📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করা
সাবিত ইবনে কায়স (রা) একজন বাগ্মী ছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (সা) এবং ইসলামের পক্ষে কথা বলতেন। যাহোক, তিনি (রা) ভাষণদানে প্রায়ই তার স্বর উচ্চ করে ফেলতেন এবং এর মাঝে মাঝে আল্লাহর রাসূল (সা) এর উপস্থিতিতেও এ ঘটনা ঘটত। “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর আওয়াজের চেয়ে তোমাদের আওয়াজ উচ্চ করিও না এবং তোমরা পরস্পর যেভাবে কথাবার্তা বল সেভাবে তাঁর সাথে কথাবার্তা বলো না, (এ কাজ করে) আবার তোমাদের আমল এমনভাবে বাতিল হয়ে যেতে পারে যে তোমরা তা টেরও পাবে না (এ বিষয়ে লক্ষ্য রেখো)।” (৪৯-সুরা আল হুজুরাত : আয়াত-২) এ আয়াত যখন নাযিল হয় সাবিত (রা) ভাবলেন যে, (এ আয়াতে) তার কথা বলা হচ্ছে, তাই তিনি তাঁর ঘরে একাকী থেকে সর্বদা কান্নাকাটি করতেন। একটি মজলিসে আল্লাহ্র রাসূল ﷺ সাবিত (রা)-এর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করলেন এবং তার সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাইলেন। সাহাবীরা নবী করীম ﷺ কে যা ঘটেছে তা জানালেন এবং নবী করীম ﷺ উত্তর দিলেন “কখনো না বরং সে জান্নাতী (হবে)।” এভাবে সাবিত (রা)-এর ব্যাপারে কঠিন সতর্কতার ভয় শুভ সংবাদে রূপান্তরিত হয়ে গেল।
আয়েশা (রা) অনেক দিনরাত কেঁদেছিলেন। কেননা, তাকে কষ্টদায়ক অপরাধের অপবাদ (তোহমত) দেওয়া হয়েছিল। তিনি পরিস্থিতির কারণে জীর্ণ-শীর্ণ ও বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিলেন। তখন হঠাৎ করে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে সাহায্য আসল এবং কুরআন তাঁকে নিরাপরাধ ও পুত-পবিত্র বলে ঘোষণা করল। “সতী-সাধ্বী সরলমতি যারা তাদের সতীত্বে কোনরূপ কলঙ্ক স্পর্শের কল্পনাও করেনি এমন ঈমানদার নারীদের প্রতি যারা অপবাদ দেয় তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত।” (২৪-সূরা আন নূর: আয়াত-২৩) তাঁর মর্যাদা বাড়ানো হয়েছিল তাই তিনি আল্লাহ্র প্রশংসা করলেন আর ঈমানদারগণও তাঁর সাথে আনন্দ বোধ করেছিল।
যখন তাবুকের যুদ্ধের ডাক পড়েছিল তখন তিনজন মুমিন লোক (যুদ্ধে না গিয়ে) পিছনে রয়ে গিয়েছিল। যারা পিছনে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে নিয়ে ফয়সালাকারী সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ কুরআনের আয়াত নাযিল করলেন। এতে উপরোক্ত তিনজন ঈমানদার ব্যক্তি যারপরনাই দুঃখী হলেন এবং অনুতপ্ত হলেন। তারা বিশ্বাস করতেন যে আল্লাহ্ ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল নেই এবং অল্পকাল পরেই (কিন্তু অল্প সময় তাদের সীমাহীন মনে হয়েছিল) তাদের ক্ষমার সুসংবাদ নিয়ে আয়াত নাযিল হলো।
📄 আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি সর্বাপেক্ষা দয়ালু
রিয়াদ পৌরসভার একজন উচ্চ পর্যায়ের সদস্য আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, ১৭১৬ হিজরীতে জুবাইল শহরের একদল জেলে সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং তিনদিন তিন রাত্রি অতিবাহিত করার পরও তারা একটি মাছও ধরার ব্যবস্থা করতে পারেনি। ইতোমধ্যেই নিকটবর্তী অন্য জেলেরা অনেক মাছ ধরে ফেলল। তাদের ব্যর্থতা ও অন্যদের সফলতার মাঝে শুধুমাত্র প্রচেষ্টার কারণেই তারা বিস্মিত হলো না, অধিকন্তু, তারা বিস্মিত হয়েছিল এ কারণেও যে, তারা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা সত্ত্বেও ব্যর্থ হয়েছিল, পক্ষান্তরে, অন্যদল সালাত না পড়া সত্ত্বেও সফল হয়েছিল।
