📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অল্পে তুষ্টি বিষণ্ণতা ও হতাশা দূর করে

📄 অল্পে তুষ্টি বিষণ্ণতা ও হতাশা দূর করে


রাসূলুল্লাহ্ বলেছেন- “আমাদের প্রভুকে যা সন্তুষ্ট করে আমরা শুধু তাই বলি।” আপনার জন্য যা পূর্বেই নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে তার নিকট আপনাকে সঁপে দেওয়ার এক পবিত্র দায়িত্ব আপনার উপর রয়েছে। আপনি যদি এ দায়িত্ব পূর্ণ করেন তবে অবশেষে আপনি সফল হবেন। আপনার একটাই সুযোগ আছে আর তা হলো তক্বদীরে বিশ্বাস স্থাপন করা। কেননা, যা তক্বদীরে নির্ধারিত হয়ে গেছে তা অতি অবশ্যই ঘটবে। কোনরূপ কৌশল, ছল-চাতুরী ও চালাকিই আপনাকে এ থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

ইমারসন বলেছেন- “বাধা ও দুঃখ-কষ্টহীন এক বিলাসবহুল ও সুপ্রতিষ্ঠিত জীবন সুখী-সমৃদ্ধ-সফল ও মহামানব সৃষ্টি করে—এমন ধারণা কোথা হতে আমাদের নিকট আসল? আসল ঘটনা সম্পূর্ণ বিপরীত। যারা সহজ জীবন যাপন করার অভ্যাস গড়ে নিয়েছে তারা জীবনের পথে যতই এগিয়ে যাবে ততই অধিকতর অলস অভ্যাস গড়ে তুলতে থাকবে। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, মাহাত্ম্য বিভিন্ন পরিবেশের মানুষের নিকট তার লাগামকে সঁপে দিয়েছে। এসব পরিবেশের মাঝে ভালো-মন্দ পরিবেশও রয়েছে আবার এমন পরিবেশও রয়েছে যার ভালো-মন্দ নির্ধারণ করা যায় না। আর এসব পরিবেশ থেকেই জন্ম নিয়েছে এমন সব মহামানব যারা নিজেদের কাঁধে মহান মহান দায়িত্ব নিয়েছেন আর কখনো সেসব দায়িত্বকে দূরে ছুঁড়ে ফেলেননি।”

