📄 কুরবানীর চামড়া
কুরবানীর চামড়া মিসকীন লোকদের মধ্যে বন্টন করে দিবেন। যেমনটি সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহুর হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে (ছহীহ মুসলিম হা/ ১৩১৭)।
যবাইকারী অথবা কশাইকে কুরবানীর চামড়া হতে মজুরী প্রদান করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে মজুরী হিসাবে কুরবানীর গোশত প্রদান করাও জায়েয নেই। বরং হারাম।
📄 গোশত বন্টন
কুরবানীর সকল গোশত স্বয়ং ভক্ষণ করা বা সংরক্ষণ করা জায়েয। আর গোশতের তিনটি ভাগ করে একটি ভাগ নিজের জন্য, একটি গরীব-মিসকীন লোকদের জন্য এবং একটি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের জন্য নির্ধারিত করাও জায়েয। বরং এটি উত্তম (দেখুন : সূরা হাজ্জ, আয়াত ২৮, ৩৬)।
📄 কুরবানীর অংশ ও শরীকানা
বকরী ও দুম্বা-ভেড়ার স্রেফ একটি ভাগ হয়ে থাকে। কিন্তু গাভী-ষাঁড়, উট-উটনীর মধ্যে সাতটি ভাগ ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। আর একটি হাসান রেওয়ায়াত দ্বারা উট-উটনীর মধ্যে দশ ভাগেরও প্রমাণ আছে (দলীলের জন্য দেখুন: ছহীহ মুসলিম হা/১৩১৮; সুনানে তিরমিযী হা/১৫০১, তিনি বলেছেন, 'হাসান গরীব')।
সতর্কীকরণ : স্রেফ ছহীহ আক্বীদা সম্পন্ন মুসলমানদের সাথে মিলে সাত অথবা দশ ভাগের মধ্যে শরীক হতে পারে। এবং বিদআতপন্থী, গোমরাহ, ভ্রষ্ট-ভ্রষ্টকারী লোকদের সাথে মিলে কখনোই কুরবানী করা উচিৎ নয়। আর না এমন গোমরাহ লোকদের কোন আমলের কোনরূপ মূল্য আছে। বরং এমন লোকদের সকল আমল 'বিক্ষিপ্ত ধুলার ন্যায়' হয়ে বাতাসে উড়িয়ে দেয়া হবে। ইনশাআল্লাহ।
বিবিধ মাসায়েল
শেষে কুরবানী সম্পর্কে কতিপয় ভিন্ন ভিন্ন মাসায়েল উক্তির আকারে পেশ করা হল-
(১) পশুকে যবাই করার সময় 'তাসমিয়া' (বিসমিল্লাহ) এবং 'তাকবীর' (আল্লাহু আকবার) বলা সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত (দেখুন : ছহীহ মুসলিম হা/১৯৬৬; ছহীহ বুখারী হা/৫৫৬৪)।
স্রেফ 'বিসমিল্লাহ' পড়াও প্রমাণিত আছে (দেখুন ছহীহ মুসলিম হা/১৯৬৭)।
(২) পুরো পরিবারের পক্ষ হতে একটি কুরবানী করাও যথেষ্ট (সুনানে তিরমিযী হা/১৫০৫, তিনি বলেছেন, 'হাদীছটি হাসান ছহীহ')। এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও কুরবানী করতে পারেন।
(৩) মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করা প্রমাণিত নেই। আর এই সম্পর্কে যে রেওয়ায়াতগুলি এসেছে সেগুলির সনদ শারীক ক্বাযী এবং হাকাম বিন উতায়বাহ- (নামী দুজন) মুদাল্লিস রাবীর 'আন' দ্বারা রেওয়ায়াত করার কারণে এবং আবুল হাসনার 'মাজহুল' হওয়ার কারণে যঈফ। কিন্তু মৃতর পক্ষ থেকে ছদক্বা করা জায়েয। সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বা কোন মৃতর পক্ষ হতে কুরবানী করেন তবে সেটির সম্পূর্ণ গোশত ও চামড়া ইত্যাদি ছদক্বা করে দিবেন।
(৪) কুরবানীর পশু পূর্বেই কিনে নিয়ে খাইয়ে-দাইয়ে মোটা করা জায়েয (দেখুন: তাগলীকুল তালীকু ৫/৬, সনদ ছহীহ)।
(৫) ঈদগাহের মধ্যে পশুর কুরবানী করা জায়েয। আর ঈদগাহ-এর বাইরে যেমন নিজের ঘরে বা ঘরের বাইরে ইত্যাদিতে কুরবানী করাও জায়েয (দেখুন: ছহীহ বুখারী হা/৫৫৫১, ৫৫৫২)।
(৬) নিজেই কুরবানীর পশুকে যবাই করা সুন্নাত। এবং অন্যকে দিয়ে যবাই করিয়ে নেয়াও জায়েয (দেখুন: মুওয়াত্তা ইমাম মালেক, ইবনুল কাসেমের বর্ণনা, আমার তাহক্বীক্বকৃত হা/১৪৫)।
(৭) যদি মাসনূন বা নফল কুরবানীর পশু হারিয়ে যায় তবে জানোয়ারের মালিকের মর্জি থাকবে যে, অন্য (কোন) পশুকে কুরবানী করবে অথবা কুরবানী করবে না (দেখুন: আস-সুনানুল কুবরা ৯/২৮৯, এর সনদ ছহীহ)।
