📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 তুচ্ছ জিনিস নিয়ে দুঃখ করবেন না

📄 তুচ্ছ জিনিস নিয়ে দুঃখ করবেন না


তুচ্ছ বিষয়ে নিরুদ্বিগ্ন থেকে আপনি এমন এক গুণ প্রদর্শন করবেন যা আপনাকে সুখ বয়ে এনে দিবে; কেননা, যার উদ্দেশ্য মহৎ তিনি শুধু পরকাল নিয়েই বিভোর হয়ে থাকেন।
আমাদের একজন ধার্মিক পূর্বসূরী তাঁর এক ভাইকে নিচের কথাগুলো দ্বারা উপদেশ দিয়েছিলেন-
“শুধুমাত্র একটি বিষয়ে উদ্বিগ্ন হও- (আর তা হলো) আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে। তাঁর সম্মুখে দণ্ডায়মান হওয়ার বিষয়ে এবং পরকালের বিষয়ে।”
“সেদিন তোমাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় হাজির করা হবে এবং সেদিন তোমাদের কোন গোপন বিষয় গোপন থাকবে না।” (৬৯-সূরা আল হাক্কাহ : আয়াত-১৮)
পরকালের উজ্জ্বলতার সাথে তুলনা করলে সব উজ্জ্বলতাই দূর হয়ে যায়। এ জীবনের দুশ্চিন্তা, দুর্ভাগ্য ও উদ্বিগ্নতাসমূহ কী? সেগুলো হলো মান-মর্যাদা, নাম-ডাক-যশ-খ্যাতি, আয়-রোজগার, ধন-সম্পদ, দালান-কোঠা ও সন্তান-সন্তুতি। আল্লাহ তা‘আলার সামনে জবাবদিহিতার সাথে তুলনা করা হলে এগুলো কিছুই না।
মহান আল্লাহ তাঁর শত্রু মুনাফিক্বদের বিবরণ এভাবে দিয়েছেন-
“আরেক দল (অন্যদেরকে ও নবী ﷺ-কে বাঁচানোর চিন্তা না করে নিজেদের কিভাবে বাঁচানো যায় সে বিষয়ে) নিজেদের চিন্তায় মগ্ন ছিল এবং আল্লাহর ব্যাপারে ভুল ধারণা করেছিল এবং আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা ধারণা পোষণ করে নিজেরাই নিজেদেরকে উদ্বিগ্ন করেছিল।” (৩-সূরা আলে ইমরান : ১৫৪)
তাদের চিন্তা শুধু নিজেদের জন্যই- তাদের পেটপূজা নিয়ে এবং তাদের কাম চরিতার্থ নিয়ে; তারা উচ্চতর কোন অভিপ্রায়ের কথা জানে না।
সাহাবীগণ যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট গাছের নিচে আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি দিল তখন একজন মুনাফিক তার লাল উটের জন্য তাড়াতাড়ি ছুটে গেল যেটা হারিয়ে গিয়েছিল। সে বলেছিল : “তোমাদের বাইয়াত এর অনুষ্ঠানের চেয়ে আমার উট খুঁজে বের করা আমার কাছে বেশি প্রিয়।”
একজন মুনাফিক যে নিজেকে নিয়েই উদ্বিগ্ন সে সঙ্গীদেরকে তাবুক অভিযান সম্পর্কে বলেছিল। “গরমে অভিযানে বের হয়ো না।”
মহান আল্লাহ বলেন- “বলুন! (এই তাপের চেয়ে) জাহান্নামের আগুনের তাপে অধিকতর প্রচণ্ড।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-৮১)
আরেকজন মুনাফিক বলেছিল- এবং তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যে বলে, “আমাকে (যুদ্ধ করা থেকে) অব্যাহতি দিন এবং আমাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবেন না। সাবধান! তারাই ফিতনাতে পড়ে আছে। জাহান্নাম তো কাফিরদেরকে বেষ্টন করেই আছে।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-৪৯)
এবং আল্লাহ তা’আলা বলেন- “নিশ্চয়ই তারা অগ্নি পরীক্ষায় পড়েছে।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-৪৯)
যখন অন্যান্যরাও সমস্যায় পড়েছিল এবং শুধু নিজেদের ধন-সম্পদ ও পরিবার নিয়েই উদ্বিগ্ন ছিল (তখন আল্লাহ তাদের কথা এভাবে বলেন)- “আমাদের ধন-সম্পদ এবং আমাদের পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত করে রেখেছে সুতরাং আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।”
যারা নিজেরাই তুচ্ছ ও নগণ্য তারা ছাড়া অন্য কারোই এসব তুচ্ছ ও নগণ্য বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়। কেননা মহান সাহাবীগণ আল্লাহর রহমত কামনা করতেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা করতেন।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 বিষণ্ণ হবেন না- দুশ্চিন্তা দূর করুন

