📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ধৈর্যের কঠিন পথকে অবলম্বন করুন

📄 ধৈর্যের কঠিন পথকে অবলম্বন করুন


দুঃখ-কষ্ট-অভাব-অনটনের সময় দৃঢ় মনোবল নিয়ে স্বাভাবিক থাকতে পারেন এমন লোকের সংখ্যা নিতান্তই কম। একথা আমাদেরকে অবশ্যই বিবেচনা করে দেখতে হবে যে, যদি আমি বা আপনি ধৈর্য না ধরি তবে আমাদের জন্য কী করার আছে? একথা স্পষ্ট যে, আমাদের ধৈর্য ধরা ছাড়া অন্য কিছু করার নেই। আপনার কাছে কি অন্য কোন সমাধান আছে? ধৈর্যের চেয়েও ভালো কোন পথের কথা কি আপনার জানা আছে?
যাঁরা মাহাত্ম্য অর্জন করেন, তাঁদেরকে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করার পূর্বে দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যার এক মহাসাগর পাড়ি দিতে হয়। জেনে রাখুন, এক সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া মাত্রই আপনাকে আরেক সংকটের মোকাবেলা করতে হবে। এই সার্বক্ষণিক সংঘর্ষের মধ্যে আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য ও আল্লাহতে দৃঢ় বিশ্বাস রেখে এগোতে হবে। এটাই মহামানবদের পথ; দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে তাঁরা সংকটের মোকাবিলা করে সকল দুঃখ-কষ্ট ও সংকটকে তাঁরা ধরাশায়ী করে সফলতাকে অর্জন করেছেন।
অতএব, ধৈর্যশীল হোন ও জেনে রাখুন, আপনার ধৈর্য যেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়। তাঁর মতো ধৈর্য ধরুন, যে আসন্ন শাস্তির বিষয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী, যে জানে যে, এক শুভ পরিণতি আসবে। যে তাঁর প্রভুর নিকট পুরস্কার চায়—এ আশায় যে, সমস্যা কবলিত হয়ে তাঁর পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে।
ধৈর্য ধরুন, সমস্যা যাই হোক না কেন আর সামনের পথ যতই অন্ধকার মনে হোক না কেন তাতে কিছু আসে যায় না। কেননা, ধৈর্যের সাথে অবশ্যই বিজয় আসবে আর দুঃখ-কষ্ট ও ক্লান্তির পরেই নেমে আসবে অনাবিল শান্তি। অতীতের কতিপয় সফল ব্যক্তির জীবনী পাঠ করে আমি তাদের প্রদর্শিত ধৈর্যের সীমা দেখে, পর্বতসম বিশাল সমস্যার বোঝা বহন করার ক্ষমতা দেখে হতভম্ব হয়ে গেছি; এ বিশাল পর্বতসম সমস্যার বোঝা বহন করে তাঁরা শুধু অধিকতর শক্তিশালী মানব হিসেবেই পুনঃ প্রকাশিত হয়েছেন। কনকনে ঠান্ডা বৃষ্টির দর্শনের মতোই সংকট তাঁদের মাথার উপরে পতিত হয়েছে তবুও তাঁরা পাহাড়ের মতোই দৃঢ় ছিলেন। তারপর অল্প সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেই তাঁরা তাঁদের ধৈর্যের কারণে সফলতার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুঃখিত হবেন না- একটি সুখদায়ক পরিণতির জন্য ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করুন

📄 দুঃখিত হবেন না- একটি সুখদায়ক পরিণতির জন্য ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করুন


নিচের হাদীসখানি তিরমিযী শরীফে পাওয়া যায়— “সর্বোত্তম ইবাদত হলো (ধৈর্য সহকারে) স্বস্তির জন্য অপেক্ষা করা।”
“প্রভাতে কি নিকটবর্তী নয়?” (১১-সূরা হূদ : আয়াত-৮১)

দুর্দশাগ্রস্তদের প্রভাত আবির্ভূত হচ্ছে, সুতরাং এর জন্য অপেক্ষা করুন। একটি আরবী প্রবাদ আছে, “রশি যদি বেশি কষে তবে তা ছিঁড়ে যায়।” অন্য কথায়, যদি কোন অবস্থা সংকটজনক স্তরে পৌঁছে যায় তবে আলো ও খোলা পথের প্রত্যাশা কর। আল্লাহ তা’আলা বলেন—
“আর যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে তবে আল্লাহ তাঁর পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন এবং তাকে মহাপুরস্কার দিবেন।” (৬৫-সূরা আত্ তালাক্ব : আয়াত-৫)
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে—আল্লাহ তাঁর কাজ সহজ করে দেন।” (৬৫-সূরা আত্ তালাক্ব : আয়াত-৪)

একখানি নির্ভরযোগ্য হাদীসে নবী করীম ﷺ আল্লাহর এ কথা বলেন— “আমার বান্দা আমার প্রতি যেরূপ ধারণা পোষণ করে আমি (তার প্রতি) সেরূপই (আচরণ করি); সুতরাং, সে যেরূপ ইচ্ছা আমার প্রতি সেরূপই ধারণা পোষণ করুক।”

সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন— “অবশেষে যখন রাসূলগণ হতাশ হয়ে গেলেন আর মানুষেরা ধারণা করল, তাদেরকে (অর্থাৎ রাসূলদেরকে) মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বা (নবীগণ ভাবলেন,) মানুষেরা তাদেরকে মিথ্যা ভাবছে, তখন তাদের নিকট আমার সাহায্য আসল। অতএব, আমি যাকে ইচ্ছা করি সে মুক্তি পায়।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-১১০)

জেনে রাখুন যে, কষ্টের সাথে অবশ্যই স্বস্তি আছে। কোন কোন মুফাস্সির বা কুরআনের ব্যাখ্যাকার বলেন, “একটি সঙ্কট দুটি আরামকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না।” এবং এ কথাকে তারা হাদীস মনে করেন। নবী করীম ﷺ বলেছেন— “জেনে রাখ যে ধৈর্যের মাধ্যমে বিজয় আসে এবং কষ্টের মাধ্যমে আরাম আসে।”

একজন আরবী কবি বলেছেন— “যখন নাকি কিছু চোখ ঘুমিয়ে আছে তখন কিছু আঁখি আছে বিশ্রামহীন, কী ঘটবে আর কী ঘটবে না তা নিয়ে গভীর ধ্যানেমগ্ন; অতএব, যথাসম্ভব দুশ্চিন্তা ত্যাগ কর; কেননা, দুশ্চিন্তার বোঝা বহন করা পাগলামি। তোমার প্রভু আছেন, যিনি তোমার গতকালকের সমস্যা সমাধান করেছেন, তিনিই আগামীকালও তোমার যা সমস্যা হবে তা সমাধান করবেন।”

আরেক আরবী কবি বলেছেন—
১. ঘটনা প্রবাহকে তার পূর্বনির্ধারিত পথে চলতে দাও, আর দুশ্চিন্তামুক্ত মন নিয়ে ঘুমাও।
২. কেননা, আল্লাহ এক পলকের মধ্যে অবস্থার পরিবর্তন করে দেন।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সুফলের জন্য ধৈর্যসহ অপেক্ষা করুন

📄 সুফলের জন্য ধৈর্যসহ অপেক্ষা করুন


পাতালকুঠুরিতে আপনার যে সম্পদ জমা করে রাখা আছে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। আল্লাহর প্রতি আপনার যদি বিশ্বাস না থাকে তবে উক্ত প্রাসাদ ও সবুজ বাগানসমূহ আপনাকে শুধু দুশ্চিন্তা, দুঃখ-বেদনা ও হতাশাই বয়ে এনে দিবে।

বিপন্ন হবেন না: এমনকি আপনার চিকিৎসকের রোগ নির্ণয় ও তাঁর ঔষধও আপনাকে সুখী করতে পারবে না যদি আপনি বিপন্নতাকে আপনার অন্তরে বাস করতে দিয়ে আপনার আবেগ ও অভিজ্ঞতা প্রভাবিত হতে দেন।

দুঃখ করবেন না: কারণ, আল্লাহর নিকট আকুল আবেদন করার ক্ষমতা এবং রাজাধিরাজের দরবারে একান্ত বিনীত হওয়ার ক্ষমতা তো আপনার আছে। আল্লাহর নিকট সনির্বন্ধ আবেদন করার জন্য এবং তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদায় গিয়ে জমিনে আপনার মাথা ঠেকানোর জন্য বরকতময় শেষ রাত্রি তো আছেই।

দুঃখিত হবেন না: কেননা, আল্লাহ তায়ালা এ পৃথিবী ও এতে যা কিছু আছে তা সবই আপনার জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি সুন্দর সুন্দর বাগান সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো (সে বাগানগুলো) নানান গাছে ও ফুলে ভরা, আর ওগুলো (সে গাছ ও ফুলগুলো) নারী-পুরুষ এই উভয় যুগলে সৃষ্টি। আর তিনি লম্বালম্বা তালগাছ, ঝলমলে তারকা, বন-বনানী, নদ-নদী ও বহু ঝর্ণা ধারা সৃষ্টি করেছেন—তবুও আপনি বেজার!

দুঃখিত হবেন না: কারণ আপনি বিশুদ্ধ পানি পান করছেন, বিশুদ্ধ বায়ু সেবন করছেন, সুস্থ শরীরে আপনার দু'পায়ে ভর করে হাঁটছেন এবং আপনি রাত্রিতে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ধৈর্যের সাথে কষ্ট সহ্য করুন

📄 ধৈর্যের সাথে কষ্ট সহ্য করুন


ডেল কার্নেগী বলেছেন— চীনারাসহ আফ্রিকান ও দক্ষিণ আমেরিকানরা খুব কমই দুশ্চিন্তাজনিত হৃদরোগের শিকার হয়। তারা যে শান্ত ও দুশ্চিন্তাহীন জীবন-যাপন করে এটাকেই এর কারণ হিসেবে জোর দিয়ে বলা যায়। তিনি আরো বলেছেন— “পাঁচটি সর্বাপেক্ষা মারাত্মক রোগে সর্বমোট যতলোক মারা যায় তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক আমেরিকান মারা যায় আত্মহত্যা করে।” এটা এমন এক চমকপ্রদ পরিসংখ্যান যা কিছুতেই হালকাভাবে দেখা বা বিবেচনা করা উচিত নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px