📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 বিশ্বাসই জীবন

📄 বিশ্বাসই জীবন


ঈমান বা বিশ্বাস এর ধন-ভাণ্ডার হতে যারা বঞ্চিত তারাই প্রকৃত অর্থে হতভাগা। তারা সর্বদাই দুর্দশাগ্রস্ত ও ক্রুদ্ধ।
“যে লোক আমার স্মারক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় (যে এ কুরআনে বিশ্বাসও করে না এবং কুরআনের বিধানানুযায়ী আমলও করে না) তার জন্য এক কষ্টদায়ক জীবন রয়েছে আর আখিরাতে আমি তাকে অন্ধ করে তুলবো।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-১২৪)
াত্মাকে পবিত্র করার, উদ্বিগ্নতা ও দুশ্চিন্তা দূর করার একমাত্র উপায় হল সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর উপর পুরোপুরি ঈমান রাখা। প্রকৃতপক্ষে, যখন কারো ঈমান থাকে না তখন জীবনে কোন প্রকৃত অর্থ থাকতে পারে না।
একজন পাকা নাস্তিক যদি সে ঈমান না আনে তবে সে সর্বাপেক্ষা ভালো যে কাজটি করতে পারে তা হলো- সে আত্মহত্যা করতে পারে। এমনটি করে কমপক্ষে সে যে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও হতভাগা জীবন-যাপন করছে তার থেকে সে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে। ঈমানহীন জীবন কতই না হীন ও তুচ্ছ! আল্লাহর সীমা লঙ্ঘনকারীদের জীবন কতইনা চিরন্তনভাবে অভিশপ্ত!
“(হেদায়েত পথ হতে) আমি তাদের মনোভাবের (তাদের দৃষ্টিভঙ্গির) তেমনি পরিবর্তন করে দিব যেমনি তারা এর প্রতি প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি (তথা ঈমান আনেনি) এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে দিব।” (৬-সুরা আল আন'আম: আয়াত-১১০)
আল্লাহ ছাড়া কারো উপাস্য হওয়ার অধিকার নেই। এ প্রশ্নাতীত ঈমান (বিশ্বাস) রাখার সময় কি পৃথিবীতে আসেনি? মূর্তিতে বিশ্বাস যে হাস্যকর, নাস্তিকতা যে অযৌক্তিক, নবীগণ যে সত্যবাদী ছিলেন এবং আকাশসমূহ ও পৃথিবীর মালিকানা যে একমাত্র আল্লাহরই শত শত বছর অভিজ্ঞতার পরেও কি মানবজাতিকে এ বাস্তবতার দিকে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়? সকল প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য এবং তিনি সবকিছুর ওপরই ক্ষমতাবান। আপনার ঈমানের সবলতা বা দুর্বলতা ও দৃঢ়তা বা কোমলতার স্তর অনুপাতেই আপনি সুখী হবেন।
“যেটি ঈমানদার হয়ে তোমাদের মধ্য থেকে যে পুরুষ বা নারী নেক আমল সম্পাদন করে অবশ্যই তাকে আমি একটি পবিত্র জীবন দান করব। (অর্থাৎ এ দুনিয়ার সম্মান, পরিতৃপ্তি ও হালাল রিযিক দিব) এবং তারা যে উত্তম কাজ করত তদনুপাতে আমি তাদেরকে অবশ্যই পুরস্কার দিব।” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-৯৭)
এ আয়াতে ‘পবিত্র জীবন’ বলতে আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও একটি অবিচল হৃদয় যা তাঁকে ভালোবাসে এর কথা বলা হচ্ছে। যে লোকেরা এ ‘পবিত্র জীবন’ যাপন করে তারা যখন সমস্যা কবলিত হয় তখন তাদের মন শান্ত থাকে বটে। তাদের উপর আপতিত সব কিছুর প্রতিই তারা সন্তুষ্ট থাকবে। কেননা, (তারা নিশ্চিত জানে যে) এটা তাদের জন্য (ভাগ্য) লেখা ছিল। আরো এ কারণে যে, আল্লাহকে তারা তাদের প্রভু হিসেবে, ইসলামকে তাদের জীবন বিধান হিসেবে এবং মুহাম্মদ ﷺ কে তাদের নবী ও রাসূল হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছে।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 মহান আল্লাহ কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!

📄 মহান আল্লাহ কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!


“আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৭৩)
আল্লাহর নিকট আপনার কাজকে সোপর্দ করে, তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করে, তাঁর ওয়াদাকে বিশ্বাস করে, তাঁর হুকুমের প্রতি সন্তুষ্টি হয়ে, তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণ করে এবং তাঁর সাহায্যের জন্য ধৈর্য্যসহকারে অপেক্ষা করে আপনি ঈমানের কিছু মহাফল লাভ করতে পারবেন এবং ঈমানদারের অধিকতর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করতে পারবেন। যখন আপনি আপনার চরিত্রে এ গুণসমূহকে সংযুক্ত করে নিবেন, তখন আপনি আগামী দিনগুলোতে কোন দুশ্চিন্তা না করে বরং শান্তিতে জীবন-যাপন করতে পারবেন। ফলে আপনি নিজের প্রতি যত্ন, সাহায্য, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিজয় লাভ করবেন।
ইব্রাহীম (আ)-কে যখন আগুনে ফেলা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, "আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতইনা উত্তম অভিভাবক!" ফলে আল্লাহ তায়ালা আগুনকে ইব্রাহীমের (আ)-এর জন্য শীতল, নিরাপদ ও শান্তিদায়ক বানিয়ে দিয়েছিলেন।
নবী মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর সঙ্গীদেরকে যখন আক্রমণের হুমকি দেয়া হয়েছিল, তখন তারা বলেছিলেন, “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক।" (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৭৩)
“ফলে তারা আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহসহ ফিরে এসেছিলেন। কোন অনিষ্টই তাদেরকে স্পর্শ করেনি এবং তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৭৪)
কোন লোকই দুর্ভাগ্যের স্রোতের বিরুদ্ধে একাকী লড়াই করতে পারে না, দুবির্‌পাক যখন আঘাত হানে, তখন সে এর আঘাতকে একাকী প্রতিহতও করতে পারে না। কারণ, মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
যাহোক, সঙ্কটের সময়ে ঈমানদার ব্যক্তি যখন তাঁর প্রভুর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) ও ঈমান (বিশ্বাস) রাখে তখন সে জানে যে, সব সঙ্কট নিরসন সম্ভব।
“আর যদি তোমরা সত্যিকার মুমিন হয়ে থাকে, তবে আল্লাহর উপর ভরসা রাখ।” (৫-সূরা মায়িদা : আয়াত-২৩)
আপনারা যারা নিজেদের কল্যাণ করতে চান, তারা নিজেদের বিপর্যয় ও দুবির্‌পাক থেকে রক্ষা করার জন্য সর্বশক্তিমান ও সর্বাপেক্ষা উত্তম অভিভাবক আল্লাহর উপর নির্ভর করুন এবং ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!’- এ নীতিবাক্য অনুসারে জীবন যাপন করুন।
আপনি যদি ঋণগ্রস্ত থাকেন বা আপনি যদি কোন পার্থিব সঙ্কটে পতিত হন তবে ডাক দিয়ে বলুন, “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক!”
আপনি যদি শত্রুর কবলে পড়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন বা অত্যাচারীর অত্যাচারের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন তবে উচ্চস্বরে বলুন, “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক!”
“আর তোমার প্রভুই পথ প্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৩১)

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আপনার প্রভু সম্বন্ধে সুধারণা পোষণ করুন

📄 আপনার প্রভু সম্বন্ধে সুধারণা পোষণ করুন


উইলিয়াম জেমস বলেছেন- “আল্লাহ আমাদের পাপসমূহকে ক্ষমা করেছেন, কিন্তু আমাদের মানুষত্ব (মন) তা করে না।”
ইবনুল ওয়ায়ীর তাঁর “আল আওয়াসিম ওয়াল ক্বাওয়াসিম (الْعَوَاصِمُ وَالْقَوَاصِمُ)” নামক পুস্তকে বলেছেন- “নিশ্চয় আল্লাহর রহমতের আশা করলে বান্দার আশার দুয়ার খুলে যায়, এতে তাঁর ইবাদতের আগ্রহ বাড়ে, নফল ইবাদতে উৎসাহী হতে এবং সৎকাজে প্রতিযোগিতা করতে প্রেরণা যোগায়।”
বিশেষ করে একথা এ কারণে সত্য যে, কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর দয়া, ক্ষমা ও মাহাত্ম্যের কথা স্মরণ না হলে সৎকাজ করার জন্য তাদের মনে সাড়া জাগে না। এসব গুণ নিয়ে ভেবে দেখলে ফল এ দাঁড়ায় যে, তারা অধ্যবসায়ের সাথে সৎ কাজ করে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে চায়।

📘 লা-তাহযানঃ হতাশ হবেন না 📄 আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস থাকা পর্যন্ত হতাশ হবেন না

📄 আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস থাকা পর্যন্ত হতাশ হবেন না


সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি ঈমান সুখ-শান্তির দিকে নিয়ে যায়, পক্ষান্তরে অবিশ্বাস বা কুফুরি বিভ্রান্তি ও দুঃখ-দুর্দশার পথে পরিচালিত করে। আমি বিশেষ ধরনের অনেক মেধাবী লোক-সম্বন্ধে পড়াশোনা করেছি; এদের কিছু লোককে প্রতিভাবানও বলা চলে; এরা প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও এদের অন্তর হেদায়েতের আলোবর্জিত এবং সত্যিকারের অর্থে এরা শরীয়ত সম্বন্ধে মন্দ কথাই বলেছে। দু’টি উদাহরণ মনে পড়ল–
আবুল আলা আলমুয়াররুরি শরীয়ত সম্বন্ধে বলেছে, “পরস্পর বিরোধী, যার সম্বন্ধে আমরা চুপ থাকা ছাড়া কিছুই করতে পারি না।” দ্বিতীয়টি হলো ইবনে সীনার উক্তি, “যা কিছু প্রকৃতির উপর প্রভাব ফেলে তা হলো কার্যকর মেধা।”
এভাবে আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহর প্রতি যতটুকু ঈমান থাকবে ততটুকুই সুখী হওয়া যাবে। অতি আধুনিককালের কিছু কথার অর্থ উপরের দু'টি কথার অর্থের মতই, এগুলো প্রাচীনকালের ফেরআউনের কথার উত্তরসূরী–
“ফেরআউন বলেছিল, হে পরিষদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ আছে বলে আমার জানা নেই।” (২৮-সূরা আল কাহাফ : আয়াত-৩৮)
“ফেরআউন বলেছিল : আমি তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু।” (৭৯-সূরা আন নাযিআত : আয়াত-২৪)
'How Man Thinks' গ্রন্থের গ্রন্থকার জেমস এলেন বলেছেন, “মানব জাতি বুঝতে পারবে যে, বস্তু ও মানুষ সম্বন্ধে তাদের ধারণা সতত পরিবর্তনশীল এবং বস্তু ও মানুষও পরিবর্তনশীল। ধরুন কেহ তার ধারণা পাল্টাল আর আমরা জেনে আশ্চর্য হব যে, কত শীঘ্রই তার পার্থিব জীবন পরিবর্তিত হয়ে যায়। অতএব যে পবিত্র বস্তু আমাদের উদ্দেশ্যকে গঠন করে তা আমরা নিজেরাই।” ভুল ধারণা ও তার কুফল সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন–
“বরং তোমরা ধারণা করেছিল যে, রাসূল ও মুমিনগণ কখনো তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসতে পারবে না এবং এটা তোমাদের মনে সুন্দর লেগেছিল। তোমরা মন্দ ধারণা করেছিলে এবং তোমরা ধ্বংসশীল জাতি হয়ে গিয়েছিলে।” (৪৮-সূরা আল ফাতহ: আয়াত-১২)
“তারা জাহেলদের মতো আল্লাহ সম্বন্ধে ভুল ধারণা করেছিল; তারা বলত, ‘কাজে আমাদের কি কোনো ভূমিকা আছে?’ (হে মুহাম্মাদ!) বলুন, ‘নিশ্চয় সকল কাজই আল্লাহর অধিকারে।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৫৪)
জেমস এলেন আরো বলেছেন-
“মানুষ যা করে তা তার ব্যক্তিগত চিন্তার প্রত্যক্ষ ফল এবং তার চিন্তার মধ্য দিয়ে তার লক্ষ্য অর্জন ও জয় করে নিতে সক্ষম। সে যদি একথা অস্বীকার করে তবে সে দুর্বল ও দুর্দশাগ্রস্ত থেকে যাবে।”
সর্বশক্তিমান আল্লাহ সত্যিকার দৃঢ় প্রত্যয় ও সঠিক চিন্তাভাবনা সম্বন্ধে বলেছেন-
“যদি তারা অভিযানে বের হবার ইচ্ছা করত তবে তারা এর জন্য প্রস্তুতি নিত; কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রেরণকে অপছন্দ করেছেন, তাই তিনি তাদেরকে পিছনে (বসিয়ে) রেখেছেন।” (৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪৬)
“তাদের মাঝে কোনো কল্যাণ আছে বলে যদি আল্লাহ জানতেন তবে তিনি তাদেরকে শ্রবণ করাতেন।” (৮-সূরা আনফাল : আয়াত-২৩)
“তাদের অন্তরে যা ছিল আল্লাহ তা জেনে নিয়েছেন এবং তিনি তাদেরকে পুরস্কার হিসেবে আসন্ন বিজয়ের সংবাদ প্রদান করেন।” (৪৮-সূরা আল ফাতহ: আয়াত-১৮)

ফন্ট সাইজ
15px
17px