📄 হে আল্লাহ!
“আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। প্রতি মুহূর্তে তিনি কাজে রত।” (৫৫-সূরা আর রাহমান : আয়াত-২৯)
(যেমন কাউকে সম্মান দান করা, কাউকে অপমানিত করা, নবসৃষ্টির মাধ্যমে কাউকে জীবন দান করা, কাউকেও মৃত্যু দান করা ইত্যাদি কাজে রত)।
যখন বিক্ষুব্ধ ঝঞ্ঝা বায়ুতে সমুদ্র উত্তাল-তরঙ্গায়িত থাকে, তখন নৌকার আরোহীগণ আর্তনাদ করে বলে, “হে আল্লাহ!”
যখন মরুভূমিতে উট চালক ও কাফেলা পথ হারিয়ে ফেলে তখন তারা আর্তচিৎকার করে বলে, “হে আল্লাহ!”
যখন বিপর্যয় ও দুর্যোগ দেখা দেয় তখন দুর্দশাগ্রস্তরা বলে ওঠে, “হে আল্লাহ!”
দরজা দিয়ে যখন কেউ প্রবেশ করতে চায় আর তার সামনেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অভাবীদের সামনে যখন বাধার প্রাচীর নির্মাণ করা হয় তখন তারা চিৎকার দিয়ে বলে, “হে আল্লাহ!”
যখন সকল পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়, সকল আশা ভঙ্গ হয়ে যায় এবং পথ সংকীর্ণ হয়ে যায় তখন ডাক পড়ে, “হে আল্লাহ!”
বিশাল, বিস্তীর্ণ ও প্রশান্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী যখন আপনার কাছে সংকীর্ণ মনে হয়, নিজেকে সংকুচিত ভাবনাতে পরিস্থিতি বাধ্য করে তখন আপনি ডাক দিয়ে বলুন, “হে আল্লাহ!”
সকল ভালো কথা, একান্ত অনুনয়-বিনয়, নিরপরাধীর আঁখিজল এবং বিপদগ্রস্তের সাহায্য প্রার্থনা–সবই আল্লাহর দরবারে পৌঁছে। অভাব-অনটন এবং বিপদাপদের সময় দু’হাত ও দু’চোখ তাঁর দিকেই প্রসারিত হয়। জিহ্বা তাঁর নাম সুমধুর কণ্ঠে জপে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা কতই না উত্তম ও উৎকৃষ্ট! কতই না মহান! যখন আমরা তাঁকে স্মরণ করি তখন হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে, আত্মা স্থিরতা লাভ করে, স্নায়ু বিশ্রাম নেয় আর বোধশক্তি জেগে উঠে।
“আল্লাহ নাম হলো সুন্দরতম নাম, বিভুক্ততম বর্ণ-সংযোজন এবং সর্বাধিক মূল্যবান শব্দ।
“তুমি কি এমন কিছু জান বা চেন যা তাঁর অনুরূপ?” (সুরা-১৯ মারইয়াম : আয়াত-৬৫)
“তার মতো কিছু নেই, আর তিনি হলেন সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (৪২-সুরা- শুরা : আয়াত-১১)
যখন পরম সমৃদ্ধি, শক্তি সত্তা, মর্যাদা ও প্রজ্ঞার কথা মনে আসে তখন ‘আল্লাহ’ নাম মনে হয়।
“আজ রাজত্ব কার? (আল্লাহ নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিবেন)। আল্লাহর- যিনি একক, মহাপরাক্রমশালী!” (৪০-সুরা আল মু'মিন : আয়াত-১৬)
যখন দয়া, যত্ন, সাহায্য, স্নেহ-মমতা ও অনুরূপের কথা মনে আসে তখন ‘আল্লাহ’ নাম মনে পড়ে।
“আর তোমাদের নিকট যত নি'য়ামত রয়েছে সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে।” (১৬-সুরা আন নাহল : আয়াত-৫৩)
আল্লাহ হলেন মর্যাদা, মাহাত্ম্য ও শক্তিময় অধিকারী। হে আল্লাহ! আরাম-আয়েশকে দুঃখ-কষ্টের স্থান দখল করতে দিন। হে আল্লাহ্! ঈমানের শীতলতা দ্বারা হৃদয়ের জ্বালা নিবারণ করুন। হে আমাদের প্রভু! বিনিদ্র রজনী যাপনকারীকে সুখনিদ্রা দান করুন এবং অসুস্থ আত্মাকে শান্তি প্রদান করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! বিভ্রান্তদেরকে আপনার আলোর এবং পথভ্রষ্টদেরকে আপনার হেদায়েতের পথে পরিচালিত করুন। হে আল্লাহ্! আমাদের অন্তরসমূহ হতে কুমন্ত্রণা দূর করে দিন এবং আমাদের অন্তরসমূহকে আলো দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিন, মিথ্যাকে সত্য দ্বারা ধ্বংস করে দিন এবং শয়তানের কুচক্রকে আপনার ফেরেশতা বাহিনী দিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে