📄 আমি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান রাখি
যে সকল বিষয় ঈমানদারদের সুখ বয়ে আনে তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া, তাঁর উপর নির্ভর করা, তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখা ও তার রক্ষণাবেক্ষণে সন্তুষ্ট থাকা। “তাঁর মতো কোন কিছুর কথা কি তুমি জান?” (১৯-সূরা মারইয়াম: আয়াত-৬৫) “নিশ্চয় আল্লাহই আমার অভিভাবক যিনি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব করেন।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-১৯৬) “জেনে রাখ: নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা হতাশও হবেন না।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-৬২) আল্লাহর বন্ধু তারাই যারা (মু'মিন, মুসলিম) আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহকে অত্যন্ত ভয় করে, সকল প্রকার পাপ ও মন্দ কাজ যা আল্লাহ করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকে এবং আল্লাহকে অত্যন্ত ভালোবাসে এবং আল্লাহ যে সব ভালোকাজ করতে আদেশ করেছেন তা সম্পাদন করে।
📄 আল্লাহর বিশ্বাসই মুক্তির উপায়
“এবং আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি।” (৪০-সুরা আল মু'মিন : ৪৪) “আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আসে না, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।” (৬৪-সুরা আত তাগাবুন : আয়াত-১১) যে ব্যক্তি বুঝে যে দুর্ভোগ ভাগ্যের পূর্ব নির্ধারিত বা তকদীর অনুসারেই আসে আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। “তিনি (উম্মি নবী রাসূলুল্লাহ ﷺ) তাদেরে বোঝা মুক্ত করেন এবং সে শৃঙ্খল মুক্ত করেন যা তাদের উপর ছিল।” (৭-সুরা আল আ'রাফ : আয়াত-১৫৭)
কার্লস মিয়ারসন, এলগ্রিস কারলাইল ও ডেল কার্নেগীর মতো কতিপয় পশ্চিমা লেখকগণও নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন যে, বস্তুবাদী মানসিকতা সম্পন্ন পতনশীল পাশ্চাত্যের রক্ষার একমাত্র উপায় হলো ঈশ্বরের প্রতি ঈমান (বিশ্বাস)। তারা এ মতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, পাশ্চাত্যের সদা বর্ধনশীল ভয়ংকর আত্মহত্যার ঘটনার পিছনে যে কারণ রয়েছে তা হলো নাস্তিকতা ও সব কিছুর প্রতিপালক ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের (বা ইমানের) অভাব।
“যারা আল্লাহর পথ হতে বিপথগামী হয় তাদের জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি, কেননা তারা বিচার দিবসকে ভুলে গেছে।” (৩৮-সুরা ছোয়াদ : আয়াত-২৬) “আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল। পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে বা বাতাস তাকে দূরে কোথাও ছুঁড়ে নিয়ে যাবে।” (২২-সুরা আল হাজ্জ : আয়াত-৩১)
অযু করে বিনয়-নম্রতা ও হুযূরী কলবের সাথে দু'রাকাত (সালাতুল হাজত) সালাত আদায় করলে আপনার থেকে দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা দূর হওয়ার গ্যারান্টি আছে। “অতএব, তারা যা বলে সে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে (ফজর), সূর্যাস্তের পূর্বে (আছর) রাতের বেলায় (মাগরিব ও ইশা) ও দিবসের প্রাতে (সুস্থ হওয়ার পর জোহর) (সালাতের মাধ্যমে) তোমার প্রভুর প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। যাতে করে তুমি (এ কাজের ফলে তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে পুরস্কার পেয়ে) সন্তুষ্ট হতে পার।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-১৩০)
📄 যদি শান্তি পেতে চান তবে আপনার প্রভুর মুখাপেক্ষী হোন
আল্লাহর বান্দা কেবলমাত্র মহান আল্লাহর অভিমুখী হয়েই শান্তি পেতে পারে। তিনি কুরআনে বহু আয়াতে শান্তির কথা বলেছেন- “অতএবপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর ও মুমিনগণের উপর তাঁর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন।” (৯-সুরা আত তাওবা: আয়াত-২৬) “অত:পর তিনি তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন।” (৪৮-সূরা আল ফাতাহ: আয়াত-২৬) প্রশান্তি বলতে বুঝায় প্রশান্ত চিত্ত ও আল্লাহ্র প্রতি ঈমান ও তাওয়াক্কুল। প্রশান্তি হলো সন্দেহমুক্ত ঈমানদারদের ভোগকৃত শান্ত বা সৌম্য অবস্থা। (অর্থাৎ প্রশান্তি হলো এক শান্ত-সৌম্য অবস্থা যা সংবেদনশীল মুমিনরা ভোগ করে।) আল্লাহ্র সাথে নিকট সম্বন্ধ বা আল্লাহ্র নৈকট্য ও রাসূলের তরীক্বা একনিষ্ঠভাবে পালন করা অনুসারেই এ প্রশান্তি ও শান্তি অর্জিত হয়ে থাকে বা অর্জন করা যায়। “যারা শাশ্বত স্থায়ীত্বে ঈমান এনেছে আল্লাহ্র তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।” (১৪-সূরা ইবরাহীম: আয়াত-২৭)
📄 হে আল্লাহ! হে আল্লাহ!