📄 বিষণ্ণ হবেন না- দুশ্চিন্তা দূর করুন


আলস্যতা ধ্বংসাত্মক এবং যারা উদ্বিগ্নতা ও দুশ্চিন্তায় ভোগে তাদের অধিকাংশই অলস এবং অকর্মা। যারা অর্থবহ ও সফল কাজ হতে রিক্তহস্ত ওজর আর গল্পই তাদের একমাত্র পুঁজি।
নিজেকে কোন কাজে নিয়োজিত করুন এবং সে কাজে কঠোর প্রচেষ্টা চালান। পড়ুন, আবৃত্তি (তেলাওয়াত) করুন এবং আপনার প্রতিপালকের (সপ্রশংস মহিমা কীর্তন) করুন। লিখুন, বন্ধুদের দেখতে যান এবং নিজের সময়কে কাজে লাগান। সংক্ষেপে, এক মিনিট সময়ও অলসতায় নষ্ট করবেন না। আপনার জীবনের প্রতিটি দিনেই (যে দিনটি আপনি কাটাচ্ছেন তাতেই) দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা দেখা দিবে। কুসংস্কার ও কুমন্ত্রণা আপনার অন্তরে ঢুকে আপনাকে শয়তানের খেলার মাঠ হতে দিবে।
যে লোককে আপনি একদা কোন উপকার করেছেন কিন্তু সে উপকারের কথা বেমালুম ভুলে যায় বা অস্বীকার করে এমন লোকের ব্যাপারে দুঃখ করবেন না; কেননা, একমাত্র আল্লাহর পুরস্কারের জন্যই আপনার আকাঙ্ক্ষা হওয়া উচিত।
আমলে সালেহ বিনম্রভাবে ও একনিষ্ঠ হয়ে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করুন এবং কারো অভিবাদন বা ধন্যবাদ পাবার আশায় করবেন না। আপনি যদি কারো কোন উপকার করে থাকেন আর সে যদি এর মূল্যায়ন না করে অকৃতজ্ঞ হয় তবে মনে ব্যথা পাবেন না। আল্লাহ তা'আলার নিকট আপনার পুরস্কার চান। মহান আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের সম্বন্ধে বলেন- “তাঁরা আল্লাহর দান ও সন্তুষ্টি কামনা করে।” (৫৯-সূরা আল হাশর : আয়াত-৮) বলুন, "এজন্য আমি তোমাদের নিকট কোন পারিতোষিক বা বকশিশ চাই না।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৫৭; ৩৪ : ৪৭; ৩৮ : ৮৬)
“আমরাতো তোমাদেরকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই খাওয়াই; তোমাদের কাছ থেকে আমরা কোন প্রতিদান বা ধন্যবাদ আশা করি না।” (৭৬-সূরা আদ দাহর বা ইনসান : আয়াত-৯)
অতএব, আপনার লেনদেন শুধুমাত্র আল্লাহর সাথেই করুন। যেহেতু, তিনিই পূর্বকর্মের বা আমলে সালেহের প্রতিদান দেন, যারা সৎকাজ বা নেক আমল করে তাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে পুরুস্কৃত করেন এবং যারা পাপ কাজ বা মন্দ আমল করে তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন।
শহীদদেরকে যখন কান্নাহারে হত্যা করা হয় তখন উমর (রা) তাঁর সঙ্গীদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কে নিহত হলো?” তাঁরা তাঁর কাছে কতিপয় নাম বললেন এবং তারপর বললেন : “এবং এমন কিছু লোক যাদেরকে আপনি চিনেন না।” ওমরের আখিদ্বয় অশ্রুতে টলটলে হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, “কিন্তু আল্লাহ তো তাদেরকে চিনেন।” (অর্থাৎ যাদেরকে আল্লাহ প্রতিদান দিবেন, তাদেরকে আমরা না চিনলেও আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ভালোভাবেই চিনেন।)
একজন ধার্মিক ব্যক্তি এক অন্ধ ব্যক্তিকে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে সুন্দর খাবার খাওয়াল। তাঁর স্ত্রী বলল, “এ অন্ধ লোকটিততো জানে না যে সে কী খাচ্ছে (সুতরাং তাঁকে নিম্নমানের কিছু খেতে দিন)” তিনি উত্তর দিলেন। “কিন্তু আল্লাহ তো জানেন।”
যেহেতু আল্লাহ তা’আলা আপনার কাজ (অর্থাৎ আপনি যা করেন তা) জানেন, আপনি যে ভালো কাজ করেন এবং অন্যদেরকে যে সাহায্য করেন তা তিনি জানেন, সেহেতু মানুষ কী ভাবছে সে বিষয়ে নিরুদ্বিগ্ন, দুশ্চিন্তাহীন ও প্রশান্ত থাকুন।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 কী ঘটবে সে ভয়ে বিষণ্ণ হবেন না

