📄 আউলিয়াদের জন্য কারামত আছে
দ্বিতীয় শতাব্দীর একজন ধার্মিক মুসলমান সিলাহ্ ইবনে আসিয়ামাহ্ আল্লাহর পথে সফর করছিলেন। যখন রাত হলো তখন তিনি পার্শ্ববর্তী এক জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি জঙ্গলে ঢুকে অযু করে সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। কোনরূপ হুঁশিয়ারী সংকেত ছাড়াই একটি সিংহ তাঁর দিকে ধেয়ে আসছিল। সিলাহ্ যখন বিপদজনকভাবে তাঁর নিকট আসল, সিলাহ্ তখন অনবরত সালাত পড়ছিলেন। সিলাহ্ ইবনে আসিয়ামাহ্ দূরে ছিলেন তবুও তিনি তাঁর সালাত ভাঙ্গেননি, বরং অধ্যাবসায়ের সাথে আল্লাহ্র নিকট আবেদন করেছিলেন। তিনি সালাম ফিরানোর মাধ্যমে সালাত শেষ করে সিংহকে বললেন, “আমাকে হত্যা করার জন্য যদি তোমাকে আদেশ দেওয়া থাকে তবে তুমি তা কর নচেৎ আমাকে একাকী ছেড়ে দাও, যাতে আমি আমার প্রভুর সাথে একান্তভাবে কথা বলতে পারি।” এ কথা বলার পর সিলাহ্কে রেখে সিংহটি শান্তভাবে প্রস্থান করল।
“আল বিদায়াহ্ ওয়াননিহায়াহ্” নামক কিতাবে আল্লামা ইবনে কাসীর এ ঘটনার মতোই একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ্র রাসূল ﷺ-এর আজাদিকৃত গোলাম সাফীনাহ্ (রা) সঙ্গীসাথীসহ সাগরের তীর দিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। যখন তারা স্থলভাগের দিকে এগিয়ে গেলেন তখন একটি সিংহ ভয়ঙ্করভাবে তাদের দিকে এগিয়ে আসল। সাফীনাহ্ (রা) বললেন, “হে সিংহ! আমি আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সেবক। আর এরা আমার সঙ্গীসাথী; অতএব, আমাদের বিরুদ্ধে তোমার কিছুই করার নেই।” সিংহ তাদের নিকট থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে গেল। এমন অনেক ঘটনাই সত্য এবং নির্ভরযোগ্য উসূলের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। যা হোক, যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এসব ঘটনা থেকে এটা অনুভব করুন যে, আমাদের প্রভু হলেন পরম দয়ালু ও পরম বিজ্ঞ এবং বিশ্ব জগতে যা কিছু ঘটছে সে সব বিষয়ে তিনি অবগত আছেন।
“তিন জনের গোপন পরামর্শে তিনি (আল্লাহ্) চতুর্থজন হিসেবে এবং পাঁচ জনের (গোপন পরামর্শে তিনি) ষষ্ঠজন হিসেবে থাকেন।” (৫৮-সূরা মুজাদালা: আয়াত-৭) [আল্লাহ্ সাত আসমানের উপরে তাঁর আরশে (সিংহাসনে) থেকে তিনি তাঁর (কুদরতী) জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের সাথে থাকেন—তারা যেই হোক না কেন!]
