📄 ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা পরিহার করুন
“আল্লাহর আদেশ আসবেই, সুতরাং তোমরা এর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড় না।” (সূরা-১৬ আন নাহল : আয়াত-১)
(আল্লাহর আদেশ বলতে কিয়ামত অথবা কাফের ও মুশরিকদের শাস্তি অথবা ইসলামী আইন বুঝায়।)
যা এখনো ঘটেনি তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হবেন না, আপনি কি ফল পাকার আগেই তা ছিঁড়ে ফেলাকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেন? আজ আগামী দিনের কোনো বাস্তবতা নেই, তাই তা অস্তিত্বহীন। অতএব, আপনি তা নিয়ে ব্যস্ত হবেন কেন? ভবিষ্যৎ বিপর্যয় সম্বন্ধে কেন আপনার আশঙ্কা থাকতেই হবে? ভবিষ্যৎ দুর্বিপাকের দুর্ভাবনা নিয়ে আপনাকে কেন বিভোর থাকতে হবে? বিশেষ করে যখন আপনি জানেন না যে, আপনি আগামী দিনের সুখটাই শুধু দেখতে পারবেন কিনা?
যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জানতে হবে তা এই যে, আগামী দিন অদৃশ্য জগতের এমন এক সেতু যা আমাদের সামনে না আসা পর্যন্ত আমরা তা অতিক্রম করতে পারি না। কে জানে, হয়তোবা আমরা কখনো সে সেতুর কাছে না-ও পৌঁছাতে পারি, অথবা আমরা সেটার কাছে পৌঁছার পূর্বেই ওটা ধসে যেতে পারে, অথবা আমরা হয়তো সে সেতুতে পৌঁছে তা নিরাপদে পার হব?
ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বিভোর হওয়া আমাদের পক্ষে ধর্মকে অবজ্ঞা করার মতো; কেননা, এ আশঙ্কা এ জগতের সাথে আমাদের এক দীর্ঘকালীন সম্পর্ক থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়, যে সম্পর্ককে একজন প্রকৃত মুমিন পরিহার করে।
এ পৃথিবীর বহু লোকই ভবিষ্যৎ দারিদ্র্য, ক্ষুধা, পীড়া ও দুর্বিপাকের ভয়ে অযৌক্তিকভাবে ভীত। এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা শয়তানের ধোঁকা মাত্র। “শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায় ও অশ্লীল কাজ করার আদেশ করে, অথচ আল্লাহ্ তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদেরকে ক্ষমা ও দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।” (২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২৬৮)
অনেকেই এমন আছে যে, তারা নিজেদেরকে আগামী দিনের বুভুক্ষু (ক্ষুধার্ত) ভেবে, একমাস পরের রোগী ভেবে অথবা একশত বছর পর পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে এই কল্পিত ভয়ে কান্না করে। যে ব্যক্তি জানে না কখন সে মরবে (অথচ আমাদের সবাইকে মরতে হবে), যে ব্যক্তির কাছে তার মৃত্যুর সময়ের কোনো ইঙ্গিত নেই- সে ব্যক্তির উচিৎ নয় নিজেকে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনায় নিমগ্ন রাখা।
যেহেতু আপনি আজকের কর্ম নিয়ে ব্যস্ত আছেন তাই ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা পরিহার করুন। এ পৃথিবীর ভাবী কর্তৃত্বদৃশ্য নিয়ে অযৌক্তিকভাবে ব্যাপ্ত (নিয়োজিত) হওয়া থেকে সাবধান হন।
📄 আপনার জীবন থেকে ক্লান্তি ও বিরক্তি দূর করুন
একই কাজ বারবার করতে হয় এমন নিয়ম মাফিক বা রুটিন অনুসারে যারা জীবনযাপন করেন, তারা প্রায় অলঙ্ঘনীয়ভাবে বিরক্তি ও ক্লান্তির শিকার হয়ে পড়বেন। বিশেষ করে এ কারণে যে, পরিবর্তনের অভাবে স্বভাবতই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এ কারণেই সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ আমাদেরকে বিভিন্ন স্থান-কাল, খাদ্য-পানীয়, সৃষ্টি-বৈচিত্র্য, যেমন- দিন-রাত, পাহাড়-সমভূমি, সাদা-কালো, ঠাণ্ডা-গরম, আলো-ছায়া ও টক-মিষ্টি দান করেছেন। আল্লাহ তাঁর কিতাবে এই বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করেন-
