📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 সন্তুষ্টির ফল কৃতজ্ঞতা (শুকরিয়া)

📄 সন্তুষ্টির ফল কৃতজ্ঞতা (শুকরিয়া)


অল্পে তুষ্টি তকদীরের প্রতি বিশ্বাসের পথে পরিচালিত করে, শুকরিয়া হলো ঈমানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের। আসলে এটাই ঈমানের আসল রূপ। ধার্মিকতার বিভিন্ন পর্যায়ের সর্বোচ্চ শিখর বা চূড়া আল্লাহর শুকরিয়া আদায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর করুণা, শাসন, বিধান, তাঁর দান ও তাঁর ছিনিয়ে নেয়ার প্রতি সন্তুষ্ট নয় সে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়। প্রকৃতপক্ষে কৃতজ্ঞ লোকেরাই সর্বাপেক্ষা ধন্য ও সমৃদ্ধ লোক।

প্রতিদিনেই আমরা এ ধরনের লোক দেখি, যারা মানসিকভাবে দুঃখিত, অন্তরসংশয়ী ও তাদের প্রতি ভক্তি-বিরক্ত আর তা এ কারণে যে, তিনি তাদেরকে আরো বেশি দান করেননি। তারা সুঅবস্থায় থাকা সত্ত্বেও এবং তাদের প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবার সত্ত্বেও তারা এ রকমটা ভাবে। তাদের যে সব মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস আছে তার সবটা উপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তারা এসব জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞও নয় এবং তাদের যে অবসর সময় আছে তার জন্যও কৃতজ্ঞ নয়। যদি তাদেরকে প্রাসাদ বা অট্টালিকা দান করা হতো তাহলে কি ঘটনা ঘটত! আসলে তাদের প্রচুর প্রশ্ন এমনকি আরো বেশি বিঘাতত হয়ে যেত এবং তারা আরো বেশি ঔদ্ধত্য ও অবজ্ঞা প্রকাশ করত। যে খালি পায়ে হাঁটে সে বলে, “আমার প্রভুর প্রতি আমি তখন কৃতজ্ঞ হব, যখন তিনি আমাকে জুতো দিয়ে ধন্য করবেন।” অথচ জুতাওয়ালা একটি দামী গাড়ি পাওয়া পর্যন্তও তার কৃতজ্ঞতা বিলম্বিত করতে চায়। আমরা কল্যাণকে নগদে গ্রহণ করি আর ভবিষ্যতে কৃতজ্ঞ হই। আল্লাহ্র কাছ থেকে আমাদের আশা অশেষ। অথচ তাঁর আদেশ পালনে আমরা ধীর ও অলস।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অসন্তুষ্টির ফল অবিশ্বাস (কুফরি)

📄 অসন্তুষ্টির ফল অবিশ্বাস (কুফরি)


বিরক্তি ও ক্ষুব্ধতার কারণে মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। ফলত এটা কুফরি (আল্লাহকে অবিশ্বাস) পথে নিয়ে যায়। বান্দা যদি প্রভুর প্রতি সর্বাবস্থায় সন্তুষ্ট থাকে তবে স্বভাবতই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। অতএব, সে সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু যদি সে অসন্তুষ্ট হয় তবে সে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধদের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং কাফেরদের পথ অনুসরণ করে। ঈমানের মধ্যে মিথ্যা ও বিচ্যুতি অনুভব কেবল এভাবেই ঘটে যে, আল্লাহ্র অনেক বান্দা নিজেই নিজের প্রভু হতে চেয়েছিল, এমনকি তাদের অনেকে নিজেদের চাহিদা ও ইচ্ছাকে তাদের প্রভু কর্তৃক লিখিয়ে নিতে বা অনুমোদন করিয়ে নিতেও উদ্যোগ নিয়েছিল। “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আগে বেড়ো না।” (৪৯-সূরা আল হুযুরাত : আয়াত-১)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অসন্তুষ্টির ফল শয়তানের ফাঁদ

📄 অসন্তুষ্টির ফল শয়তানের ফাঁদ


শয়তান মানুষকে বশে আনতে অধিকাংশ সময়ই দু’টি ক্ষেত্রে বিজয়ী হয়; (এক) অসন্তুষ্টি ও (দুই) কুপ্রবৃত্তি। এ দু’টি ক্ষেত্রে শয়তান মানুষকে অত্যন্ত নাজুক পায়, বিশেষ করে অসন্তোষ যখন গভীর হয়। এক্ষেত্রে সে এমন কিছু বলে, করে ও ভাবে যা তার প্রভুকে অসন্তুষ্ট করে। এ কারণেই নবী করীম তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের মৃত্যু সম্বন্ধে বলেছেন— “মন বিষণ্ন, চক্ষু হতে অশ্রু ঝড়ে পড়বেও আমরা আমাদের প্রভুকে যা সন্তুষ্ট করে, তা ছাড়া অন্য কিছু বলি না।” একটি শিশুর মৃত্যু মনে অসন্তোষের সৃষ্টি করতে পারে। সে অবস্থায় অধিকাংশ মানুষই অসন্তুষ্ট থাকে, যার কারণে তারা এমন কিছু বলতে বা করতে পারে যা তাদের প্রভুকে অসন্তুষ্ট করতে পারে। এ কারণেই এমন অবস্থায় যা তাদের প্রভুকে সন্তুষ্ট করে তা ছাড়া অন্য কিছু অবশ্যই না বলার জন্য নবী করীম আমাদেরকে অবগত করালেন।