📄 কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট
ইমাম বুখারী (র) সহীহ হাদীস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, বনী ইসরাঈলের এক লোক আরেকজনের কাছ থেকে এক হাজার দীনার ঋণ চাইল। দ্বিতীয় জন বলল, “(এ চুক্তির জন্য) তোমার কি কোন সাক্ষী আছে?” প্রথম জন বলল, “আল্লাহ্ ছাড়া আমার কোন সাক্ষী নেই।” দ্বিতীয় জন তখন জিজ্ঞেস করল, “তোমার কোন জামিনদার আছে কি?” প্রথম জন তখন বলল, “আল্লাহ্ ছাড়া আমার কোন জামিনদার নেই!” দ্বিতীয় জন তখন বলল, “কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।” তারপর সে তাকে এক হাজার দীনার ঋণ দিল। ঋণ পরিশোধের সময় সম্বন্ধে তাদের মাঝে এক চুক্তি হওয়ার পর তারা চলে গেল। এ চুক্তির সময় তারা দুজন নদী দুপাড়ে বাস করত। চুক্তির সময় যখন ঘনিয়ে এল তখন ঋণ গ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করতে যাওয়ার জন্য নদীর ধারে গেল নৌকা খুঁজতে। সে নৌকা না পেয়ে হতাশ হয়ে গেল। সে রাত যাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করল কিন্তু তাকে নদীর ওপারে পার করে দেওয়ার মতো কাউকে সে পেল না। তখন সে বলল, “হে আল্লাহ্! সে আমার নিকট সাক্ষী চেয়েছিল, কিন্তু আমি আপনাকে ছাড়া কাউকে খুঁজে পাইনি; সে আমার নিকট জামিন চেয়েছিল, কিন্তু আমি আপনাকে ছাড়া কাউকে খুঁজে পাইনি। হে আল্লাহ্! এই চিঠিখানিকে তাঁর নিকট পৌঁছানোর ব্যবস্থা করুন।”
তখন সে এক টুকরো কাঠ নিয়ে, এটাকে খালি করে চিঠির সাথে এক হাজার দীনার এর ভিতরে ভরে দিল। তারপর সে কাঠের টুকরাটিকে নদীতে নিক্ষেপ করল। আল্লাহ্র হুকুমে এটা সঠিক পথে ভেসে গেল। ঋণদাতা কথা রাখার জন্য নদীর তীরে (সময়মতো) গিয়েছিল। সেও তখন পর্যন্ত অপেক্ষা করছিল, যখন সে দেখল যে ঋণগ্রহীতা আসল না, তখন সে মনে মনে বলল, “আমার পরিবারের জন্য কমপক্ষে কিছু জ্বালানি কাঠই বা আমি নেই কেন?” সে কাঠের টুকরাটির কাছে গিয়ে তা সে বাড়িতে নিয়ে গেল। এটাকে ফাঁকা দেখে সে এটাকে খুলে ফেলল এবং চিঠির সাথে টাকাটা পেল।
“ঈমানদারদের উচিত আল্লাহ্র উপরই তাওয়াক্কুল (নির্ভর) করা।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১২২)
“যদি তোমরা সত্যিকারের মুমিন হয়ে থাক তবে আল্লাহ্র উপরই ভরসা রাখ।” (৫-সূরা মায়িদা: আয়াত-২৩)
এসব ঘটনা এখানে আমি এজন্য উল্লেখ করেছি যাতে আল্লাহ্র অঙ্গীকারের প্রতি আপনার বিশ্বাস আরো বাড়ে এবং যাতে আপনি নিরালায় তাঁর নিকট প্রার্থনা ও আকুল আবেদন করেন। সর্বশক্তিমান, পরম কৃপাময় আল্লাহ্ আপনাকে নিযোগ করেছেন— “আমার নিকট আবেদন কর, আমি তোমার আবেদনে সাড়া দিব।” (৪০-সূরা আল মুমিন: আয়াত-৬০) “(হে মুহাম্মাদ ﷺ!) আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে তখন (আপনি তাদেরকে বলে দিন যে—) আমি নিকটেই, আমি প্রার্থীর প্রার্থনায় তখন সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে।” (২-সূরা বাকারা: আয়াত-১৮৬)
হাজ্জাজ হাসান বসরীর ক্ষতি করার জন্য তাকে ধরে আনার আদেশ দিল। হাসান বসরী (র) যখন হাজ্জাজের নিকট যাচ্ছিলেন তখন আল্লাহ্র রক্ষা ও দয়ার কথা তাঁর মনে ছিল। আল্লাহর সাহায্যের প্রতি অটল বিশ্বাস রেখে হাসান বসরী (রহ) আল্লাহর পবিত্র নামসমূহের গুণাবলির উসিলায় তাঁর নিকট প্রার্থনা করা শুরু করলেন। আল্লাহ হাজ্জাজের অন্তরে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে তাঁর অন্তরকে পরিবর্তন করে দিলেন। হাসান বসরী (রহ) যখন হাজ্জাজের নিকট উপস্থিত হলেন তখন তিনি বিস্মিত হয়ে গেলেন এটা দেখে যে, হাজ্জাজ তাঁকে বন্ধুসুলভভাবে সম্ভ্রম জানাচ্ছিল। পরিশেষে হাজ্জাজ ছিল নম্র-ভদ্র, বিনয়ী, কোমল ও হাসান বসরী (রহ) আজাবমুক্ত হয়ে ফিরে এলেন।
