📄 বিপর্যয়ে বিচলিত হবেন না
আহমদ ইবনে ইউসুফ লিখেছেন যে, মানুষ ভালোভাবেই জানে যে, রাত্রির অন্ধকারের পর যেমন দিন আসে তেমনিভাবে দুঃখের পরে সুখ আসে। এ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যখন দুর্যোগ আঘাত হানে তখন মানুষের দুর্বল প্রকৃতি প্রবল হয়। যে ব্যক্তি পরীক্ষায় পড়ে তার উচিত, তার অবস্থার সংস্কার করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা, অন্যথায় হতাশা তাকে অধিকার করে বসবে। অতীতে যারা পরীক্ষিত হয়েছেন তাদের ধৈর্যের কথা নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করা ইচ্ছা শক্তিকে শক্তিশালী করার একটি উপায়।
পরে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষতির পূর্বে কষ্ট, খাবার পূর্বে ক্ষুধার সদৃশ। (ক্ষুধা লাগার ফলে যখন খাবারের রুচি হয়) খাবার তখন খাদ্যগ্রহণে এক বিশেষ প্রভাব ফেলে। প্লেটো বলেছেন— “কষ্ট জীবনের জন্য যতটা ক্ষতিকর আত্মার জন্য ততটাই উপকারী। আরাম জীবনের জন্য যতটা উপকারী আত্মার জন্য ততটাই ক্ষতিকর।”
যখন কেউ তার জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে শুরু করে তখন সে জানতে পারবে যে, সে হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার পাওয়ার জন্য পরীক্ষিত হচ্ছে নয়তো তার পাপের শাস্তি পাচ্ছে। তানুখীর লেখা একখানি কিতাব পড়ার পর আমি এ তিনটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি-
১. কষ্টের পরে আরাম আসে। এটা জীবনের অটল আদর্শ।
২. আরাম-আয়েশের তুলনায় দুঃখ-কষ্ট মানবাত্মার জন্য অধিকতর উপকারী।
৩. একমাত্র আল্লাহ কল্যাণ বয়ে আনেন এবং মন্দকে বিতাড়িত বা দূরীভূত করেন।
জেনে রাখুন যে, আপনার যা কিছু ঘটে তা আপনার জন্য পূর্ব নির্ধারিত আছে এবং যা কিছু আপনি হারিয়েছেন তা কখনো আপনার উদ্দেশ্য ছিল না।
📄 হতাশ হবেন না
প্রায়ই দেখা যায় যে সংকট কেবলমাত্র মেঘ যা দ্রুত সরে যায়। “আল্লাহ ছাড়া এটাকে কেউ মুক্ত করতে পারে না।” (৫৩-সূরা আন নাজম : আয়াত-৫৮)
📄 দুঃখ করবেন না, অবস্থার পরিবর্তন ঘটবেই- ইনশাল্লাহ
মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যাহ যখন মক্কার আরিম কারাগারে বন্দী হলেন তখন কুফাবাসীকে বলেছিলেন—
“সমুদ্রগামীদের জন্য দুনিয়ার জাঁকজমক স্থায়ী হবে না, দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট মারাত্মক আঘাতও নয়; এটার জন্য ও ওটার জন্য নির্দিষ্ট সময় আছে যা শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে, আর আমি যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তা স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্ন হয়ে যাবে।”
“আর এদের পূর্বে কত জনপদকে ধ্বংস করেছি! তুমি কি এদের কারো চিহ্নও অনুভব করতে পার বা এদের ফিসফিসানি শুনতে পাও?” (১৯-সূরা মারইয়াম : আয়াত-৯৮)
একটি সহীহ হাদীসে আছে, নবী করীম ﷺ বলেছেন : “বিচারের দিন প্রত্যেককে তার অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হবে; এমনকি শিং ছাড়া ভেড়াও শিংওয়ালার প্রতিশোধ গ্রহণ করবে।”
📄 দুঃখ করে শত্রুদের আনন্দ দিবেন না
হতাশ ও দুঃখিত হয়ে আপনি আপনার প্রতিপক্ষকে আনন্দ দিবেন; এ কারণেই আমাদের ধর্ম শত্রুদের অন্তরে ভীতি-সন্ত্রাস করার আদেশ দিয়েছে। “এর দ্বারা তোমরা আল্লাহর শত্রুকে এবং তোমাদের শত্রুকে ভীত-সন্ত্রস্ত করবে।” (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-৬০) উহুদের যুদ্ধের দিন আবু দুজানাহ যখন মুসলমানদের সারির মাঝ দিয়ে (বীরের মতো) নেচে নেচে বা লাফিয়ে লাফিয়ে বা হেলে দুলে চলতে লাগল তখন নবী করীম ﷺ বললেন– “নিশ্চয় আল্লাহ এ ধরনের হাঁটাকে এমন অবস্থায় ছাড়া পছন্দ করেন না।”
কাফেররা যখন মুসলমানদেরকে পাহাড়ের উপর থেকে পর্যবেক্ষণ করছিল, তখন নবী করীম ﷺ সাহাবীদের কাবার চারিপাশে রমল করার (বীরের মতো হাঁটার) আদেশ দিলেন, যাতে মুশরিকরা মুসলমানদের শক্তি, সহ্য ও মনোবল দেখে ভয় পায়।
“সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে।” (৩০-সূরা আর রুম : আয়াত-৪) (অর্থাৎ পারস্যের বিরুদ্ধে রোমানরা যেদিন বিজয়ী হবে সেদিন মুসলমানরা খুশি হবে।)
কারুন, পারসিকরা একদিকে যেমন অগ্নিউপাসক ছিল, অন্যদিকে তেমনই মুসলিম হিতৈষী ছিল না বরং মুসলিম বিদ্বেষী ছিল। আর রোমানরা খ্রিস্টান ছিল (অগ্নি-উপাসক তথা মুশরিক ছিল না) এবং মুসলমানদের হিতৈষী ছিল।
সত্তরের শত্রুরা যখন দেখতেও পায় যে, আমরা সুখী বা আনন্দিত আছি তখন তারা বেদনা বোধ করে।
“(হে মুহাম্মাদ ﷺ!) আপনি বলে দিন, ‘তোমরা রাগে তোমরাই মর’।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১১৯)
“আপনার কোন কল্যাণ হলে তাদের খারাপ লাগে।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৫০)
“তারা তোমাদের সাথে ক্ষতির কামনা করে।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১১৮)
নবী করীম ﷺ বলেছেন— “হে আল্লাহ্! আমার দুর্ভাগ্য কোনো শত্রুকে বা কোনো হিংসুককে হাসার সুযোগ দেবেন না।”
একজন আরব দেশীয় কবি বলেছেন– “যুবক সব ধরনের বিপদাপদ সহ্য করতে পারে, তবে তার বিপদে শত্রুর আনন্দ সে সহ্য করতে পারে না।” হিংসুক ও যারা অন্যের দুঃখে আনন্দ করে তাদের আনন্দকে নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য আমাদের পূর্বসূরী মুসলমানরা সংকটের মুখে থাকতেন এবং সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করতেন।
“আল্লাহর পথে তাদের যে বিপদাপদ হয়েছিল, তাতে তারা মনোবল হারায়নি, দুর্বল হয়নি এবং নত হয়নি।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৪৬)