📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুঃখ করবেন না-এ পৃথিবী আপনার দুঃখের যোগ্য নয়

📄 দুঃখ করবেন না-এ পৃথিবী আপনার দুঃখের যোগ্য নয়


নবী করীম বলেছেন- “আল্লাহর নিকট যদি এ পৃথিবীর মূল্য মশার পাখার সমানও হতো তবে আল্লাহ কোনো কাফেরকে এক ঢোক পানিও দিতেন না।” এ পৃথিবীর মূল্য মশার পাখার সমানও নয়। এ পৃথিবীর মূল্য যদি এই-ই হয় তবে কেন এ নিয়ে দুঃখ করা?

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হতাশ হবেন না- কারণ যে আপনি আল্লাহতে বিশ্বাস করেন

📄 হতাশ হবেন না- কারণ যে আপনি আল্লাহতে বিশ্বাস করেন


“বরং আল্লাহই তোমাদেরকে ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদের প্রতি করুণা করেছেন।” (৪৯-সূরা আল হুজুরাত : আয়াত-১৭)
ঈমানদার যখন কাফেরকে পর্যবেক্ষণ করে তখন ঈমানদারকে যে অনুকূল বিশেষ বিষয় দান করা হয়েছে সেই একটি বিশেষ কল্যাণ অধিকাংশ লোকের নিকটেই উপেক্ষিত থাকে। ইসলামের পথে মুমিনকে আল্লাহর পথ-প্রদর্শনের কল্যাণের কথা ঈমানদার স্মরণ করে। সে আল্লাহর প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞ যে তিনি তার ভাগ্যে কাফেরের মতো হওয়ার কথা লিখে রাখেননি। যে (কাফের) নাকি বিদ্রোহ করে, আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে, তার পরম গুণাবলিকে অবিশ্বাস করে, তাঁর নবী-রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করে এবং পরকালকে অবিশ্বাস করে।

অধিকন্তু, মুমিন ব্যক্তি ইবাদতের সকল বাধ্যতামূলক আমলগুলো সম্পাদন করে। সম্ভবত তার সেসব কর্ম সম্পাদন (অর্থাৎ আমল) নিখুঁত নয়, তবুও শুধুমাত্র আমল করাটাই এক মহা অনুগ্রহ। এটা এমন এক নেয়ামত যার জন্য খুব কম লোকই কৃতজ্ঞ।
“তবে যে ব্যক্তি মুমিন সে কি সে ব্যক্তির মতো যে ফাসেক? তারা সমান নয়।” (৩২-সূরা আস সাজদাহ: আয়াত-১৮)
কুরআনের কিছু কিছু ব্যাখ্যাকার বলেছেন যে, মুমিনদের জন্য বেহেশতের আনন্দের মাঝে এটাও এক আনন্দের বিষয় হবে যে, তারা দোজখবাসীদেরকে উপর থেকে দেখতে পারবে এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে যা দান করেছেন সে জন্যে তারা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হতাশ হবেন না অসুবিধা সফলতাকে প্রতিরোধ করতে পারে না

📄 হতাশ হবেন না অসুবিধা সফলতাকে প্রতিরোধ করতে পারে না


মাহমুদ ইবনে মুহম্মদ মাদানি নামক এক অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার আরবি দৈনিক পত্রিকা ‘উকাযে’ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি অন্যদের চোখের সাহায্যে আরবি সাহিত্যের পুস্তকাবলি পাঠ করেছেন। অন্যেরা যখন তাঁকে ইতিহাসের বহু পুস্তক ও শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কর্মের ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহ পড়ে শুনাতো তখন সে তা মনোযোগ সহকারে শুনত। তিনি তাঁর কোনো বন্ধুকে দিয়ে ভোররাত্রি তিনটা পর্যন্ত বই পড়িয়ে নিতেন। বর্তমানে তাঁকে সাহিত্য ও ইতিহাসের উৎস পুস্তক মনে করা হয়।

'আশাররুকুল আওসাত' নামক পত্রিকার প্রবন্ধকার মুস্তফা আমিন লিখেছেন- “অত্যাচারী ও অন্যায়কারীদের সাথে মাত্র পাঁচ মিনিট ধৈর্য ধরুন। অল্প সময় পরেই চাবুক পড়ে যাবে। শিকল ভেঙে যাবে, বন্দী মুক্তি পাবে এবং মেঘ অদৃশ্য হয়ে যাবে। তাহলে আপনার দায়িত্ব হলো শুধু ধৈর্য ধরা ও অপেক্ষা করা।”

একজন আরব কবি লিখেছেন- “কতই না বিপদে যুবকের মন ভেঙে যায়! অথচ আল্লাহর নিকট তা থেকে পরিত্রাণের পথ আছে।”

