।” (৪১-সূরা হা-মীম-আস-সাজদাহ: আয়াত-৪২)
“তুমি তাদের চক্ষুসমূহকে অশ্রুতে ভেসে যেতে দেখতে। কেননা, তারা যা সত্য তা অনুধাবন করতে পেরেছে।” (৫-সূরা মায়িদা: আয়াত-৮৩)
কেবলমাত্র বোকারাই গানে শান্তি পায়— “এবং মানুষের মাঝে এমন লোকও আছে যে নাকি অজ্ঞতাবশতঃ (মানুষকে) আল্লাহর পথ হতে বিপথে চালিত করার জন্য বেহুদা কথা (যেমন—গান-বাজনা, গল্প-গুজব) ক্রয় করে।” (৩১-সূরা লুকমান: আয়াত-৬)
📄 মজলুমের দোয়া বা অত্যাচারিতের প্রার্থনা
ইব্রাহীম তামীমী একবার বলেছেন— “যখন কেউ আমার সাথে অন্যায় করে, তখন আমি কোন কল্যাণময় মাধ্যমের তার প্রতিদান দিই।”
খোরাসানের এক ধার্মিক লোকের কিছু টাকা চুরি হয়ে গেলে সে কাঁদতে লাগল। ফুরকাইল তাকে এ অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করল, “কাঁদছেন কেন?” সে উত্তর দিল, “আমার মনে পড়ছে যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ আমাকে ও চোরকে একত্রিত করবেন এবং তার জন্য আমার মায়া লাগছে।”
এক লোক ইসলামের প্রাথমিক যুগের এক আলেমের গীবত করে। বদলে আলেম লোকটি তাকে খেজুর উপহার দিলেন। উপহার দেওয়ার কারণ হলো—সে আমার উপকার করেছে। গীবত করার কারণে গীবতকারীকে কেয়ামতের দিন আলেম লোকটিকে কিছু সওয়াব দিতে হবে বা আলেম লোকটির কিছু পাপ গীবতকারীকে নিতে হবে। এভাবে গীবত করে গীবতকারী আলেম লোকটির উপকার করেছে।