📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ধৈর্যের সাথে কষ্ট সহ্য করুন

📄 ধৈর্যের সাথে কষ্ট সহ্য করুন


ডেল কার্নেগী বলেছেন— চীনারাসহ আফ্রিকান ও দক্ষিণ আমেরিকানরা খুব কমই দুশ্চিন্তাজনিত হৃদরোগের শিকার হয়। তারা যে শান্ত ও দুশ্চিন্তাহীন জীবন-যাপন করে এটাকেই এর কারণ হিসেবে জোর দিয়ে বলা যায়। তিনি আরো বলেছেন— “পাঁচটি সর্বাপেক্ষা মারাত্মক রোগে সর্বমোট যতলোক মারা যায় তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক আমেরিকান মারা যায় আত্মহত্যা করে।” এটা এমন এক চমকপ্রদ পরিসংখ্যান যা কিছুতেই হালকাভাবে দেখা বা বিবেচনা করা উচিত নয়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 বিপদে ধৈর্য ধরুণ

📄 বিপদে ধৈর্য ধরুণ


দুঃখ-কষ্ট, বিপদাপদ ও সংকটে বিচলিত হবেন না। নবী করীম ﷺ বলেছেন— “নিশ্চয় আল্লাহ যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন তখন তিনি তাদেরকে পরীক্ষা করেন। যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য রয়েছে সন্তুষ্টি আর যে তাতে ক্রুদ্ধ হয় তার জন্য রয়েছে গযব।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সীমালঙ্ঘনকারীর অন্যায় আচরণ

📄 সীমালঙ্ঘনকারীর অন্যায় আচরণ


হাশরের দিন আমরা মহা বিচারকের নিকট চলে যাব, আর সকল বিবাদীকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে। ঈমানদারদের পক্ষে ন্যায় বিচারের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে সেদিন (বিচার হওয়ার জন্য) অপেক্ষা করতে থাকবে যেদিন কিয়াম (হাশর) আল্লাহ প্রথম ও শেষ সৃষ্টিকুলকে একত্রিত করবেন। সে দিন স্বয়ং আল্লাহ বিচারক হবেন আর সাক্ষী হবেন ফেরেশতারা। “এবং আমি কিয়ামতের দিন ন্যায় বিচারের দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করব, অতএব কারো প্রতি জুলুম করা হবে না এবং সৎকর্ম দানা পরিমাণ (ওজনের আমলও) যদি থাকে আমি তাও (দাঁড়িপাল্লায় ওজন দিতে) নিয়ে আসব।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৪৭)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ধৈর্য নিয়ে জ্ঞানীদের বাণী

📄 ধৈর্য নিয়ে জ্ঞানীদের বাণী


বলা হয় মানুষের ওলান বলেছেন: “এ দুনিয়াতে দুর্দশা দু'ধরনের। প্রথম প্রকারের প্রতিকার আছে; দুশ্চিন্তা হলো এর ঔষধ। আর দ্বিতীয় প্রকারের কোন প্রতিকার নেই; ধৈর্যই এর আরোগ্যকর চিকিৎসা।” বলা হয় যে, “যে ধৈর্য ধরে সে সফল হয়।”

বলা হয়েছে যে, “মৃত্যু তালাশ করে বাঁচতে চেষ্টা কর। কেননা, মৃত্যু তালাশ করার কারণে কত লোকই না বেঁচে আছে। আর বেঁচে থাকতে চাওয়ার কারণে কত লোকই না ধ্বংস হয়ে গেছে। অধিকাংশ সময়ই অনিশ্চিত পথে চলার পরই নিরাপত্তা আসে।”

