📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 যদি শান্তি পেতে চান তবে আপনার প্রভুর মুখাপেক্ষী হোন

📄 যদি শান্তি পেতে চান তবে আপনার প্রভুর মুখাপেক্ষী হোন


আল্লাহর বান্দা কেবলমাত্র মহান আল্লাহর অভিমুখী হয়েই শান্তি পেতে পারে। তিনি কুরআনে বহু আয়াতে শান্তির কথা বলেছেন- “অতএবপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর ও মুমিনগণের উপর তাঁর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন।” (৯-সুরা আত তাওবা: আয়াত-২৬) “অত:পর তিনি তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন।” (৪৮-সূরা আল ফাতাহ: আয়াত-২৬) প্রশান্তি বলতে বুঝায় প্রশান্ত চিত্ত ও আল্লাহ্র প্রতি ঈমান ও তাওয়াক্কুল। প্রশান্তি হলো সন্দেহমুক্ত ঈমানদারদের ভোগকৃত শান্ত বা সৌম্য অবস্থা। (অর্থাৎ প্রশান্তি হলো এক শান্ত-সৌম্য অবস্থা যা সংবেদনশীল মুমিনরা ভোগ করে।) আল্লাহ্র সাথে নিকট সম্বন্ধ বা আল্লাহ্র নৈকট্য ও রাসূলের তরীক্বা একনিষ্ঠভাবে পালন করা অনুসারেই এ প্রশান্তি ও শান্তি অর্জিত হয়ে থাকে বা অর্জন করা যায়। “যারা শাশ্বত স্থায়ীত্বে ঈমান এনেছে আল্লাহ্র তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।” (১৪-সূরা ইবরাহীম: আয়াত-২৭)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 হে আল্লাহ! হে আল্লাহ!

📄 হে আল্লাহ! হে আল্লাহ!


“(হে মুহাম্মাদ صلى الله عليه و سلم!) আপনি বলুন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তা হতে এবং (অন্যান্য) প্রত্যেক দুঃখ কষ্ট হতে উদ্ধার করেন।” (৬-সূরা আন’আম : আয়াত-৬৪) “আল্লাহ কি তার বান্দার জন্য যথেষ্ট নয়?” (৩৯-সূরা আয-যুমার : আয়াত-৩৬) “(হে মুহাম্মাদ صلى الله عليه ও سلم!) আপনি বলুন, ‘কে তোমাদেরকে স্থলভাগ ও সাগরের অন্ধকার হতে উদ্ধার করেন?” (৬-সূরা আন’আম : আয়াত-৬৩) “এবং দেশে যাদেরকে দুর্বল করা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে আমি ইচ্ছা করলাম।” (২৮-সূরা আল কাসাস : আয়াত-৫) মহান আল্লাহ আদম (আ) সম্বন্ধে বলেছেন : “অতঃপর তার প্রভু তাকে মনোনীত করলেন, তার তওবা কবুল করলেন (তার প্রতি দয়াপরবশ হলেন বা তাঁকে ক্ষমা প্রদর্শন করলেন) এবং তাকে পথ-নির্দেশ দান করলেন।” (২০-সূরা দ্বাহা : আয়াত-১২২)
এবং নবী নূহ (আ) সম্বন্ধে (আল্লাহ বলেছেন) : “আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম, তাকে এবং এবং তাঁর পরিবারকে মহাসংকট বা ভীষণ দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিলাম।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৭৬) এবং ইব্রাহীম নবী (আ) সম্বন্ধে (বলেছেন)- “আমি (আল্লাহ) বললাম, হে আগুন! তুমি ইব্রাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৬৮) এবং ইয়াকুব নবী সম্বন্ধে : “সুতরাং আল্লাহ তাদেরকে একসঙ্গে আমার নিকট এনে দিবেন।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-৯৯) এবং ইউসুফ নবী সম্বন্ধে : “তিনি (আল্লাহ) অবশ্যই আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, কেননা তিনি আমাকে জেলখানা থেকে বের করে এনেছেন এবং আপনাদেরকে মরু অঞ্চল (বা বেদুঈন জীবন) হতে দিয়ে এসেছেন।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-১০০) এবং নবী দাউদ (আ) সম্বন্ধে আল্লাহ বলেছেন : “অতঃপর আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং আমার নিকট তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও সুন্দর প্রত্যাবর্তনস্থল (জান্নাত)।” (৩৮-সূরা ছোয়াদ : আয়াত-২৫) এবং আইয়ুব নবী সম্বন্ধে : “আর তার যে কষ্ট ছিল আমি তা দূর করে দিলাম।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৮৪) এবং নবী ইউনূস (আ) সম্বন্ধে : “আর আমি তাকে দুশ্চিন্তা (দুঃখ-কষ্ট ও সংকট) হতে মুক্তি দিলাম।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৮৮) এবং মূসা (আ) সম্বন্ধে : “কিন্তু আমি তোমাকে মনোকষ্টে মুক্তি দিলাম।” (২০-সূরা ত্বাহা : আয়াত-৪০) এবং নবী (মুহাম্মাদ صلى الله عليه ও سلم) সম্বন্ধে (আল্লাহ বলেছেন) : “যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর (তাতে কিছু যায় আসে না) কারণ, আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করেছেন।” (৯-সূরা তওবা : আয়াত-৪০) “তিনি কি তোমাকে এতিম পেয়ে আশ্রয় দেননি? এবং তিনি কি তোমাকে পথহারা পেয়ে পথের সন্ধান দেননি? এবং তিনি কি তোমাকে দরিদ্র পেয়ে (আর্থিকছাড় দিয়ে) নির্ধন করেননি?” (৯৩-সূরা আদ দোহা : আয়াত-৬-৮) “সর্বক্ষণ তিনি (কাউকে সম্মানিত করা, কাউকে জীবন দান, কাউকে মৃত্যূদান ইত্যাদি) কাজে ব্যস্ত থাকেন।” (৫৫-সূরা আর রহমান : আয়াত-২৯)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 প্রভুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না

