📄 আল্লাহর নিকট আশ্রয় চান
আল্লাহ্ : একমাত্র মহান ও মহিমান্বিত নাম। এর শব্দের মূল থেকে আমরা বিশেষ অর্থ শিখতে পারি। কেউ কেউ বলেন اللَّهُ শব্দ أَلِهُ ধাতু থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো যাকে মানুষের অন্তর ভালোবাসে, যাতে তারা শান্তি পায়, সুখী হয় যার অভিমুখে ধায় ও যাকে উপাস্য বা প্রভু হিসেবে মান্য করা হয়। অবশ্য তিনি ছাড়া অন্যের নিকট শান্তি পাওয়া অসম্ভব। এ কারণেই রাসূল ﷺ (তাঁর কন্যা) ফাতেমা (রা)-কে দুর্দশাগ্রস্ত লোকের জন্য দোয়া শিখিয়ে দিয়েছিলেন। (যা হলো) “আল্লাহ আল্লাহই আমার প্রতিপালক, আমি তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক সাব্যস্ত করি না।”
“বল ‘আল্লাহই (এটি অবতীর্ণ করেছেন) অতঃপর তাদের তাদের নিরর্থক কথাবার্তার খেলায় ছেড়ে দাও।” (৬-সুরা আল আন'আম : আয়াত-৯১)
“তিনি তাঁর বান্দাদের উপর পরাক্রমশালী।” (৬-সুরা আল আন'আম : আয়াত-১৮)
“আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি পরম করুণাময় ও দয়ালু।” (৪২-সুরা আশ শুরা : আয়াত-১৯)
“তারা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান প্রদান করেনি। অথচ কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবীটা তাঁর হাতের মুঠোয় থাকবে এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে গোটানো অবস্থায় থাকবে। তারা (তাঁর সাথে) যা কিছু শরীক সাব্যস্ত করে তিনি তা থেকে পবিত্র ও তাঁর উর্ধ্বে।” (৩৯-সুরা যুমার : আয়াত-৬৭)
“লিখিত দফতর যেভাবে ওঠানো হয় সেদিন আমি আকাশকে সেভাবে গুটিয়ে ফেলব।” (২১-সুরা আল আম্বিয়া : আয়াত-১০৪)
“নিশ্চয় আল্লাহ আকাশসমূহকে ও পৃথিবীকে আঁকড়িয়ে (ধরে) রেখেছেন যাতে সেগুলো টলে না যায়।” (৩৫-সুরা ফাতির : আয়াত-৪১)
📄 আমি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান রাখি
যে সকল বিষয় ঈমানদারদের সুখ বয়ে আনে তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া, তাঁর উপর নির্ভর করা, তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখা ও তার রক্ষণাবেক্ষণে সন্তুষ্ট থাকা। “তাঁর মতো কোন কিছুর কথা কি তুমি জান?” (১৯-সূরা মারইয়াম: আয়াত-৬৫) “নিশ্চয় আল্লাহই আমার অভিভাবক যিনি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব করেন।” (৭-সূরা আল আ'রাফ : আয়াত-১৯৬) “জেনে রাখ: নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা হতাশও হবেন না।” (১০-সূরা ইউনুস : আয়াত-৬২) আল্লাহর বন্ধু তারাই যারা (মু'মিন, মুসলিম) আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহকে অত্যন্ত ভয় করে, সকল প্রকার পাপ ও মন্দ কাজ যা আল্লাহ করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকে এবং আল্লাহকে অত্যন্ত ভালোবাসে এবং আল্লাহ যে সব ভালোকাজ করতে আদেশ করেছেন তা সম্পাদন করে।
📄 আল্লাহর বিশ্বাসই মুক্তির উপায়
