📄 মহিষের কুরবানীর হুকুম
প্রশ্ন : মহিষ কুরবানী করা কি জায়েয? (একজন প্রশ্নকর্তা)
জবাব : উট, গরু, ভেড়া, বকরীর কুরবানী কিতাব ও সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। এবং এটি একেবারেই ছহীহ যে, মহিষ গরুর শ্রেণীভুক্ত জাত। এর উপর ইসলামের ইমামদের ইজমা আছে।
ইমাম ইবনুল মুনযির (মৃ. ৩১৮ হি.) বলেছেন, 'এই বিষয়টির উপর তারা ইজমা করেছেন যে, মহিষের বিধানে গরুর বিধানের মতই' (আল-ইজমা, কিতাবুয যাকাত পৃ. ৪৩, উদ্ধৃতি নং ৯১)।
ইবনু কুদামা (মৃ. ৬২০ হি.) লিখেছেন, 'এই মাসআলায় আমাদের জানামতে কোন ইখতিলাফ নেই' (আল-মুগনী ২/২৪০, মাসআলা নং ১৭১১)।
যাকাতের প্রসঙ্গে এই মাসআলার উপর ইজমা আছে যে, মহিষ গরুর জাতভূক্ত। আর এটি এই কথাটির দলীল যে, মহিষ গরুর অন্যতম একটি শ্রেণী। তদুপরি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা ছাহাবা কেরাম রাযিআল্লাহু আনহু হতে স্পষ্টভাবে মহিষের কুরবানীর কোন প্রমাণ নেই। সেজন্য মহিষের কুরবানী না করাই উত্তম। বরং স্রেফ উট, গরু, ভেড়া এবং বকরীর-ই কুরবানী করা। আর এর মধ্যেই সতর্কতা রয়েছে। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
(শাহাদাত মার্চ ২০০১ ইং)
মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করার হুকুম
প্রশ্ন : মাতা-পিতা বা মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা যাবে কি? প্রসিদ্ধ রয়েছে যে, নবী (ছা) একটি কুরবানী নিজের পক্ষ হতে এবং আরেকটি নিজের উম্মতের পক্ষ হতে দিতেন? (যাফল আলম, লাহোর)।
জবাব : এই প্রসঙ্গে লেখকের তাহক্বীক্ব মাসিক শাহাদাতে প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষিপ্তভাবে আরয রইল যে, মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর জায়েযের বর্ণনাগুলি যঈফ। তা সত্বেও ছদক্বা করার শর্তবিহীন দলীলসমূহের আলোকে মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয আছে। এমন কুরবানীর সকল গোশত ছদক্বা করতে হবে। শায়খুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমার নিকটে পছন্দনীয় ব্যাপার এই যে, মৃতর পক্ষ হতে ছদকা করা যাবে। তবে কুরবানী করা যাবে না। তবে কেউ যদি কুরবানী করে তাহলে সে সেই কুরবানীর গোশত হতে কিছু খাবে না। বরং সম্পূর্ণ মাংস ছদকা করে দিবে (সুনানে তিরমিযী হা/১৪৯৫)।
[শাহাদাত আগস্ট ২০০১ ইং]
প্রশ্ন : মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর ক্ষেত্রে শারঈ বিধান কি? (তানবীর সালাফী, জেলা: এ্যাবোটাবাদ)।
জবাব : মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর বৈধতার বর্ণনাটি আবুল হাসনা নামক বর্ণনাকারীর অজ্ঞাত পরিচয় থাকার কারণে যঈফ। যেমনটি লেখকের তাহক্বীক্ব মাসিক শাহাদাত-এ প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষিপ্তভাবে আরয রইল যে, মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর জায়েযের বর্ণনাগুলি যঈফ।
