📄 অসন্তোষে কোন লাভ নেই
কারো অবস্থা সম্বন্ধে অসন্তোষ সাধারণত দু’কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে। হয়ত যা চায় তা অর্জন করতে না পারার কারণে অথবা যা সে ঘৃণা বা অপছন্দ করে তা ঘটার কারণে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবুও কেউ যদি সত্যিই মনে করে যে, যা তার ভাগ্যে জোটেনি তা কখনও তার জন্য ছিল না এবং যা তাকে আক্রান্ত করেছে তা সর্বদাই তার জন্য প্রাপ্য ছিল তবে তার হতাশ বোধ করার কোন কারণই নেই। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ বলেছেন- “তোমার যা ঘটবে সে সম্বন্ধে লিখিত কলমের কালি শুকিয়ে গেছে। বিধান লেখা শেষ হয়ে গেছে, তকদীর লেখা সমাপ্ত হয়ে গেছে, সবকিছুর তকদীর বা পরিমাণ লেখা হয়ে গেছে, কলম উঠিয়ে (গুছিয়ে) রাখা হয়েছে এবং লিখিত পাতাসমূহ শুকিয়ে গেছে।”
📄 সন্তুষ্টিতেই নিরাপত্তা
সন্তুষ্টি আত্মাকে নিরাপত্তা দেয়। ফলে সন্তুষ্ট-চিত্ত বা আত্মা সুস্থ, ধোঁকা, দুর্নীতি এবং হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত থাকে এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকে। যে আত্মা সন্দেহ, কুফরি ও শয়তানের বিভিন্ন চাল থেকে মুক্ত সে আত্মাই সুস্থ আত্মা। এ ধরনের আত্মা আল্লাহকে কিভাবে খুশি করা যাবে একমাত্র সে বিষয়েই সন্তুষ্ট থাকে। “(হে মুহাম্মদ ﷺ) আপনি বলে দিন, ‘আল্লাহ্ (এটি অবতীর্ণ করেছেন), অতঃপর তাদেরকে তাদের নিরর্থক কথাবার্তার খেল-তামাশায় ছেড়ে দিন’।” (৬-সূরা আল আন’আম: আয়াত-৯১)
ভিতরতা ও বিরক্তি সুস্থ আত্মার নিকট অপরিচিত আর সে কারণেই যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানের প্রতি যত বেশি সন্তুষ্ট তার আত্মা তত বেশি সুস্থ হবে। সুতরাং, দুর্নীতি ও প্রতারণা অসন্তোষের সঙ্গী হয় আর সন্তোষের সঙ্গী হয় সুস্থ আত্মা, ধার্মিকতা এবং একনিষ্ঠতা। হিংসা ও অসন্তোষের আরেকটি ফল। আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া এমন গুণ, যা বিশুদ্ধ ইসলামী তাওহীদের বাগানে একনিষ্ঠতার পানিতে পুষ্ট ভালো বৃক্ষের মতো। এর মূল হলো ঈমান ও এর শাখা প্রশাখা আমলে সালেহসমূহ। এটাও মিষ্টি ফলবাহী বৃক্ষ। নবী করীম ﷺ বলেছেন- “ঈমানের স্বাদ সে ব্যক্তি গ্রহণ করল যে নাকি রব (প্রভু বা প্রতিপালক) হিসেবে আল্লাহর প্রতি, ধর্ম বা দ্বীন হিসেবে ইসলামের প্রতি এবং নবী হিসেবে মুহাম্মদের প্রতি সন্তুষ্ট হলো।”
📄 অসন্তোষ সন্দেহের দ্বার
অসন্তুষ্টি আল্লাহর প্রতি, তাঁর তকদীর বা বিধানের প্রতি, তাঁর প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের প্রতি সন্দেহের দ্বার খুলে দেয়। অভিযোগকারী এসব সন্দেহ থেকে মুক্ত হয় এমনটি খুব কমই দেখা যায়। এসব সন্দেহ তার আত্মার সাথে মিশে থাকে এবং তার অস্তিত্বে ছড়িয়ে থাকে। সে (অসন্তুষ্ট ব্যক্তি) যদি অসন্তুষ্টি নিয়ে নিজের বিষয়ে গভীর গবেষণা করে দেখত, তবে সে দেখতে পেত যে, তার ঈমান নড়বড়ে ও সন্দেহযুক্ত। সন্তুষ্টি ও ঈমান ভাইয়ের মতো, যা একে অপরের সাথে থাকে। পক্ষান্তরে, সন্দেহ ও অসন্তুষ্টির মধ্যে একই রকম ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক আছে। তিরমিযী শরীফে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম ﷺ বলেছেন- “যদি তুমি ঈমানের সাথে সন্তুষ্টি প্রদর্শন করতে পার তবে তা কর, আর যদি তা না পার তবে আত্মা যা অপছন্দ করে তাতে ধৈর্য ধরার মধ্যে প্রচুর কল্যাণ আছে।”
অতএব যারা অসন্তুষ্ট তারা ভিতরে ভিতরে বিরক্ত, ক্ষুব্ধ এবং ক্রুদ্ধও বটে, যদিও তাদের ক্রোধ কথায় প্রকাশ পায় না। তাদের ভিতরে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন মিশে আছে, যেমন—এটা কেন ঘটল বা এটা কীভাবে হতে পারে?
📄 সন্তুষ্টিই সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা
তকদীর বা খোদায়ী বিধান সম্পর্কে যে ব্যক্তি তার অন্তরকে সন্তুষ্টি দ্বারা পূর্ণ করে, আল্লাহ তার অন্তরকে সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও শান্তি দ্বারা ভরে দেন। আর যে ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হবে তার অন্তর বিপরীত গুণাবলি দ্বারা পূর্ণ হবে এবং তার অন্তর এমন সব বিষয় নিয়ে পূর্বে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে যা সুস্থ ও সফলতাকে ধ্বংস করে দিবে।
অতএব সন্তুষ্ট অন্তরকে সকল প্রকার অনাবশ্যক আচরণ থেকে মুক্ত করে তা এক সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য ছেড়ে দেয়। অসন্তুষ্ট অন্তর থেকে আল্লাহর সকল চিন্তা দূর করে দেয়। সুতরাং ক্রুদ্ধ, বিরক্ত ও অভিযোগকারী লোক—যে সর্বদা মনে করে যে, সে এক সমস্যায় পড়েছে তার প্রকৃত কোন ভিত্তি নেই। সে মনে করে তার রিযিক কম, সে গরিব (দরিদ্র), তার সমস্যা নানাবিধ এবং সর্বোপরি সে মনে করে যে, সে আরো পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহ্ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন মূলত সে বিষয়ে বা তা নিয়ে সে অসন্তুষ্ট। তাহলে এ ধরনের লোক কীভাবে শান্তি ও ভালো জীবন পেতে পারে?
“তা এজন্য যে, যা আল্লাহকে রাগান্বিত করত তারা তার অনুসরণ করেছিল এবং তাঁর (আল্লাহর) সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছিল। তাই তিনি (আল্লাহ) তাদের আমলসমূহকে বাতিল করে দিলেন।” (৪৭-সূরা মুহাম্মাদ বা কেতাল : আয়াত-২৮)