সালাত আদায়কারী দলের একজন বলল, “সুবহানাল্লাহ! আমরা প্রতি ওয়াক্তের সালাত পড়েছি অথচ আমরা কিছুই পাইনি, আর অন্য দলটি গত কয়েকদিনে একটি সিজদাও করেনি অথচ দেখ যে তাদের কত কত মাছ।” তখন শয়তান তাদেরকে সালাত না পড়ার কুমন্ত্রণা দিল। পরের দিন তারা ফজরের সালাত পড়তে ঘুম থেকে উঠল না। তারা যোহরের ও আসরের সালাতও পড়ল না।
আসরের ওয়াক্ত হওয়ার পর তারা মাছ ধরতে সাগরে চলে গেল। এবার তারা একটি মাছ ধরল। মাছটিকে কাটার পর তারা এর পেটে একটি মুক্তা পেল—একটি বহুমূল্যবান মুক্তা। তারা মুক্তাটি হাতে নিয়ে এর দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে বলল, “সুবহানাল্লাহ! আমরা যখন তাঁর আনুগত্য করেছি তখন আমরা কিছুই পাইনি, আর যখন আমরা তাঁকে অমান্য করলাম তখন আমরা এ জিনিস পেলাম! আমাদের সামনে এই যে রিযিক তা অবশ্যই সন্দেহজনক প্রকৃতির।” তারপর তিনি মুক্তাটিকে হাতে নিয়ে তা সাগরে ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন, “আল্লাহ্ আমাদেরকে এর চেয়েও ভালো জিনিস দিয়ে প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ্র কসম, আমি এটা নিব না; কেননা, সালাত ছাড়ার পর আমরা এটা পেয়েছি। তোমরা আমার সাথে আস এবং দেখ, যে স্থানে আমরা আল্লাহ্র আদেশ অমান্য করেছি সেখান ছেড়ে আমরা চলে যাই।” তারা তিন মাইল দূরে গিয়ে রাতের জন্য তাঁবু খাটাল। তার কিছুক্ষণ পর তারা আবার মাছ শিকারে গেল এবং তখন তারা একটি বেশ বড় আকারের মাছ পেল। যখন তারা এটিকে কাটল তখন তার পেটে সেই একই মূল্যবান মুক্তাটি পেল। তখন তারা বলল—“সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাদেরকে উত্তম (পবিত্র) রিযিক দান করেছেন।” সালাত পড়ার পর, আল্লাহ্র জিকির করার পর এবং আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাওয়ার পর তারা মাছটি ধরেছিল, তাই তারা এবার মাছটি রাখল।
প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আপনাদের লক্ষ্য করা উচিত; জিনিস একটিই ছিল, কিন্তু আল্লাহকে অমান্য করার সময় যখন তারা এটি পেল তখন এটি অপবিত্র ছিল। “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তাদেরকে যা দান করেছেন যদি তারা তাতে সন্তুষ্ট হতো এবং বলত, “আল্লাহ্ই আমাদের জন্য যথেষ্ট, অচিরেই আল্লাহ্ আমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে দান করবেন এবং তাঁর রাসূলও দান করবেন। নিশ্চয় আমরা আল্লাহ্র নিকট সবকিছু অনুরোধ করি (যাতে তিনি আমাদেরকে ধনী করেন);” (তবে কতইনা ভালো হতো!)” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৫৯)
নিশ্চয় এটা আল্লাহ্র দয়া। অতএব যখন কেউ আল্লাহ্র জন্য কোন কিছু ত্যাগ করে তখন আল্লাহ্ তাকে তার চেয়ে ভালো জিনিসের আনজাম দেন। এক্ষেত্রে আলী (রা)-এর একটি গল্প আমার মনে পড়ে গেল। একদিন সকালে তিনি দু’রাকাত নফল সালাত পড়ার জন্য কুফার মসজিদে প্রবেশ করলেন। প্রবেশের পূর্বে তিনি একটি ছেলেকে দরজায় দাঁড়ানো দেখতে পেলেন। তিনি ছেলেটিকে বললেন, “এই হে ছেলে! শোন, আমি সালাত শেষ করা পর্যন্ত তুমি আমার খচ্চরটিকে ধরে রেখো!”