তা সত্বেও ছদক্বা করার শর্তবিহীন দলীলসমূহের আলোকে মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয। এমন কুরবানীর সকল গোশত ছদক্বা করতে হবে। শায়খুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমার নিকটে পছন্দনীয় ব্যাপার এই যে, মৃতর পক্ষ হতে ছদকা করা যাবে। তবে কুরবানী করা যাবে না। তবে কেউ যদি কুরবানী করে তাহলে সে সেই কুরবানীর গোশত হতে কিছু খাবে না। বরং সম্পূর্ণ মাংস ছদকা করে দিবে (সুনানে তিরমিযী হা/১৪৯৫)।
কুরবানীতে অংশীদারদের জন্য আক্বীদা ছহীহ হওয়ার শর্ত
প্রশ্ন : গরু এবং উটের কুরবানীতে অংশীদারদের সবার আকীদা তাওহীদ ভিত্তিক হওয়া যরূরী নাকি অন্যান্য ফেরকার (ব্রেলভী ও দেওবন্দীদের) সাথে মিলে মিশে কুরবানী করা যাবে? (যাফর আলম, লাহোর)।
জবাব : যদি কুরবানী দাতা ছহীহুল আক্বীদা সম্পন্ন হয়ে থাকেন তবে সাতটি অংশের মধ্য হতে যেই অংশের মালিক ছহীহ আক্বীদা সম্পন্ন, তবে সেই অংশটি ছহীহ এবং গ্রহণীয়। আর যদি অংশীদারদের মধ্যে হতে কোন বিদআতী আক্বীদাসম্পন্ন যেমন দেওবন্দী, ব্রেলভীরাও শরীক হয়ে যান তাহলেও অবশিষ্ট অংশীদারদের কুরবানী হয়ে যাবে। তা সত্বেও উত্তম এই যে, প্রতিটি অংশীদারই ছহীহ আক্বীদা মুসলমানদের মধ্য হতেই তালাশ করতে হবে। সূরা মুদাদ্দিছছিরের ৩৮ নং আয়াতের সার্বজনীন মর্ম এটাই যে, ছহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তির কুরবানী গ্রহণযোগ্য এবং বদ আকীদাধারীর কুরবানী প্রত্যাখ্যাত হবে।
ফিক্বহে হানাফীর একটি মাসআলা আছে যে, অংশীদারদের মধ্যে হতে একজনও খৃস্টান অথবা এমন ব্যক্তি যার উদ্দেশ্য স্রেফ গোশত খাওয়া- শরীক হয়ে যায় তাহলে প্রত্যেক অংশীদারেরই কুরবানী বাতিল হয়ে যায়। দেখুন: আল-হিদায়াহ (২/৪৪৯)।
পক্ষান্তরে শাফেঈগণ এই মতের বিরোধী। দেখুন: আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহ (৩/৬০৫)। হানাফীদের এই অভিমতটি দলীলবিহীন।
(শাহাদত আগস্ট ২০০১ ইং)
📄 মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করার হুকুম
প্রশ্ন : মাতা-পিতা বা মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা যাবে কি? প্রসিদ্ধ রয়েছে যে, নবী (ছা) একটি কুরবানী নিজের পক্ষ হতে এবং আরেকটি নিজের উম্মতের পক্ষ হতে দিতেন? (যাফল আলম, লাহোর)।
জবাব : এই প্রসঙ্গে লেখকের তাহক্বীক্ব মাসিক শাহাদাতে প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষিপ্তভাবে আরয রইল যে, মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর জায়েযের বর্ণনাগুলি যঈফ। তা সত্বেও ছদক্বা করার শর্তবিহীন দলীলসমূহের আলোকে মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয আছে। এমন কুরবানীর সকল গোশত ছদক্বা করতে হবে। শায়খুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমার নিকটে পছন্দনীয় ব্যাপার এই যে, মৃতর পক্ষ হতে ছদকা করা যাবে। তবে কুরবানী করা যাবে না। তবে কেউ যদি কুরবানী করে তাহলে সে সেই কুরবানীর গোশত হতে কিছু খাবে না। বরং সম্পূর্ণ মাংস ছদকা করে দিবে (সুনানে তিরমিযী হা/১৪৯৫)।