📄 কী ঘটবে সে ভয়ে বিষণ্ণ হবেন না


তাওরাত শরীফে নিচের কথাখানি বর্ণিত আছে— “যা ঘটবে বলে ভয় করা হয় তার অধিকাংশই কখনো ঘটে না।” এর অর্থ হলো যে, অধিকাংশ আসন্ন সমস্যার আশঙ্কা ও ভয় বাস্তব রূপ নিতে ব্যর্থ হয়। জীবনে বাস্তবিক পক্ষে যা ঘটে তার চেয়ে মনের অনুমান বা ধারণা সংখ্যায় ও আকারে অনেক বেশি।
একজন আরবী কবি বলেন-
“আমার মন যখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েছিল তখন আমি তাকে বলেছিলাম- “সুখে থাক, কারণ অধিকাংশ ভয়ই অমূলক।”
এতে বুঝা যায় যে, যদি আপনি কোন আসন্ন দুর্বিপাক ও দুর্দশার কথা শুনেন তবে অতিরিক্ত ভীত হবেন না, বিশেষ করে, অধিকাংশ আসন্ন বিপদের ভবিষ্যদ্বাণীই মিথ্যা হয়ে থাকে।
“এবং আমি আমার বিষয় আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখেন। অতএব, আল্লাহ তাঁকে তাদের ষড়যন্ত্র হতে রক্ষা করলেন।” (৪০-সূরা আল মু'মিন : আয়াত-৪৪-৪৫)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুঃখ করবেন না- নিজেকে এ প্রশ্নগুলো করুন

📄 দুঃখ করবেন না- নিজেকে এ প্রশ্নগুলো করুন


১. ভবিষ্যতের ভয় ও দুশ্চিন্তার কারণে অথবা দিগন্তের ওপারের যাদুময় বাগানের আশায় (আলেয়ার আলোর আশায়) আমি বর্তমান জীবন ভোগ বা বর্তমানে জীবনযাপন ত্যাগ করছি কি?
২. অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে চিন্তা করে আমি কি আমার বর্তমানকে তিক্ত করছি?
৩. আমি আমার দিনটি ভালোভাবে কাজে লাগানোর ইচ্ছা নিয়ে কি আমি ভোরে ঘুম থেকে জেগে উঠি?
৪. আমি কি আমার বর্তমান জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে উপকৃত হচ্ছি?
৫. অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে কখন আমি বর্তমান জীবন ভোগ করা বা বর্তমান জীবন যাপন শুরু করব? কি আগামী সপ্তাহে? না-কি আগামী কাল? না আজই?

ফন্ট সাইজ
15px
17px