📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অসন্তুষ্টদের জন্য রয়েছে গজব

📄 অসন্তুষ্টদের জন্য রয়েছে গজব


নিজের অবস্থার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে এবং আল্লাহর সম্পর্কে অযৌক্তিক চিন্তা-ভাবনা করে নিজের দুশ্চিন্তা ও দুঃখের দ্বার খোলা হয় মাত্র। অপর পক্ষে নিজের অবস্থার প্রতি এবং আল্লাহর বিধানের (তক্বদীর-এর) প্রতি সন্তুষ্টি এমনকি আখেরাতের আগে দুনিয়াতে বেহেশতের দুয়ার খুলে দেয়। যা ভাগ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে তা নিয়ে প্রশ্ন ও অভিযোগ আত্মতৃপ্তি ও মনের শান্তি দেয় না। বরং আত্মসমর্পণ ও গ্রহণ (মেনে নেওয়ার বা কবুল করে নেওয়ার) মাধ্যমেই আমরা সেসব শুভ পরিণতি ঘটাতে পারি। কারণ, যিনি সব কিছু রিযিক দেন তিনি তা বিধান করেছেন তা নিয়ে কখনও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা উচিত নয়।

আমার এখনও প্রসিদ্ধ নাস্তিক ইবনে রাওয়ান্দির কথা মনে পড়ে। সে এক সাধারণ মূর্খ লোককে দেখল যে, সে প্রাসাদসমূহে বাস করে ও খুব ধনী। ইবনে রাওয়ান্দি আকাশ পানে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল, “আমি হলাম আমার জাতির দার্শনিক, তবুও আমি দরিদ্র জীবন যাপন করি, অথচ এ মূর্খ সাধারণ লোকটি ধনী। এটা এলোমেলো ও অদ্ভুত বন্টন।” আল্লাহ তারপর ইবনে রাওয়ান্দির দুঃখ-দুর্দশা, অপমান ও দারিদ্র্য বৃদ্ধি করে দিলেন। (আল্লাহর বিধানে তার ঔদ্ধত্য প্রদর্শন ও নাক গলানোর কারণেই আল্লাহ আরো ক্রুদ্ধ হয়ে এমনটি করলেন।) “আর অবশ্যই আখেরাতের শাস্তি অধিকতর অপমানকর হবে অথচ তাদের কখনও কোনরূপ সাহায্য করা হবে না।” (৪১-সুরা হা-মীম-আস-সাজদাহ : আয়াত-১৬)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অল্পে তুষ্ট হয়ে যে লাভ হয়

📄 অল্পে তুষ্ট হয়ে যে লাভ হয়


কঠিন সময়ে কেউ যদি নিজের অবস্থার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে সে শান্ত ও সুস্থ থাকতে পারে, অধিকন্তু সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অঙ্গীকারের প্রতি সত্যিকারের বিশ্বাস দেখাতে পারে। এ যেন তার আত্মা শব্দ করে বলে– “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ওয়াদাই দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছিলেন, আর এতে শুধু তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণ বৃদ্ধি পায়।” (৩৩-সুরা আল আহযাব : আয়াত-২২)

অন্যদিকে, অসন্তুষ্ট চিত্ত, অসুস্থতা, সন্দেহ ও অস্থিরতাপূর্ণ এ ধরনের আত্মা বিদ্রোহী ও সমস্যাগ্রস্ত থাকে। এ আত্মা যেন শব্দ করে বলে—তবে এটা যা বলে তা খুবই ভিন্নরকম, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে প্রতারণা ছাড়া অন্য কোন অঙ্গীকার দেননি।” (৩৩-সুরা আল আহযাব : আয়াত-১২)

