📄 দুর্যোগগ্রস্তদের জন্য
হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম ﷺ বলেন যে, মহান আল্লাহ বলেন – “যদি আমি কারো কাছ থেকে তার সর্বাপেক্ষা প্রিয়জনকে ছিনিয়ে নিই আর তখন যদি সে ধৈর্যসহকারে আমার কাছ থেকে পুরস্কারের আশা করে তবে আমি তাকে এর বদলে পুরস্কার স্বরূপ জান্নাত দান করব।”
অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম ﷺ বলেছেন যে, মহান আল্লাহ বলেছেন— “আমি যাকে তার দু’টি প্রিয় বস্তুর ব্যাপারে পরীক্ষা করেছি (অর্থাৎ আমি যার দু’ চোখের দৃষ্টি শক্তি ছিনিয়ে নিয়েছি) তাকে আমি এর বদলে জান্নাত দিয়ে পুরস্কৃত করব।”
“কেননা, চক্ষু অন্ধ হয় না, বরং বক্ষস্থিত আত্মাই অন্ধ হয়।” (২২-সূরা আল হাজ্জ : আয়াত-৪৬)
তিরমিযী শরীফে একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী করীম ﷺ বলেছেন— “আল্লাহ যখন তাঁর কোন ঈমানদার বান্দার ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তখন তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকে বলেন : “তোমরা আমার ঈমানদার বান্দার ছেলেকে ছিনিয়ে নিয়েছ?” তারা উত্তর দেয় “হ্যাঁ”। তারপর আল্লাহ বলেন “তোমরা কি তার হৃদয়ের মানিককে ছিনিয়ে নিয়েছ?” তারা উত্তর দেয় “হ্যাঁ”। তখন আল্লাহ বলেন : “আমার বান্দা কি বলল? তারা উত্তর দেয়, “সে আপনার প্রশংসা করল এবং বলল, আমরা সবাই আল্লাহর জন্যই এবং আল্লাহর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন।” তখন আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে আদেশ করেন জান্নাতে আমার বান্দার জন্য একটি বাড়ি তৈরি কর এবং এর নাম দাও “প্রশংসাগৃহ”।”
“শুধুমাত্র ধৈর্যশীলদেরকে তাদের পুরস্কার বেহিসাবে পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে।” (৩৯-সূরা আয যুমার : আয়াত-১০)
“তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছিলে তাই তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” (১০-সূরা রা’আদ : আয়াত-২৪)
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দান করুন।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৫০)
“এবং (হে মুহাম্মাদ!) আপনি ধৈর্য ধরুন, আর আপনার ধৈর্য তো আল্লাহর সাহায্যেই হয়ে থাকে।” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-১২৭)
“অতএব (হে মুহাম্মাদ!) আপনি ধৈর্য ধরুন নিশ্চয় আল্লাহর অঙ্গীকার সত্য।” (৩০-সূরা আর রুম : আয়াত-৬০)
নবী করীম ﷺ বলেছেন— “নিশ্চয় পরীক্ষার গুরুত্ব অনুসারেই পুরস্কারের গুরুত্ব হয়ে থাকে, বাস্তবিকই আল্লাহ যদি কোন জাতিকে ভালোবাসেন তবে তিনি তাদেরকে পরীক্ষা করেন। যে এতে রাজি বা সন্তুষ্ট থাকে তার জন্য রয়েছে সন্তুষ্টি আর যে এতে ক্রুদ্ধ হয় তার জন্য রয়েছে গযব।” যখন দুর্যোগ আঘাত হানে তখন ধৈর্য, তাক্বদীর ও আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। আর আমাদের একথা জানা উচিত যে, যিনি প্রথমে দান করেছেন, তিনিই তো নিয়েছেন।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন যে, তোমরা যেন আমানতকে তার মালিকের নিকট দিয়ে দাও।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৫৮)