ইসলামের প্রাথমিক যুগে স্বর্গীয় পথ নির্দেশক কিতাবের পতাকা কারা বহন করেছিল? তারা ছিল আজাদ, গোলাম বা মুক্ত দাস। গরীব বা দরিদ্র এবং বঞ্চিত বা নিঃস্ব। যারা তাদের বিরুদ্ধে অবজ্ঞাসহকারে লেগেছিল তাদের অধিকাংশই ছিল (তৎকালীন) মহৎ ব্যক্তিবর্গ, নেতৃবর্গ এবং ধনী ব্যক্তিবর্গ।
“এবং যখন আমার স্পষ্ট আয়াতসমূহ তাদের নিকট তেলাওয়াত করা হয় তখন (ধনী) কাফেররা (দরিদ্র) ঈমানদারদেরকে বলে : ‘(ধনী কাফির ও দরিদ্র ঈমানদার এই) দু’দলের কোন দল মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসেবে উত্তম’।” (১৯-সূরা মারইয়াম : আয়াত-৭৩)
“এবং তারা বলে, ‘আমরা ধনে জনে সমৃদ্ধশালী এবং আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না’।” (৩৪-সূরা আস সাবা : আয়াত-৩৫)
“এভাবেই আমি তাদের একদলকে অপর দল দ্বারা পরীক্ষা করলাম যাতে করে তারা বলে, ‘আমাদের মাঝ থেকে কি আল্লাহ্ এই (দরিদ্র) লোকদিগকে অনুগ্রহ দানে ধনী করলেন?’ আল্লাহ্ কি কৃতজ্ঞদের সম্বন্ধে সর্বাধিক জ্ঞাত নন?” (৬-সূরা আল আন’আম : আয়াত-৫৩)
“কাফেররা মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘যদি এ কুরআন ভালো হতো তবে তারা (অর্থাৎ দরিদ্র মুমিনগণ) এ কুরআনের দিকে আমাদেরকে ছাড়িয়ে যেতে পারত না (তাদের আগে আমরা এ কুরআন পেতাম) আর যখন তারা এ কুরআন দ্বারা হেদায়াত প্রাপ্ত হলো না তখন তারা অচিরেই বলবে যে, এ কুরআন এক পুরাতন মিথ্যা রচনা’।” (৪৬-সূরা আল আহকাফ : আয়াত-১১)
“দম্ভিকেরা বলল : তোমরা যাতে বিশ্বাস কর আমরা নিশ্চয় তাতে অবিশ্বাস করি।” (৭-সূরা আল আ’রাফ : আয়াত-৭৬)
“আর তারা বলে, এই কুরআন (মক্কা ও তায়েফ) এই দুই নগরীর কোনো এক মহান ব্যক্তির উপর কেন নাযিল করা হলো না? তারা কি আপনার প্রভুর করুণাকে বণ্টন করেছে?” (৪৩-সূরা আয যুখরুফ : আয়াত-৩১-৩২)
আমার প্রায়ই আস্তারের কবিতার পংক্তিগুলো মনে পড়ে। তাতে সে একটি প্রতীতি করে যে, তাঁর মূল্য তাঁর চরিত্রে ও তাঁর কাজে; তাঁর বংশ মর্যাদায় নয়। তিনি বলেছেন— “কৃতদাস হওয়া সত্ত্বেও আমি এক মহান নেতা, কালো চামড়া হওয়া সত্ত্বেও আমার চরিত্র সাদা।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 তক্বদীর

📄 তক্বদীর


এক ভীষণ উদ্বিগ্ন মানসিক রোগী এক মুসলিম চিকিৎসকের নিকট পরামর্শ চেয়েছিল। চিকিৎসক তাকে উপদেশ দিলেন, “জেনে রাখুন, ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটবে তা আগেই নির্ধারিত হয়ে আছে, সুতরাং আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন কিছু নড়ে না এমনকি ফিসফিস শব্দও হয় না। অতএব, দুশ্চিন্তা কেন?” নিম্নোক্ত হাদীসে একথা এভাবে আছে— “আল্লাহ সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই সকল সৃষ্টির তকদীর বা ভাগ্যলিপি বা কর্মবিধি লিখে রেখেছেন।”
বিখ্যাত আরব কবি মুতানাব্বি বলেছেন— “ছোট লোকের চোখে ছোট জিনিস বড় দেখায় আর মহৎ লোকের চোখে বড় জিনিস ছোট দেখায়।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আপনার ভাগ্যে যে রিযিক আছে তা আপনার নিকট আসবেই

