📄 হতাশার আরো কিছু কুপ্রভাব
আমি ইদানীং ডা. এডওয়ার্ড বড়লুকির ‘Stop Worrying and Seek Betterment’ নামক পুস্তকের অনুবাদ পড়েছি এখানে তার বই থেকে কয়েকটি অধ্যায়ের নাম দেয়া গেল- ১. উদ্বিগ্নতা হার্টের ক্ষতি করে। ২. উদ্বিগ্নতার কারণে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ে বা দেখা দেয়। ৩. উদ্বিগ্নতা কয়েক প্রকার বাতের কারণ হতে পারে। ৪. আপনার নাড়ুভুঁড়ির উপকারার্থে আপনার উদ্বিগ্নতার মাত্রা কমানোর চেষ্টা করুন। ৫. উদ্বিগ্নতাকে কিভাবে সাধারণ সর্দি’র কারণ মনে করা যায়। ৬. উদ্বিগ্নতা ও থাইরয়েড গ্ল্যান্ড। ৭. ডায়াবেটিসের শিকার ও উদ্বিগ্নতার কারণে।
মনোবিজ্ঞানী ডা. কার্ল মেনিন্জার 'Man Against Himself' নামে একটি বই লিখেছেন। এ পুস্তকে তিনি বলেছেন– “ডা. মেনিন্জার আপনাদেরকে উদ্বিগ্নতা কিভাবে এড়িয়ে চলতে হবে এর কোনো নিয়ম-কানুন দেবেন না; বরং তিনি উদ্বিগ্নতা, স্নায়ুবিকতা, হিসাব-বিবেচনা, ভয় ও প্রতিশোধ গ্রহণের ইচ্ছা কীভাবে আপনার নিজের দেহ-মনকে ধ্বংস করে দেয় তার উপর আপনাকে এক বিস্ময়কর প্রতিবেদন দিবেন।” “এবং তারাও যারা ক্রোধ সংবরণ করে; নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৪) এ আয়াত থেকে যেসব শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করা উচিত তার মধ্যে অধিকতর লক্ষণীয় হচ্ছে যে, আমাদের সুস্থ মন, মনের শান্তি, শান্ত স্নায়ু এবং সুখবোধ থাকতে হবে। ফরাসী দার্শনিক একদা বলেছিলেন– “আমি আমার হাত দিয়ে আপনার সমস্যা সমাধানের সাহায্য করতে চাই- আমার লিভার ও ফুসফুস দ্বারা নয়।”
📄 হতাশা ও ক্রোধের ফল
কর্নেল ইউনিভার্সিটির ডা. রাসেল সিসিল আরথ্রাইটিস রোগের চারটি বহু বিস্তৃত কারণ উল্লেখ করেন-
১. বৈবাহিক ঝগড়া (অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী-সংক্রান্ত ঝগড়া)
২. আর্থিক সংকট ও হতাশা
৩. নিঃসঙ্গতা ও উদ্বিগ্নতা
৪. হিংসা-বিদ্বেষ
'The Federation of American Dentists'-এ বক্তৃতা দানকালে ডা. উইলিয়াম মার্ক পগিসল মন্তব্য করেন- “উদ্বিগ্নতা ও ভয়ের মতো অপ্রীতিকর অনুভূতি সম্ভবত দেহের ক্যালসিয়াম বণ্টনের ব্যাঘাত ঘটায় ফলে দাঁতের ক্ষয় হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকে।”
📄 দুঃখ করবেন না-এ পৃথিবী আপনার দুঃখের যোগ্য নয়
নবী করীম বলেছেন- “আল্লাহর নিকট যদি এ পৃথিবীর মূল্য মশার পাখার সমানও হতো তবে আল্লাহ কোনো কাফেরকে এক ঢোক পানিও দিতেন না।” এ পৃথিবীর মূল্য মশার পাখার সমানও নয়। এ পৃথিবীর মূল্য যদি এই-ই হয় তবে কেন এ নিয়ে দুঃখ করা?
📄 হতাশ হবেন না- কারণ যে আপনি আল্লাহতে বিশ্বাস করেন
“বরং আল্লাহই তোমাদেরকে ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদের প্রতি করুণা করেছেন।” (৪৯-সূরা আল হুজুরাত : আয়াত-১৭)
ঈমানদার যখন কাফেরকে পর্যবেক্ষণ করে তখন ঈমানদারকে যে অনুকূল বিশেষ বিষয় দান করা হয়েছে সেই একটি বিশেষ কল্যাণ অধিকাংশ লোকের নিকটেই উপেক্ষিত থাকে। ইসলামের পথে মুমিনকে আল্লাহর পথ-প্রদর্শনের কল্যাণের কথা ঈমানদার স্মরণ করে। সে আল্লাহর প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞ যে তিনি তার ভাগ্যে কাফেরের মতো হওয়ার কথা লিখে রাখেননি। যে (কাফের) নাকি বিদ্রোহ করে, আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করে, তার পরম গুণাবলিকে অবিশ্বাস করে, তাঁর নবী-রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করে এবং পরকালকে অবিশ্বাস করে।
অধিকন্তু, মুমিন ব্যক্তি ইবাদতের সকল বাধ্যতামূলক আমলগুলো সম্পাদন করে। সম্ভবত তার সেসব কর্ম সম্পাদন (অর্থাৎ আমল) নিখুঁত নয়, তবুও শুধুমাত্র আমল করাটাই এক মহা অনুগ্রহ। এটা এমন এক নেয়ামত যার জন্য খুব কম লোকই কৃতজ্ঞ।
“তবে যে ব্যক্তি মুমিন সে কি সে ব্যক্তির মতো যে ফাসেক? তারা সমান নয়।” (৩২-সূরা আস সাজদাহ: আয়াত-১৮)
কুরআনের কিছু কিছু ব্যাখ্যাকার বলেছেন যে, মুমিনদের জন্য বেহেশতের আনন্দের মাঝে এটাও এক আনন্দের বিষয় হবে যে, তারা দোজখবাসীদেরকে উপর থেকে দেখতে পারবে এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে যা দান করেছেন সে জন্যে তারা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।