দিন। হে আল্লাহ্! আমাদের থেকে দারিদ্র্য, ক্লেশ ও উদ্বেগ চিরতরে দূর করে দিন। আপনাকে ব্যতীত অন্যকে ভয় করা, আপনাকে ছাড়া অন্যের উপর ভরসা করা, আপনাকে বাদ দিয়ে অন্যের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা স্থাপন করা এবং আপনি ছাড়া অন্যের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা থেকে আমরা আপনার নিকট আশ্রয় চাই। আপনি হলেন সর্বোৎকৃষ্ট পৃষ্ঠপোষক ও পরমোৎকৃষ্ট পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা।
📄 আল্লাহর কাছে আপনার প্রাপ্তি রয়েছে
মহান আল্লাহ যখন আপনার কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেন, তখন যদি আপনি শুধুমাত্র ধৈর্য ধারণ করেন এবং তাঁর কাছ থেকে আপনার পুরস্কার প্রার্থনা করেন, তবে তিনি আপনাকে তার চেয়েও ভালো কোন কিছু দিয়ে ক্ষতিপূরণ করবেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন–
“যার দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে অথচ সে ধৈর্য ধরে, তাকে এর বিনিময়ে জান্নাত (বেহেশত) দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।”
অন্য হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন–
“যদি কেহ এ জগৎ থেকে তার প্রিয় কাউকে হারিয়ে তার প্রভুর নিকট এর প্রতিদান প্রার্থনা (কামনা) করে তবে তাকে জান্নাত দিয়ে এর খেসারত দেয়া হবে।”
অতএব, কোন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য অত্যন্ত দুঃখবোধ করবেন না। কারণ, যে মহান সত্তা এর হুকুম (আদেশ) দিয়েছেন তাঁর নিকট এর ক্ষতিপূরণ ও এক মহাপুরস্কার জান্নাত রয়েছে। যারা এ পৃথিবীতে দুর্দশা কবলিত ও আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত তারা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে প্রশংসিত হবে।
“তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; কেননা, তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছিলে; চূড়ান্ত গৃহ কতই না চমৎকার।” (১৩-সুরা রা’আদ : আয়াত-২৪)
কষ্ট সহিষ্ণুতার কারণে কেউ যে পুরস্কার পায় আমাদেরকে অবশ্যই তা গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে।
“তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদের ওপরেই কল্যাণ (অর্থাৎ তারাই ধন্য এবং তাদেরকে ক্ষমা করা হবে) ও তারাই তাঁর অনুগ্রহ লাভ করে এবং তারাই সঠিকপথ প্রাপ্ত।” (২-সুরা বাকারা : আয়াত-১৫৭)
বাস্তবিক এ পার্থিব জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত ও এর ধন ভাণ্ডার খুবই নগণ্য। পরকাল উত্তম ও চিরস্থায়ী এবং এ জগতে যে সমস্যা জর্জরিত পরজগতে সে তার পুরস্কার পাবে। এখানে (দুনিয়াতে) যে-ই কঠোর পরিশ্রম করবে সেখানে (আখিরাতে) সে-ই শান্তি পাবে। যারা এ জগতের প্রতি আসক্ত, যারা এর সাথে গভীর সম্পর্ক রাখে, যারা এর প্রেমে পড়েছে, তাদেরকে যে সর্বাপেক্ষা কঠিন ভোগান্তি পোহাতে হবে তা হলো— তারা এ পরকালীন সুখ-সমৃদ্ধ (শান্তি ও সম্পদ) হারাবে। তারা শুধুমাত্র ইহজীবনকেই উপভোগ করতে চায়। তাদের এ কামনার কারণেই তারা এ জগতের মুসিবতকে কঠিন ভাবে। তারা তাদের চারপাশে ইহজীবন ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না। তারা দুনিয়ার অস্থায়িত্ব ও নগণ্যতা (তুচ্ছতা) দেখতে পায় না।
হে দুর্দশা কবলিতরা! যদি আপনারা ধৈর্য ধারণ করেন তবে আপনারা কোন কিছু হারাবেন না; আর আপনারা বুঝতে না পারলেও এতে আপনারা লাভবান হবেন। দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির উচিত পরকালের ফলাফলকে ভেবে দেখা- যে ফলাফল ধৈর্যশীলদের জন্য নির্ধারিত।
