📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 রিযিক তালাশ করুন কিন্তু লোভ করবেন না

📄 রিযিক তালাশ করুন কিন্তু লোভ করবেন না


সমস্ত মহিমা ও প্রশংসা স্রষ্টা ও রিযিকদাতার প্রাপ্য। তিনি কীটকে মাটিতে, মাছকে পানিতে, পাখিকে শূন্যে (আকাশে), পিঁপড়াকে অন্ধকারে এবং সাপকে পাথরের ফাটলে খোরাক দেন।
আল্লামা ইবনুল জাওযী এমন এক দৃশ্য দর্শন করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন যা চমৎকার এমনকি আজবও বটে। একটি গাছের আগডালে একটি অন্ধ সাপ বাস করত। একটি পাখি তার ঠোঁট দিয়ে এটির জন্য খাবার নিয়ে আসত। এটি সাপের নিকট এসে (কিচির মিচির) শব্দ করত। এ শব্দ শুনে সাপটি হাঁ করত, আর পাখিটি সাপের (সে হাঁ করা) মুখে খাবার ভরে দিত। সকল মহিমা ও প্রশংসা সেই আল্লাহরই প্রাপ্য যিনি পাখিকে দিয়ে সাপের সাহায্য করালেন।
“নিজ ডানার সাহায্যে উড়ে এমন প্রতিটি পাখিই তোমাদের মত এক একটি উম্মত।” (৬-সূরা আন’আম: আয়াত-৩৮)
মেহরাবের মধ্যে মরিয়ম (আ)-এর নিকট দিন-রাত রিযিক আসত। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো— “এসব আপনার নিকট কীভাবে আসে?” তিনি উত্তর দিলেন, “সব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে চান তাকে অপরিমিত রিযিক দান করেন।” (৩-সুরা আলে ইমরান: আয়াত-৩৭)
“এবং অভাবের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা কর না। আমিই তোমাদের ও তাদের রিযিক দিই।” (১৭-সুরা বনী ইসরাঈল: আয়াত-৩১)
লোকজনকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে পিতা-পুত্র উভয়েরই রিযিকদাতা হলেন তিনি যিনি জন্ম দেন না এবং জাতও নন। অনন্ত অসীম ধন ভাণ্ডারের মালিক নিজেই আপনার (এবং সকলের) রিযিকের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
“অতএব আল্লাহর নিকট রিযিক চাও এবং তাঁর দাসত্ব (ইবাদত) কর ও তাঁর কৃতজ্ঞতা (শোকরিয়া) আদায় কর।” (২৯-সুরা আনকাবুত: আয়াত-১৭)
“এবং তিনিই আমাকে পানাহার করান।” (২৬-সুরা আশ শুয়ারা: আয়াত-৭৯)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অল্পে তুষ্টির ফল

📄 অল্পে তুষ্টির ফল


“আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।” (৫-সুরা মায়িদা : আয়াত-১১৯)
অল্পে তুষ্টি বহু কল্যাণময় ফল বহন করে। যা তকদীরে আছে অন্য যে কোন জিনিসের তুলনায় তার প্রতি বেশি সন্তুষ্ট হয়েই ঈমান ও বিশ্বস্ততার সর্বোচ্চ স্তরে উত্তীর্ণ হওয়া যায়।
কেউ হয়তো শুধুমাত্র ভালোটাতেই তাদের উপর বর্তাক হোক এমনটাই আশা করতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র সুখকর জিনিসই তাদের জীবনে আসুক এটুকু আশা করতে পারে। কিন্তু আল্লাহর রাজত্বে এমনটা হবে না। বহু সত্যিকার ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য হলো ধৈর্য, সম্পূর্ণ ভরসা, পরিতৃপ্তি, বিনয় ও আল্লাহর ইচ্ছার নিকট আত্মসমর্পণ। যখন তারা প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হতেন তখন তাদের এসব গুণ প্রকাশিত হতো। অতএব, তকদীরে সন্তুষ্ট হওয়ার অর্থ এ নয় যে, কেবলমাত্র চাহিদামূলক বা মনের মতো জিনিসের প্রতিই সন্তুষ্ট থাকা; বরং সত্যিকার পরিতৃপ্তির প্রকৃত মাপকাঠি তখনই নির্গত হয় যখন কেউ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করে। মানুষের এ অধিকার নেই যে সে তকদীরের বিষয়াবলি নিয়ে মাতব্বরি করবে; সে শুধুমাত্র খুশী বা বেজার হতে পারে এবং এককথার কোন বাত্যয় নেই যে, বেজার হয়ে সে পাপী হয়। এলাহী তক্বদীরের (স্বর্গীয় বিধানের) ব্যাপারে মানুষের পছন্দ করার কিছুই নেই। তক্বদীরের পছন্দ ও সিদ্ধান্ত করার বিষয় একমাত্র আল্লাহর নিকট। তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বোচ্চ।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া

