📄 দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা ও ভয় থেকে মুক্ত হোন
“আল ফারাজু বা'দাশ্ শিদ্দাহ (الْفَرَجُ بَعْدَ الشِدَّةِ) [দুঃখ-কষ্টের পরে আরাম-আয়েশ] নামক পুস্তকের চব্বিশ ও তেইশ অধ্যায়ে আরাম-আয়েশ ও দুঃখ-কষ্ট নিয়ে লিখা। কিতাবটি এ বিষয়ের উপর জোর প্রদান করে যে, আমরা দুঃখ-কষ্ট দ্বারা যত বেশি আক্রান্ত হই, তত বেশি আরাম-আয়েশের নিকটবর্তী হই। এ কিতাবে দু’শতাধিক গল্প আছে, এ সবগুলোই এ বিষয়ে। সংকট যাই হোক না কেন, তা সুদিন আসার পূর্বের কয়েকটি দিনের ব্যাপার মাত্র।
“এবং আমি অতি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলাদির ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব।” (২-সূরা বাকারা : আয়াত-১৫৫)
“এবং আমি সত্যিই তাদের পূর্ববর্তীদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম।” (২৯-সূরা আল আনকাবুত : আয়াত-৩)
এ পরীক্ষার যুগেও ঠিক তেমনি আমাদের আমৃত্যু পরীক্ষা চলতে থাকবে এবং সুসময়ে আমাদের যেমন আল্লাহর ইবাদত করার কথা, দুঃসময়েও ঠিক তেমনই আমাদের আল্লাহর ইবাদত করার কথা। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ দিন-রাত্রির পরিবর্তনের মতো আমাদের অবস্থা পরিবর্তন করে থাকেন। তবে কেন ক্রোধ, কেন অবাধ্যতা এবং কেন অভিযোগ?
“আর যদি আমি তাদেরকে আদেশ দিতাম যে, তোমরা নিজেদের হত্যা কর অথবা তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও তবে তাদের অল্প সংখ্যকই এ কাজ করত।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৬৬)
📄 দুশ্চিন্তা করে কোন লাভ নেই
নিম্নোক্ত গল্পটির বিষয়বস্তু বা লক্ষ্য হলো একথা বুঝানো যে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়; বরং তার পরিবর্তে সামান্যতম অনুশোচনা ছাড়াই আল্লাহ্র বিধানের (তাক্বদীরের) কাছে নিজের ইচ্ছাকে সঁপে দেওয়া উচিত।
আমি যখন স্কুলে বা মাদ্রাসায় ছিলাম তখন সহপাঠীদের মাঝে প্রথম (ফার্স্ট) হওয়ার জন্য অধ্যবসায়ের সাথে পড়া-শোনা করতাম। আমি আমার পরীক্ষার কাগজ জমা দেওয়ার পর দুশ্চিন্তা, ভয় ও উদ্বিগ্নতায় থাকতাম। আমি বাড়ি গিয়ে বই থেকে উত্তরগুলো যাচাই করে নিজেকে একটা মান দিতাম; আর বারবার এমনটাই করতাম। অতীতের বিষয়ে বলছি, যখন এটা স্পষ্ট যে, আমার সতর্কতা বা দুশ্চিন্তা আমার গ্রেড (মান) শতকরা একভাগও বাড়ায়নি।