📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হতাশা ও ক্রোধের ফল

📄 হতাশা ও ক্রোধের ফল


কর্নেল ইউনিভার্সিটির ডা. রাসেল সিসিল আরথ্রাইটিস রোগের চারটি বহু বিস্তৃত কারণ উল্লেখ করেন-
১. বৈবাহিক ঝগড়া (অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী-সংক্রান্ত ঝগড়া)
২. আর্থিক সংকট ও হতাশা
৩. নিঃসঙ্গতা ও উদ্বিগ্নতা
৪. হিংসা-বিদ্বেষ
'The Federation of American Dentists'-এ বক্তৃতা দানকালে ডা. উইলিয়াম মার্ক পগিসল মন্তব্য করেন- “উদ্বিগ্নতা ও ভয়ের মতো অপ্রীতিকর অনুভূতি সম্ভবত দেহের ক্যালসিয়াম বণ্টনের ব্যাঘাত ঘটায় ফলে দাঁতের ক্ষয় হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকে।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুঃখ করবেন না-এ পৃথিবী আপনার দুঃখের যোগ্য নয়

📄 দুঃখ করবেন না-এ পৃথিবী আপনার দুঃখের যোগ্য নয়


নবী করীম বলেছেন- “আল্লাহর নিকট যদি এ পৃথিবীর মূল্য মশার পাখার সমানও হতো তবে আল্লাহ কোনো কাফেরকে এক ঢোক পানিও দিতেন না।” এ পৃথিবীর মূল্য মশার পাখার সমানও নয়। এ পৃথিবীর মূল্য যদি এই-ই হয় তবে কেন এ নিয়ে দুঃখ করা?

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হতাশ হবেন না- কারণ যে আপনি আল্লাহতে বিশ্বাস করেন

📄 হতাশ হবেন না- কারণ যে আপনি আল্লাহতে বিশ্বাস করেন


“বরং আল্লাহই তোমাদেরকে ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদের প্রতি করুণা করেছেন।” (৪৯-সূরা আল হুজুরাত : আয়াত-১৭)
ঈমানদার যখন কাফেরকে পর্যবেক্ষণ করে তখন ঈমানদারকে যে অনুকূল বিশেষ বিষয় দান করা হয়েছে সেই একটি বিশেষ কল্যাণ অধিকাংশ লোকের নিকটেই উপেক্ষিত থাকে। ইসলামের পথে মুমিনকে আল্লাহর পথ-প্রদর্শনের কল্যাণের কথা ঈমানদার স্মরণ করে। সে আল্লাহর প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞ যে তিনি তার ভাগ্যে কাফেরের মতো হওয়ার কথা লিখে রাখেননি। যে (কাফের) নাকি বিদ্রোহ করে, আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে, তার পরম গুণাবলিকে অবিশ্বাস করে, তাঁর নবী-রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করে এবং পরকালকে অবিশ্বাস করে।

অধিকন্তু, মুমিন ব্যক্তি ইবাদতের সকল বাধ্যতামূলক আমলগুলো সম্পাদন করে। সম্ভবত তার সেসব কর্ম সম্পাদন (অর্থাৎ আমল) নিখুঁত নয়, তবুও শুধুমাত্র আমল করাটাই এক মহা অনুগ্রহ। এটা এমন এক নেয়ামত যার জন্য খুব কম লোকই কৃতজ্ঞ।
“তবে যে ব্যক্তি মুমিন সে কি সে ব্যক্তির মতো যে ফাসেক? তারা সমান নয়।” (৩২-সূরা আস সাজদাহ: আয়াত-১৮)
কুরআনের কিছু কিছু ব্যাখ্যাকার বলেছেন যে, মুমিনদের জন্য বেহেশতের আনন্দের মাঝে এটাও এক আনন্দের বিষয় হবে যে, তারা দোজখবাসীদেরকে উপর থেকে দেখতে পারবে এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে যা দান করেছেন সে জন্যে তারা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হতাশ হবেন না অসুবিধা সফলতাকে প্রতিরোধ করতে পারে না

