📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আপনার জীবন থেকে ক্লান্তি ও বিরক্তি দূর করুন

📄 আপনার জীবন থেকে ক্লান্তি ও বিরক্তি দূর করুন


একই কাজ বারবার করতে হয় এমন নিয়ম মাফিক বা রুটিন অনুসারে যারা জীবনযাপন করেন, তারা প্রায় অলঙ্ঘনীয়ভাবে বিরক্তি ও ক্লান্তির শিকার হয়ে পড়বেন। বিশেষ করে এ কারণে যে, পরিবর্তনের অভাবে স্বভাবতই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এ কারণেই সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ আমাদেরকে বিভিন্ন স্থান-কাল, খাদ্য-পানীয়, সৃষ্টি-বৈচিত্র্য, যেমন- দিন-রাত, পাহাড়-সমভূমি, সাদা-কালো, ঠাণ্ডা-গরম, আলো-ছায়া ও টক-মিষ্টি দান করেছেন। আল্লাহ তাঁর কিতাবে এই বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করেন-
“তাদের (মৌমাছিদের) পেট থেকে বিভিন্ন রঙের (মধুর) পানীয় বেরোয়।” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-৬৯)
“তারা একই মূলে একাধিক বা এক মাথাওয়ালা খেজুর গাছ।” (১৩-সূরা রা’আদ : আয়াত-৪)
“আর বিভিন্ন স্বাদের শস্য, যায়তুন ও ডালিম (বর্ণে, আকারে ও স্বাদে) সদৃশ ও বিসদৃশ।” (৬-সূরা আল আন’আম : আয়াত-১৪১)
“আর পাহাড়ের মাঝে আছে সাদা-লাল বিচিত্র বর্ণের পথ।” (৩৫-সূরা ফাতির : আয়াত-২৭)
“আর আমি মানুষের মাঝে এদিনগুলোকে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৪০)
বনী ইসরাঈলদেরকে যে খাদ্য দেওয়া হয়েছিল তা সর্বোত্তম খাদ্য হওয়া সত্ত্বেও শুধু একমাত্র খাদ্য হওয়ার কারণেই তাদের তা খেতে ভালো লাগছিল না। (এবং তারা বলেছিল :) “আমরা একই রকম খাদ্য সহ্য করতে পারবো না।” (২-সূরা বাক্বারা: আয়াত-৬১) আল-মামুন একবার দাঁড়িয়ে, একবার বসে ও একবার হাঁটতে হাঁটতে এভাবে পালাবদল করে করে পাঠ করতেন এবং বলতেন : ‘আত্মা সদাই ক্লান্তিকর।’
“যারা (সর্বদা এবং সালাতে) দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে শুয়ে আল্লাহ্র যিকির করে...।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৯১)
ইসলামে যে সব ইবাদতের বিধান জারি বা প্রনয়ন করা হয়েছে তা নিয়ে আপনার গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত। কলবের আমল, জিহ্বার আমল, ঠোঁটের আমল ও সৎ কাজে সম্পদ ব্যয় করার আমল বা সম্পদের আমল। সালাত, রোজা, হজ্ব, যাকাত ও জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ হলো ইবাদতের কয়েকটি উদাহরণ। সালাতে দাঁড়ানো, রুকু, সিজদা ও বসা (ইত্যাদি অবস্থা) আছে। আপনি যদি বিরাম, সজীবতা ও বিরামহীন উপাদানের আশা করেন তবে আপনার কাজের ধরন, পড়ার ধরন ও জীবন-যাপন প্রণালীতে পরিবর্তন আনুন।
উদাহরণস্বরূপ পড়ার ব্যাপারে বলছি- যখন পড়বেন তখন বিষয় পরিবর্তন করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করুন-যেমন একবার নবী (আ) এদের জীবনী, একবার সাহাবীদের জীবনী, একবার হাদীস, একবার ফিকহ, আরেকবার ইতিহাস, ক্ষণিক পরে সাহিত্য, তারপরে সাধারণ জ্ঞানের বই ও এভাবে পালাক্রমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়ুন। এর সর্বোত্তম উদাহরণ ও ব্যাখ্যা হলো কুরআন মাজিদ। আপনার সময়কে ইবাদত, বৈধ আমোদ-আহ্লাদ, বন্ধুদের দেখতে যাওয়া, অতিথি আপ্যায়ন, খেলা-ধূলা বা প্রমোদ ভ্রমণের মাঝে ভাগ করে নিন; তবেই আপনি নিজেকে প্রাণবন্ত, সজীব ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বরূপে পাবেন; কেননা, আত্মা বিভিন্নতা ও নতুন নতুন জিনিসে আনন্দ পায়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুশ্চিন্তা পরিহার করুন

