📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুশ্চিন্তা করবেন না

📄 দুশ্চিন্তা করবেন না


আজই যেন আপনার শেষ দিন এভাবে আজকের দিনটি কাটান। এ ধরনের মানসিকতা ও জীবন সম্বন্ধে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি যদি থাকে তবে রাগ-দুঃখকে প্রশ্রয় দিয়ে আপনার সামান্য যে সময়টুকু আছে তা নষ্ট করার কোন যুক্তি নেই। এক হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
“সকাল বেলা সন্ধ্যাবেলা দেখার আশা করো না। আর সন্ধ্যাকালে সকাল বেলা দেখার আশা করো না।”
অন্য কথায় অতীত নিয়ে না ভেবে ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে আত্মা-দেহ-মন নিয়ে জীবন শুধু আজকের জন্যই।
একজন আরব কবি বলেন-
“যা অতীত হয়ে গেছে তা চিরদিনের জন্য চলে গেছে আর যা আশা করা হয় তাতো অজানা -অজ্ঞাত। আর তোমার যা আছে তা হলো বর্তমান মুহূর্তটি।”
অতীতের চিন্তায়-বিভোর হওয়া এবং অতীতের দুঃখ-কষ্টকে বর্তমানে টেনে আনা অস্থির ও অসুস্থ মনের লক্ষণ।
চীনা (চিন দেশীয়) প্রবাদে বলা হয়- “সেতুতে পৌঁছার আগেই সেতু পার হয়ো না।”
অন্য কথায়, ঘটনা ঘটার আগেই তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না।
আমাদের একজন ধার্মিক পূর্বসূরী বলেছেন- “হে আদম সন্তান! নিশ্চয় তোমাদের দিন মাত্র তিনটি। গতকাল আর এটা তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আগামীকাল যা এখনও আসেনি এবং আজ। সুতরাং আজকের দিনে আল্লাহকে ভয় কর, তাঁকে মান্য কর।”
যে নাকি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের উদ্বেগ নিয়ে বেড়ায় সে কিভাবে বাঁচতে পারে? তা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে সর্বদা তার কথা মনে করে করে মানুষ কিভাবে শান্তি পেতে পারে? যে অতীতের দুঃখজনক ঘটনার কথা মনে করে, সে শুধু ব্যথাই পায়, এতে তার কোন লাভ হয় না।
“সকালে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঁচার আশা করো না ও সন্ধ্যায় সকাল পর্যন্ত বাঁচার আশা করো না।”
এ কথার অর্থ হল এ পৃথিবীর জন্য আমাদের বড় ধরনের ও দীর্ঘ-কালীন আশা থাকা উচিত নয়। মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করুন। নেক আমল করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করুন। আপনার উদ্বেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে আজকের দিনের সীমা পেরিয়ে যেতে দেবেন না। এ নীতি আপনাকে মনোযোগী হতে এবং প্রতিদিন উৎপাদনশীল হওয়ার জন্য আপনার সমস্ত শক্তিকে ব্যয় করতে সাহায্য করবে। দক্ষতার সাথে সময়কে কাজে লাগান এবং আপনার আচার-আচরণ, চাল-চলনের উন্নতি করে, আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ে ও অন্যের সাথে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় করে আজ কোন কিছু অর্জন করার জন্য আপনার সকল প্রচেষ্টাকে কাজে লাগান।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 উদ্বেগ দূর করুন-একটু ভাবুন

📄 উদ্বেগ দূর করুন-একটু ভাবুন


দুঃখিত হবেন না, কেননা যা তকদীরে আছে তা তো সিদ্ধান্ত করা হয়ে গেছে এবং আপনি পছন্দ না করলেও তা ঘটবে। কলমের কালি শুকিয়ে গেছে, কাগজ গুটিয়ে নেয়া হয়েছে এবং সবকিছু দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তাই আপনার দুঃখ বাস্তবতাকে একটুও পাল্টাতে পারবে না।
