📄 সুফলের জন্য ধৈর্যসহ অপেক্ষা করুন
পাতালকুঠুরিতে আপনার যে সম্পদ জমা করে রাখা আছে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহর প্রতি আপনার যদি বিশ্বাস না থাকে তবে উক্ত প্রাসাদ ও সবুজ বাগানসমূহ আপনাকে শুধু দুশ্চিন্তা, দুঃখ-বেদনা ও হতাশাই বয়ে এনে দিবে।
বিপন্ন হবেন না: এমনকি আপনার চিকিৎসকের রোগ নির্ণয় ও তাঁর ঔষধও আপনাকে সুখী করতে পারবে না যদি আপনি বিপন্নতাকে আপনার অন্তরে বাস করতে দিয়ে আপনার আবেগ ও অভিজ্ঞতা প্রভাবিত হতে দেন।
দুঃখ করবেন না: কারণ, আল্লাহর নিকট আকুল আবেদন করার ক্ষমতা এবং রাজাধিরাজের দরবারে একান্ত বিনীত হওয়ার ক্ষমতা তো আপনার আছে। আল্লাহর নিকট সনির্বন্ধ আবেদন করার জন্য এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় গিয়ে জমিনে আপনার মাথা ঠেকানোর জন্য বরকতময় শেষ রাত্রি তো আছেই।
দুঃখিত হবেন না: কেননা, আল্লাহ তায়ালা এ পৃথিবী ও এতে যা কিছু আছে তা সবই আপনার জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি সুন্দর সুন্দর বাগান সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো (সে বাগানগুলো) নানান গাছে ও ফুলে ভরা, আর ওগুলো (সে গাছ ও ফুলগুলো) নারী-পুরুষ এই উভয় যুগলে সৃষ্টি। আর তিনি লম্বালম্বা তালগাছ, ঝলমলে তারকা, বন-বনানী, নদ-নদী ও বহু ঝর্ণা ধারা সৃষ্টি করেছেন—তবুও আপনি বেজার!
দুঃখিত হবেন না: কারণ আপনি বিশুদ্ধ পানি পান করছেন, বিশুদ্ধ বায়ু সেবন করছেন, সুস্থ শরীরে আপনার দু'পায়ে ভর করে হাঁটছেন এবং আপনি রাত্রিতে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন।
📄 ধৈর্যের সাথে কষ্ট সহ্য করুন
ডেল কার্নেগী বলেছেন— চীনারাসহ আফ্রিকান ও দক্ষিণ আমেরিকানরা খুব কমই দুশ্চিন্তাজনিত হৃদরোগের শিকার হয়। তারা যে শান্ত ও দুশ্চিন্তাহীন জীবন-যাপন করে এটাকেই এর কারণ হিসেবে জোর দিয়ে বলা যায়। তিনি আরো বলেছেন— “পাঁচটি সর্বাপেক্ষা মারাত্মক রোগে সর্বমোট যতলোক মারা যায় তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক আমেরিকান মারা যায় আত্মহত্যা করে।” এটা এমন এক চমকপ্রদ পরিসংখ্যান যা কিছুতেই হালকাভাবে দেখা বা বিবেচনা করা উচিত নয়।
📄 বিপদে ধৈর্য ধরুণ
দুঃখ-কষ্ট, বিপদাপদ ও সংকটে বিচলিত হবেন না। নবী করীম ﷺ বলেছেন— “নিশ্চয় আল্লাহ যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন তখন তিনি তাদেরকে পরীক্ষা করেন। যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য রয়েছে সন্তুষ্টি আর যে তাতে ক্রুদ্ধ হয় তার জন্য রয়েছে গযব।”
📄 সীমালঙ্ঘনকারীর অন্যায় আচরণ
হাশরের দিন আমরা মহা বিচারকের নিকট চলে যাব, আর সকল বিবাদীকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে। ঈমানদারদের পক্ষে ন্যায় বিচারের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে সেদিন (বিচার হওয়ার জন্য) অপেক্ষা করতে থাকবে যেদিন কিয়াম (হাশর) আল্লাহ প্রথম ও শেষ সৃষ্টিকুলকে একত্রিত করবেন। সে দিন স্বয়ং আল্লাহ বিচারক হবেন আর সাক্ষী হবেন ফেরেশতারা। “এবং আমি কিয়ামতের দিন ন্যায় বিচারের দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করব, অতএব কারো প্রতি জুলুম করা হবে না এবং সৎকর্ম দানা পরিমাণ (ওজনের আমলও) যদি থাকে আমি তাও (দাঁড়িপাল্লায় ওজন দিতে) নিয়ে আসব।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৪৭)