📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 প্রভুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না

📄 প্রভুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না


অল্পে তুষ্ট হয়ে তাদের মতো হওয়া থেকে বাঁচা যায় যারা বিধান ও শাসনের ব্যাপারে তাদের প্রচুর বিরুদ্ধ অভিযোগ করে। এ কথা বুঝতে হলে ইবলিসের ঘটনার দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সে তার প্রভুর সাথে তর্ক করেছিল, কারণ সে তাঁর বিধান ও শাসনের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিল। যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে, তারা এমনটা শুধু এ কারণেই করে যে তারা তাঁর নিকট আত্মসমর্পণের পরিবর্তে তারা তাঁর শক্তি ও ক্ষমতার ব্যাপারে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়, তখন তারা তাঁর আদেশসমূহকে পরিত্যাগ করে, যা হারাম তা করে এবং অসন্তোষ প্রকাশ করে তাঁর স্বর্গীয় বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে।
আল্লাহ তাঁর বিধান তাঁর উপর অধঃস্থিত; এটা ঘটবেই এবং এটা ন্যায্য বিধান; যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে- “আমার ব্যাপারে আপনার বিধান ঘটবেই এবং আমার ব্যাপারে আপনার ফায়সালা ন্যায়সঙ্গত।” আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জুলুম করা নিজের উপর হারাম করে দিয়েছেন। আসলে মানুষেরাই অন্যায়-অত্যাচার করে। উপরে উল্লেখিত হাদীসের অংশ, “এবং আমার ব্যাপারে আপনার ফায়সালা ন্যায়সঙ্গত।” পাপের বিধান, পাপের কুফল ও পাপের শাস্তিও অন্তর্ভুক্ত করে। পাপ এবং পাপের শাস্তি সবচেয়ে আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে আল্লাহ্ সর্বাপেক্ষা ন্যায়পরায়ণ। তিনি তাঁর কোন ব্যাপার এবং বিধান এমন সব কারণেও রাখতে পারেন যা আমাদের বুঝের বাইরে। এমন কোন উদ্দেশ্যও থাকতে পারে- যা ব্যাখ্যা বিশ্বাসে খুবই গভীর হওয়াতে একমাত্র তাঁরই জানা। আর এটাই মুসলমানদের বিশ্বাস।
“তারাই কি আপনার প্রভুর করুণা বণ্টন করে?!” (৪৩-সূরা আয যুখরুফ : আয়াত-৩২)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 বিশ্বাসীদের আল্লাহ রক্ষা করেন