দুঃখ করবেন না, কারণ আপনার বিমূঢ়তার দ্বারা আপনি সময়ের গতিরোধ করতে চান, সূর্যকে তার উদয়স্থলে থামিয়ে দিতে চান, ঘড়ির কাঁটাকে স্থির-নিশ্চল করে দিতে চান, পেছনের দিকে হাঁটতে চান এবং নদীকে তার উৎসের দিকে উল্টো বহাতে বা প্রবাহিত করতে চান যা সবই অসম্ভব।
বিপন্ন হবেন না, কারণ বিপন্নতা ঘূর্ণিঝড়ের মতো টেন্টগুলোকে ভয়ঙ্করভাবে আছড়ায়। পরিবেশকে নষ্ট করে বা বায়ুমণ্ডলে পরিবর্তন করে এবং সমৃদ্ধ বাগানের স্ফুটন্ত ফুলগুলোকে ধ্বংস করে।
বিপন্ন হবেন না, কেননা বিপন্ন ব্যক্তি তার মতো, যে নাকি তলায় ছিদ্রযুক্ত বালতিতে পানি ঢালে। যে লেখক নিজের আঙুল দিয়ে পানিতে লিখতে চায় সে তার মতো।
দুঃখিত হবেন না, কারণ প্রকৃত জীবন কাল মাপা হয় দিনের সংখ্যা দিয়ে-যে দিন আপনি কাটাচ্ছেন। সুতরাং আপনার দিনগুলোকে দুঃখ করে করে শেষ করবেন না। আপনার রাতগুলোকে দুঃখ করে নষ্ট করবেন না এবং আপনার সময়ের অপচয় করবেন না। কারণ, সত্যসত্যই আল্লাহ্ অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না।
দুশ্চিন্তা করবেন না, কেননা সত্যিই আপনার প্রভু পাপ মার্জনা করেন ও অনুতাপ-অনুশোচনা গ্রহণ করেন।
“বলুন : “হে আমার সেসব বান্দারা! যারা (গুনাহ্ করে) নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছ! তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়।” (৩৯-সূরা আয যুমার: আয়াত-৫৩)
যখন আপনি এ আয়াতখানি পড়েন তখন কি আপনার আত্মা শান্তি পায় না? আপনার উদ্বিগ্নতা ও দুশ্চিন্তা কি দূর হয় না? এবং আপনার সমগ্র সত্তার মধ্যে দিয়ে কি সুখের প্রবাহ বয়ে যায় না?
তাদের আত্মাকে পোষ মানাতে তিনি তাদেরকে ‘হে আমার বান্দারা!’ বলে আহ্বান করেছেন। তিনি বিশেষ করে সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে এ কারণে উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা অন্যদের তুলনায় অনবরত গুনাহ করতে বেশি অভ্যস্ত। তাহলে অন্যদের জন্য আল্লাহর করুণা কতই না বেশি হবে! এভাবে তিনি তাদেরকে হতাশ হওয়া থেকে এবং ক্ষমা পাওয়ার আশাহত হওয়া থেকে বারণ করেছেন। এবং তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিলেন যে, যে তওবা করবে তার ছোট-বড়, সাংঘাতিক বা তুচ্ছ সব গুনাহই তিনি ক্ষমা করে দিবেন।
“আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে অমনিই আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহর নিকট তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জেনে শুনে তারা যে (পাপ) করেছে তা করতে থাকেন না (তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন)। আর আল্লাহ ছাড়া কে আছে যে পাপ ক্ষমা করতে পারবে?” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৩৫)
“আর যে মন্দ কাজ করে বা নিজের প্রতি অত্যাচার করে তারপর আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করে বা গুনাহ মাফ চায়, সে আল্লাহকে মহা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।” (৪-সূরা আন নিসা: আয়াত-১১০)
“তোমাদেরকে যা নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা তার মধ্য হতে বড় বড় গুনাহ এড়িয়ে চল, তবে আমি তোমাদের (ছোট ছোট) পাপ ক্ষমা করে দিব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থান বেহেশতে প্রবেশ করাব।” (৪-সূরা নিসা: আয়াত-৩১)
“আর যদি তারা নিজেদের প্রতি অবিচার করে আপনার নিকট এসে আল্লাহর কাছে পাপ ক্ষমা চায় এবং তাদের জন্য রাসূলও ক্ষমা চান তবে তারা আল্লাহকে অবশ্যই পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।” (৪-সুরা আন নিসা : আয়াত-৬৪)