📄 হতাশ হবেন না অসুবিধা সফলতাকে প্রতিরোধ করতে পারে না


মাহমুদ ইবনে মুহম্মদ মাদানি নামক এক অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার আরবি দৈনিক পত্রিকা ‘উকাযে’ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি অন্যদের চোখের সাহায্যে আরবি সাহিত্যের পুস্তকাবলি পাঠ করেছেন। অন্যেরা যখন তাঁকে ইতিহাসের বহু পুস্তক ও শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কর্মের ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহ পড়ে শুনাতো তখন সে তা মনোযোগ সহকারে শুনত। তিনি তাঁর কোনো বন্ধুকে দিয়ে ভোররাত্রি তিনটা পর্যন্ত বই পড়িয়ে নিতেন। বর্তমানে তাঁকে সাহিত্য ও ইতিহাসের উৎস পুস্তক মনে করা হয়।

'আশাররুকুল আওসাত' নামক পত্রিকার প্রবন্ধকার মুস্তফা আমিন লিখেছেন- “অত্যাচারী ও অন্যায়কারীদের সাথে মাত্র পাঁচ মিনিট ধৈর্য ধরুন। অল্প সময় পরেই চাবুক পড়ে যাবে। শিকল ভেঙে যাবে, বন্দী মুক্তি পাবে এবং মেঘ অদৃশ্য হয়ে যাবে। তাহলে আপনার দায়িত্ব হলো শুধু ধৈর্য ধরা ও অপেক্ষা করা।”

একজন আরব কবি লিখেছেন- “কতই না বিপদে যুবকের মন ভেঙে যায়! অথচ আল্লাহর নিকট তা থেকে পরিত্রাণের পথ আছে।”

আমি একবার রিয়াদে মুফতি আলবানিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম। শাসক গোষ্ঠী কীভাবে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম সহকারে বিশ বছর বন্দী করে রেখেছিল সে কথা তিনি আমাকে বলেছেন। জেলখানায় থাকাকালে তাঁর দণ্ডাদেশ পালনকালে তিনি প্রায়ই অত্যাচার, অন্ধকার ও ক্ষুধার শিকার হতেন। ধরা পড়ার ভয়ে তিনি গোসলখানায় এক কোণায় গোপনে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতেন। এসব সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর নিকট পুরস্কারের আশা করতেন ও ধৈর্য ধরতেন- অবশেষে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

“অতএব, তারা আল্লাহর নেয়ামত ও দান নিয়ে বিজয়ীবেশে ফিরে এসেছিল।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৭৪)

সাতাশ (২৭) বছর কারাবরণ সহকারে এক সময়কার দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা নেলসন মেন্ডেলার কথা ভেবে দেখুন। তিনি তাঁর জাতির জন্য স্বাধীনতা চেয়েছিলেন এবং তিনি জুলুম নির্যাতনের শিকল ভেঙে ফেলার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ছিলেন অবিচল ও দৃঢ় এবং তাঁকে প্রায় এমন মনে হতো যে, তিনি মৃত্যুকে খুঁজছেন। ফলে তিনি তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছেছেন ও তাঁর পার্থিব মর্যাদা লাভ করেছেন। মহান আল্লাহ্ বলেছেন-
“(দুনিয়াতে) আমি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান পুরাপুরি দিব।” (১১-সূরা হুদ : আয়াত-১৫)
“যদি তোমরা কষ্ট ভোগ করতে থাক তবে তারাতো তোমাদের মতই কষ্ট ভোগ করছে; অথচ তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে যে জান্নাতের পুরস্কার আশা করতে পার তারা তো সে জান্নাতের পুরস্কার আশা করতে পারে না।” (৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-১০৪)
“যদি তোমাদের কোনো আঘাত লেগে থাকে তবে তাদেরওতো অনুরূপ আঘাত লেগেছিল।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৪০)

ফন্ট সাইজ
15px
17px