📄 আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া


আমাদের জানা উচিত যে, আমরা যদি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকি, তবে তিনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন। অতএব আপনি যদি অল্প পরিমাণ রিযিকে সন্তুষ্ট থাকেন তবে তিনিও আপনার অল্প আমলে সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। অবস্থা যাই-ই হোক না কেন আপনি যদি সন্তুষ্ট থাকেন, তবে আপনি দেখতে পাবেন যে আপনি আপনার প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন এবং বুঝতে পারবেন যে, আল্লাহ তাঁর সন্তুষ্টি একনিষ্ঠ বান্দাদের উপর সর্বাপেক্ষা অধিক সন্তুষ্ট হন। অপরপক্ষ থেকে মুনাফিকরা, আল্লাহ তাদের আমলকে প্রত্যাখ্যান করেন চাই তাদের আমল কম হোক বা বেশি হোক। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন, তারা তাতে অসন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টি চাইতেও ঘৃণা বা অপছন্দ করে। এভাবেই তাদের আমল বৃথা সম্পাদিত হয়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অসন্তুষ্টদের জন্য রয়েছে গজব

📄 অসন্তুষ্টদের জন্য রয়েছে গজব


নিজের অবস্থার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে এবং আল্লাহর সম্পর্কে অযৌক্তিক চিন্তা-ভাবনা করে নিজের দুশ্চিন্তা ও দুঃখের দ্বার খোলা হয় মাত্র। অপর পক্ষে নিজের অবস্থার প্রতি এবং আল্লাহর বিধানের (তক্বদীর-এর) প্রতি সন্তুষ্টি এমনকি আখেরাতের আগে দুনিয়াতে বেহেশতের দুয়ার খুলে দেয়। যা ভাগ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে তা নিয়ে প্রশ্ন ও অভিযোগ আত্মতৃপ্তি ও মনের শান্তি দেয় না। বরং আত্মসমর্পণ ও গ্রহণ (মেনে নেওয়ার বা কবুল করে নেওয়ার) মাধ্যমেই আমরা সেসব শুভ পরিণতি ঘটাতে পারি। কারণ, যিনি সব কিছু রিযিক দেন তিনি তা বিধান করেছেন তা নিয়ে কখনও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা উচিত নয়।

আমার এখনও প্রসিদ্ধ নাস্তিক ইবনে রাওয়ান্দির কথা মনে পড়ে। সে এক সাধারণ মূর্খ লোককে দেখল যে, সে প্রাসাদসমূহে বাস করে ও খুব ধনী। ইবনে রাওয়ান্দি আকাশ পানে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল, “আমি হলাম আমার জাতির দার্শনিক, তবুও আমি দরিদ্র জীবন যাপন করি, অথচ এ মূর্খ সাধারণ লোকটি ধনী। এটা এলোমেলো ও অদ্ভুত বন্টন।” আল্লাহ তারপর ইবনে রাওয়ান্দির দুঃখ-দুর্দশা, অপমান ও দারিদ্র্য বৃদ্ধি করে দিলেন। (আল্লাহর বিধানে তার ঔদ্ধত্য প্রদর্শন ও নাক গলানোর কারণেই আল্লাহ আরো ক্রুদ্ধ হয়ে এমনটি করলেন।) “আর অবশ্যই আখেরাতের শাস্তি অধিকতর অপমানকর হবে অথচ তাদের কখনও কোনরূপ সাহায্য করা হবে না।” (৪১-সুরা হা-মীম-আস-সাজদাহ : আয়াত-১৬)

ফন্ট সাইজ
15px
17px