একজন আরবী কবি বলেছেন— “সম্পদ ও পরিবার তো শুধুমাত্র ঋণস্বরূপ, একদিন তো অবশ্যই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।”
📄 বিপর্যয়ে বিচলিত হবেন না
আহমদ ইবনে ইউসুফ লিখেছেন যে, মানুষ ভালোভাবেই জানে যে, রাত্রির অন্ধকারের পর যেমন দিন আসে তেমনিভাবে দুঃখের পরে সুখ আসে। এ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যখন দুর্যোগ আঘাত হানে তখন মানুষের দুর্বল প্রকৃতি প্রবল হয়। যে ব্যক্তি পরীক্ষায় পড়ে তার উচিত, তার অবস্থার সংস্কার করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা, অন্যথায় হতাশা তাকে অধিকার করে বসবে। অতীতে যারা পরীক্ষিত হয়েছেন তাদের ধৈর্যের কথা নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করা ইচ্ছা শক্তিকে শক্তিশালী করার একটি উপায়।
পরে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষতির পূর্বে কষ্ট, খাবার পূর্বে ক্ষুধার সদৃশ। (ক্ষুধা লাগার ফলে যখন খাবারের রুচি হয়) খাবার তখন খাদ্যগ্রহণে এক বিশেষ প্রভাব ফেলে। প্লেটো বলেছেন— “কষ্ট জীবনের জন্য যতটা ক্ষতিকর আত্মার জন্য ততটাই উপকারী। আরাম জীবনের জন্য যতটা উপকারী আত্মার জন্য ততটাই ক্ষতিকর।”
যখন কেউ তার জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে শুরু করে তখন সে জানতে পারবে যে, সে হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার পাওয়ার জন্য পরীক্ষিত হচ্ছে নয়তো তার পাপের শাস্তি পাচ্ছে। তানুখীর লেখা একখানি কিতাব পড়ার পর আমি এ তিনটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি-
১. কষ্টের পরে আরাম আসে। এটা জীবনের অটল আদর্শ।
২. আরাম-আয়েশের তুলনায় দুঃখ-কষ্ট মানবাত্মার জন্য অধিকতর উপকারী।
৩. একমাত্র আল্লাহ কল্যাণ বয়ে আনেন এবং মন্দকে বিতাড়িত বা দূরীভূত করেন।
জেনে রাখুন যে, আপনার যা কিছু ঘটে তা আপনার জন্য পূর্ব নির্ধারিত আছে এবং যা কিছু আপনি হারিয়েছেন তা কখনো আপনার উদ্দেশ্য ছিল না।
📄 হতাশ হবেন না
প্রায়ই দেখা যায় যে সংকট কেবলমাত্র মেঘ যা দ্রুত সরে যায়। “আল্লাহ ছাড়া এটাকে কেউ মুক্ত করতে পারে না।” (৫৩-সূরা আন নাজম : আয়াত-৫৮)
📄 দুঃখ করবেন না, অবস্থার পরিবর্তন ঘটবেই- ইনশাল্লাহ
মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যাহ যখন মক্কার আরিম কারাগারে বন্দী হলেন তখন কুফাবাসীকে বলেছিলেন—
“সমুদ্রগামীদের জন্য দুনিয়ার জাঁকজমক স্থায়ী হবে না, দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট মারাত্মক আঘাতও নয়; এটার জন্য ও ওটার জন্য নির্দিষ্ট সময় আছে যা শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে, আর আমি যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তা স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্ন হয়ে যাবে।”
“আর এদের পূর্বে কত জনপদকে ধ্বংস করেছি! তুমি কি এদের কারো চিহ্নও অনুভব করতে পার বা এদের ফিসফিসানি শুনতে পাও?” (১৯-সূরা মারইয়াম : আয়াত-৯৮)
একটি সহীহ হাদীসে আছে, নবী করীম ﷺ বলেছেন : “বিচারের দিন প্রত্যেককে তার অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হবে; এমনকি শিং ছাড়া ভেড়াও শিংওয়ালার প্রতিশোধ গ্রহণ করবে।”