[শাহাদাত আগস্ট ২০০১ ইং]
প্রশ্ন : মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর ক্ষেত্রে শারঈ বিধান কি? (তানবীর সালাফী, জেলা: এ্যাবোটাবাদ)।
জবাব : মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর বৈধতার বর্ণনাটি আবুল হাসনা নামক বর্ণনাকারীর অজ্ঞাত পরিচয় থাকার কারণে যঈফ। যেমনটি লেখকের তাহক্বীক্ব মাসিক শাহাদাত-এ প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষিপ্তভাবে আরয রইল যে, মৃতর পক্ষ হতে কুরবানীর জায়েযের বর্ণনাগুলি যঈফ।
তা সত্বেও ছদক্বা করার শর্তবিহীন দলীলসমূহের আলোকে মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করা জায়েয। এমন কুরবানীর সকল গোশত ছদক্বা করতে হবে। শায়খুল ইসলাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমার নিকটে পছন্দনীয় ব্যাপার এই যে, মৃতর পক্ষ হতে ছদকা করা যাবে। তবে কুরবানী করা যাবে না। তবে কেউ যদি কুরবানী করে তাহলে সে সেই কুরবানীর গোশত হতে কিছু খাবে না। বরং সম্পূর্ণ মাংস ছদকা করে দিবে (সুনানে তিরমিযী হা/১৪৯৫)।
📄 কুরবানীতে অংশীদারদের জন্য আক্বীদা ছহীহ হওয়ার শর্ত
প্রশ্ন : গরু এবং উটের কুরবানীতে অংশীদারদের সবার আকীদা তাওহীদ ভিত্তিক হওয়া যরূরী নাকি অন্যান্য ফেরকার (ব্রেলভী ও দেওবন্দীদের) সাথে মিলে মিশে কুরবানী করা যাবে? (যাফর আলম, লাহোর)।
জবাব : যদি কুরবানী দাতা ছহীহুল আক্বীদা সম্পন্ন হয়ে থাকেন তবে সাতটি অংশের মধ্য হতে যেই অংশের মালিক ছহীহ আক্বীদা সম্পন্ন, তবে সেই অংশটি ছহীহ এবং গ্রহণীয়। আর যদি অংশীদারদের মধ্যে হতে কোন বিদআতী আক্বীদাসম্পন্ন যেমন দেওবন্দী, ব্রেলভীরাও শরীক হয়ে যান তাহলেও অবশিষ্ট অংশীদারদের কুরবানী হয়ে যাবে। তা সত্বেও উত্তম এই যে, প্রতিটি অংশীদারই ছহীহ আক্বীদা মুসলমানদের মধ্য হতেই তালাশ করতে হবে। সূরা মুদাদ্দিছছিরের ৩৮ নং আয়াতের সার্বজনীন মর্ম এটাই যে, ছহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তির কুরবানী গ্রহণযোগ্য এবং বদ আকীদাধারীর কুরবানী প্রত্যাখ্যাত হবে।
ফিক্বহে হানাফীর একটি মাসআলা আছে যে, অংশীদারদের মধ্যে হতে একজনও খৃস্টান অথবা এমন ব্যক্তি যার উদ্দেশ্য স্রেফ গোশত খাওয়া- শরীক হয়ে যায় তাহলে প্রত্যেক অংশীদারেরই কুরবানী বাতিল হয়ে যায়। দেখুন: আল-হিদায়াহ (২/৪৪৯)।
পক্ষান্তরে শাফেঈগণ এই মতের বিরোধী। দেখুন: আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহ (৩/৬০৫)। হানাফীদের এই অভিমতটি দলীলবিহীন।
(শাহাদত আগস্ট ২০০১ ইং)