📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুঃখিত হবেন না সব- কিছুই ভাগ্যানুসারে ঘটবে

📄 দুঃখিত হবেন না সব- কিছুই ভাগ্যানুসারে ঘটবে


তাকদীর অনুপাতে ও যা সিদ্ধান্ত করা হয়েছে সে অনুসারেই সব কিছু ঘটে। মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মত মুসলিমদের ধর্ম-বিশ্বাস এমনই। আল্লাহর ইলমের বাইরে, তাঁর অনুমতি ছাড়া এবং ঐশী পরিকল্পনা ছাড়া এ বিশ্ব জগতে কোন কিছুই ঘটে না।
“পৃথিবীতে এবং তোমাদের মাঝে যে বিপর্যয় আসে তা আমি ঘটানোর পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, নিশ্চয় সে কাজ আল্লাহর পক্ষে সহজ।” (৫৭-সূরা আল হাদীদ: আয়াত-২২)
“নিশ্চয় আমি প্রতিটি জিনিসকেই তার পূর্বনির্ধারণী অনুসারেই সৃষ্টি করি।” (৫৪-সূরা আল ক্বামার: আয়াত-৪৯)
“এবং অবশ্যই আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষতি ইত্যাদি কতিপয় জিনিস দ্বারা পরীক্ষা করব এবং (হে নবী মুহাম্মাদ!) আপনি ধৈর্যশীলদেরকে (জান্নাতের) সুসংবাদ দিন।” (২-সূরা বাকারা: আয়াত-১৫৫)
একটি হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন- “মুমিনের কাজ বড়ই আশ্চর্যজনক! নিশ্চয় তার সব কাজই তাঁর জন্য কল্যাণকর। যখন তাঁর কোন কল্যাণ হয় তখন শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তাঁর আরো কল্যাণকর হয়ে যায়। আর যখন তাঁর কোন ক্ষতি হয় তখন সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে সে ক্ষতিও তাঁর জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়। আর এমনটি মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্যই হয় না।”
একটি বিশুদ্ধ হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন- “যখন তুমি কোন কিছু চাইবে, তখন তুমি তা আল্লাহর নিকটে চাও, আর যখন তুমি সাহায্য চাইবে তখন তুমি আল্লাহর নিকটেই সাহায্য চাও। আর জেনে রাখ যে, সব মানুষও যদি কোন বিষয়ে তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয় তবুও তারা তা করতে পারবে না। তবে আল্লাহ তোমার ভাগ্যলিপিতে যেটুকু লিখে রেখেছেন ততটুকু উপকার করতে পারবে। আর যদি তারা তোমার ক্ষতি করার জন্যও একত্রিত হয় তবুও তারা তা করতে পারবে না, তবে তোমার ভাগ্যলিপিতে আল্লাহ যেটুকু লিখে রেখেছেন—সেটুকু ক্ষতি তারা করতে পারবে। কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে এবং (কালিতে লিখিত) পৃষ্ঠাসমূহ শুকিয়ে গেছে।”
নবী করীম ﷺ আরো বলেছেন- “এবং জেনে রাখ যে, যা তোমার নিকট এসেছে তা তোমার নিকট না আসার ছিল না এবং যা তোমার নিকট আসেনি তা তোমার নিকট আসার ছিল না।”
অন্য একটি নির্ভরযোগ্য হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন- “যা তোমার উপকার করবে তার জন্য চেষ্টা কর, আল্লাহর নিকট সাহায্য চাও, দুর্বল হয়ো না ও এ কথা বলো না যে, আমি অমুক অমুক কাজ করলে অবস্থা এমন এমন হতো। বরং একথা বল যে, আল্লাহ সিদ্ধান্ত করে ফেলেছেন এবং তিনি যা চান তা তিনি করেন।”
আরো একখানি নির্ভরযোগ্য হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেছেন- “বান্দার জন্য আল্লাহ যে ফয়সালা করেন তা তাঁর জন্য কল্যাণকর।”
শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়াকে পাপ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলো, এটা কি কারো জন্য উপকারী? তিনি বললেন! “হ্যাঁ, তবে এ শর্তে যে, পাপের পর লজ্জিত, অনুতপ্ত, ক্ষমা প্রার্থনাকারী ও মানসিকভাবে চরম অনুতপ্ত হতে হবে।”
“এবং এমনও হতে পারে যে, তোমরা যা অপছন্দ কর তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর আর এমনও হতে পারে যে, তোমরা যা পছন্দ কর তা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর এবং আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না।” (২-সুরা বাক্বারা : আয়াত-২১৬)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 রিযিকের অভাবে বিষণ্ণ হবেন না

