📄 বিষণ্ণ হবেন না- দুশ্চিন্তা দূর করুন
আলস্যতা ধ্বংসাত্মক এবং যারা উদ্বিগ্নতা ও দুশ্চিন্তায় ভোগে তাদের অধিকাংশই অলস এবং অকর্মা। যারা অর্থবহ ও সফল কাজ হতে রিক্তহস্ত ওজর আর গল্পই তাদের একমাত্র পুঁজি।
নিজেকে কোন কাজে নিয়োজিত করুন এবং সে কাজে কঠোর প্রচেষ্টা চালান। পড়ুন, আবৃত্তি (তেলাওয়াত) করুন এবং আপনার প্রতিপালকের (সপ্রশংস মহিমা কীর্তন) করুন। লিখুন, বন্ধুদের দেখতে যান এবং নিজের সময়কে কাজে লাগান। সংক্ষেপে, এক মিনিট সময়ও অলসতায় নষ্ট করবেন না। আপনার জীবনের প্রতিটি দিনেই (যে দিনটি আপনি কাটাচ্ছেন তাতেই) দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা দেখা দিবে। কুসংস্কার ও কুমন্ত্রণা আপনার অন্তরে ঢুকে আপনাকে শয়তানের খেলার মাঠ হতে দিবে।
যে লোককে আপনি একদা কোন উপকার করেছেন কিন্তু সে উপকারের কথা বেমালুম ভুলে যায় বা অস্বীকার করে এমন লোকের ব্যাপারে দুঃখ করবেন না; কেননা, একমাত্র আল্লাহর পুরস্কারের জন্যই আপনার আকাঙ্ক্ষা হওয়া উচিত।
আমলে সালেহ বিনম্রভাবে ও একনিষ্ঠ হয়ে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করুন এবং কারো অভিবাদন বা ধন্যবাদ পাবার আশায় করবেন না। আপনি যদি কারো কোন উপকার করে থাকেন আর সে যদি এর মূল্যায়ন না করে অকৃতজ্ঞ হয় তবে মনে ব্যথা পাবেন না। আল্লাহ তা'আলার নিকট আপনার পুরস্কার চান। মহান আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের সম্বন্ধে বলেন- “তাঁরা আল্লাহর দান ও সন্তুষ্টি কামনা করে।” (৫৯-সূরা আল হাশর : আয়াত-৮) বলুন, "এজন্য আমি তোমাদের নিকট কোন পারিতোষিক বা বকশিশ চাই না।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৫৭; ৩৪ : ৪৭; ৩৮ : ৮৬)
“আমরাতো তোমাদেরকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই খাওয়াই; তোমাদের কাছ থেকে আমরা কোন প্রতিদান বা ধন্যবাদ আশা করি না।” (৭৬-সূরা আদ দাহর বা ইনসান : আয়াত-৯)
অতএব, আপনার লেনদেন শুধুমাত্র আল্লাহর সাথেই করুন। যেহেতু, তিনিই পূর্বকর্মের বা আমলে সালেহের প্রতিদান দেন, যারা সৎকাজ বা নেক আমল করে তাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে পুরুস্কৃত করেন এবং যারা পাপ কাজ বা মন্দ আমল করে তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন।
শহীদদেরকে যখন কান্নাহারে হত্যা করা হয় তখন উমর (রা) তাঁর সঙ্গীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কে নিহত হলো?” তাঁরা তাঁর কাছে কতিপয় নাম বললেন এবং তারপর বললেন : “এবং এমন কিছু লোক যাদেরকে আপনি চিনেন না।” ওমরের আখিদ্বয় অশ্রুতে টলটলে হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, “কিন্তু আল্লাহ তো তাদেরকে চিনেন।” (অর্থাৎ যাদেরকে আল্লাহ প্রতিদান দিবেন, তাদেরকে আমরা না চিনলেও আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ভালোভাবেই চিনেন।)