“(হে মুহাম্মাদ صلى الله عليه و سلم!) আপনি বলুন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তা হতে এবং (অন্যান্য) প্রত্যেক দুঃখ কষ্ট হতে উদ্ধার করেন।” (৬-সূরা আন’আম : আয়াত-৬৪) “আল্লাহ কি তার বান্দার জন্য যথেষ্ট নয়?” (৩৯-সূরা আয-যুমার : আয়াত-৩৬) “(হে মুহাম্মাদ صلى الله عليه ও سلم!) আপনি বলুন, ‘কে তোমাদেরকে স্থলভাগ ও সাগরের অন্ধকার হতে উদ্ধার করেন?” (৬-সূরা আন’আম : আয়াত-৬৩) “এবং দেশে যাদেরকে দুর্বল করা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে আমি ইচ্ছা করলাম।” (২৮-সূরা আল কাসাস : আয়াত-৫) মহান আল্লাহ আদম (আ) সম্বন্ধে বলেছেন : “অতঃপর তার প্রভু তাকে মনোনীত করলেন, তার তওবা কবুল করলেন (তার প্রতি দয়াপরবশ হলেন বা তাঁকে ক্ষমা প্রদর্শন করলেন) এবং তাকে পথ-নির্দেশ দান করলেন।” (২০-সূরা দ্বাহা : আয়াত-১২২)
এবং নবী নূহ (আ) সম্বন্ধে (আল্লাহ বলেছেন) : “আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম, তাকে এবং এবং তাঁর পরিবারকে মহাসংকট বা ভীষণ দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিলাম।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৭৬) এবং ইব্রাহীম নবী (আ) সম্বন্ধে (বলেছেন)- “আমি (আল্লাহ) বললাম, হে আগুন! তুমি ইব্রাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৬৮) এবং ইয়াকুব নবী সম্বন্ধে : “সুতরাং আল্লাহ তাদেরকে একসঙ্গে আমার নিকট এনে দিবেন।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-৯৯) এবং ইউসুফ নবী সম্বন্ধে : “তিনি (আল্লাহ) অবশ্যই আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, কেননা তিনি আমাকে জেলখানা থেকে বের করে এনেছেন এবং আপনাদেরকে মরু অঞ্চল (বা বেদুঈন জীবন) হতে দিয়ে এসেছেন।” (১২-সূরা ইউসুফ : আয়াত-১০০) এবং নবী দাউদ (আ) সম্বন্ধে আল্লাহ বলেছেন : “অতঃপর আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং আমার নিকট তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও সুন্দর প্রত্যাবর্তনস্থল (জান্নাত)।” (৩৮-সূরা ছোয়াদ : আয়াত-২৫) এবং আইয়ুব নবী সম্বন্ধে : “আর তার যে কষ্ট ছিল আমি তা দূর করে দিলাম।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৮৪) এবং নবী ইউনূস (আ) সম্বন্ধে : “আর আমি তাকে দুশ্চিন্তা (দুঃখ-কষ্ট ও সংকট) হতে মুক্তি দিলাম।” (২১-সূরা আল আম্বিয়া : আয়াত-৮৮) এবং মূসা (আ) সম্বন্ধে : “কিন্তু আমি তোমাকে মনোকষ্টে মুক্তি দিলাম।” (২০-সূরা ত্বাহা : আয়াত-৪০) এবং নবী (মুহাম্মাদ صلى الله عليه ও سلم) সম্বন্ধে (আল্লাহ বলেছেন) : “যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর (তাতে কিছু যায় আসে না) কারণ, আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করেছেন।” (৯-সূরা তওবা : আয়াত-৪০) “তিনি কি তোমাকে এতিম পেয়ে আশ্রয় দেননি? এবং তিনি কি তোমাকে পথহারা পেয়ে পথের সন্ধান দেননি? এবং তিনি কি তোমাকে দরিদ্র পেয়ে (আর্থিকছাড় দিয়ে) নির্ধন করেননি?” (৯৩-সূরা আদ দোহা : আয়াত-৬-৮) “সর্বক্ষণ তিনি (কাউকে সম্মানিত করা, কাউকে জীবন দান, কাউকে মৃত্যূদান ইত্যাদি) কাজে ব্যস্ত থাকেন।” (৫৫-সূরা আর রহমান : আয়াত-২৯)