যা ঘটেছে তা নিয়ে কেউ যদি অসন্তুষ্ট ও ক্রুদ্ধ হয় আর তখন তার মনে যদি নিম্নোক্ত তিনটি বিষয় রাখে তবে তার দুর্বিপাকের বোঝা যথার্থই হাল্কা হবে। তিনটি বিষয় হলো—১. আল্লাহর ইচ্ছাকে বুঝা ও বিশ্বাস করা যে, যা তার বান্দাদের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী, তিনি তা সর্বতোভাবে জানেন। ২. আল্লাহর যে বান্দা বিপদমুক্ত হতে ধৈর্য ধরে, তাকে আল্লাহ্ যে মহান পুরস্কার ও প্রতিদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তা সম্বন্ধে সচেতন থাকা। ৩. বিধান দেওয়ার ও বিচার করার অধিকার (একমাত্র) আল্লাহ্র—এ কথা বুঝা ও মেনে নেওয়া। “তারাই কি আপনার প্রভুর রহমত বণ্টন করে?!” (৪৩-সূরা আয যুখরুফ : আয়াত-৩২)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অল্পে তুষ্টি নিয়ে আরেকটি কথা

📄 অল্পে তুষ্টি নিয়ে আরেকটি কথা


পরিতুষ্ট মানুষের ইচ্ছা আল্লাহ্ তার বান্দা থেকে যা চান তার অনুসারী হয়ে থাকে অর্থাৎ আল্লাহ্ যা ভালোবাসেন ও যে বিষয়ে আল্লাহ্ সন্তুষ্ট (তাঁর পরিতুষ্ট বান্দা তাই ইচ্ছা করে)। এ কারণেই তুষ্টি ও নিজের ইচ্ছার অন্ধ অনুসরণ কখনও একই সাথে অবস্থান করতে পারে না। আর যদি কারো মনে উভয়টার অংশই থাকে তবে তার মন উভয়টার মধ্যে যেটি শক্তিশালী সেটি দ্বারা পরাভূত (পরাজিত) হবে। “আর হে আমার প্রভু! তুমি যা হতে সন্তুষ্ট হও, এজন্য আমি তাড়াতাড়ি তোমার নিকট এসে হাজির হয়েছি!” (২০-সূরা ত্বাহা : আয়াত-৮৪)

নিম্নোক্ত হাদীসটি নিয়ে একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন— “সুসময়ে আল্লাহকে চেন তাহলে দুঃসময়ে তোমাকে চিনবেন।” “সুসময়ে আল্লাহকে চিন” অর্থ হলো তাঁর প্রতি অনুগত থেকে, তাঁর অনুগ্রহরাজির জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থেকে এবং মসিবত আসার পূর্বেই একনিষ্ঠভাবে তাঁর মুখাপেক্ষী হয়ে তাঁর নৈকট্য সন্ধান করা। “সুসময়ে” অর্থ হলো শান্তি, নিরাপত্তা, অনুগ্রহ ও সুস্বাস্থ্যের সময়। তোমার সংকট মোচন করে এবং তোমাকে প্রতিটি জটিল অবস্থা থেকে মুক্ত করে “তিনি তোমাকে দুঃসময়ে চিনবেন।”

এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, বান্দার মনের মাঝে ও তার প্রভুর মাঝে এমন এক বিশেষ সম্পর্ক থাকা উচিত, যে সম্পর্কের কারণে বান্দা তার রবের এতটাই নৈকট্য অনুভব করবে যে, তার আর কারো প্রয়োজন হবে না। এভাবে সে যখন একাকী থাকে তখন সে সঙ্গ পায় এবং সে তাঁকে স্মরণ করার ও তাঁর নিকট প্রার্থনা করার মজা পায়। আল্লাহ্র বান্দা আমৃত্যু অনবরত জটিলতা ও কঠিনতার সম্মুখীন হতে থাকবে। কিন্তু তার প্রভুর সাথে তার যদি বিশেষ সম্পর্ক থাকে এবং সে যদি তার অনুগত বান্দা হয়, তবে জীবনের সকল সংকটই তার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px