একজন ধার্মিক ব্যক্তি এক অন্ধ ব্যক্তিকে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে সুন্দর খাবার খাওয়াল। তাঁর স্ত্রী বলল, “এ অন্ধ লোকটিততো জানে না যে সে কী খাচ্ছে (সুতরাং তাঁকে নিম্নমানের কিছু খেতে দিন)” তিনি উত্তর দিলেন। “কিন্তু আল্লাহ তো জানেন।”
যেহেতু আল্লাহ তা’আলা আপনার কাজ (অর্থাৎ আপনি যা করেন তা) জানেন, আপনি যে ভালো কাজ করেন এবং অন্যদেরকে যে সাহায্য করেন তা তিনি জানেন, সেহেতু মানুষ কী ভাবছে সে বিষয়ে নিরুদ্বিগ্ন, দুশ্চিন্তাহীন ও প্রশান্ত থাকুন।
📄 কী ঘটবে সে ভয়ে বিষণ্ণ হবেন না
তাওরাত শরীফে নিচের কথাখানি বর্ণিত আছে— “যা ঘটবে বলে ভয় করা হয় তার অধিকাংশই কখনো ঘটে না।” এর অর্থ হলো যে, অধিকাংশ আসন্ন সমস্যার আশঙ্কা ও ভয় বাস্তব রূপ নিতে ব্যর্থ হয়। জীবনে বাস্তবিক পক্ষে যা ঘটে তার চেয়ে মনের অনুমান বা ধারণা সংখ্যায় ও আকারে অনেক বেশি।
একজন আরবী কবি বলেন-
“আমার মন যখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েছিল তখন আমি তাকে বলেছিলাম- “সুখে থাক, কারণ অধিকাংশ ভয়ই অমূলক।”
এতে বুঝা যায় যে, যদি আপনি কোন আসন্ন দুর্বিপাক ও দুর্দশার কথা শুনেন তবে অতিরিক্ত ভীত হবেন না, বিশেষ করে, অধিকাংশ আসন্ন বিপদের ভবিষ্যদ্বাণীই মিথ্যা হয়ে থাকে।
“এবং আমি আমার বিষয় আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখেন। অতএব, আল্লাহ তাঁকে তাদের ষড়যন্ত্র হতে রক্ষা করলেন।” (৪০-সূরা আল মু'মিন : আয়াত-৪৪-৪৫)
📄 দুঃখ করবেন না- নিজেকে এ প্রশ্নগুলো করুন
১. ভবিষ্যতের ভয় ও দুশ্চিন্তার কারণে অথবা দিগন্তের ওপারের যাদুময় বাগানের আশায় (আলেয়ার আলোর আশায়) আমি বর্তমান জীবন ভোগ বা বর্তমানে জীবনযাপন ত্যাগ করছি কি?
২. অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে চিন্তা করে আমি কি আমার বর্তমানকে তিক্ত করছি?
৩. আমি আমার দিনটি ভালোভাবে কাজে লাগানোর ইচ্ছা নিয়ে কি আমি ভোরে ঘুম থেকে জেগে উঠি?
৪. আমি কি আমার বর্তমান জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে উপকৃত হচ্ছি?
৫. অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে কখন আমি বর্তমান জীবন ভোগ করা বা বর্তমান জীবন যাপন শুরু করব? কি আগামী সপ্তাহে? না-কি আগামী কাল? না আজই?
📄 জটিল পরিস্থিতিতে হতাশ হবেন না
আপনি যখন নিজেকে কঠিন অবস্থায় দেখতে পাবেন তখন নিম্নোক্ত কাজগুলো করবেন–
১. নিজেকে প্রশ্ন করুন– সবচেয়ে খারাপ কী ঘটতে পারে?
২. সর্বাপেক্ষা খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
৩. খারাপ কিছু ঘটলে পরিস্থিতিকে ভালোভাবে সামাল দেওয়ার জন্য ঠান্ডা মাথায় এর মোকাবেলা করুন।
“যে সব মুসলিমদেরকে মুনাফিকরা বলেছিল যে, তোমাদের বিরুদ্ধে (যুদ্ধ করার জন্য) একদল (কাফের) লোক জমায়েত হয়েছে, সুতরাং, তাদেরকে ভয় কর, এতে মুমিনদের ঈমান আরো বেড়ে গেল এবং তারা বলল– ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম অভিভাবক!’” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৭৩)