“অতএব উভয় দলের মাঝে একটি এক দরজাওয়ালা প্রাচীর খাড়া করা হবে। এর ভিতরে রহমত থাকবে আর এর বাইরে থাকবে আযাব (শাস্তি)।” (৫৭-সুরা আল হাদীদ : আয়াত-১০)
📄 বিশ্বাসই জীবন
ঈমান বা বিশ্বাস এর ধন-ভাণ্ডার হতে যারা বঞ্চিত তারাই প্রকৃত অর্থে হতভাগা। তারা সর্বদাই দুর্দশাগ্রস্ত ও ক্রুদ্ধ।
“যে লোক আমার স্মারক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় (যে এ কুরআনে বিশ্বাসও করে না এবং কুরআনের বিধানানুযায়ী আমলও করে না) তার জন্য এক কষ্টদায়ক জীবন রয়েছে আর আখিরাতে আমি তাকে অন্ধ করে তুলবো।” (২০-সুরা ত্বাহা: আয়াত-১২৪)
াত্মাকে পবিত্র করার, উদ্বিগ্নতা ও দুশ্চিন্তা দূর করার একমাত্র উপায় হল সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর উপর পুরোপুরি ঈমান রাখা। প্রকৃতপক্ষে, যখন কারো ঈমান থাকে না তখন জীবনে কোন প্রকৃত অর্থ থাকতে পারে না।
একজন পাকা নাস্তিক যদি সে ঈমান না আনে তবে সে সর্বাপেক্ষা ভালো যে কাজটি করতে পারে তা হলো- সে আত্মহত্যা করতে পারে। এমনটি করে কমপক্ষে সে যে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও হতভাগা জীবন-যাপন করছে তার থেকে সে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে। ঈমানহীন জীবন কতই না হীন ও তুচ্ছ! আল্লাহর সীমা লঙ্ঘনকারীদের জীবন কতইনা চিরন্তনভাবে অভিশপ্ত!
“(হেদায়েত পথ হতে) আমি তাদের মনোভাবের (তাদের দৃষ্টিভঙ্গির) তেমনি পরিবর্তন করে দিব যেমনি তারা এর প্রতি প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি (তথা ঈমান আনেনি) এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে দিব।” (৬-সুরা আল আন'আম: আয়াত-১১০)
আল্লাহ ছাড়া কারো উপাস্য হওয়ার অধিকার নেই। এ প্রশ্নাতীত ঈমান (বিশ্বাস) রাখার সময় কি পৃথিবীতে আসেনি? মূর্তিতে বিশ্বাস যে হাস্যকর, নাস্তিকতা যে অযৌক্তিক, নবীগণ যে সত্যবাদী ছিলেন এবং আকাশসমূহ ও পৃথিবীর মালিকানা যে একমাত্র আল্লাহরই শত শত বছর অভিজ্ঞতার পরেও কি মানবজাতিকে এ বাস্তবতার দিকে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়? সকল প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য এবং তিনি সবকিছুর ওপরই ক্ষমতাবান। আপনার ঈমানের সবলতা বা দুর্বলতা ও দৃঢ়তা বা কোমলতার স্তর অনুপাতেই আপনি সুখী হবেন।
“যেটি ঈমানদার হয়ে তোমাদের মধ্য থেকে যে পুরুষ বা নারী নেক আমল সম্পাদন করে অবশ্যই তাকে আমি একটি পবিত্র জীবন দান করব। (অর্থাৎ এ দুনিয়ার সম্মান, পরিতৃপ্তি ও হালাল রিযিক দিব) এবং তারা যে উত্তম কাজ করত তদনুপাতে আমি তাদেরকে অবশ্যই পুরস্কার দিব।” (১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-৯৭)
এ আয়াতে ‘পবিত্র জীবন’ বলতে আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতির প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও একটি অবিচল হৃদয় যা তাঁকে ভালোবাসে এর কথা বলা হচ্ছে। যে লোকেরা এ ‘পবিত্র জীবন’ যাপন করে তারা যখন সমস্যা কবলিত হয় তখন তাদের মন শান্ত থাকে বটে। তাদের উপর আপতিত সব কিছুর প্রতিই তারা সন্তুষ্ট থাকবে। কেননা, (তারা নিশ্চিত জানে যে) এটা তাদের জন্য (ভাগ্য) লেখা ছিল। আরো এ কারণে যে, আল্লাহকে তারা তাদের প্রভু হিসেবে, ইসলামকে তাদের জীবন বিধান হিসেবে এবং মুহাম্মদ ﷺ কে তাদের নবী ও রাসূল হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়েছে।
📄 মহান আল্লাহ কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!
“আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!” (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৭৩)
আল্লাহর নিকট আপনার কাজকে সোপর্দ করে, তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করে, তাঁর ওয়াদাকে বিশ্বাস করে, তাঁর হুকুমের প্রতি সন্তুষ্টি হয়ে, তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণ করে এবং তাঁর সাহায্যের জন্য ধৈর্য্যসহকারে অপেক্ষা করে আপনি ঈমানের কিছু মহাফল লাভ করতে পারবেন এবং ঈমানদারের অধিকতর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করতে পারবেন। যখন আপনি আপনার চরিত্রে এ গুণসমূহকে সংযুক্ত করে নিবেন, তখন আপনি আগামী দিনগুলোতে কোন দুশ্চিন্তা না করে বরং শান্তিতে জীবন-যাপন করতে পারবেন। ফলে আপনি নিজের প্রতি যত্ন, সাহায্য, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিজয় লাভ করবেন।
ইব্রাহীম (আ)-কে যখন আগুনে ফেলা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, "আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতইনা উত্তম অভিভাবক!" ফলে আল্লাহ তায়ালা আগুনকে ইব্রাহীমের (আ)-এর জন্য শীতল, নিরাপদ ও শান্তিদায়ক বানিয়ে দিয়েছিলেন।
নবী মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর সঙ্গীদেরকে যখন আক্রমণের হুমকি দেয়া হয়েছিল, তখন তারা বলেছিলেন, “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক।" (৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৭৩)
“ফলে তারা আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহসহ ফিরে এসেছিলেন। কোন অনিষ্টই তাদেরকে স্পর্শ করেনি এবং তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।” (৩-সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৭৪)
কোন লোকই দুর্ভাগ্যের স্রোতের বিরুদ্ধে একাকী লড়াই করতে পারে না, দুবির্পাক যখন আঘাত হানে, তখন সে এর আঘাতকে একাকী প্রতিহতও করতে পারে না। কারণ, মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
যাহোক, সঙ্কটের সময়ে ঈমানদার ব্যক্তি যখন তাঁর প্রভুর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) ও ঈমান (বিশ্বাস) রাখে তখন সে জানে যে, সব সঙ্কট নিরসন সম্ভব।
“আর যদি তোমরা সত্যিকার মুমিন হয়ে থাকে, তবে আল্লাহর উপর ভরসা রাখ।” (৫-সূরা মায়িদা : আয়াত-২৩)
আপনারা যারা নিজেদের কল্যাণ করতে চান, তারা নিজেদের বিপর্যয় ও দুবির্পাক থেকে রক্ষা করার জন্য সর্বশক্তিমান ও সর্বাপেক্ষা উত্তম অভিভাবক আল্লাহর উপর নির্ভর করুন এবং ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!’- এ নীতিবাক্য অনুসারে জীবন যাপন করুন।
আপনি যদি ঋণগ্রস্ত থাকেন বা আপনি যদি কোন পার্থিব সঙ্কটে পতিত হন তবে ডাক দিয়ে বলুন, “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক!”
আপনি যদি শত্রুর কবলে পড়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন বা অত্যাচারীর অত্যাচারের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন তবে উচ্চস্বরে বলুন, “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক!”
“আর তোমার প্রভুই পথ প্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট।” (২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৩১)