যাদের মন এ ধরনের, তারা তাদের কাজকর্মের বিপরীতধর্মী। অন্যের নিকট যদি তাদের কোন অধিকার থাকে, তবে তারা সে অধিকার দাবি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যদি তাদেরকে তাদের অবশ্যই কর্তব্য কাজ করতে বলা হয় তবে তারা পিছিয়ে যায়। তাদের যখন কোন কল্যাণ হয় তখন শান্ত ও পরিতৃপ্ত বোধ করে। কিন্তু যখন তাদেরকে পরীক্ষা করা হয় তখন কত শীঘ্রই না মন্দের জন্য তাদের পরিবর্তন ঘটে! তারা শুধুমাত্র ইহকাল নয় পরকালও হারিয়েছে। “এ হলো স্পষ্ট ক্ষতি।” (২২-সূরা আল হাজ্জ : আয়াত-১১)

অতএব এগুলো হলো দুটি বিপরীত অবস্থা যা ফলত স্বভাবত বিপরীত। একটি শক্তির পথে পরিচালিত করে, যা অবশেষে সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করে। আল্লাহর বিধানের (তকদীরের) প্রতি অসন্তোষ দুশ্চিন্তার পথে পরিচালিত করে, যা অবশেষে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়। আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ্ তাঁর বান্দাকে (এ দুনিয়ায়) যে সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করতে পারেন তা হলো তাঁকে সৌম্যতা দান করা আর সৌম্যতা (মনের শান্তভাব) অর্জন করার সর্বশ্রেষ্ঠ এক পন্থা হলো সর্বদা আল্লাহর প্রতি পরিতুষ্ট ও সন্তুষ্ট থাকা।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ন্যায্য বিধান

📄 ন্যায্য বিধান


আল্লাহর বিধান তাঁর উপর অধঃস্থিত; এটা ঘটবেই এবং এটা ন্যায্য বিধান; যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে- “আমার ব্যাপারে আপনার বিধান ঘটবেই এবং আমার ব্যাপারে আপনার ফায়সালা ন্যায়সঙ্গত।” আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জুলুম করা নিজের উপর হারাম করে দিয়েছেন। আসলে মানুষেরাই অন্যায়-অত্যাচার করে। উপরে উল্লেখিত হাদীসের অংশ, “এবং আমার ব্যাপারে আপনার ফায়সালা ন্যায়সঙ্গত।” পাপের বিধান, পাপের কুফল ও পাপের শাস্তিও অন্তর্ভুক্ত করে। পাপ এবং পাপের শাস্তি বিষয়ে আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে আল্লাহ্ সর্বাপেক্ষা ন্যায়পরায়ণ। তিনি তাঁর কোন ব্যাপার এবং বিধান এমন সব কারণেও রাখতে পারেন যা আমাদের বুঝের বাইরে। এমন কোন উদ্দেশ্যও থাকতে পারে—যা ব্যাখ্যা ও বিশ্বাসে খুবই গভীর হওয়াতে একমাত্র তাঁরই জানা। আর এটাই মুসলমানদের বিশ্বাস।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অসন্তোষে কোন লাভ নেই

📄 অসন্তোষে কোন লাভ নেই


কারো অবস্থা সম্বন্ধে অসন্তোষ সাধারণত দু’কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে। হয়ত যা চায় তা অর্জন করতে না পারার কারণে অথবা যা সে ঘৃণা বা অপছন্দ করে তা ঘটার কারণে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবুও কেউ যদি সত্যিই মনে করে যে, যা তার ভাগ্যে জোটেনি তা কখনও তার জন্য ছিল না এবং যা তাকে আক্রান্ত করেছে তা সর্বদাই তার জন্য প্রাপ্য ছিল তবে তার হতাশ বোধ করার কোন কারণই নেই। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ বলেছেন- “তোমার যা ঘটবে সে সম্বন্ধে লিখিত কলমের কালি শুকিয়ে গেছে। বিধান লেখা শেষ হয়ে গেছে, তকদীর লেখা সমাপ্ত হয়ে গেছে, সবকিছুর তকদীর বা পরিমাণ লেখা হয়ে গেছে, কলম উঠিয়ে (গুছিয়ে) রাখা হয়েছে এবং লিখিত পাতাসমূহ শুকিয়ে গেছে।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px