📄 আপনার প্রভু সম্বন্ধে সুধারণা পোষণ করুন
উইলিয়াম জেমস বলেছেন- “আল্লাহ আমাদের পাপসমূহকে ক্ষমা করেছেন, কিন্তু আমাদের মানুষত্ব (মন) তা করে না।”
ইবনুল ওয়ায়ীর তাঁর “আল আওয়াসিম ওয়াল ক্বাওয়াসিম (الْعَوَاصِمُ وَالْقَوَاصِمُ)” নামক পুস্তকে বলেছেন- “নিশ্চয় আল্লাহর রহমতের আশা করলে বান্দার আশার দুয়ার খুলে যায়, এতে তাঁর ইবাদতের আগ্রহ বাড়ে, নফল ইবাদতে উৎসাহী হতে এবং সৎকাজে প্রতিযোগিতা করতে প্রেরণা যোগায়।”
বিশেষ করে একথা এ কারণে সত্য যে, কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর দয়া, ক্ষমা ও মাহাত্ম্যের কথা স্মরণ না হলে সৎকাজ করার জন্য তাদের মনে সাড়া জাগে না। এসব গুণ নিয়ে ভেবে দেখলে ফল এ দাঁড়ায় যে, তারা অধ্যবসায়ের সাথে সৎ কাজ করে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে চায়।
📄 আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস থাকা পর্যন্ত হতাশ হবেন না
সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি ঈমান সুখ-শান্তির দিকে নিয়ে যায়, পক্ষান্তরে অবিশ্বাস বা কুফুরি বিভ্রান্তি ও দুঃখ-দুর্দশার পথে পরিচালিত করে। আমি বিশেষ ধরনের অনেক মেধাবী লোক-সম্বন্ধে পড়াশোনা করেছি; এদের কিছু লোককে প্রতিভাবানও বলা চলে; এরা প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও এদের অন্তর হেদায়েতের আলোবর্জিত এবং সত্যিকারের অর্থে এরা শরীয়ত সম্বন্ধে মন্দ কথাই বলেছে। দু’টি উদাহরণ মনে পড়ল–
আবুল আলা আলমুয়াররুরি শরীয়ত সম্বন্ধে বলেছে, “পরস্পর বিরোধী, যার সম্বন্ধে আমরা চুপ থাকা ছাড়া কিছুই করতে পারি না।” দ্বিতীয়টি হলো ইবনে সীনার উক্তি, “যা কিছু প্রকৃতির উপর প্রভাব ফেলে তা হলো কার্যকর মেধা।”
এভাবে আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহর প্রতি যতটুকু ঈমান থাকবে ততটুকুই সুখী হওয়া যাবে। অতি আধুনিককালের কিছু কথার অর্থ উপরের দু'টি কথার অর্থের মতই, এগুলো প্রাচীনকালের ফেরআউনের কথার উত্তরসূরী–
“ফেরআউন বলেছিল, হে পরিষদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ আছে বলে আমার জানা নেই।” (২৮-সূরা আল কাহাফ : আয়াত-৩৮)
“ফেরআউন বলেছিল : আমি তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু।” (৭৯-সূরা আন নাযিআত : আয়াত-২৪)
'How Man Thinks' গ্রন্থের গ্রন্থকার জেমস এলেন বলেছেন, “মানব জাতি বুঝতে পারবে যে, বস্তু ও মানুষ সম্বন্ধে তাদের ধারণা সতত পরিবর্তনশীল এবং বস্তু ও মানুষও পরিবর্তনশীল। ধরুন কেহ তার ধারণা পাল্টাল আর আমরা জেনে আশ্চর্য হব যে, কত শীঘ্রই তার পার্থিব জীবন পরিবর্তিত হয়ে যায়। অতএব যে পবিত্র বস্তু আমাদের উদ্দেশ্যকে গঠন করে তা আমরা নিজেরাই।” ভুল ধারণা ও তার কুফল সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন–
“বরং তোমরা ধারণা করেছিল যে, রাসূল ও মুমিনগণ কখনো তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসতে পারবে না এবং এটা তোমাদের মনে সুন্দর লেগেছিল। তোমরা মন্দ ধারণা করেছিলে এবং তোমরা ধ্বংসশীল জাতি হয়ে গিয়েছিলে।” (৪৮-সূরা আল ফাতহ: আয়াত-১২)
“তারা জাহেলদের মতো আল্লাহ সম্বন্ধে ভুল ধারণা করেছিল; তারা বলত, ‘কাজে আমাদের কি কোনো ভূমিকা আছে?’ (হে মুহাম্মাদ!) বলুন, ‘নিশ্চয় সকল কাজই আল্লাহর অধিকারে।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৫৪)
জেমস এলেন আরো বলেছেন-
“মানুষ যা করে তা তার ব্যক্তিগত চিন্তার প্রত্যক্ষ ফল এবং তার চিন্তার মধ্য দিয়ে তার লক্ষ্য অর্জন ও জয় করে নিতে সক্ষম। সে যদি একথা অস্বীকার করে তবে সে দুর্বল ও দুর্দশাগ্রস্ত থেকে যাবে।”
সর্বশক্তিমান আল্লাহ সত্যিকার দৃঢ় প্রত্যয় ও সঠিক চিন্তাভাবনা সম্বন্ধে বলেছেন-
“যদি তারা অভিযানে বের হবার ইচ্ছা করত তবে তারা এর জন্য প্রস্তুতি নিত; কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রেরণকে অপছন্দ করেছেন, তাই তিনি তাদেরকে পিছনে (বসিয়ে) রেখেছেন।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪৬)
