📄 হে আদম সন্তান, হতাশ হয়ো না
যে জীবনের প্রতি বিরাগ ব্যক্তি, যার দিন গুজরান কঠিন এবং যে-ই জীবনের তিক্ত উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি স্মরণ করুন যে, কষ্টের পরেই আরাম আসে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং আপনি যদি খাঁটি ও একনিষ্ঠ হন তবে বিজয় নিকটে।
“আল্লাহর ওয়াদা, আল্লাহ তাঁর ওয়াদাকে ভঙ্গ করেন না, কিন্তু অধিকাংশ লোকই তা জানেন না।” (৩০-সূরা আর রুম : আয়াত-৬) আপনার সংকট যাই হোক না কেন, তার প্রতিকার আছে এবং আপনার সমস্যা যাই হোক না কেন তার সমাধান আছে।
“সকল প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ আল্লাহরই প্রাপ্য, যিনি আমাদের থেকে সকল দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন।” (৩৫-সূরা ফাতির : আয়াত-৩৪)
হে মানব জাতি! তোমাদের সন্দেহকে ঈমানের দ্বারা এবং তোমাদের ভ্রান্ত চিন্তা-চেতনার হেদায়েতের দ্বারা আরোগ্য করার সময় এসে গেছে। সত্যিকার সূর্যোদয়ের উজ্জ্বলতা দেখার জন্য তোমাদের অন্ধকারাচ্ছন্নতা তোমাদেরকে অবশ্যই দূর করতে হবে। তোমাদেরকে অবশ্যই ত্রুটির মিষ্টতা দিয়ে দুঃখের তিক্ততাকে উচ্ছিন্ন করতে হবে।
হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা যে শুষ্ক মরু পাড়ি দিচ্ছ তা ছাড়িয়ে তোমরা সবুজ চারণভূমি ও উর্বর মাটি পাবে। সেখানে সব ধরনের ফলফলাদি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়।
হে মানুষ! যে নাকি বিনিদ্র রজনী যাপনের কারণে গভীর রাত পর্যন্ত চিৎকার করছ, তাকে বলছি, তুমি স্মরণ কর— “প্রভাত কি নিকটে নয়?” (১১-সূরা হুদ : আয়াত-৮১)
হে যার মন দুঃখ-কষ্টে দিশেহারা! ধীরে ধীরে কাজে লেগে পড় (কিছুকালের জন্য ধৈর্য ধর) কেননা, অদৃশ্য দিগন্তে তোমার সমস্যার সমাধান ও উপায় আছে।
হে যার চোখ অশ্রুতে ভরা! তোমার অবিচলতা সংরক্ষণ কর ও তোমার চক্ষু-পল্লবকে বিশ্রাম দাও অর্থাৎ ঘুমাও। বিশ্রাম কর ও জেনে রাখ যে তোমার সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ রক্ষা করেন ও সাহায্য করেন এবং তোমার প্রতি তাঁর করুণা তোমাকে শান্তি বয়ে এনে দিবে। হে আল্লাহর বান্দা! মনে মনে শান্তিতে থাক। কেননা, স্বর্গীয় বিধান (তকদীল) লিখা হয়ে গেছে এবং সবকিছু সিদ্ধান্ত করা হয়ে গেছে। এবং জেনে রাখ যে তোমার পুরস্কার তাঁর নিকট নিশ্চিত আছে। যিনি তাঁকে হতাশ করেন না, যে তাঁকে সন্তুষ্ট করতে চায়।
শান্তিতে থাকুন। কারণ, অভাবের পর সম্পদ আসে, পিপাসার পর পানীয় আসে, বিচ্ছেদের পর আনন্দময় মিলন ঘটে এবং অনিদ্রার পর গভীর ঘুম আসে।
“তুমি জান না, হয়তো আল্লাহ এর পরে নতুন কিছু ঘটাবেন।” (৬৫-সূরা আত-তালাক : আয়াত-১)
ওহে, তোমরা যারা দেশে দেশে অত্যাচারিত আছ; ক্ষুধা, যাতনা, অসুস্থতা ও দারিদ্রতায় ভুগছ একথা জেনে আনন্দ কর যে, তোমরা শীঘ্রই খাদ্য পেয়ে পরিতৃপ্ত হবে এবং তোমরা সুখী হবে ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে।
“রাত্রি অবসানকালের শপথ এবং প্রভাত আলোকিত হওয়ার সময়ের শপথ।” (৭৪-সূরা আল মুদ্দাছছির : আয়াত-৩৩-৩৪)
প্রত্যেক মুসলমানকে তার প্রভুর সম্বন্ধে অবশ্যই সুধারণা পোষণ করতে হবে এবং অবশ্যই তার দয়ার জন্য ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করতে হবে। কেননা, যে সত্তার এ ক্ষমতা আছে যে, তিনি কোন কিছুকে ‘হও’ বলেন তা অমনি হয়ে যায়। তিনি তাঁর অঙ্গীকার অনুযায়ী বিশ্বাস স্থাপনের উপযুক্ত ক্ষেত্র। তিনি ছাড়া কেউ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না এবং তিনি ছাড়া অন্য কেউ মন্দকে দূর করতে পারে না। প্রতিটি কাজের জ্ঞান তাঁর আছে এবং তিনি প্রতি মুহূর্তেই শান্তি বয়ে আনেন। তিনি রাতের পর প্রভাতকে আনয়ন করেন এবং কষ্টের পর বুদ্ধি আনেন। তিনি এজন্য দান করেন যেন তার শুকরিয়া আদায় করা হয়। (সব কিছু জানা সত্ত্বেও) কে ধৈর্যশীল তা তিনি জানার জন্য পরীক্ষা করেন। অতএব, মুসলমানের সর্বাপেক্ষা লাভজনক কাজ হলো তার প্রভুর সাথে তাঁর সম্পর্ককে শক্তিশালী করা এবং তার নিকট আরো বেশি অনুগ্রহ প্রার্থনা করা।