আরবরা বলত, “নিশ্চয়ই মন্দ কাজেরও ভালো-মন্দ স্তর আছে।” আবু উবাইদাহ্ একবার ব্যাখ্যা করেন এভাবে, “আপনি যদি কোন সংকটে পড়ে থাকেন তবে জেনে রাখুন যে আপনি এর চেয়ে আরো অনেক বেশি মন্দ বা খারাপ অবস্থার শিকার হতে পারতেন। আপনার যদি ধৈর্যের দূরদৃষ্টি থাকে তবে আপনি আরো ভালোভাবে সংকটের মোকাবিলা করতে পারবেন।” যখন সকল আশা ভরসা শেষ হয়ে যায়, অধিকাংশ সময় তখনই সংকট নিঃসরণের (সমস্যা সমাধানের) উপায় বেরিয়ে আসে (পাওয়া যায়)।

“আমি তাদের নিকট থেকেই তাদের উত্তম আমলগুলো কবুল (গ্রহণ) করি এবং তাদের মন্দ (বদ্) আমলগুলোকে আমি উপেক্ষা করি; তারা জান্নাতবাসী হবে। এ সত্য অঙ্গীকারই তাদেরকে দেওয়া হতো।” (৪৬-সুরা আহকাফ : আয়াত-১৬)

(কাফেরদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল না তাই) এমনকি রাসূল ﷺ-ও হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তারা ভেবেছিল যে তাদেরকে (তাদের জাতি কর্তৃক) অস্বীকার করা হলো এমন সময় তাদের নিকট আমার সাহায্য এলো।” (১২-সুরা ইউসুফ : আয়াত-১১০)

“নিশ্চয় আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (২-সুরা বাকারা : আয়াত-১৫৩)
“কেবলমাত্র ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের পুরস্কার পূর্ণমাত্রায় (পূরাপূরি) বেহিসাবে দেওয়া হবে।” (৩৯-সুরা যুমার : আয়াত-১০)

মাঝে মাঝে যখন সকল আশা ভরসা শেষ হয়ে যায় এবং সব কিছু অন্ধকার মনে হয়, তখন আল্লাহ্ সফলতা ও শান্তি এনে দেন। আল্লাহর নিকট আশা করতে আমাদের উৎসাহিত করার জন্য তাঁর প্রতি পুরোপুরি নির্ভর ও বিশ্বাস করার জন্য এবং কখনও তাঁর সাহায্যের আশা ত্যাগ না করার জন্যই এমনিটি হয় (আল্লাহ্ করেন)। বিপদগ্রস্ত অবস্থাতেও প্রত্যেকের এ কথা জেনে সন্তুষ্ট থাকা উচিত যে, সে ছোট খাট বিপদাক্রান্ত হয়েছে এবং বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে। ইস্হাক্ব (নামে এক আবেদ লোক) বলেছেন, “আল্লাহ্ যখন কোন বান্দাকে বিপদগ্রস্ত করে পরে তাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেন, তখন সম্ভবত তিনি তাকে (সে বিপদ দ্বারা) পরীক্ষা করেন। এভাবে বিপদাপদ (দুঃখবেশে) এক মহাকল্যাণ।”

বলা হয়েছে যে, যে কষ্ট সহ্য করে এবং ধৈর্যশীল হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর বিধানের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে সে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তার কোন গোপন কল্যাণ হবে।

কোন কোন খ্রিস্টান বর্ণনা করেছে যে, তাদের কোন নবী বলেছেন, “কষ্ট হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে শিক্ষাদান আর শিক্ষাদান সব সময়ের জন্য নয়। অতএব, যখন কাউকে শিক্ষাদান করা হয় ও সে ধৈর্য ধরে তার জন্য শুভ সংবাদ রয়েছে। এমন লোককে এমন মুক্তি পরানো হবে যা হবে উত্তরণ ও বিজয়ের প্রতীক। এমন বিজয়, যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ্ তাদেরকে দিয়েছেন যারা তাঁকে ভালোবাসে ও তাঁর আনুগত্য করে।” (আবেদ) ইস্হাক্ব আরো বলেছেন— “যদি তুমি কোন সংকটের ধারালো ধারায় পড় তবে অভিযোগ করা থেকে সাবধান থেকো। কেননা নিরাপত্তার উপায় হলো কঠিন পথে চলা।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px