“তাদের মাঝে কোনো কল্যাণ আছে বলে যদি আল্লাহ জানতেন তবে তিনি তাদেরকে শ্রবণ করাতেন।” (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-২৩)
“তাদের অন্তরে যা ছিল আল্লাহ তা জেনে নিয়েছেন এবং তিনি তাদেরকে পুরস্কার হিসেবে আসন্ন বিজয়ের সংবাদ প্রদান করেন।” (৪৮-সূরা আল ফাতহ: আয়াত-১৮)
📄 আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আঁকড়িয়ে ধরবেন না
মহান আল্লাহই যদি জীবন মৃত্যুর মালিক হন এবং তিনি একাই যদি সকল সৃষ্টির রিযিক যোগিয়ে থাকেন তবে কেন মানুষকে ভয় করা বা তাদের কাজে দুঃখ পাওয়া? আমি মনে করি আমাদের সমাজে অনেক দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তা-উদ্বিঘ্নতা মানুষের সাথে আমাদের সম্পূর্ণতার কারণেই হয়, তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে চাওয়ার কারণে, তাদের করুণা পাওয়ার চেষ্টা করার কারণে, তাদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রশংসা করার জন্য চেষ্টা করার কারণে এবং তাদের অপমানকর ব্যবহারে মনে আঘাত পাওয়ার কারণেই হয়। আর এসব কিছু দ্বারা আল্লাহর প্রতি মানুষের ঈমানের দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
“জীবন যখন দুঃসহ তখন যদি তুমি সন্তুষ্ট থাকতে, আর যখন লোকেরা থাকে রাগাম্বিত তখন যদি তুমি তৃপ্ত থাকতে, যদি আল্লাহর প্রতি তোমার ভালোবাসা খাঁটি হয় তবে অন্য সব কিছুই তুচ্ছ। আর ময়লার উপরের সব কিছুই ময়লা।”
📄 আমাদের জন্য একমাত্র আল্লাহই যথেষ্ট আর তিনি কতইনা উত্তম অভিভাবক!
ইবরাহীম (আ)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তখন তিনি এ কালিমা حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ বলেছিলেন এবং এর ফলে আগুন তার জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়েছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহুদের যুদ্ধে এ কালিমা পাঠ করেছিলেন আর তাই আল্লাহ তাঁকে বিজয়ী করেছিলেন। যখন ইবরাহীম (আ)-কে অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তখন জিব্রাঈল (আ) এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আমার কাছ থেকে আপনি কি কিছু চান?” ইবরাহীম (আ) আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিয়েছিলেন, “আপনার কাছ থেকে নয় বরং আল্লাহর কাছ থেকে চাই!”
মূসা (আ)-এর পিছন থেকে শত্রুরা ধাওয়া করছে আর তার সামনে সাগর; এমন অবস্থায় তিনি বললেন—
“(আমি ধ্বংস হব!) কক্ষনো নয়, নিশ্চয় আমার সাথে আমার প্রভু আছেন; তিনি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন।” (২৬-সূরা আশ শুআরা: আয়াত-৬২)
সাহাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরতের সময় (পথিমধ্যে) গুহাতে লুকিয়ে ছিলেন তখন আল্লাহর হুকুমে একটি কবুতর ও একটি মាកড়সা এসে গুহার মুখে তাদের বাসা বানিয়ে ফেলল, যা দেখে স্বাভাবিকভাবে মনে হয়েছিল যে সে গুহাতে কোন লোক প্রবেশ করেনি। আর তাই কাফেররাও বলেছিল যে, “এ গুহাতে মুহাম্মাদ প্রবেশ করেনি।”
যারা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করেন। বিখ্যাত আরব কবি আল্লামা বুসরী বলেছেন—
“সকল সৃষ্টির সেরা সৃষ্টি যেখানে আছেন সেখানে কবুতর ও মাকড়সা বাসা বাঁধতে পারে কাফেরা এমনটা ধারণাও করতে পারেনি। আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে শক্ত বর্ম ও সুউচ্চ দুর্গ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছিল। (আল্লাহর হেফাজতের কারণে সেগুলোর কোন প্রয়োজন হয়নি)।
বিখ্যাত আরব কবি (আহমদ) শাওকী বলেছেন-
“যখন আল্লাহর সাহায্যের দৃষ্টি তোমার উপর পড়ে তখন তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও; কেন না তখন যা কিছু ঘটবে সবই নিরাপদ।”
“কেননা তুমি আমার নজরে আছ।” (৫২-সুরা আত্ব তূর : আয়াত-৪৮)
“কেননা আল্লাহ হলেন উত্তম রক্ষক এবং তিনি সর্বাপেক্ষা করুণাময়।” (১২-সুরা ইউসুফ : আয়াত-৬৪)