মসজিদে প্রবেশের সময় আলী (রা) নিয়ত করেছিলেন যে, ছেলেটিকে তার কাজের বিনিময়ে এক দিরহাম দিবেন। ইতোমধ্যে ছেলেটি খচ্চরের লাগাম খুলে এটিকে বিক্রি করার জন্য বাজারের দিকে প্রচণ্ড বেগে ধাবিত হলো। আলী (রা) যখন মসজিদ থেকে বের হলেন তখন তিনি কোন ছেলেকে দেখতে পেলেন না এবং খচ্চরটিকে লাগামহীন দেখতে পেলেন। তিনি একজন লোককে ছেলেটিকে ধরার দায়িত্ব দিলেন ও তাকে বাজারে যেতে আদেশ করলেন, যেহেতু ছেলেটি লাগামটিকে বিক্রি করার জন্য বাজারে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। লোকটি দেখতে পেলেন যে, ছেলেটি এর দর হাঁকাচ্ছে আর তিনি ছেলেটির থেকে এক দিরহামের বিনিময়ে এটিকে কিনে নিয়ে এলেন। তিনি আলী (রা)-এর নিকট ফিরে এসে যা ঘটেছে তা তাকে জানালেন। যা ঘটেছে তা শোনার পর আলী (রা) বললেন, “সুবহানাল্লাহ্! আল্লাহ্র শপথ, আমি তাকে একটি হালাল দিরহাম দেওয়ার নিয়ত করেছিলাম কিন্তু সে এটাকে প্রত্যাখ্যান করে বরং হারামভাবে এক দিরহাম নিল।”
“হে মুহাম্মাদ ﷺ! আপনি যে কাজে বা যে অবস্থায়ই থাকেন না কেন আর সে বিষয়ে আপনি কুরআনের যে অংশেই তেলাওয়াত করেন না কেন আর তোমরা যে আমলেই (কাজ) কর না কেন যখন তোমরা তা কর বা তাতে প্রবৃত্ত হও তখন আমি তোমাদের সাক্ষী বা পরিদর্শক হয়ে থাকি। আর আসমানসমূহে ও জমিনে অণুপরিমাণ কোন কিছু, তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর কোন কিছু এবং এর চেয়েও বৃহত্তর কোন কিছুই তোমার প্রভুর নিকট থেকে গোপন থাকে না।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-৬১)
📄 আল্লাহ্ মুত্তাকীকে এমন উৎস থেকে রিযিক দিবেন যে সে কল্পনাও করতে পারবে না
“আর আল্লাহ্ মুত্তাকীকে এমন উৎস থেকে রিযিক দিবেন যে তা কল্পনাও করতে পারবে না।” (৬৫-সূরা আত তালাক : আয়াত-৩)
তানুখী তার ‘আলফারাজ বা’দাশিদ্দাহ’ নামক পুস্তকে একটি গল্প বলেছেন। এক লোক চরম দরিদ্র অবস্থায় পড়ে। তার সামনে সফলতার সকল দ্বার শক্তভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একদিন তার অবস্থা এতটাই ভয়ানক হয়ে গিয়েছিল যে, তার ও তার পরিবারের খাওয়ার মতো কোন কিছু ঘরে ছিল না। পরে সে বলেছিল, “প্রথম দিন আমরা ক্ষুধার্ত কাটালাম। দ্বিতীয় দিনও একইভাবে কাটল এবং সূর্য যখন ডুবন্ত তখন আমার স্ত্রী আমাকে বলল, বের হয়ে দেখ আমাদের খাওয়ার জন্য কোন কিছু পাও কি-না, কেননা, আমরা মরতে বসেছি প্রায়। আমার এক আত্মীয়ার কথা আমার মনে পড়ল এবং তার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। তার সাথে সাক্ষাৎকালে আমি আমাদের করুণ অবস্থার কথা জানালাম। সে বলল যে, একটি পচা মাছ ছাড়া তাদের ঘরে আর কিছু নেই। তা সত্ত্বেও আমাদেরকে এটা দেওয়ার জন্য আমি তাকে বললাম। যেহেতু আমরা না খেয়ে মরতে বসেছিলাম প্রায়। আমার সাথে করে আমি এটাকে বাড়িতে নিয়ে আসলাম এবং আমি বিস্মিত হয়ে গেলাম কেননা এটাকে কাটার পর পেটের ভিতরে আমি একটি মুক্তা পেলাম। আমি এ মুক্তাকে এক হাজার দিনারে বিক্রি করলাম এবং যা ঘটেছিল তা আমি আমার আত্মীয়কে জানালাম। সে বলল যে, সে এর অংশ নেবে কিন্তু পুরোটা নেবে না। এ ঘটনার পর আমার অবস্থা খুবই উন্নত হয়ে গেল এবং সচ্ছলতা দিয়ে আমি আমার ঘরকে সাজালাম। আর আমি বুঝতে পারলাম যে, এটা আল্লাহ্র রহমত ছিল, অন্য কিছু নয়।”