📄 প্রভুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন না


অল্পে তুষ্ট হয়ে তাদের মতো হওয়া থেকে বাঁচা যায় যারা বিধান ও শাসনের ব্যাপারে তাদের প্রচুর বিরুদ্ধ অভিযোগ করে। এ কথা বুঝতে হলে ইবলিসের ঘটনার দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সে তার প্রভুর সাথে তর্ক করেছিল, কারণ সে তাঁর বিধান ও শাসনের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিল। যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে, তারা এমনটা শুধু এ কারণেই করে যে তারা তাঁর নিকট আত্মসমর্পণের পরিবর্তে তারা তাঁর শক্তি ও ক্ষমতার ব্যাপারে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়, তখন তারা তাঁর আদেশসমূহকে পরিত্যাগ করে, যা হারাম তা করে এবং অসন্তোষ প্রকাশ করে তাঁর স্বর্গীয় বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে।
আল্লাহ তাঁর বিধান তাঁর উপর অধঃস্থিত; এটা ঘটবেই এবং এটা ন্যায্য বিধান; যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে- “আমার ব্যাপারে আপনার বিধান ঘটবেই এবং আমার ব্যাপারে আপনার ফায়সালা ন্যায়সঙ্গত।” আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জুলুম করা নিজের উপর হারাম করে দিয়েছেন। আসলে মানুষেরাই অন্যায়-অত্যাচার করে। উপরে উল্লেখিত হাদীসের অংশ, “এবং আমার ব্যাপারে আপনার ফায়সালা ন্যায়সঙ্গত।” পাপের বিধান, পাপের কুফল ও পাপের শাস্তিও অন্তর্ভুক্ত করে। পাপ এবং পাপের শাস্তি সবচেয়ে আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে আল্লাহ্ সর্বাপেক্ষা ন্যায়পরায়ণ। তিনি তাঁর কোন ব্যাপার এবং বিধান এমন সব কারণেও রাখতে পারেন যা আমাদের বুঝের বাইরে। এমন কোন উদ্দেশ্যও থাকতে পারে- যা ব্যাখ্যা বিশ্বাসে খুবই গভীর হওয়াতে একমাত্র তাঁরই জানা। আর এটাই মুসলমানদের বিশ্বাস।
“তারাই কি আপনার প্রভুর করুণা বণ্টন করে?!” (৪৩-সূরা আয যুখরুফ : আয়াত-৩২)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 বিশ্বাসীদের আল্লাহ রক্ষা করেন