📄 রিযিকের অভাবে বিষণ্ণ হবেন না


যিনি রিযিক যোগান তিনি অবশ্যই আল্লাহ। তিনি নিজের উপর এটা বাধ্যতামূলক করে নিয়েছেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য যে রিযিক লিখে রেখেছেন তা তিনি তাঁদের নিকট পৌঁছে দিবেন।
“এবং আকাশে আছে তোমাদের রিযিক ও যা কিছু তোমাদেরকে ওয়াদা করা হয়েছে তাও।” (৫১-সূরা আয যারিয়াত : আয়াত-২২)
সৃষ্টির রিযিক আল্লাহই যদি যোগিয়ে থাকেন তবে কেন মানুষকে তোষামোদ করা? তবে কেন অন্যের থেকে নিজের রিযিক পাওয়ার আশায় তার সামনে নিজেকে নীচু করতে হবে?
“এবং পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে সবার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহ্ই।” (১১-সূরা হূদ : আয়াত-৬)
“আল্লাহ মানুষের জন্য যে দয়ার ভাণ্ডার খুলে দেন তা কেউ রদ বা বন্ধ করতে পারবে না, আর যা তিনি (পাঠানো) বন্ধ করে দেন তারপর কেউ তা পাঠাতে পারবে না।” (৩৫-সূরা ফাতির : আয়াত-২)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ততক্ষণ আপনার এক টুকরো রুটি... থাকে ততক্ষণ নিজেকে বঞ্চিত মনে করবেন না

📄 ততক্ষণ আপনার এক টুকরো রুটি... থাকে ততক্ষণ নিজেকে বঞ্চিত মনে করবেন না


একজন নাবিক সমুদ্রে পথ হারিয়ে ফেলেছিল এবং এভাবে একুশ দিন পথহারা ছিল। এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় কি শিক্ষা সে পেয়েছে এ সম্বন্ধে একজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন, “এ ঘটনা থেকে সর্বাপেক্ষা বড় যে শিক্ষা আমি পেয়েছি তা হলো- পরিষ্কার পানি ও পর্যাপ্ত খাবার থাকলে কখনো অভিযোগ করা উচিত নয়।”
জোনাথন সুইফট বলেছেন, “পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম কয়েকজন চিকিৎসক হলেন ‘যথার্থ খাদ্য-চিকিৎসক’, ‘বিশ্রাম চিকিৎসক’ এবং ‘সুখ চিকিৎসক’।”
জোনাথন সুইফটের মন্তব্যের কারণ হলো যে, স্থূলতা এমন এক তিরস্কারযোগ্য রোগ যা মানুষের মেধাকে ধ্বংস করে দেয়। পক্ষান্তরে, বিশ্রাম, সংযম ও সুখ হলো মন-মানসিকতা, আত্মা ও হৃদয়ের জন্য সন্তোষজনক পুষ্টিদায়ক উপাদান।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 অল্পে তুষ্টি বিষণ্ণতা ও হতাশা দূর করে

📄 অল্পে তুষ্টি বিষণ্ণতা ও হতাশা দূর করে


রাসূলুল্লাহ্ বলেছেন- “আমাদের প্রভুকে যা সন্তুষ্ট করে আমরা শুধু তাই বলি।” আপনার জন্য যা পূর্বেই নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে তার নিকট আপনাকে সঁপে দেওয়ার এক পবিত্র দায়িত্ব আপনার উপর রয়েছে। আপনি যদি এ দায়িত্ব পূর্ণ করেন তবে অবশেষে আপনি সফল হবেন। আপনার একটাই সুযোগ আছে আর তা হলো তক্বদীরে বিশ্বাস স্থাপন করা। কেননা, যা তক্বদীরে নির্ধারিত হয়ে গেছে তা অতি অবশ্যই ঘটবে। কোনরূপ কৌশল, ছল-চাতুরী ও চালাকিই আপনাকে এ থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