“আর তোমাদের নিকট যত নেয়ামত আছে তা আল্লাহ্র পক্ষ থেকেই।” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-৫৩)
“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য চাচ্ছিলে ফলে তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন।” (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-৯)
“এবং তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন।” (৪২-সূরা আশ শুরা : আয়াত-২৮)
এক ধার্মিক ইবাদত গুজার ব্যক্তি যখন তাঁর পরিবারবর্গসহ মরুভূমিতে ছিলেন তখন যা ঘটেছিল তা তিনি আমার নিকট বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন— “আমরা মরুভূমিতে থাকাতে আমাদের পানি ফুরিয়ে যায়। আমি পানির খোঁজে বের হয়ে পড়লাম ও দেখতে পেলাম যে, আমাদের নিকটবর্তী অতি ছোট নদীটিও শুকিয়ে গেছে। আমি চতুর্দিকে অনবরত পানি খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু এক ফোঁটা পানিও আমি খুঁজে পেলাম না। এরপর অচিরেই আমরা পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লাম। আমাদের সন্তানেরা কোন কিছু পান করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল। দুর্দশাগ্রস্তের ডাকে যিনি সাড়া দেন আমি আমার সে প্রভুকে স্মরণ করলাম। আমি উঠে দাঁড়ালাম ও বালু দিয়ে তায়াম্মুম করে কেবলামুখী হয়ে দু’রাকাত সালাত পড়লাম। তারপর আমি আমার হাত উঠিয়ে কান্না করলাম। যখন আমি আল্লাহ্র নিকট সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন করছিলাম তখন আমার চোখের পানি প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছিল। এখন আবার মনে পড়ছে যে, নিম্নোক্ত আয়াতটি বারাবার আমার মনে পড়েছিল :
‘(তোমাদের শরিক করা দেবতারা ভালো?) নাকি তিনি ভালো যিনি দুর্দশাগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে?’ (২৭-সূরা আন নামল : আয়াত-৬২)
আর আল্লাহ্র কসম, যেই আমি আমার সালাতের স্থান থেকে উঠে দাঁড়ালাম অমনিই মরুভূমিতে ঠিক আমাদের স্থানেই এক খণ্ড মেঘ উড়ে আসল। এটা ঠিক আমাদের উপরেই থামল এবং প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হতে লাগল। আমাদের পাশের চমৎকার ছোট নদীটি আবার ভরে গেল। আমরা পানি পান করলাম, গোসল করলাম ও অযু করলাম। একই পথে আমি যেখান থেকে এসেছিলাম সেখানে ফিরে গেলাম এবং দেখতে পেলাম যে চতুর্দিকের এলাকা ছিল শুষ্ক উষর; আমরা যেখানে ছিলাম কেবলমাত্র সেখানেই বৃষ্টি হয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম যে, আমার প্রার্থনার উত্তরে আল্লাহ্ আমাদের জন্য মেঘ এনে দিয়েছিলেন, তাই আমি তাঁর প্রশংসা করলাম।”
“আর তারা নিরাশ হয়ে যাবার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন ও তাঁর করুণাকে চারদিকে ছড়িয়ে দেন, আর তিনি হলেন অভিভাবক ও প্রশংসার যোগ্য।” (৪২-সূরা আশ শুরা : আয়াত-২৮)
অধ্যবসায়ের সাথে বা ধৈর্য সহকারে আল্লাহ্র নিকট আমাদেরকে সাহায্য চাইতে হবে; কেননা, একমাত্র তিনিই তাঁর বান্দাদের জন্য হেদায়াত ও সাহায্যের আনজাম দিতে পারেন। আল্লাহ্ তাঁর একজন রাসূলের কথা উল্লেখ করে বলেছেন— “নিশ্চয় তারা নেক কাজে প্রতিযোগিতা করত এবং আশা ও ভয়ের সাথে তারা আমাকে ডাকত এবং আমার তরে তারা বিনীত থাকত।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৯০)