📄 বিশ্বাসীদের আল্লাহ রক্ষা করেন


প্রতিটি মানুষেরই একজন প্রভু প্রয়োজন: সে এটা স্বীকার করুক বা না-ই করুক। আর প্রভুর অবশ্যই সর্বশক্তিমত্তা, ক্ষমতা, ধনাঢ্যতা ও চিরজীবাত্মা এ ধরনের কিছু গুণ থাকা উচিত। যার এসব গুণ ও অন্যান্য পরম ও নিখুঁত গুণ আছে তিনি হলেন সমগ্র বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহ্। অতএব, একনিষ্ঠ সত্যান্বেষী ব্যক্তি আল্লাহ্র অস্তিত্বই খোঁজে এবং তারপর আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাসে শান্তি খুঁজে পায়। তিনি (আল্লাহ্) দুর্বল ও আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয়। “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য চাইলে, তাই তিনি তোমাদেরকে সাহায্য দিয়েছিলেন সে কথা স্মরণ কর।” (৮-সূরা আনফাল: আয়াত-৯) “তিনি সকলকেই রক্ষা করেন, পক্ষান্তরে তাকে রক্ষা করতে হয় না। (আল্লাহ্ যদি কাউকে রক্ষা করেন তবে কেউ তাকে শাস্তি দিতে পারে না বা কেউ তার ক্ষতি করতে পারে না)। আর আল্লাহ্ যদি কাউকে শায়েস্তা করেন বা কারো ক্ষতি করেন তবে কেউ তাকে রক্ষা করতে করতে পারে না।” (২৩-সূরা মু’মিনুন: আয়াত-৮৮) “যখন তাদের জন্য তিনি (আল্লাহ্) ছাড়া অন্য কোন অভিভাবক এবং সুপারিশকারী থাকবে না।” (৬-সূরা আল আনআম: আয়াত-৫১) যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করে, যদিও সে তাকে (আল্লাহকে) কিছু পরিমাণে ভালোবাসে তবুও সে ব্যক্তি এ ব্যক্তির চেয়েও অনেক বেশি খারাপ যে নাকি বিশ্বাস ঘাতক হতেও মজা পায়। “যদি এতদুভয়ে (আসমান ও জমিনে) আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ্ থাকত তবে অবশ্যই এতদুভয় (আসমান ও জমিন) ধ্বংস হয়ে যেত অতএব তারা তার সম্বন্ধে যে মিথ্যা বর্ণনা দেয়, আরশের অধিপতি আল্লাহ্ তা থেকে পবিত্র।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া: আয়াত-২২) আমরা ক্ষণস্থায়ী, তিনি চিরস্থায়ী। আমরা দুর্বল তিনি সর্বশক্তিমান। আমরা গরীব, তিনি সর্বাপেক্ষা ধনী। এই কাজগুলো সম্পর্কে দ্বারাই দেখা যায় যে, আমাদের আল্লাহ্ র প্রয়োজন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর প্রতিপালক ও প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে না, সে খুব সম্ভব আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে দেবতা হিসেবে গ্রহণ করবে। উদাহরণস্বরূপ সে নানান বস্তুকে, প্রেমের বস্তুসমূহকে বা নিজের আকাঙ্ক্ষাসমূহকে নিজের দেব-দেবী হিসেবে গ্রহণ করবে এবং তখন সে মিথ্যা দেব-দেবীর গোলাম ও চাকর হয়ে যাবে। “তুমি কি তাকে দেখেছ যে নিজের কামনা-বাসনাকে নিজের ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করেছে?” (২৫-সূরা আল ফুরকান: আয়াত-৪৩) “অথচ তারা তাকে (আল্লাহকে) ছাড়া অন্যান্য দেব-দেবী গ্রহণ করেছে।” (২৫-সূরা আল ফুরকান: আয়াত-৩) নবী করীম ﷺ একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি ক'জনের ইবাদত কর?” লোকটি উত্তর দিল, “আমি সাতজনের ইবাদত করি। ছয়জন জমিনে, একজন আসমানে।” নবী করীম ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, তাদের মধ্য থেকে কার কাছ থেকে তুমি কোন কিছু পাও এবং কাকে তুমি ভয় কর?” সে উত্তর দিল, “আকাশে যিনি আছেন।” নবী করীম ﷺ বলেন, “তাহলে জমিনেরগুলোকে ত্যাগ করে আসমানে যিনি আছেন, তাঁর ইবাদত কর।”

ফন্ট সাইজ
15px
17px