“আর যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে ও আমলে সালেহ করে, অতঃপর হিদায়াতের পথে চলে সে ব্যক্তিকে অবশ্যই আমি ক্ষমা করে দিব।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-৮২)
মূসা (আ) যখন একজন লোককে (অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভুলক্রমে) হত্যা করে ফেলেছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন– “হে আমার প্রভু! আমি অবশ্যই আমার প্রতি জুলুম করেছি, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। তারপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন।” (২৮-সুরা আল কাছাছ : আয়াত-১৬)
দাউদ (আ) যখন অনুতপ্ত হলেন তখন আল্লাহ বলেন– “অতঃপর আমি তার সে ভুল ক্ষমা করেছিলাম এবং তার জন্য আমার নিকট নৈকট্য ও শুভ পরিণাম রয়েছে।” (৩৮-সুরা ছোয়াদ : আয়াত-২৫)
আল্লাহ কতই না উৎকৃষ্ট, করুণাময় ও উদার! এমনকি যারা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে তারাও যদি তওবা করে, তবে তিনি তাদেরকেও তাঁর করুণা ও ক্ষমার প্রস্তাব করেছেন।
“তারা অবশ্যই কুফরি করে যারা বলে যে, ‘আল্লাহ তিনজনের মধ্যে তৃতীয় (একজন)'; অথচ একমাত্র ইলাহ (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। তারা যা বলে তা হতে তারা বিরত না হলে তাদের মধ্য হতে যারা কুফরি করেছে তাদের উপর অবশ্যই অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে। তবে কি তারা আল্লাহর নিকট তওবা ও ইসতিগফার করবে না? আল্লাহ তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম মেহেরবান।” (৫-সুরা মায়িদা : আয়াত-৭৩-৭৪)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 বিষাদগ্রস্ত হবেন না- কখনও আল্লাহ্র রহমত হতে নিরাশ হবেন না

📄 বিষাদগ্রস্ত হবেন না- কখনও আল্লাহ্র রহমত হতে নিরাশ হবেন না


“কাফির সম্প্রদায় ব্যতীত আল্লাহ রহমত হতে অন্য কেউ নিরাশ হয় না।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-৮৭)
“অবশেষে রাসূলগণ যখন নিরাশ হয়ে গেল এবং ভাবল যে লোকেরা তাদেরকে মিথ্যুক ভাবছে বা লোকেরা ভাবল যে তাদেরকে মিথ্যা বলা হয়েছে তখন তাদের নিকট আমার সাহায্য আসল।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-১১০)
“এবং আমি তাকে দুশ্চিন্তা হতে নাজাত বা মুক্তি দিলাম; এভাবেই আমি মুমিনদেরকে উদ্ধার করি।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৮৮)
“এবং তোমরা আল্লাহর সম্বন্ধে মনে মনে অনেক সন্দেহ পোষণ করছিলে। সেখানে মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ভীষণ কম্পনে প্রকাশিত করা হয়েছিল।” (৩৩-সূরা আল আহযাব : আয়াত-১০-১১)
অন্যেরা আপনাকে যে (মানসিক) আঘাত দিয়েছে তা নিয়ে দুঃখ করবেন না বরং যারা আপনার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। হিংসা-বিদ্বেষের মূল্য বিরাট, অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষের বিনিময়ে প্রতিহিংসা পরায়ণ ব্যক্তিকে এ মূল্য পরিশোধ করতে হয়। সে তার মন ও রক্ত মাংসের বিনিময়ে এ মূল্য পরিশোধ করে। প্রতিশোধ গ্রহণের মজা পেতে চাওয়া এবং অন্যদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে সে তার শান্তি, তার আরাম-আয়েশ ও তার সুখকে বিসর্জন দেয়। হিংসা-বিদ্বেষও এমন এক রোগ যার জন্য আল্লাহ তা'আলা চিকিৎসা ও ঔষধ দিয়েছেন-