“এমন কোন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংসা পবিত্রতা ঘোষণা করে না। কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পার না। নিশ্চয় তিনি চির ধৈর্যশীল, পরম কল্যাণশীল।” (১৭-সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত-৪৪)
📄 বিশ্বজগতের সবকিছুই আল্লাহর মহিমা কীর্তন করে
পাখিদের জগতের মধ্যে থেকে এক বিখ্যাত হুদহুদ পাখি এর প্রভুকে চিনত। আল্লাহ সুলাইমান (আ) সম্বন্ধে বলেন: “তিনি পাখিদেরকে পরিদর্শন করে বললেন, “কি ব্যাপার! আমি হুদহুদকে দেখছি না যে? না কি সে অনুপস্থিত? অবশ্যই অবশ্যই আমি তাকে ভীষণ শাস্তি দিব অথবা প্রতি অবশ্যই আমি তাকে জবাই করে দিব যদি না সে আমার নিকট তার অনুপস্থিতির স্পষ্ট যুক্তি পেশ করতে পারে।” কিন্তু ওটা দীর্ঘক্ষণ সেখানে থাকল না এবং আসার পর বলল, ‘আমি এমন জিনিসের জ্ঞান অর্জন করেছি যা আপনি জানেন না এবং আমি সাবা থেকে সত্য সংবাদ নিয়ে আপনার নিকট এসেছি। আমি এমন এক মহিলাকে দেখতে পেলাম যিনি তাদেরকে শাসন করছেন এবং তাকে সম্ভাব্য সবকিছু দেওয়া হয়েছে আর তার আছে এক বিশাল সিংহাসন। আমি তাকে ও তার জাতিকে আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করতে দেখলাম। কারণ, শয়তান তাদের নিকট তাদের কার্যকলাপসমূহকে সুশোভিত করে দিয়েছে, এভাবে সে (শয়তান) তাদেরকে সঠিক পথ থেকে ফিরিয়ে রেখেছে, তাই তারা সঠিক পথ পাচ্ছে না। অর্থাৎ তারা সে আল্লাহকে সিজদা করছে না যিনি আসমানসমূহ ও জমীনে যা কিছু লুকায়িত আছে তা বের করেন আর যা তোমরা গোপন রাখ আর যা তোমরা প্রকাশ কর তিনি তা জানেন। আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ্ (উপাস্য) নেই, তিনি মহীয়ান আরশের অধিপতি!’ সুলাইমান (আ) বললেন, ‘আমি শীঘ্রই দেখব যে তুমি কি সত্য বলেছ নাকি তুমি মিথ্যাবাদী, আমার এই চিঠি নিয়ে গিয়ে তাদের নিকট নিক্ষেপ করে দাও, তারপর সরে গিয়ে লক্ষ্য কর তারা কী প্রতিক্রিয়া করে।’” (২৭-সূরা আন নামল: আয়াত-২০-২৬)
হুদহুদ চিঠি নিয়ে গেল এবং পরবর্তীতে সাবার রাণী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কারণ এই ছিল যে, হুদহুদ তার প্রভুকে চিনত। আলেমগণ বলেছেন যে, “আজব ব্যাপার! ফেরাউনদের চেয়েও হুদহুদ বেশি বুদ্ধিমান ছিল। অবস্থা যখন ভালো ছিল ফেরাউন তখন কুফুরী করেছিল; এ কারণেই শেষ মুহূর্তের ঈমান তাকে সাহায্য করেনি। পক্ষান্তরে সবসময় হুদহুদ এর প্রতি ঈমান রেখেছিল আর সে ঈমান তাকে তখন উপকার করেছিল যখন ব্যাপারটা জটিল ও কঠিন হয়ে গিয়েছিল।”
হুদহুদ বলেছিল— (শয়তান তাদেরকে সঠিক পথ থেকে ফিরিয়ে রেখেছিল এই আশঙ্কায় যে,) তারা যেন সিজদা না করে আল্লাহকে যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর গোপন বস্তুকে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন, যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা ব্যক্ত কর। (২৭-সূরা আন নামল: আয়াত-২৫)