📄 দুশ্চিন্তা পরিহার করুন


দুঃখিত হবেন না, কেননা আপনার প্রতিপালক বলেন- “(হে মুহাম্মদ), আমি কি আপনার বক্ষ আপনার কল্যাণে প্রশস্ত করে দেইনি?” (৯৪-সূরা আল ইনশিরাহ: আয়াত-১)
এ আয়াতের সংবাদ যারা হকপন্থী, যারা নূরের পথে চলে এবং যারা হিদায়াতের পথে চলে তাদের সবার জন্য প্রযোজ্য।
“যার অন্তর আল্লাহ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন, ফলে সে তাঁর প্রভুর নূরের পথে চলে তবে কি সে ব্যক্তি (কাফেরের মতো)? অতএব, সে সব কঠোর আত্মার লোকেরা অভিশপ্ত-যারা আল্লাহর যিকিরে বিমুখ।” (৩৯-সূরা আয যুমার: আয়াত-২২)
সুতরাং, এমন সত্য বিষয় আছে, যা অন্তরকে প্রশস্ত করে এবং এমন অসত্য বিষয় আছে, যা অন্তরকে কঠোর করে।
“আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত করতে চান, তার অন্তরকে তিনি ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন।” (৬-সূরা আল আন’আম: আয়াত-১২৫)
অতএব, এ ধর্ম গ্রহণ করা ও এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা এক কাঙ্ক্ষিত ও বাঞ্ছিত বিষয়, যা অনুগ্রহপ্রাপ্ত ও ধন্য লোক ছাড়া অন্য কেউ লাভ করতে পারে না।
“দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা ও ভয় করো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” (৯-সূরা তাওবা: আয়াত-৪০)
“যে সব (ঈমানদার) লোকদেরকে (কাফের) লোকেরা বলেছিল, অবশ্যই (কাফের) লোকেরা তোমাদের (বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার) জন্য জমায়েত হয়েছে, অতএব, (তোমরা মুমিনগণ) সেই (কাফের) লোকেদেরকে ভয় কর। এতে তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেল এবং তারা বলল, ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!’” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৭৩)
আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণ, অভিভাবকত্ব ও করুণাতে যাদের ঈমান বা বিশ্বাস আছে তারা (উপরোক্ত) এই আয়াতের এই কথা (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!) বলে।
আমাদের পক্ষে তাঁর যথেষ্ট হওয়া আমাদেরকে অন্যের উপর নির্ভর করা থেকে মুক্তি দেয় এবং তাঁর অভিভাবকত্ব আমাদেরকে রক্ষা করে।
“হে নবী (মুহাম্মদ), আপনার জন্য এবং যেসব মুমিন আপনাকে অনুসরণ করে ও আপনাদের আনুগত্য করে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।” (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-৬৪)
“এবং সেই চিরজীবীর উপর নির্ভর (তাওয়াক্কুল) কর, যিনি মৃত্যুবরণ করবেন না।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৫৮)
“এবং (হে মুহাম্মদ) ধৈর্য ধরুন, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আপনার ধৈর্য ধরা সম্ভব নয় এবং তাদের নিয়ে দুঃখ করবেন না। আর তারা যে চক্রান্ত করে তাতে কষ্ট পাবেন না। অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকী এবং সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-১২৭-১২৮)
এ আয়াতে ‘আল্লাহ তাদের সাথে আছেন’ এ কথা দ্বারা তাঁর অনুগত বান্দাদের রক্ষণাবেক্ষণ, যত্ন, সমর্থন ও অভিভাবকত্বের এক বিশেষ রহমতের কথা বুঝানো হয়েছে। আর তাদের ঈমান, আমল ও চেষ্টার পরিমাণ মাফিকই তারা এই কল্যাণ লাভ করবে。
“অতএব, তোমরা (শত্রুদের বিরুদ্ধে) দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিতগ্রস্ত হয়ো না। আর তোমরাই (বিজয়ী হয়ে) শ্রেষ্ঠ হবে- যদি তোমরা (সত্যিকার) মুমিন হয়ে থাক।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৯)
“সামান্য কষ্ট দেওয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তবে তারা তোমাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। অতঃপর তাদেরকে কোনও সাহায্য করা হবে না।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১১১)
“আল্লাহ সিদ্ধান্ত করেছেন যে, অবশ্যই আমি এবং আমার রাসূলগণই বিজয়ী হবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও মহাপরাক্রমশীল।” (৫৮-সূরা আল মুজাদালা : আয়াত-২১)
“নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে আর মুমিনদেরকে পার্থিব জীবনে এবং যে দিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে সেদিন সাহায্য করব।” (৪০-সূরা আল মুমিন : আয়াত-৫১)
“আর আমি আমার বিষয় আল্লাহ্র নিকট সমর্পণ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন। তাই আল্লাহ্ তাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করলেন।” (৪০-সূরা আল মুমিন : আয়াত-৪৪-৪৫)
“এবং আল্লাহ্র উপরেই যেন মুমিনগণ নির্ভর করেন।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১২২)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 দুশ্চিন্তা করবেন না