“এবং আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর নিকট সোপর্দ করছি।” (৪০-সুরা আল মু'মিন : ৪৪) “আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন বিপদই আসে না, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।” (৬৪-সুরা আত তাগাবুন : আয়াত-১১) যে ব্যক্তি বুঝে যে দুর্ভোগ ভাগ্যের পূর্ব নির্ধারিত বা তকদীর অনুসারেই আসে আল্লাহ তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। “তিনি (উম্মি নবী রাসূলুল্লাহ ﷺ) তাদেরে বোঝা মুক্ত করেন এবং সে শৃঙ্খল মুক্ত করেন যা তাদের উপর ছিল।” (৭-সুরা আল আ'রাফ : আয়াত-১৫৭)
কার্লস মিয়ারসন, এলগ্রিস কারলাইল ও ডেল কার্নেগীর মতো কতিপয় পশ্চিমা লেখকগণও নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন যে, বস্তুবাদী মানসিকতা সম্পন্ন পতনশীল পাশ্চাত্যের রক্ষার একমাত্র উপায় হলো ঈশ্বরের প্রতি ঈমান (বিশ্বাস)। তারা এ মতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, পাশ্চাত্যের সদা বর্ধনশীল ভয়ংকর আত্মহত্যার ঘটনার পিছনে যে কারণ রয়েছে তা হলো নাস্তিকতা ও সব কিছুর প্রতিপালক ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের (বা ইমানের) অভাব।
“যারা আল্লাহর পথ হতে বিপথগামী হয় তাদের জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি, কেননা তারা বিচার দিবসকে ভুলে গেছে।” (৩৮-সুরা ছোয়াদ : আয়াত-২৬) “আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল। পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে বা বাতাস তাকে দূরে কোথাও ছুঁড়ে নিয়ে যাবে।” (২২-সুরা আল হাজ্জ : আয়াত-৩১)
অযু করে বিনয়-নম্রতা ও হুযূরী কলবের সাথে দু'রাকাত (সালাতুল হাজত) সালাত আদায় করলে আপনার থেকে দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা দূর হওয়ার গ্যারান্টি আছে। “অতএব, তারা যা বলে সে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে (ফজর), সূর্যাস্তের পূর্বে (আছর) রাতের বেলায় (মাগরিব ও ইশা) ও দিবসের প্রাতে (সুস্থ হওয়ার পর জোহর) (সালাতের মাধ্যমে) তোমার প্রভুর প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। যাতে করে তুমি (এ কাজের ফলে তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে পুরস্কার পেয়ে) সন্তুষ্ট হতে পার।” (২০-সুরা ত্বাহা : আয়াত-১৩০)
📄 যদি শান্তি পেতে চান তবে আপনার প্রভুর মুখাপেক্ষী হোন
আল্লাহর বান্দা কেবলমাত্র মহান আল্লাহর অভিমুখী হয়েই শান্তি পেতে পারে। তিনি কুরআনে বহু আয়াতে শান্তির কথা বলেছেন- “অতএবপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর ও মুমিনগণের উপর তাঁর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন।” (৯-সুরা আত তাওবা: আয়াত-২৬) “অত:পর তিনি তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন।” (৪৮-সূরা আল ফাতাহ: আয়াত-২৬) প্রশান্তি বলতে বুঝায় প্রশান্ত চিত্ত ও আল্লাহ্র প্রতি ঈমান ও তাওয়াক্কুল। প্রশান্তি হলো সন্দেহমুক্ত ঈমানদারদের ভোগকৃত শান্ত বা সৌম্য অবস্থা। (অর্থাৎ প্রশান্তি হলো এক শান্ত-সৌম্য অবস্থা যা সংবেদনশীল মুমিনরা ভোগ করে।) আল্লাহ্র সাথে নিকট সম্বন্ধ বা আল্লাহ্র নৈকট্য ও রাসূলের তরীক্বা একনিষ্ঠভাবে পালন করা অনুসারেই এ প্রশান্তি ও শান্তি অর্জিত হয়ে থাকে বা অর্জন করা যায়। “যারা শাশ্বত স্থায়ীত্বে ঈমান এনেছে আল্লাহ্র তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।” (১৪-সূরা ইবরাহীম: আয়াত-২৭)