ফেরাউন বলেছিল: “আমি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ্ আছে বলে আমার জানা নেই” (২৮-সূরা আল কাসাস: আয়াত-৩৮)
যে নাকি হুদহুদের চেয়েও কম বুদ্ধিমান এবং একটি পিঁপড়ার চেয়েও কম বুদ্ধি রাখে সে সত্যিই হতভাগা। “তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তা তারা বুঝে না, তাদের চোখ আছে, কিন্তু তা দিয়ে দেখতে পায় না, তাদের কান আছে, কিন্তু তা দিয়ে শুনতে পায় না।” (৭-সূরা আল আ'রাফ: আয়াত-১৭৯)
মৌমাছি জগতের বিষয়ে ভাবুন। এতে আল্লাহর মহত্ত্বের কথা আমাদের মনে পড়ে। ছোট মৌমাছিটি নিজের বাসা ছেড়ে আহার সন্ধানের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়ে। এটা ভালো, বিশুদ্ধ ও পবিত্র ফুলের উপর বসে মধু সংগ্রহ করে। এরপর এটা এমন এক তরল পদার্থ নিয়ে ফিরে আসে যা মানুষের জন্য ঔষধের যোগান দেয়। আর এটা সর্বদাই নিজের বাসায় ফিরে আসে, কখনও পথ হারায় না।
“আর তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে আদেশ দিলেন যে, পাহাড়ে, বৃক্ষে এবং মানুষ যে ঘর বানায় তাতে বাসা বানাও। তারপর সব ধরনের ফলের রস থেকে খাও, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ কর। ওদের পেট থেকে নানা রঙের পানীয় বের হয় যাতে রয়েছে মানুষের জন্য শিফা বা রোগমুক্তি। নিশ্চয় চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে।” (১৬-সূরা আন নাহল: আয়াত-৬৮-৬৯)
আপনি যখন এসব ঘটনা পড়েন তখন আপনার বুঝা উচিত যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে গোপন যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ আছে এবং আপনার সকল প্রয়োজনের জন্য একমাত্র তাঁর নিকটই আপনার আবেদন ও প্রার্থনা করা উচিত। আপনার বুঝা উচিত যে, এ বিশ্ব জগতের অন্য সবাই দুর্বল ও অসহায়, তাদেরও দরকার আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর নিকট রিযিক চাওয়া, স্বাস্থ্য চাওয়া এবং সুখ চাওয়া, কেননা, তিনিই সর্ব কিছুর মালিক।
“হে মানবসম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী (অভাবী), কিন্তু আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসনীয়।” (৩৫-সূরা ফাতির: আয়াত-১৫)
আল্লাহর প্রতি অবশ্যই অটল ঈমান (বিশ্বাস) থাকতে হবে এবং আপনার জানা উচিত যে, আপনার সকল আবেদন ও আশা-আকাঙ্ক্ষা আল্লাহর অভিমুখী হতে হবে—দুর্বল অসহায় মানুষের অভিমুখী নয়। তখন আপনি সত্যি সত্যিই আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহরাজিকে অনুধাবন করতে পারবেন। তখন আপনি চিরঞ্জীবের প্রয়োজনীয়তা, সর্বাপেক্ষা ধনীর নিকট গরীবের নির্ভরতার এবং সর্বশক্তিমানের নিকট দুর্বলের প্রতি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে অনুভব করতে পারবেন। সত্যিকার ক্ষমতা, সম্পদ এবং চিরস্থায়িত্ব একমাত্র আল্লাহরই।
আপনি যদি এসব কিছু বোঝেন তবে অবশ্যই আপনাকে আপনার জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। আপনি যদি তাঁর নিকট ক্ষমা চান তবে তিনি আপনাকে ক্ষমা দিবেন। যদি আপনি তাঁর নিকট কিছু প্রার্থনা করেন তবে তিনি আপনাকে দিবেন। যদি আপনি তাঁর নিকট সাহায্য কামনা করেন তবে তিনি আপনাকে সাহায্য করবেন। আপনি যদি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকেন (অর্থাৎ আপনি যদি তাঁর শুকরিয়া আদায় করেন) তবে তিনি আপনার উপর তাঁর অনুগ্রহরাজি বৃদ্ধি করে দিবেন।