📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ধৈর্য নিয়ে কিছু কথা

📄 ধৈর্য নিয়ে কিছু কথা


বর্ণিত আছে যে, ইবনে মাসউদ (রা) বলেছেন : “ঈমান ও পরিতৃপ্তি থেকেই শান্তি ও সাহায্য আসে। সন্দেহ ও ক্রোধ থেকে দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা ও দুঃখ-কষ্ট আসে।” তিনি আরো বলতেন— “ধৈর্যশীল সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জন করে।”

আক্ববান ইবনে তাগলাব বলেছেন— “আমি এক মরুবাসী আরবকে বলতে শুনলাম যে সে বলছে, ‘যখন কেউ অপ্রিয়কর অবস্থার সম্মুখীন হয়ে সে প্রকাশিত হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে তখন সর্বাপেক্ষা মহৎ একটি গুণ প্রকাশিত হয়; তার ধৈর্য ও আশা তার উপর আশাপ্রদ প্রভাব ফেলে; এ যেন সে সদা নিজেকে সমস্যা থেকে সুরক্ষিত হতে দেখে; আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস ও তাঁর সম্বন্ধে তার সুধারণার কারণে তার মানসিক অবস্থা এতটাই উচ্চমাত্রার আশাপ্রদ।’ যখন কারো এসব গুণ থাকে তখন আল্লাহ্ তার হাজত (প্রয়োজন) পূর্ণ করে দিবেন ও তার জীবন থেকে সংকট (দুঃখ-কষ্ট-অভাব-অনটন ও সমস্যা) দূর করে দিবেন এবং এর জন্য তাকে কখনও দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয় না। তিনি নিরাপদে থাকবেন এবং তার ধৈর্য ও সম্মানও নিরাপদ থাকবে।”

আল আসামায়ী বর্ণনা করেন যে, এক মরুবাসী আরব বলেছেন: “যখন আপনি মন্দ অবস্থায় পান তখন আপনি ক্ষতির আশংকা করুন। যখন আপনি মন্দ অবস্থায় থাকেন তখন ভালোয় আশা করুন। যারা যুদ্ধকে আকাঙ্ক্ষা করেছে এমন অনেকেই বেঁচে গেছেন আর যারা বাঁচতে চেয়েছিল এমন অনেকেই মরে গেছে। ভয়ংকর পথে চলার পরই অধিকাংশ সময় নিরাপত্তা আসে।”

কোন একজন জ্ঞানী লোক বলতেন: “জ্ঞানী ব্যক্তি সংকটে পড়লে নিজেকে দু’ভাবে সান্ত্বনা দেন। প্রথমটি হলো—পরিতৃপ্ত হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো—তার উপর যে মুসিবত এসেছে তা থেকে নিষ্কৃতির উপায়ের আশায় থাকা। মূর্খ লোক সংকটের সময় দৃঢ়তা বিচলিত ও ভীত হয়। প্রথমটি হলো—যে সব লোকের কাছে সে সাহায্য চায় তাদের সংখ্যা। দ্বিতীয়টি হলো—তার উপর যে মুসিবত এসেছে তার চেয়ে আরো মন্দ অবস্থা সম্বন্ধে তার সদা ভয় ও আশংকা।”

এবং আমি পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ্ কঠিন সমস্যার মাধ্যমে আমাদেরকে শিক্ষা দেন। এমন শিক্ষা যা অন্তর, কর্ম ও চক্ষুকে উন্মুক্ত করে। আল হাসান ইবনে সাউল বিপদাপদকে তুলনা দিয়ে লোকদের জন্য জাগরণী আহ্বান, ধৈর্যশীল লোকদের জন্য গভীর উপায় এবং প্রত্যেকের জন্য কল্যাণের স্মারক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এবং আল্লাহ্র বিধান সর্বদা উত্তম, বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা তাদের বীরত্বের মাধ্যমে মৃত্যু তালাশ করেছে এবং যারা ক্ষণস্থায়ী জীবন তালাশ করেছে। এবং যারা তাদের মতো নয় তাদের বর্ণনা নিচে আয়াতেও দেওয়া হয়েছে— “যারা তাদের (নিহত) ভাইয়ের সম্বন্ধে বলল— {অথচ তারা (ঘরে) বসেছিল} যদি তারা আমাদের অনুসরণ করত {আমাদের (কথা) মতো ধৈর্য ধরে থাকত} তবে তারা মরত না।” {মুহাম্মাদ ﷺ আপনি বলে দিন, “যদি তোমরা সত্যবাদীই হয়ে থাক, তবে তোমরা তোমাদের মৃত্যুকে হটিয়ে দাও।”} (৩-সুরা আলে ইমরান : আয়াত-১৬৮)

ফন্ট সাইজ
15px
17px