📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 জটিল পরিস্থিতিতে হতাশ হবেন না

📄 জটিল পরিস্থিতিতে হতাশ হবেন না


আপনি যখন নিজেকে কঠিন অবস্থায় দেখতে পাবেন তখন নিম্নোক্ত কাজগুলো করবেন–
১. নিজেকে প্রশ্ন করুন– সবচেয়ে খারাপ কী ঘটতে পারে?
২. সর্বাপেক্ষা খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
৩. খারাপ কিছু ঘটলে পরিস্থিতিকে ভালোভাবে সামাল দেওয়ার জন্য ঠান্ডা মাথায় এর মোকাবেলা করুন।
“যে সব মুসলিমদেরকে মুনাফিকরা বলেছিল যে, তোমাদের বিরুদ্ধে (যুদ্ধ করার জন্য) একদল (কাফের) লোক জমায়েত হয়েছে, সুতরাং, তাদেরকে ভয় কর, এতে মুমিনদের ঈমান আরো বেড়ে গেল এবং তারা বলল– ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম অভিভাবক!’” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৭৩)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হতাশা দেহ-মনকে দুর্বল করে

📄 হতাশা দেহ-মনকে দুর্বল করে


চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ডা. এলেক্সিস কার্লাইল বলেছেন- “যেসব কাজের লোকেরা উদ্বিগ্ন ও মানসিক চাপ দমন করতে জানে না তারা অন্যদের তুলনায় বেশি মাত্রায় অকালে মরণশীল।” বাস্তবিক, যা কিছু ঘটে তা স্বর্গীয় বিধান বা তকদীর অনুসারেই ঘটে। তা সত্ত্বেও প্রত্যেককেই সমস্যা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। আর এ কারণেই কার্লাইল যথার্থই বলেছেন যে, যা শরীরের ক্ষতি করে উদ্বিগ্নতা তার একটি।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হতাশা ক্ষতের কারণ

📄 হতাশা ক্ষতের কারণ


“আপনি যা ভক্ষণ করছেন তার কারণে আপনি ক্ষতে আক্রান্ত হবেন না, কিন্তু, যা আপনাকে ভক্ষণ করছে তার কারণেই আপনি ক্ষতাগ্রস্ত হবেন।” ডা. জোসেফ এফ মন্টাজনার ‘স্নায়ুবিক সমস্যা’ নামক পুস্তক থেকে (উপরোক্ত) এ উদ্ধৃতাংশটুকু নেয়া হয়েছে। প্রসিদ্ধ আরব কবি মোতানাব্বি বলেছেন- “দুশ্চিন্তা মোটা ব্যক্তিকে হালকা-পাতলা ও শীর্ণ বানিয়ে ফেলে, এটা যুবকের চুল পাকায় ও তাকে বৃদ্ধ বানিয়ে ফেলে।” এবং ‘লাইফ’ নামক পত্রিকা মতে মরণ ব্যাধির তালিকায় ক্ষতের স্থান দশম।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হতাশার আরো কিছু কুপ্রভাব

📄 হতাশার আরো কিছু কুপ্রভাব


আমি ইদানীং ডা. এডওয়ার্ড বড়লুকির ‘Stop Worrying and Seek Betterment’ নামক পুস্তকের অনুবাদ পড়েছি এখানে তার বই থেকে কয়েকটি অধ্যায়ের নাম দেয়া গেল- ১. উদ্বিগ্নতা হার্টের ক্ষতি করে। ২. উদ্বিগ্নতার কারণে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ে বা দেখা দেয়। ৩. উদ্বিগ্নতা কয়েক প্রকার বাতের কারণ হতে পারে। ৪. আপনার নাড়ুভুঁড়ির উপকারার্থে আপনার উদ্বিগ্নতার মাত্রা কমানোর চেষ্টা করুন। ৫. উদ্বিগ্নতাকে কিভাবে সাধারণ সর্দি’র কারণ মনে করা যায়। ৬. উদ্বিগ্নতা ও থাইরয়েড গ্ল্যান্ড। ৭. ডায়াবেটিসের শিকার ও উদ্বিগ্নতার কারণে।

মনোবিজ্ঞানী ডা. কার্ল মেনিন্জার 'Man Against Himself' নামে একটি বই লিখেছেন। এ পুস্তকে তিনি বলেছেন– “ডা. মেনিন্জার আপনাদেরকে উদ্বিগ্নতা কিভাবে এড়িয়ে চলতে হবে এর কোনো নিয়ম-কানুন দেবেন না; বরং তিনি উদ্বিগ্নতা, স্নায়ুবিকতা, হিসাব-বিবেচনা, ভয় ও প্রতিশোধ গ্রহণের ইচ্ছা কীভাবে আপনার নিজের দেহ-মনকে ধ্বংস করে দেয় তার উপর আপনাকে এক বিস্ময়কর প্রতিবেদন দিবেন।” “এবং তারাও যারা ক্রোধ সংবরণ করে; নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৪) এ আয়াত থেকে যেসব শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করা উচিত তার মধ্যে অধিকতর লক্ষণীয় হচ্ছে যে, আমাদের সুস্থ মন, মনের শান্তি, শান্ত স্নায়ু এবং সুখবোধ থাকতে হবে। ফরাসী দার্শনিক একদা বলেছিলেন– “আমি আমার হাত দিয়ে আপনার সমস্যা সমাধানের সাহায্য করতে চাই- আমার লিভার ও ফুসফুস দ্বারা নয়।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px