📄 দুশ্চিন্তা করবেন না


আজই যেন আপনার শেষ দিন এভাবে আজকের দিনটি কাটান। এ ধরনের মানসিকতা ও জীবন সম্বন্ধে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি যদি থাকে তবে রাগ-দুঃখকে প্রশ্রয় দিয়ে আপনার সামান্য যে সময়টুকু আছে তা নষ্ট করার কোন যুক্তি নেই। এক হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
“সকাল বেলা সন্ধ্যাবেলা দেখার আশা করো না। আর সন্ধ্যাকালে সকাল বেলা দেখার আশা করো না।”
অন্য কথায় অতীত নিয়ে না ভেবে ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে আত্মা-দেহ-মন নিয়ে জীবন শুধু আজকের জন্যই।
একজন আরব কবি বলেন-
“যা অতীত হয়ে গেছে তা চিরদিনের জন্য চলে গেছে আর যা আশা করা হয় তাতো অজানা -অজ্ঞাত। আর তোমার যা আছে তা হলো বর্তমান মুহূর্তটি।”
অতীতের চিন্তায়-বিভোর হওয়া এবং অতীতের দুঃখ-কষ্টকে বর্তমানে টেনে আনা অস্থির ও অসুস্থ মনের লক্ষণ।
চীনা (চিন দেশীয়) প্রবাদে বলা হয়- “সেতুতে পৌঁছার আগেই সেতু পার হয়ো না।”
অন্য কথায়, ঘটনা ঘটার আগেই তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না।
আমাদের একজন ধার্মিক পূর্বসূরী বলেছেন- “হে আদম সন্তান! নিশ্চয় তোমাদের দিন মাত্র তিনটি। গতকাল আর এটা তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আগামীকাল যা এখনও আসেনি এবং আজ। সুতরাং আজকের দিনে আল্লাহকে ভয় কর, তাঁকে মান্য কর।”
যে নাকি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের উদ্বেগ নিয়ে বেড়ায় সে কিভাবে বাঁচতে পারে? তা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে সর্বদা তার কথা মনে করে করে মানুষ কিভাবে শান্তি পেতে পারে? যে অতীতের দুঃখজনক ঘটনার কথা মনে করে, সে শুধু ব্যথাই পায়, এতে তার কোন লাভ হয় না।
“সকালে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঁচার আশা করো না ও সন্ধ্যায় সকাল পর্যন্ত বাঁচার আশা করো না।”
এ কথার অর্থ হল এ পৃথিবীর জন্য আমাদের বড় ধরনের ও দীর্ঘ-কালীন আশা থাকা উচিত নয়। মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করুন। নেক আমল করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করুন। আপনার উদ্বেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে আজকের দিনের সীমা পেরিয়ে যেতে দেবেন না। এ নীতি আপনাকে মনোযোগী হতে এবং প্রতিদিন উৎপাদনশীল হওয়ার জন্য আপনার সমস্ত শক্তিকে ব্যয় করতে সাহায্য করবে। দক্ষতার সাথে সময়কে কাজে লাগান এবং আপনার আচার-আচরণ, চাল-চলনের উন্নতি করে, আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ে ও অন্যের সাথে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় করে আজ কোন কিছু অর্জন করার জন্য আপনার সকল প্রচেষ্টাকে কাজে লাগান।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 উদ্বেগ দূর করুন-একটু ভাবুন