ইমারসন বলেছেন- “বাধা ও দুঃখ-কষ্টহীন এক বিলাসবহুল ও সুপ্রতিষ্ঠিত জীবন সুখী-সমৃদ্ধ-সফল ও মহামানব সৃষ্টি করে—এমন ধারণা কোথা হতে আমাদের নিকট আসল? আসল ঘটনা সম্পূর্ণ বিপরীত। যারা সহজ জীবন যাপন করার অভ্যাস গড়ে নিয়েছে তারা জীবনের পথে যতই এগিয়ে যাবে ততই অধিকতর অলস অভ্যাস গড়ে তুলতে থাকবে। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, মাহাত্ম্য বিভিন্ন পরিবেশের মানুষের নিকট তার লাগামকে সঁপে দিয়েছে। এসব পরিবেশের মাঝে ভালো-মন্দ পরিবেশও রয়েছে আবার এমন পরিবেশও রয়েছে যার ভালো-মন্দ নির্ধারণ করা যায় না। আর এসব পরিবেশ থেকেই জন্ম নিয়েছে এমন সব মহামানব যারা নিজেদের কাঁধে মহান মহান দায়িত্ব নিয়েছেন আর কখনো সেসব দায়িত্বকে দূরে ছুঁড়ে ফেলেননি।”

ইসলামের প্রাথমিক যুগে স্বর্গীয় পথ নির্দেশক কিতাবের পতাকা কারা বহন করেছিল? তারা ছিল আজাদ, গোলাম বা মুক্ত দাস। গরীব বা দরিদ্র এবং বঞ্চিত বা নিঃস্ব। যারা তাদের বিরুদ্ধে অবজ্ঞাসহকারে লেগেছিল তাদের অধিকাংশই ছিল (তৎকালীন) মহৎ ব্যক্তিবর্গ, নেতৃবর্গ এবং ধনী ব্যক্তিবর্গ।
“এবং যখন আমার স্পষ্ট আয়াতসমূহ তাদের নিকট তেলাওয়াত করা হয় তখন (ধনী) কাফেররা (দরিদ্র) ঈমানদারদেরকে বলে : ‘(ধনী কাফির ও দরিদ্র ঈমানদার এই) দু’দলের কোন দল মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসেবে উত্তম’।” (১৯-সূরা মারইয়াম : আয়াত-৭৩)
“এবং তারা বলে, ‘আমরা ধনে জনে সমৃদ্ধশালী এবং আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না’।” (৩৪-সূরা আস সাবা : আয়াত-৩৫)
“এভাবেই আমি তাদের একদলকে অপর দল দ্বারা পরীক্ষা করলাম যাতে করে তারা বলে, ‘আমাদের মাঝ থেকে কি আল্লাহ্ এই (দরিদ্র) লোকদিগকে অনুগ্রহ দানে ধনী করলেন?’ আল্লাহ্ কি কৃতজ্ঞদের সম্বন্ধে সর্বাধিক জ্ঞাত নন?” (৬-সূরা আল আন’আম : আয়াত-৫৩)
“কাফেররা মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘যদি এ কুরআন ভালো হতো তবে তারা (অর্থাৎ দরিদ্র মুমিনগণ) এ কুরআনের দিকে আমাদেরকে ছাড়িয়ে যেতে পারত না (তাদের আগে আমরা এ কুরআন পেতাম) আর যখন তারা এ কুরআন দ্বারা হেদায়াত প্রাপ্ত হলো না তখন তারা অচিরেই বলবে যে, এ কুরআন এক পুরাতন মিথ্যা রচনা’।” (৪৬-সূরা আল আহকাফ : আয়াত-১১)
“দম্ভিকেরা বলল : তোমরা যাতে বিশ্বাস কর আমরা নিশ্চয় তাতে অবিশ্বাস করি।” (৭-সূরা আল আ’রাফ : আয়াত-৭৬)
“আর তারা বলে, এই কুরআন (মক্কা ও তায়েফ) এই দুই নগরীর কোনো এক মহান ব্যক্তির উপর কেন নাযিল করা হলো না? তারা কি আপনার প্রভুর করুণাকে বণ্টন করেছে?” (৪৩-সূরা আয যুখরুফ : আয়াত-৩১-৩২)
আমার প্রায়ই আস্তারের কবিতার পংক্তিগুলো মনে পড়ে। তাতে সে একটি প্রতীতি করে যে, তাঁর মূল্য তাঁর চরিত্রে ও তাঁর কাজে; তাঁর বংশ মর্যাদায় নয়। তিনি বলেছেন— “কৃতদাস হওয়া সত্ত্বেও আমি এক মহান নেতা, কালো চামড়া হওয়া সত্ত্বেও আমার চরিত্র সাদা।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px