“তাদের (মৌমাছিদের) পেট থেকে বিভিন্ন রঙের (মধুর) পানীয় বেরোয়।” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-৬৯)
“তারা একই মূলে একাধিক বা এক মাথাওয়ালা খেজুর গাছ।” (১৩-সূরা রা’আদ : আয়াত-৪)
“আর বিভিন্ন স্বাদের শস্য, যায়তুন ও ডালিম (বর্ণে, আকারে ও স্বাদে) সদৃশ ও বিসদৃশ।” (৬-সূরা আল আন’আম : আয়াত-১৪১)
“আর পাহাড়ের মাঝে আছে সাদা-লাল বিচিত্র বর্ণের পথ।” (৩৫-সূরা ফাতির : আয়াত-২৭)
“আর আমি মানুষের মাঝে এদিনগুলোকে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৪০)
বনী ইসরাঈলদেরকে যে খাদ্য দেওয়া হয়েছিল তা সর্বোত্তম খাদ্য হওয়া সত্ত্বেও শুধু একমাত্র খাদ্য হওয়ার কারণেই তাদের তা খেতে ভালো লাগছিল না। (এবং তারা বলেছিল :) “আমরা একই রকম খাদ্য সহ্য করতে পারবো না।” (২-সূরা বাক্বারা: আয়াত-৬১) আল-মামুন একবার দাঁড়িয়ে, একবার বসে ও একবার হাঁটতে হাঁটতে এভাবে পালাবদল করে করে পাঠ করতেন এবং বলতেন : ‘আত্মা সদাই ক্লান্তিকর।’
“যারা (সর্বদা এবং সালাতে) দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে শুয়ে আল্লাহ্র যিকির করে...।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৯১)
ইসলামে যে সব ইবাদতের বিধান জারি বা প্রনয়ন করা হয়েছে তা নিয়ে আপনার গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত। কলবের আমল, জিহ্বার আমল, ঠোঁটের আমল ও সৎ কাজে সম্পদ ব্যয় করার আমল বা সম্পদের আমল। সালাত, রোজা, হজ্ব, যাকাত ও জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ হলো ইবাদতের কয়েকটি উদাহরণ। সালাতে দাঁড়ানো, রুকু, সিজদা ও বসা (ইত্যাদি অবস্থা) আছে। আপনি যদি বিরাম, সজীবতা ও বিরামহীন উপাদানের আশা করেন তবে আপনার কাজের ধরন, পড়ার ধরন ও জীবন-যাপন প্রণালীতে পরিবর্তন আনুন।
উদাহরণস্বরূপ পড়ার ব্যাপারে বলছি- যখন পড়বেন তখন বিষয় পরিবর্তন করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করুন-যেমন একবার নবী (আ) এদের জীবনী, একবার সাহাবীদের জীবনী, একবার হাদীস, একবার ফিকহ, আরেকবার ইতিহাস, ক্ষণিক পরে সাহিত্য, তারপরে সাধারণ জ্ঞানের বই ও এভাবে পালাক্রমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়ুন। এর সর্বোত্তম উদাহরণ ও ব্যাখ্যা হলো কুরআন মাজিদ। আপনার সময়কে ইবাদত, বৈধ আমোদ-আহ্লাদ, বন্ধুদের দেখতে যাওয়া, অতিথি আপ্যায়ন, খেলা-ধূলা বা প্রমোদ ভ্রমণের মাঝে ভাগ করে নিন; তবেই আপনি নিজেকে প্রাণবন্ত, সজীব ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বরূপে পাবেন; কেননা, আত্মা বিভিন্নতা ও নতুন নতুন জিনিসে আনন্দ পায়।
📄 দুশ্চিন্তা পরিহার করুন
দুঃখিত হবেন না, কেননা আপনার প্রতিপালক বলেন- “(হে মুহাম্মদ), আমি কি আপনার বক্ষ আপনার কল্যাণে প্রশস্ত করে দেইনি?” (৯৪-সূরা আল ইনশিরাহ: আয়াত-১)
এ আয়াতের সংবাদ যারা হকপন্থী, যারা নূরের পথে চলে এবং যারা হিদায়াতের পথে চলে তাদের সবার জন্য প্রযোজ্য।
“যার অন্তর আল্লাহ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন, ফলে সে তাঁর প্রভুর নূরের পথে চলে তবে কি সে ব্যক্তি (কাফেরের মতো)? অতএব, সে সব কঠোর আত্মার লোকেরা অভিশপ্ত-যারা আল্লাহর যিকিরে বিমুখ।” (৩৯-সূরা আয যুমার: আয়াত-২২)