📄 বিশ্বাসীদের আল্লাহ রক্ষা করেন


প্রতিটি মানুষেরই একজন প্রভু প্রয়োজন: সে এটা স্বীকার করুক বা না-ই করুক। আর প্রভুর অবশ্যই সর্বশক্তিমত্তা, ক্ষমতা, ধনাঢ্যতা ও চিরজীবাত্মা এ ধরনের কিছু গুণ থাকা উচিত। যার এসব গুণ ও অন্যান্য পরম ও নিখুঁত গুণ আছে তিনি হলেন সমগ্র বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহ্। অতএব, একনিষ্ঠ সত্যান্বেষী ব্যক্তি আল্লাহ্র অস্তিত্বই খোঁজে এবং তারপর আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাসে শান্তি খুঁজে পায়। তিনি (আল্লাহ্) দুর্বল ও আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয়। “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য চাইলে, তাই তিনি তোমাদেরকে সাহায্য দিয়েছিলেন সে কথা স্মরণ কর।” (৮-সূরা আনফাল: আয়াত-৯) “তিনি সকলকেই রক্ষা করেন, পক্ষান্তরে তাকে রক্ষা করতে হয় না। (আল্লাহ্ যদি কাউকে রক্ষা করেন তবে কেউ তাকে শাস্তি দিতে পারে না বা কেউ তার ক্ষতি করতে পারে না)। আর আল্লাহ্ যদি কাউকে শায়েস্তা করেন বা কারো ক্ষতি করেন তবে কেউ তাকে রক্ষা করতে করতে পারে না।” (২৩-সূরা মু’মিনুন: আয়াত-৮৮) “যখন তাদের জন্য তিনি (আল্লাহ্) ছাড়া অন্য কোন অভিভাবক এবং সুপারিশকারী থাকবে না।” (৬-সূরা আল আনআম: আয়াত-৫১) যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করে, যদিও সে তাকে (আল্লাহকে) কিছু পরিমাণে ভালোবাসে তবুও সে ব্যক্তি এ ব্যক্তির চেয়েও অনেক বেশি খারাপ যে নাকি বিশ্বাস ঘাতক হতেও মজা পায়। “যদি এতদুভয়ে (আসমান ও জমিনে) আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ্ থাকত তবে অবশ্যই এতদুভয় (আসমান ও জমিন) ধ্বংস হয়ে যেত অতএব তারা তার সম্বন্ধে যে মিথ্যা বর্ণনা দেয়, আরশের অধিপতি আল্লাহ্ তা থেকে পবিত্র।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া: আয়াত-২২) আমরা ক্ষণস্থায়ী, তিনি চিরস্থায়ী। আমরা দুর্বল তিনি সর্বশক্তিমান। আমরা গরীব, তিনি সর্বাপেক্ষা ধনী। এই কাজগুলো সম্পর্কে দ্বারাই দেখা যায় যে, আমাদের আল্লাহ্ র প্রয়োজন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর প্রতিপালক ও প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে না, সে খুব সম্ভব আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে দেবতা হিসেবে গ্রহণ করবে। উদাহরণস্বরূপ সে নানান বস্তুকে, প্রেমের বস্তুসমূহকে বা নিজের আকাঙ্ক্ষাসমূহকে নিজের দেব-দেবী হিসেবে গ্রহণ করবে এবং তখন সে মিথ্যা দেব-দেবীর গোলাম ও চাকর হয়ে যাবে। “তুমি কি তাকে দেখেছ যে নিজের কামনা-বাসনাকে নিজের ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করেছে?” (২৫-সূরা আল ফুরকান: আয়াত-৪৩) “অথচ তারা তাকে (আল্লাহকে) ছাড়া অন্যান্য দেব-দেবী গ্রহণ করেছে।” (২৫-সূরা আল ফুরকান: আয়াত-৩) নবী করীম ﷺ একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি ক'জনের ইবাদত কর?” লোকটি উত্তর দিল, “আমি সাতজনের ইবাদত করি। ছয়জন জমিনে, একজন আসমানে।” নবী করীম ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, তাদের মধ্য থেকে কার কাছ থেকে তুমি কোন কিছু পাও এবং কাকে তুমি ভয় কর?” সে উত্তর দিল, “আকাশে যিনি আছেন।” নবী করীম ﷺ বলেন, “তাহলে জমিনেরগুলোকে ত্যাগ করে আসমানে যিনি আছেন, তাঁর ইবাদত কর।”

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মনে রাখুন যে আপনি পরম করুণাময়ের সাথে লেনদেন করছেন

📄 মনে রাখুন যে আপনি পরম করুণাময়ের সাথে লেনদেন করছেন


নিম্নোক্ত হাদীসটি আমি যখন পড়েছি তখন আমাকে এটা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং এটা যদি আপনার ওপরেও একই প্রভাব ফেলে তবে আমি এতে বিস্মিত হব না। ইমাম আহমদ (র), ইমাম আবু ইয়ালা (র), ইমাম বাজ্জার (র), এবং ইমাম তাবারানী (র) সকলেই নিম্নোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: “এক বৃদ্ধ লোক লাঠিতে ভর করে নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি অনেক বিশ্বাসঘাতকতা ও পাপ করেছি। আমাকে কি মাফ করা হবে?” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ (উপাস্য) নেই এবং মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর রাসূল?” লোকটি বলল, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!” নবী করীম ﷺ বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ আপনার বিশ্বাসঘাতকতা ও পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন।” “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার” বলতে বলতে লোকটি চলে গেল।”
এ হাদীস থেকে কিছু বিষয় বুঝা যায়। তার একটি হলো- আল্লাহর করুণার বিশালতা। আরেকটি হলো- ইসলাম গ্রহণ বা তওবা অতীতের পাপ মাফ করে দেয়। (অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণ করলে বা তওবা করলে আল্লাহ অতীত পাপকে ক্ষমা করে দেন।) আরো একটি বিষয় হলো যে, যিনি সবকিছু জানেন তাঁর ক্ষমার তুলনার পাহাড় পরিমাণ গুনাহ কিছুই নয়। অবশেষে আল্লাহর ব্যাপক উদারতার প্রতি এবং তাঁর সুদূর প্রসারী করুণার প্রতি আস্থাবান হওয়ার পাশাপাশি আপনার প্রতিপালকের সম্বন্ধে আপনার সুধারণা পোষণ করা আপনার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করা

📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করা


সাবিত ইবনে কায়স (রা) একজন বাগ্মী ছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (সা) এবং ইসলামের পক্ষে কথা বলতেন। যাহোক, তিনি (রা) ভাষণদানে প্রায়ই তার স্বর উচ্চ করে ফেলতেন এবং এর মাঝে মাঝে আল্লাহর রাসূল (সা) এর উপস্থিতিতেও এ ঘটনা ঘটত। “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর আওয়াজের চেয়ে তোমাদের আওয়াজ উচ্চ করিও না এবং তোমরা পরস্পর যেভাবে কথাবার্তা বল সেভাবে তাঁর সাথে কথাবার্তা বলো না, (এ কাজ করে) আবার তোমাদের আমল এমনভাবে বাতিল হয়ে যেতে পারে যে তোমরা তা টেরও পাবে না (এ বিষয়ে লক্ষ্য রেখো)।” (৪৯-সুরা আল হুজুরাত : আয়াত-২) এ আয়াত যখন নাযিল হয় সাবিত (রা) ভাবলেন যে, (এ আয়াতে) তার কথা বলা হচ্ছে, তাই তিনি তাঁর ঘরে একাকী থেকে সর্বদা কান্নাকাটি করতেন। একটি মজলিসে আল্লাহ্র রাসূল ﷺ সাবিত (রা)-এর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করলেন এবং তার সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাইলেন। সাহাবীরা নবী করীম ﷺ কে যা ঘটেছে তা জানালেন এবং নবী করীম ﷺ উত্তর দিলেন “কখনো না বরং সে জান্নাতী (হবে)।” এভাবে সাবিত (রা)-এর ব্যাপারে কঠিন সতর্কতার ভয় শুভ সংবাদে রূপান্তরিত হয়ে গেল।
আয়েশা (রা) অনেক দিনরাত কেঁদেছিলেন। কেননা, তাকে কষ্টদায়ক অপরাধের অপবাদ (তোহমত) দেওয়া হয়েছিল। তিনি পরিস্থিতির কারণে জীর্ণ-শীর্ণ ও বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিলেন। তখন হঠাৎ করে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে সাহায্য আসল এবং কুরআন তাঁকে নিরাপরাধ ও পুত-পবিত্র বলে ঘোষণা করল। “সতী-সাধ্বী সরলমতি যারা তাদের সতীত্বে কোনরূপ কলঙ্ক স্পর্শের কল্পনাও করেনি এমন ঈমানদার নারীদের প্রতি যারা অপবাদ দেয় তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত।” (২৪-সূরা আন নূর: আয়াত-২৩) তাঁর মর্যাদা বাড়ানো হয়েছিল তাই তিনি আল্লাহ্র প্রশংসা করলেন আর ঈমানদারগণও তাঁর সাথে আনন্দ বোধ করেছিল।
যখন তাবুকের যুদ্ধের ডাক পড়েছিল তখন তিনজন মুমিন লোক (যুদ্ধে না গিয়ে) পিছনে রয়ে গিয়েছিল। যারা পিছনে রয়ে গিয়েছিল তাদেরকে নিয়ে ফয়সালাকারী সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ কুরআনের আয়াত নাযিল করলেন। এতে উপরোক্ত তিনজন ঈমানদার ব্যক্তি যারপরনাই দুঃখী হলেন এবং অনুতপ্ত হলেন। তারা বিশ্বাস করতেন যে আল্লাহ্ ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল নেই এবং অল্পকাল পরেই (কিন্তু অল্প সময় তাদের সীমাহীন মনে হয়েছিল) তাদের ক্ষমার সুসংবাদ নিয়ে আয়াত নাযিল হলো।

ফন্ট সাইজ
15px
17px