“এবং (তাঁরাই মুত্তাকী) যারা ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৪)
“ক্ষমা প্রদর্শন করুন, সৎকার্যের আদেশ দিন এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চলুন।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-১৯৯)
“(মন্দকে) ভালো দ্বারা দূর করুন। তাহলেই আপনার ও যার মাঝে শত্রুতা আছে (সে এমন হয়ে যাবে) যেন সে অন্তরঙ্গ বন্ধু।” (৪১-সূরা হা-মীম-আস-সাজদাহ : আয়াত-৩৪)
এ আয়াতের মাধ্যমে বুঝানো হচ্ছে যে, আল্লাহ্‌ মু'মিনদেরকে ক্রোধের সময় ধৈর্য ধারণ করতে এবং তাঁদের সাথে যারা দুর্ব্যবহার করেছে তাঁদেরকে ক্ষমা করে দিতে আদেশ করেছেন।
আপনার জীবনে যা অতীত হয়ে গেছে তা নিয়ে দুঃখ করবেন না; কেননা, প্রকৃতপক্ষে আপনি অনেক অনুগ্রহ-ধন্য। যে বহু অনুগ্রহ ও দানে আল্লাহ তা'আলা আপনাকে ভূষিত করেছেন সেগুলোর কথা গভীরভাবে ভেবে দেখুন এবং সেগুলোর জন্য মহান আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। মহান আল্লাহ্র অসংখ্য করুণার কথা স্মরণ করুন; কেননা, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ বলেন-
“এবং যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামতকে গণনা করতে চাও, তবে কখনও তোমরা তা গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (১৬-সুরা নাহল : আয়াত-১৮)
“আর তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামত পূর্ণ করে দিয়েছেন।” (৩১-সুরা লোকমান : আয়াত-২০)
প্রকাশ্য নেয়ামত বলতে বুঝায় ইসলামী একত্ববাদ বা তাওহীদ এবং বৈধ আনন্দ যেমন ভালো স্বাস্থ্য, ভালো বাই এবং বৈধ যৌন জীবন পরিচালনা ইত্যাদি, আর অপ্রকাশ্য নেয়ামত বলতে বুঝায় আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস বা তাওহীদের প্রতি ঈমান, ইলম বা জ্ঞান, প্রজ্ঞা বা হিকমত, নেক আমল করার জন্য হেদায়াত এবং আখেরাতে বেহেশতের আনন্দ ও পরম উল্লাস ইত্যাদি।
“এবং তোমাদের নিকট যে নেয়ামত আছে তা (সবই) আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। অন্তঃপর তোমাদের যখন কোন ক্ষতি হয় তখন তোমরা তাঁর নিকট সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাক!” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-৫৩)
আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি তাঁর নেয়ামত প্রতিষ্ঠিত করার পর বলেছেন- “আমি কি তার জন্য দু’খানি আঁখি, একটি জিহ্বা এবং দু’খানি ঠোঁট বানিয়ে দেইনি? আর আমি কি তাকে (ভালো ও মন্দ এ) দু’টি পথ দেখাইনি?” (৯০-সুরা আল বালাদ : আয়াত-৮-১০)
জীবন, স্বাস্থ্য, শ্রবণ ও দর্শন শক্তি, দু’হাত, দু’পা, পানি, বায়ু, খাদ্য- এগুলো হলো এ পৃথিবীর দর্শনসাধ্য ও দৃশ্যমান নেয়ামত। কিন্তু, সর্বোত্তম নেয়ামত হল ইসলাম ও হেদায়াত। যে ব্যক্তি আপনার আঁখিদ্বয়, কর্ণদ্বয়, পদদ্বয়, হস্তদ্বয় ও আপনার হৃদয়ের বদলে আপনাকে প্রচুর টাকা দিতে চায় তাকে আপনি কি বলবেন? বাস্তবে আপনার সম্পদের কতটা মাহাত্ম্য আছে? কৃতজ্ঞ না হয়ে আপনি আল্লাহর অসংখ্য অনুগ্রহ, দান, করুণা ও নেয়ামতের প্রতি ন্যায়বিচার প্রদর্শন করছেন না।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 তুচ্ছ জিনিস নিয়ে দুঃখ করবেন না

📄 তুচ্ছ জিনিস নিয়ে দুঃখ করবেন না