“এবং আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৩২)
“তোমাদের প্রতিপালককে বিনীতভাবে ও গোপনে আহ্বান কর।” (৭-সূরা আল আ’রাফ : আয়াত-৫৫)
আলা ইবনে হামরামি (রা) নবী করীম ﷺ-এর কিছু সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে এক মরুভূমির মাঝে নিরুপায় ও অসহায় অবস্থায় পতিত হন। তাঁদের পানির সরবরাহ ফুরিয়ে গিয়েছিল এবং তাঁরা মৃত্যুর সীমানায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর প্রভুকে ডেকে বললেন, “হে সর্বোচ্চ সত্তা! হে সর্বাপেক্ষা মহান সত্তা! হে সবচেয়ে বিজ্ঞ সত্তা! এবং হে সর্বাপেক্ষা বদান্য সহনশীল সত্তা!” সে মুহূর্তেই মুষলধারে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। তাঁরা পান করলেন, অযু-গোসল করলেন ও তাঁদের পশুপালকে পান করালেন।
“এবং তারা হতাশ হয়ে যাবার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তার অনুগ্রহ ছড়িয়ে দেন। আর তিনি হলেন অভিভাবক ও প্রশংসনীয়।” (৪২-সূরা আশ শুরা : আয়াত-২৮)
📄 দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা ও ভয় থেকে মুক্ত হোন
“আল ফারাজু বা'দাশ্ শিদ্দাহ (الْفَرَجُ بَعْدَ الشِدَّةِ) [দুঃখ-কষ্টের পরে আরাম-আয়েশ] নামক পুস্তকের চব্বিশ ও তেইশ অধ্যায়ে আরাম-আয়েশ ও দুঃখ-কষ্ট নিয়ে লিখা। কিতাবটি এ বিষয়ের উপর জোর প্রদান করে যে, আমরা দুঃখ-কষ্ট দ্বারা যত বেশি আক্রান্ত হই, তত বেশি আরাম-আয়েশের নিকটবর্তী হই। এ কিতাবে দু’শতাধিক গল্প আছে, এ সবগুলোই এ বিষয়ে। সংকট যাই হোক না কেন, তা সুদিন আসার পূর্বের কয়েকটি দিনের ব্যাপার মাত্র।
“এবং আমি অতি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলাদির ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব।” (২-সূরা বাকারা : আয়াত-১৫৫)
“এবং আমি সত্যিই তাদের পূর্ববর্তীদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম।” (২৯-সূরা আল আনকাবুত : আয়াত-৩)
এ পরীক্ষার যুগেও ঠিক তেমনি আমাদের আমৃত্যু পরীক্ষা চলতে থাকবে এবং সুসময়ে আমাদের যেমন আল্লাহর ইবাদত করার কথা, দুঃসময়েও ঠিক তেমনই আমাদের আল্লাহর ইবাদত করার কথা। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ দিন-রাত্রির পরিবর্তনের মতো আমাদের অবস্থা পরিবর্তন করে থাকেন। তবে কেন ক্রোধ, কেন অবাধ্যতা এবং কেন অভিযোগ?
“আর যদি আমি তাদেরকে আদেশ দিতাম যে, তোমরা নিজেদের হত্যা কর অথবা তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও তবে তাদের অল্প সংখ্যকই এ কাজ করত।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৬৬)
📄 দুশ্চিন্তা করে কোন লাভ নেই
নিম্নোক্ত গল্পটির বিষয়বস্তু বা লক্ষ্য হলো একথা বুঝানো যে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়; বরং তার পরিবর্তে সামান্যতম অনুশোচনা ছাড়াই আল্লাহ্র বিধানের (তাক্বদীরের) কাছে নিজের ইচ্ছাকে সঁপে দেওয়া উচিত।
আমি যখন স্কুলে বা মাদ্রাসায় ছিলাম তখন সহপাঠীদের মাঝে প্রথম (ফার্স্ট) হওয়ার জন্য অধ্যবসায়ের সাথে পড়া-শোনা করতাম। আমি আমার পরীক্ষার কাগজ জমা দেওয়ার পর দুশ্চিন্তা, ভয় ও উদ্বিগ্নতায় থাকতাম। আমি বাড়ি গিয়ে বই থেকে উত্তরগুলো যাচাই করে নিজেকে একটা মান দিতাম; আর বারবার এমনটাই করতাম। অতীতের বিষয়ে বলছি, যখন এটা স্পষ্ট যে, আমার সতর্কতা বা দুশ্চিন্তা আমার গ্রেড (মান) শতকরা একভাগও বাড়ায়নি।