📄 উদ্বেগ দূর করুন-একটু ভাবুন


দুঃখিত হবেন না, কেননা যা তকদীরে আছে তা তো সিদ্ধান্ত করা হয়ে গেছে এবং আপনি পছন্দ না করলেও তা ঘটবে। কলমের কালি শুকিয়ে গেছে, কাগজ গুটিয়ে নেয়া হয়েছে এবং সবকিছু দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তাই আপনার দুঃখ বাস্তবতাকে একটুও পাল্টাতে পারবে না।
দুঃখ করবেন না, কারণ আপনার বিমূঢ়তার দ্বারা আপনি সময়ের গতিরোধ করতে চান, সূর্যকে তার উদয়স্থলে থামিয়ে দিতে চান, ঘড়ির কাঁটাকে স্থির-নিশ্চল করে দিতে চান, পেছনের দিকে হাঁটতে চান এবং নদীকে তার উৎসের দিকে উল্টো বহাতে বা প্রবাহিত করতে চান যা সবই অসম্ভব।
বিপন্ন হবেন না, কারণ বিপন্নতা ঘূর্ণিঝড়ের মতো টেন্টগুলোকে ভয়ঙ্করভাবে আছড়ায়। পরিবেশকে নষ্ট করে বা বায়ুমণ্ডলে পরিবর্তন করে এবং সমৃদ্ধ বাগানের স্ফুটন্ত ফুলগুলোকে ধ্বংস করে।
বিপন্ন হবেন না, কেননা বিপন্ন ব্যক্তি তার মতো, যে নাকি তলায় ছিদ্রযুক্ত বালতিতে পানি ঢালে। যে লেখক নিজের আঙুল দিয়ে পানিতে লিখতে চায় সে তার মতো।
দুঃখিত হবেন না, কারণ প্রকৃত জীবন কাল মাপা হয় দিনের সংখ্যা দিয়ে-যে দিন আপনি কাটাচ্ছেন। সুতরাং আপনার দিনগুলোকে দুঃখ করে করে শেষ করবেন না। আপনার রাতগুলোকে দুঃখ করে নষ্ট করবেন না এবং আপনার সময়ের অপচয় করবেন না। কারণ, সত্যসত্যই আল্লাহ্ অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না।
দুশ্চিন্তা করবেন না, কেননা সত্যিই আপনার প্রভু পাপ মার্জনা করেন ও অনুতাপ-অনুশোচনা গ্রহণ করেন।
“বলুন : “হে আমার সেসব বান্দারা! যারা (গুনাহ্ করে) নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছ! তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়।” (৩৯-সূরা আয যুমার: আয়াত-৫৩)
যখন আপনি এ আয়াতখানি পড়েন তখন কি আপনার আত্মা শান্তি পায় না? আপনার উদ্বিগ্নতা ও দুশ্চিন্তা কি দূর হয় না? এবং আপনার সমগ্র সত্তার মধ্যে দিয়ে কি সুখের প্রবাহ বয়ে যায় না?
তাদের আত্মাকে পোষ মানাতে তিনি তাদেরকে ‘হে আমার বান্দারা!’ বলে আহ্বান করেছেন। তিনি বিশেষ করে সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে এ কারণে উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা অন্যদের তুলনায় অনবরত গুনাহ করতে বেশি অভ্যস্ত। তাহলে অন্যদের জন্য আল্লাহর করুণা কতই না বেশি হবে! এভাবে তিনি তাদেরকে হতাশ হওয়া থেকে এবং ক্ষমা পাওয়ার আশাহত হওয়া থেকে বারণ করেছেন। এবং তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিলেন যে, যে তওবা করবে তার ছোট-বড়, সাংঘাতিক বা তুচ্ছ সব গুনাহই তিনি ক্ষমা করে দিবেন।
“আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে অমনিই আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহর নিকট তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জেনে শুনে তারা যে (পাপ) করেছে তা করতে থাকেন না (তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন)। আর আল্লাহ ছাড়া কে আছে যে পাপ ক্ষমা করতে পারবে?” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৩৫)
“আর যে মন্দ কাজ করে বা নিজের প্রতি অত্যাচার করে তারপর আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করে বা গুনাহ মাফ চায়, সে আল্লাহকে মহা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।” (৪-সূরা আন নিসা: আয়াত-১১০)
“তোমাদেরকে যা নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা তার মধ্য হতে বড় বড় গুনাহ এড়িয়ে চল, তবে আমি তোমাদের (ছোট ছোট) পাপ ক্ষমা করে দিব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থান বেহেশতে প্রবেশ করাব।” (৪-সূরা নিসা: আয়াত-৩১)
“আর যদি তারা নিজেদের প্রতি অবিচার করে আপনার নিকট এসে আল্লাহর কাছে পাপ ক্ষমা চায় এবং তাদের জন্য রাসূলও ক্ষমা চান তবে তারা আল্লাহকে অবশ্যই পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।” (৪-সুরা আন নিসা : আয়াত-৬৪)
“আর যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে ও আমলে সালেহ করে, অতঃপর হিদায়াতের পথে চলে সে ব্যক্তিকে অবশ্যই আমি ক্ষমা করে দিব।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-৮২)
মূসা (আ) যখন একজন লোককে (অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভুলক্রমে) হত্যা করে ফেলেছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন– “হে আমার প্রভু! আমি অবশ্যই আমার প্রতি জুলুম করেছি, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। তারপর তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন।” (২৮-সুরা আল কাছাছ : আয়াত-১৬)
দাউদ (আ) যখন অনুতপ্ত হলেন তখন আল্লাহ বলেন– “অতঃপর আমি তার সে ভুল ক্ষমা করেছিলাম এবং তার জন্য আমার নিকট নৈকট্য ও শুভ পরিণাম রয়েছে।” (৩৮-সুরা ছোয়াদ : আয়াত-২৫)
আল্লাহ কতই না উৎকৃষ্ট, করুণাময় ও উদার! এমনকি যারা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে তারাও যদি তওবা করে, তবে তিনি তাদেরকেও তাঁর করুণা ও ক্ষমার প্রস্তাব করেছেন।
“তারা অবশ্যই কুফরি করে যারা বলে যে, ‘আল্লাহ তিনজনের মধ্যে তৃতীয় (একজন)'; অথচ একমাত্র ইলাহ (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। তারা যা বলে তা হতে তারা বিরত না হলে তাদের মধ্য হতে যারা কুফরি করেছে তাদের উপর অবশ্যই অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে। তবে কি তারা আল্লাহর নিকট তওবা ও ইসতিগফার করবে না? আল্লাহ তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম মেহেরবান।” (৫-সুরা মায়িদা : আয়াত-৭৩-৭৪)

ফন্ট সাইজ
15px
17px