📄 তুমি যখন সাহায্য চাও, তখন তুমি তা আল্লাহর নিকটেই চাও
আল্লাহর দয়া আমাদের অতি নিকটেই। তিনি সব কিছু শোনেন এবং আমাদের প্রার্থনার জবাব দেন। আমরা ভুলে ভরা এবং তাই নাছোড় বান্দা হয়ে প্রার্থনা করা আমাদের খুবই প্রয়োজন। ক্লান্তি, বিরক্তি ও হতাশা যেন কখনই আমাদেরকে আল্লাহর নিকট আকুল আবেদন করা থেকে বিরত না রাখে। আর আমাদের কেউ যেন না বলে: “আমি প্রার্থনা করেছি তবুও আমার প্রার্থনার জবাব দেওয়া হয়নি।” বরং আমাদের উচিত বিনয়ের সাথে জমিনে মাথা ঠেকানো ও আল্লাহর নিকট থেকে সাহায্য ভিক্ষা চাওয়া। এ কাজ করার সর্বোত্তম পন্থা হলো তাঁর পবিত্র নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর নিকট সাহায্য চাওয়া। জবাব না দেওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে অবশ্যই নাছোড় বান্দা হয়ে তাঁর নিকট সাহায্য চাইতে হবে।
“বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের প্রভুকে ডাক।” (৭-সূরা আল আ'রাফ: আয়াত-৫৫)
একজন লেখক নিম্নোক্ত এই গল্পটি বর্ণনা করেছেন— “একজন মুসলমান শরণার্থী হিসেবে এক দেশে গেলেন এবং সেখানে তাঁর নাগরিকত্ব মঞ্জুরের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করলেন। তাঁর সামনে সকল দ্বার রুদ্ধ হয়ে গেল। অন্যদের নিকট নাছোড় বান্দা হয়ে কাকুতি করার সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর সকল যোগাযোগ ব্যর্থ হলো। একদিন এক ধার্মিক আলেমের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো এবং তিনি তাঁর নিকট তাঁর দুর্ভাগ্যপূর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থার একটি বর্ণনা দিলেন। আলেম লোকটি তাঁকে বললেন, তোমার প্রভুর নিকট প্রার্থনা কর; কেননা তিনিই সব কিছু সহজ করে দেন। এ উপদেশের তাৎপর্য নিম্নোক্ত হাদীসে পাওয়া যায়—
‘তুমি যখন সাহায্য চাও, তখন তুমি তা আল্লাহর নিকটেই সাহায্য চাও। আর জেনে রাখ যে, গোটা জাতি যদি তোমার কোন উপকার করার জন্য একত্রিত হয় তবে আল্লাহ্ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তোমার কোন উপকার করতে পারবে না।’
শরণার্থী এরপর বর্ণনা করেছেন— “আল্লাহর কসম, আমি মানুষের নিকট সাহায্যের জন্য অথবা মধ্যস্থতার জন্য যাওয়া বন্ধ করে দিলাম এবং তার বদলে আমি বরং আলেম আমাকে যেমনটি বলেছেন ঠিক তেমনি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা শুরু করলাম। ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার ঠিক পূর্বে আমি আল্লাহকে ডাকতাম এবং তাঁর নিকট আকুল আবেদন করতাম। মাত্র কয়েকদিন পর, আমার পক্ষে সুপারিশ করার জন্য কোন পদস্থ ব্যক্তির সাহায্য ছাড়াই আমি নাগরিকত্বের জন্য একটি দরখাস্ত জমা দিলাম। আরো কয়েকটি দিন গেল আর তখন আমাকে বিস্মিত করে হঠাৎ করে আমার নাগরিকত্বের জন্য আবেদনপত্র তোলার জন্য আমাকে ডাকা হলো। ওসব কাগজ পত্রে সীল মারা ছিল—অনুমোদিত।”
“আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি খুবই মেহেরবান।” (সূরা-৪২ আশ শূরা : আয়াত-১৯)