তুচ্ছ বিষয়ে নিরুদ্বিগ্ন থেকে আপনি এমন এক গুণ প্রদর্শন করবেন যা আপনাকে সুখ বয়ে এনে দিবে; কেননা, যার উদ্দেশ্য মহৎ তিনি শুধু পরকাল নিয়েই বিভোর হয়ে থাকেন।
আমাদের একজন ধার্মিক পূর্বসূরী তাঁর এক ভাইকে নিচের কথাগুলো দ্বারা উপদেশ দিয়েছিলেন-
“শুধুমাত্র একটি বিষয়ে উদ্বিগ্ন হও- (আর তা হলো) আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে। তাঁর সম্মুখে দণ্ডায়মান হওয়ার বিষয়ে এবং পরকালের বিষয়ে।”
“সেদিন তোমাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় হাজির করা হবে এবং সেদিন তোমাদের কোন গোপন বিষয় গোপন থাকবে না।” (৬৯-সূরা আল হাক্কাহ : আয়াত-১৮)
পরকালের উজ্জ্বলতার সাথে তুলনা করলে সব উজ্জ্বলতাই দূর হয়ে যায়। এ জীবনের দুশ্চিন্তা, দুর্ভাগ্য ও উদ্বিগ্নতাসমূহ কী? সেগুলো হলো মান-মর্যাদা, নাম-ডাক-যশ-খ্যাতি, আয়-রোজগার, ধন-সম্পদ, দালান-কোঠা ও সন্তান-সন্তুতি। আল্লাহ তা‘আলার সামনে জবাবদিহিতার সাথে তুলনা করা হলে এগুলো কিছুই না।
মহান আল্লাহ তাঁর শত্রু মুনাফিক্বদের বিবরণ এভাবে দিয়েছেন-
“আরেক দল (অন্যদেরকে ও নবী ﷺ-কে বাঁচানোর চিন্তা না করে নিজেদের কিভাবে বাঁচানো যায় সে বিষয়ে) নিজেদের চিন্তায় মগ্ন ছিল এবং আল্লাহর ব্যাপারে ভুল ধারণা করেছিল এবং আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা ধারণা পোষণ করে নিজেরাই নিজেদেরকে উদ্বিগ্ন করেছিল।” (৩-সূরা আলে ইমরান : ১৫৪)
তাদের চিন্তা শুধু নিজেদের জন্যই- তাদের পেটপূজা নিয়ে এবং তাদের কাম চরিতার্থ নিয়ে; তারা উচ্চতর কোন অভিপ্রায়ের কথা জানে না।
সাহাবীগণ যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট গাছের নিচে আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি দিল তখন একজন মুনাফিক তার লাল উটের জন্য তাড়াতাড়ি ছুটে গেল যেটা হারিয়ে গিয়েছিল। সে বলেছিল : “তোমাদের বাইয়াত এর অনুষ্ঠানের চেয়ে আমার উট খুঁজে বের করা আমার কাছে বেশি প্রিয়।”
একজন মুনাফিক যে নিজেকে নিয়েই উদ্বিগ্ন সে সঙ্গীদেরকে তাবুক অভিযান সম্পর্কে বলেছিল। “গরমে অভিযানে বের হয়ো না।”
মহান আল্লাহ বলেন- “বলুন! (এই তাপের চেয়ে) জাহান্নামের আগুনের তাপে অধিকতর প্রচণ্ড।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-৮১)
আরেকজন মুনাফিক বলেছিল- এবং তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যে বলে, “আমাকে (যুদ্ধ করা থেকে) অব্যাহতি দিন এবং আমাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবেন না। সাবধান! তারাই ফিতনাতে পড়ে আছে। জাহান্নাম তো কাফিরদেরকে বেষ্টন করেই আছে।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-৪৯)
এবং আল্লাহ তা’আলা বলেন- “নিশ্চয়ই তারা অগ্নি পরীক্ষায় পড়েছে।” (৯-সুরা তাওবা : আয়াত-৪৯)
যখন অন্যান্যরাও সমস্যায় পড়েছিল এবং শুধু নিজেদের ধন-সম্পদ ও পরিবার নিয়েই উদ্বিগ্ন ছিল (তখন আল্লাহ তাদের কথা এভাবে বলেন)- “আমাদের ধন-সম্পদ এবং আমাদের পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত করে রেখেছে সুতরাং আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।”
যারা নিজেরাই তুচ্ছ ও নগণ্য তারা ছাড়া অন্য কারোই এসব তুচ্ছ ও নগণ্য বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়। কেননা মহান সাহাবীগণ আল্লাহর রহমত কামনা করতেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা করতেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px