সুতরাং, এমন সত্য বিষয় আছে, যা অন্তরকে প্রশস্ত করে এবং এমন অসত্য বিষয় আছে, যা অন্তরকে কঠোর করে।
“আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত করতে চান, তার অন্তরকে তিনি ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন।” (৬-সূরা আল আন’আম: আয়াত-১২৫)
অতএব, এ ধর্ম গ্রহণ করা ও এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা এক কাঙ্ক্ষিত ও বাঞ্ছিত বিষয়, যা অনুগ্রহপ্রাপ্ত ও ধন্য লোক ছাড়া অন্য কেউ লাভ করতে পারে না।
“দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা ও ভয় করো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” (৯-সূরা তাওবা: আয়াত-৪০)
“যে সব (ঈমানদার) লোকদেরকে (কাফের) লোকেরা বলেছিল, অবশ্যই (কাফের) লোকেরা তোমাদের (বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার) জন্য জমায়েত হয়েছে, অতএব, (তোমরা মুমিনগণ) সেই (কাফের) লোকেদেরকে ভয় কর। এতে তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেল এবং তারা বলল, ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!’” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৭৩)
আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণ, অভিভাবকত্ব ও করুণাতে যাদের ঈমান বা বিশ্বাস আছে তারা (উপরোক্ত) এই আয়াতের এই কথা (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!) বলে।
আমাদের পক্ষে তাঁর যথেষ্ট হওয়া আমাদেরকে অন্যের উপর নির্ভর করা থেকে মুক্তি দেয় এবং তাঁর অভিভাবকত্ব আমাদেরকে রক্ষা করে।
“হে নবী (মুহাম্মদ), আপনার জন্য এবং যেসব মুমিন আপনাকে অনুসরণ করে ও আপনাদের আনুগত্য করে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।” (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-৬৪)
“এবং সেই চিরজীবীর উপর নির্ভর (তাওয়াক্কুল) কর, যিনি মৃত্যুবরণ করবেন না।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৫৮)
“এবং (হে মুহাম্মদ) ধৈর্য ধরুন, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আপনার ধৈর্য ধরা সম্ভব নয় এবং তাদের নিয়ে দুঃখ করবেন না। আর তারা যে চক্রান্ত করে তাতে কষ্ট পাবেন না। অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকী এবং সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-১২৭-১২৮)
এ আয়াতে ‘আল্লাহ তাদের সাথে আছেন’ এ কথা দ্বারা তাঁর অনুগত বান্দাদের রক্ষণাবেক্ষণ, যত্ন, সমর্থন ও অভিভাবকত্বের এক বিশেষ রহমতের কথা বুঝানো হয়েছে। আর তাদের ঈমান, আমল ও চেষ্টার পরিমাণ মাফিকই তারা এই কল্যাণ লাভ করবে。
“অতএব, তোমরা (শত্রুদের বিরুদ্ধে) দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিতগ্রস্ত হয়ো না। আর তোমরাই (বিজয়ী হয়ে) শ্রেষ্ঠ হবে- যদি তোমরা (সত্যিকার) মুমিন হয়ে থাক।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৯)
“সামান্য কষ্ট দেওয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তবে তারা তোমাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। অতঃপর তাদেরকে কোনও সাহায্য করা হবে না।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১১১)
“আল্লাহ সিদ্ধান্ত করেছেন যে, অবশ্যই আমি এবং আমার রাসূলগণই বিজয়ী হবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও মহাপরাক্রমশীল।” (৫৮-সূরা আল মুজাদালা : আয়াত-২১)
“নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে আর মুমিনদেরকে পার্থিব জীবনে এবং যে দিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে সেদিন সাহায্য করব।” (৪০-সূরা আল মুমিন : আয়াত-৫১)
“আর আমি আমার বিষয় আল্লাহ্র নিকট সমর্পণ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন। তাই আল্লাহ্ তাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করলেন।” (৪০-সূরা আল মুমিন : আয়াত-৪৪-৪৫)
“এবং আল্লাহ্র উপরেই যেন মুমিনগণ নির্ভর করেন।” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১২২)
📄 দুশ্চিন্তা করবেন না
আজই যেন আপনার শেষ দিন এভাবে আজকের দিনটি কাটান। এ ধরনের মানসিকতা ও জীবন সম্বন্ধে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি যদি থাকে তবে রাগ-দুঃখকে প্রশ্রয় দিয়ে আপনার সামান্য যে সময়টুকু আছে তা নষ্ট করার কোন যুক্তি নেই। এক হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
“সকাল বেলা সন্ধ্যাবেলা দেখার আশা করো না। আর সন্ধ্যাকালে সকাল বেলা দেখার আশা করো না।”
অন্য কথায় অতীত নিয়ে না ভেবে ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে আত্মা-দেহ-মন নিয়ে জীবন শুধু আজকের জন্যই।
একজন আরব কবি বলেন-
“যা অতীত হয়ে গেছে তা চিরদিনের জন্য চলে গেছে আর যা আশা করা হয় তাতো অজানা -অজ্ঞাত। আর তোমার যা আছে তা হলো বর্তমান মুহূর্তটি।”
অতীতের চিন্তায়-বিভোর হওয়া এবং অতীতের দুঃখ-কষ্টকে বর্তমানে টেনে আনা অস্থির ও অসুস্থ মনের লক্ষণ।
চীনা (চিন দেশীয়) প্রবাদে বলা হয়- “সেতুতে পৌঁছার আগেই সেতু পার হয়ো না।”
অন্য কথায়, ঘটনা ঘটার আগেই তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না।
আমাদের একজন ধার্মিক পূর্বসূরী বলেছেন- “হে আদম সন্তান! নিশ্চয় তোমাদের দিন মাত্র তিনটি। গতকাল আর এটা তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আগামীকাল যা এখনও আসেনি এবং আজ। সুতরাং আজকের দিনে আল্লাহকে ভয় কর, তাঁকে মান্য কর।”
যে নাকি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের উদ্বেগ নিয়ে বেড়ায় সে কিভাবে বাঁচতে পারে? তা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে সর্বদা তার কথা মনে করে করে মানুষ কিভাবে শান্তি পেতে পারে? যে অতীতের দুঃখজনক ঘটনার কথা মনে করে, সে শুধু ব্যথাই পায়, এতে তার কোন লাভ হয় না।
“সকালে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঁচার আশা করো না ও সন্ধ্যায় সকাল পর্যন্ত বাঁচার আশা করো না।”
এ কথার অর্থ হল এ পৃথিবীর জন্য আমাদের বড় ধরনের ও দীর্ঘ-কালীন আশা থাকা উচিত নয়। মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করুন। নেক আমল করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করুন। আপনার উদ্বেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে আজকের দিনের সীমা পেরিয়ে যেতে দেবেন না। এ নীতি আপনাকে মনোযোগী হতে এবং প্রতিদিন উৎপাদনশীল হওয়ার জন্য আপনার সমস্ত শক্তিকে ব্যয় করতে সাহায্য করবে। দক্ষতার সাথে সময়কে কাজে লাগান এবং আপনার আচার-আচরণ, চাল-চলনের উন্নতি করে, আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ে ও অন্যের সাথে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় করে আজ কোন কিছু অর্জন করার জন্য আপনার সকল প্রচেষ্টাকে কাজে লাগান।