📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ধ্বংস হওয়ার পরেও সন্তুষ্টি

📄 ধ্বংস হওয়ার পরেও সন্তুষ্টি


বনী আবস গোত্রের এক লোক তাঁর হারিয়ে যাওয়া কতগুলো উটের সন্ধানে তাঁর শহর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন। তিন দিন সে তাঁর বাড়ি থেকে দূরে ছিলেন। তিনি একজন ধনী লোক ছিলেন; আল্লাহ্ তাঁকে বহু সম্পদ ও একটি বড় পরিবার (বহু সন্তান-সন্তুতি) দান করেছিলেন। তাঁর সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি এক বিশাল ভূ-সম্পত্তির উপর থাকত। তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে শান্তি ও সমৃদ্ধি দিয়ে রেখেছিল—কখনও তাঁদের কোন বিপর্যয় ঘটেনি। তাঁদের পিতার অনুপস্থিতির সময়ে এক রাতে গোটা পরিবারটাই ঘুমিয়ে পড়েছিল। তখন আল্লাহ্ তাঁদের উপর প্রবল স্রোতপূর্ণ বন্যা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, যার সাথে এমনভাবে পাথর আর মাটি মিশে ছিল যেমন নাকি প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ুর সাথে বালি উড়ে আসার আশা করা যায়। তাঁর বাড়িটি সমূলে উৎপাটিত হয়ে গেল এবং অনুপস্থিত পিতার গোটা পরিবার ও সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল। আবহাওয়া শান্ত হওয়ার পর না থাকল পরিবারের কোন চিহ্ন, আর না থাকল সম্পদের কোন চিহ্ন। যেন তারা কখনও ছিল না।

তিন দিন পর সে তার বাড়িতে ফিরে এসে দেখতে পেল ফাঁকা ও শূন্য একটি ভূমি। জীবনের কোন চিহ্নও দেখা গেল না। সে যে মানসিক আঘাত পেয়েছিল তাতে সে যে সবকিছু হারিয়েছিল তা সত্যভাবে বিশ্বাস করতে কিছু সময় লেগেছিল। তারপর আরো খারাপ ঘটনা হলো যে, তাঁর একটি উট পালিয়ে যেতে চেষ্টা করল। সে এটাকে নিজে ধরে রাখতে চেষ্টা করল, কিন্তু এটা এর পিছনের পা দিয়ে তাঁর দু’চোখে লাথি মেরে তাঁকে অন্ধ বানিয়ে দিল। মরুভূমিতে একাকী লোকটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার কারো উদ্দেশ্যে চিৎকার করতে লাগল। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর অবশেষে সে একজন মরুবাসী আরবকে তাঁর ডাকে সাড়া দিতে শুনল। মরুবাসী আরব তাঁকে দামেশকের খলিফা ওয়ালীদ ইবনে আব্দুল মালেকের নিকট নিয়ে গেল। লোকটি তাঁর ঘটনা বলল, আর খলিফা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “(এখন) আপনি কেমন আছেন?” লোকটি দৃঢ়ভাবে উত্তর দিলেন, “আমি আল্লাহ্র প্রতি সন্তুষ্ট আছি।”

এই যে মুসলিম—যার অন্তরে সত্যিকার তাওহীদ বহন করেছিল—তিনি এই যে ‘শক্তিশালী কথাগুলো’ বললেন তা তাঁর পরবর্তী জাতির জন্য শিক্ষা ও নৈতিক উপদেশ হয়ে গেল। কী ছিল এই নৈতিক শিক্ষা? তা ছিল সর্বদা আল্লাহ্র প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। যে লোক আল্লাহ্র প্রতি সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত নয় সে যদি চায় তবে সে অন্য পথ খোঁজার চেষ্টা করুক– “যে কেউ মনে করে, আল্লাহ্ তাঁকে কখনও দুনিয়া ও আখিরাতে সাহায্য করবেন না, সে আকাশের দিকে একটি রজ্জু প্রসারিত করুক; পরে তা বিচ্ছিন্ন করুক। অতঃপর সে দেখুক যে তার কৌশল তার ক্রোধ দূর করে কি না।” (২২-সূরা আল হাজ্জ : আয়াত-১৫)

ফন্ট সাইজ
15px
17px