আমি একবার রিয়াদে মুফতি আলবানিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম। শাসক গোষ্ঠী কীভাবে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম সহকারে বিশ বছর বন্দী করে রেখেছিল সে কথা তিনি আমাকে বলেছেন। জেলখানায় থাকাকালে তাঁর দণ্ডাদেশ পালনকালে তিনি প্রায়ই অত্যাচার, অন্ধকার ও ক্ষুধার শিকার হতেন। ধরা পড়ার ভয়ে তিনি গোসলখানায় এক কোণায় গোপনে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতেন। এসব সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর নিকট পুরস্কারের আশা করতেন ও ধৈর্য ধরতেন- অবশেষে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

“অতএব, তারা আল্লাহর নেয়ামত ও দান নিয়ে বিজয়ীবেশে ফিরে এসেছিল।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৭৪)

সাতাশ (২৭) বছর কারাবরণ সহকারে এক সময়কার দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা নেলসন মেন্ডেলার কথা ভেবে দেখুন। তিনি তাঁর জাতির জন্য স্বাধীনতা চেয়েছিলেন এবং তিনি জুলুম নির্যাতনের শিকল ভেঙে ফেলার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ছিলেন অবিচল ও দৃঢ় এবং তাঁকে প্রায় এমন মনে হতো যে, তিনি মৃত্যুকে খুঁজছেন। ফলে তিনি তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছেছেন ও তাঁর পার্থিব মর্যাদা লাভ করেছেন। মহান আল্লাহ্ বলেছেন-
“(দুনিয়াতে) আমি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পুরাপুরি দিব।” (১১-সূরা হুদ : আয়াত-১৫)
“যদি তোমরা কষ্ট ভোগ করতে থাক তবে তারাতো তোমাদের মতই কষ্ট ভোগ করছে; অথচ তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে যে জান্নাতের পুরস্কার আশা করতে পার তারা তো সে জান্নাতের পুরস্কার আশা করতে পারে না।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-১০৪)
“যদি তোমাদের কোনো আঘাত লেগে থাকে তবে তাদেরওতো অনুরূপ আঘাত লেগেছিল।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৪০)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 ইসলাম গ্রহণ করার কারণে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই

📄 ইসলাম গ্রহণ করার কারণে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই


সেসব আত্মা খুবই হতভাগা যেগুলো ইসলাম সম্বন্ধে অজ্ঞ অথবা যেগুলো ইসলাম সম্বন্ধে জানে তবুও ইসলামের পথে পরিচালিত হয়নি। বর্তমানে মুসলমানদের প্রয়োজন বিশ্বব্যাপী প্রচারিত এক স্লোগান ও বিজ্ঞাপনের। কেননা, ইসলাম এমন এক মহা সংবাদ যা অতি অবশ্যই জনগণের নিকট পৌঁছাতে হবে। এই স্লোগানগুলো স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত এবং আকর্ষণীয় হওয়া দরকার; কেননা, সমগ্র মানবজাতির সুখ এই সত্য ধর্মে নিহিত আছে।
“আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের তালাশ করে- তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-৮৫)

জার্মানির মিউনিখ শহরে একজন বিখ্যাত ইসলাম প্রচারক কয়েক বছর পূর্বে বসতি স্থাপন করেন। শহরের প্রবেশ পথে পৌঁছার সময়ে তিনি এক বিশাল বিজ্ঞাপন দেখতে পেলেন। এর উপর লিখা ছিল, “আপনারা চিনেন না।” পরবর্তীতে তিনি এ বিজ্ঞাপনের পাশে এটার মতোই বিশাল এক বিজ্ঞাপন টাঙিয়ে দিলেন। এর উপর তিনি লিখে দিয়েছিলেন, “আপনারা ইসলাম কি তা জানেন না। যদি আপনারা এর সম্বন্ধে জানতে চান তবে এই নাম্বারে আমাদেরকে ফোন করুন।” স্থানীয় জার্মানদের ফোনের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। মাত্র এক বছরে এই লোকের হাতে হাজার হাজার লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তিনি একটি মসজিদ, একটি ইসলাম প্রচার কেন্দ্র ও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

অধিকাংশ মানুষই বিভ্রান্ত এবং এই মহান ধর্ম ইসলাম তাদের একান্ত প্রয়োজন। বর্তমানে তারা যে বিশৃঙ্খলাপর্ণ জীবন-যাপন করছে তার স্থান যাতে এক শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন অধিকার করতে পারে এ জন্য তাদের ইসলাম ধর্মের দরকার।
“যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায় আল্লাহ তাদেরকে এ দ্বারা শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল-সহজ সঠিক পথে পরিচালিত করেন।” (৫-সূরা মায়িদা: আয়াত-১৬)

বহু দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী একজন ইবাদতগুজার লোক- যার আগে কখনো অন্য লোকেদের সাথে সাক্ষাৎ হয়নি- বলেছিল- “আমি কখনো ভাবিনি যে, পৃথিবীতে কোনো লোক আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করেছে।”
“আমার বান্দাদের মধ্য থেকে খুব কম সংখ্যকই কৃতজ্ঞ।” (৩৪-সূরা আস সাবা: আয়াত-১৩)
“আর যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের অনুসরণ কর তবে তারা তোমাকে আল্লাহ্র পথ থেকে বিপথে পরিচালিত করবে।” (৬-সূরা আল আন’আম: আয়াত-১১৯)
“আর তুমি যদিও আকুল আকাঙ্ক্ষা কর তবুও অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনবে না।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-১০৩)

একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, সুদান যখন ব্রিটিশ রাজ্যের কলোনী ছিল তখন এক মরুবাসী বেদুঈন রাজধানী শহর খার্তুমে এসেছিল। সে যখন একজন ব্রিটিশ পুলিশকে শহরের কেন্দ্র দিয়ে হাঁটতে দেখল তখন সে একজন পথিককে জিজ্ঞাসা করল, “ঐ লোকটি কে?” তাকে বলা হলো যে, লোকটি একজন বিদেশি পুলিশ ও সে একজন কাফের। যাযাবর জিজ্ঞাসা করল “কি বিষয়ে সে অবিশ্বাস করে?” “আল্লাহতে অবিশ্বাস করে।” এ ছিল উত্তর। দীর্ঘদিন মরুভূমিতে বাস করাতে এ লোকের জন্মগত স্বভাব মন্দ ধারণা মুক্ত ছিল ও অক্ষত ছিল এবং একারণেই যখন সে অদ্ভুত কিছু শুনল তখন সে এতে বিস্মিত হয়ে গেল ও অসুস্থ হয়ে পড়ল। সে বলল, “কেউ কি আল্লাহকে অবিশ্বাস করে?” এরপর সে যা শুনেছিল তাতে চরম ঘৃণায় তার পেটে খামচি দিয়ে ধরে বমি করে দিল।

“তাহলে তাদের কি হলো যে তারা ঈমান আনে না।” (৮৪-সূরা আল ইনশিকাক : আয়াত-২০)
“আকাশ ও পৃথিবীর প্রভুর শপথ করে বলছি যে, এসব তেমনই সত্য যেমন সত্য একথা যে, ‘ তোমরা কথা-বার্তা বল’।” (৫১-সূরা আয যারিয়াত : আয়াত-২৩)

প্রত্যেকের উচিত তার প্রভুর সম্বন্ধে সুধারণা পোষণ করা ও তাঁর করুণা ও দয়া তালাশ করা। একটি সহীহ হাদীসে আছে, নবী করীম ﷺ বলেছেন যে, ‘আমাদের প্রভু হাসেন।’ একথা শুনে এক বেদুইন বলেছিল, “আমরা এমন প্রভুহীন নই যিনি ভালোভাবে হাসেন!”
“আর তারা হতাশ হয়ে যাবার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন।” (৪২-সূরা আশ শুরা : আয়াত-২৮)
“নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মপরায়ণদের নিকটবর্তী।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-৫৬)
“মনে রাখ : নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২১৪)

সফল লোকদের জীবনী পড়ে জানা যায় যে তাদের কতিপয় সাধারণ জিনিস ছিল হয়তো তা তাদের পরিবেশে, গুণ বা ওই পরিস্থিতি যা তাদের সফলতাকে ঘিরে ছিল। সফল লোকদের জীবনী পাঠ করে আমি কতিপয় সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি- তা আমি নিম্নে পেশ করছি–
১. লোকের মূল্য তার সৎকর্মের উপর নির্ভর করে। একথা আলী (রা) বলেছেন। এর অর্থ হলো যে, কারো জ্ঞান, চরিত্র, ইবাদত ও উদারতা মাহাত্ম্য হলো এমন গজকাঠি যা দ্বারা তার মূল্যায়ন করা হয়। “মুশরিক পুরুষ তোমাদের বিস্মিত করলেও তার চেয়ে মুমিন কৃতদাস ভালো।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২২১)
২. ইহকাল ও পরকালের জন্য কারো জীবন যাত্রার মান তার প্রত্যয়, প্রচেষ্টা ও উত্সর্গের উপর নির্ভর করে। “আর যদি তারা বের হওয়ার ইচ্ছা করত তবে অবশ্যই তারা এর জন্য কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করত।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪৬) “এবং আল্লাহর পথে প্রকৃত জিহাদ কর।” (২২-সূরা আল হাজ্জ : আয়াত-৭৮)
৩. আল্লাহর ইচ্ছায় প্রতিটি লোকই তার নিজের ইতিহাস রচয়িতা। সে তার ভালো-মন্দ কর্মের মাধ্যমে তার জীবন ইতিহাস লেখে। “তাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল কীর্তিই আমি লিখে রাখি।” (৩৬-সূরা ইয়াসিন : আয়াত-১২)
৪. জীবন সংক্ষিপ্ত এবং দ্রুত চলে যায়। পাপ করে, দুশ্চিন্তা করে বা ঝগড়া করে একে আরো সংক্ষিপ্ত করবেন না। “সে দিন তারা মনে করবে যেন তারা পৃথিবীতে এক সন্ধ্যা বা এক সকালের চেয়ে বেশি কাল ছিল না।” (৭৯-সূরা আন নাযিয়াত : আয়াত-৪৬)

ফন্ট সাইজ
15px
17px