📄 আপনার ভাগ্যে যে রিযিক আছে তা আপনার নিকট আসবেই


যে তার রিযিকের বিলম্বে অধৈর্য, কেন তার সম্পদ এত কম সেজন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এবং অন্যদের তুলনায় পার্থিব সম্পদ কম থাকার কারণে অসন্তুষ্ট সে তো ঐ ব্যক্তির মতো যে নাকি সালাতের ইমামের আগে সালাতের রোকনসমূহ (রুকু, সেজদা, কওমা, জলসা ইত্যাদি) আদায় করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে ইমামের সালাম ফিরানোর আগে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করতে পারে না। অনুরূপভাবে, কেউ তার তকদীরের সব রিযিক ভোগ করার আগে মরতে পারে না। সকল সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার পঞ্চাশ হাজার (৫০,০০০) বছর আগেই তার তকদীর লেখা হয়ে গেছে।
“আল্লাহর আদেশ আসবেই। সুতরাং এর জন্য তাড়াহুড়া করো না!” (১৬-সূরা আন নাহল: আয়াত-১)
“আর আল্লাহ্ যদি তোমার কল্যাণ চান তবে কেউ তাঁর অনুগ্রহকে রদ করতে পারবে না।” (১০-সূরা ইউনুস: আয়াত-১০৭)
উমর (রা) বলেছেন— “হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট পাপীদের ধৈর্য থেকে ও অবিশ্বাসীদের দুর্বলতা থেকে পানাহ্ চাই।”
এ কথার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থ আছে। আমি যখন ইতিহাসের প্রধান প্রধান ঘটনা নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, আল্লাহর অনেক শত্রুদের আশ্চর্য রকম বীরত্বপূর্ণ সহিষ্ণুতা, কষ্ট সহিষ্ণুতা ও অধ্যবসায় ছিল। পক্ষান্তরে, আমি এও দেখতে পেলাম যে, বহু মুসলমান নীরস, জড়ত্বগ্রস্ত বা অলস ও দুর্বল ছিল। এসব কিছু তখনই দেখা দিয়েছিল যখন তারা ভুল করে ভাবতে ছিল যে, তারা আল্লাহর উপর নির্ভর করে আছে। আল্লাহর উপর সঠিক নির্ভরতা বলতে বুঝায় প্রচেষ্টা করা ও কাজ করা এবং তারপর কাজের ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 রিযিক তালাশ করুন কিন্তু লোভ করবেন না

📄 রিযিক তালাশ করুন কিন্তু লোভ করবেন না


সমস্ত মহিমা ও প্রশংসা স্রষ্টা ও রিযিকদাতার প্রাপ্য। তিনি কীটকে মাটিতে, মাছকে পানিতে, পাখিকে শূন্যে (আকাশে), পিঁপড়াকে অন্ধকারে এবং সাপকে পাথরের ফাটলে খোরাক দেন।
আল্লামা ইবনুল জাওযী এমন এক দৃশ্য দর্শন করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন যা চমৎকার এমনকি আজবও বটে। একটি গাছের আগডালে একটি অন্ধ সাপ বাস করত। একটি পাখি তার ঠোঁট দিয়ে এটির জন্য খাবার নিয়ে আসত। এটি সাপের নিকট এসে (কিচির মিচির) শব্দ করত। এ শব্দ শুনে সাপটি হাঁ করত, আর পাখিটি সাপের (সে হাঁ করা) মুখে খাবার ভরে দিত। সকল মহিমা ও প্রশংসা সেই আল্লাহরই প্রাপ্য যিনি পাখিকে দিয়ে সাপের সাহায্য করালেন।
“নিজ ডানার সাহায্যে উড়ে এমন প্রতিটি পাখিই তোমাদের মত এক একটি উম্মত।” (৬-সূরা আন’আম: আয়াত-৩৮)
মেহরাবের মধ্যে মরিয়ম (আ)-এর নিকট দিন-রাত রিযিক আসত। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো— “এসব আপনার নিকট কীভাবে আসে?” তিনি উত্তর দিলেন, “সব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে চান তাকে অপরিমিত রিযিক দান করেন।” (৩-সুরা আলে ইমরান: আয়াত-৩৭)
“এবং অভাবের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা কর না। আমিই তোমাদের ও তাদের রিযিক দিই।” (১৭-সুরা বনী ইসরাঈল: আয়াত-৩১)
লোকজনকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে পিতা-পুত্র উভয়েরই রিযিকদাতা হলেন তিনি যিনি জন্ম দেন না এবং জাতও নন। অনন্ত অসীম ধন ভাণ্ডারের মালিক নিজেই আপনার (এবং সকলের) রিযিকের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
“অতএব আল্লাহর নিকট রিযিক চাও এবং তাঁর দাসত্ব (ইবাদত) কর ও তাঁর কৃতজ্ঞতা (শোকরিয়া) আদায় কর।” (২৯-সুরা আনকাবুত: আয়াত-১৭)
“এবং তিনিই আমাকে পানাহার করান।” (২৬-সুরা আশ শুয়ারা: আয়াত-৭৯)

ফন্ট সাইজ
15px
17px