(৮) সাইয়েদুনা আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের রাযিআল্লাহু আনহু কুরবানীর পশুর মধ্যে একটি একচোখা উটনী দেখলেন। তখন তিনি বললেন, 'যদি এটি ক্রয়ের পর একচোখা হয়ে যায় তবে একে কুরবানী করে ফেল। আর যদি কেনার পূর্বেই এটি একচোখা ছিল তবে একে বদলিয়ে অন্য উটনীকে কুরবানী কর' (বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা ৯/২৮৯, এর সনদ ছহীহ)।
প্রমাণিত হল যে, যদি কুরবানীর জানোয়ার কেনা হয়ে থাকে এবং এর পর তার মধ্যে কোন ত্রুটি প্রকাশিত হয় তবে এমন পশু কুরবানী করা জায়েয।
(৯) যদি কুরবানীর ইচ্ছা পোষণকারী কোন ব্যক্তি নখ বা চুল কাটায় এবং এরপর কুরবানী করে তবে তার কুরবানী হয়ে যাবে। কিন্তু এই ব্যক্তি গুণাহগার হবে (আশ-শারহুল মুমতে ৩/৪৩০)।
(১০) যদি অন্য কারো পক্ষ হতে কুরবানী করা হয় তবে যবাই করার সময় ঐ ব্যক্তির নাম নিয়ে এটি বলা উচিৎ যে, ‘এই কুরবানীটি তার পক্ষ হতে করা হচ্ছে’।
সতর্কীকরণ : এই প্রসঙ্গে বিশদ জানতে পড়ুন আমার গ্রন্থ ‘তাহক্বীক্বী মাক্বালাত’ (২/২১ল-২১৯)।
(১১) খাসীকৃত পশুর কুরবানী করা জায়েয। এবং এর নাজায়েয হওয়ার কোন ছহীহ দলীল নেই।
(১২) যদি কোন মানুষকে আল্লাহ ধন-সম্পদ প্রদান করেন তবে তিনি কয়েকটি কুরবানী করতে পারেন। আর প্রকাশ থাকে যে, তার অত্র আমল দ্বারা গরীব-মিসকীন এবং সাধারণ মুসলমানদের উপকার হবে।
(১৩) গাভী-এর গোশত খাওয়া একেবারেই হালাল। আর কোন প্রকারের অসুখের আশঙ্কা নেই তবে এই যে, কোন ব্যক্তি স্বয়ং অসুস্থ হয়। যেই রেওয়ায়াতের মধ্যে এসেছে যে, গাভীর গোশতের মধ্যে অসুখ থাকে, সেই রেওয়ায়াতটি যঈফ। এবং তাকে ছহীহ আখ্যা দেয়া ভুল।
(১৪) উটের গোশত খাওয়ার দ্বারা ওযূ ভেঙ্গে যায়। যেমনটি ছহীহ মুসলিমের হাদীছ (হা/৩৬০, দারুস সালাম হা/৮০২) দ্বারা প্রমাণিত আছে। আর অন্য গোশত যেমন গাভী, বকরী ও ভেড়ার গোশত খাওয়ার দ্বারা ওযু ভাঙ্গে না।
(১৫) কুরবানীর আসল উদ্দেশ্য এই যে, তাক্বওয়া অর্জন হোক। সেজন্য প্রতিটি সময় আল্লাহকে ভয় করা উচিৎ (সূরা হজ্জ ৩৭)।
(১৬) কুরবানীর জানোয়ার (যেমন গাভী) এর মধ্যে আকীকাকে শামিল করা জায়েয নেই। আর স্মর্তব্য যে, আকীকার মধ্যে স্রেফ বকরা- বকরী, ভেড়া-দুম্বাই যবাই করা প্রমাণিত আছে। পুত্র'র পক্ষ হতে দুটি এবং মেয়ের পক্ষ হতে একটি। আকীকা আলাদাভাবে করতে হবে এবং কুরবানী আলাদাভাবে করতে হবে。
মিথ্যা বলা, গীবত করা, পরনিন্দা করা, আর প্রত্যেক প্রকারের কবীরা গুনাহসমূহ হতে আপনি নিজেকে সর্বদা বাঁচিয়ে রাখুন। আর দুআ করুন যেন আল্লাহ তাআলা আপনার এবং আমাদের আমলসমূহ স্বীয় দরবারে গ্রহণ করে নেন। আমীন।
অমা আলাইনা ইল্লাল বালাগ
জামেআতুল ইমাম বুখারী
স্থান: সারগোধা (৮/১০/২০১১ইং)।
📄 কুরবানী কি চার দিন নাকি তিনদিন
আল-হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন। ছলাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার আমানতদার রাসূলের উপর। অতঃপর-
দৌলত নগরে (জেলা-গুজরাট) জনাব খুরম আরশাদ মুহাম্মাদী ছাহেব মাসলাকে আহলেহাদীছের তাবলীগ এবং দাওয়াতের তাৎপর্যপূর্ণ কাজ করছেন। আর তার সহযোগীদের দ্বারা অত্র এলাকায় হকের মাসলাক (মাসলাকে আহলেহাদীছ) ব্যাপকভাবে প্রসারিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত আমি অবগত হয়েছি যে, তার প্রচেষ্টায় দেড়শত -এর অধিক ব্যক্তি তাক্বলীদের অন্ধকার হতে বেরিয়ে কিতাব এবং সুন্নাতের রাস্তা গ্রহণ করেছেন। আল-হামদুল্লিাহ।
খুরম ছাহেব একটি দীর্ঘ চিঠিতে আমার কাছে কুরবানীর দিনসমূহের (মাসআলাটির) তাহক্বীক্বের আবেদন করেছিলেন। সেজন্য আমি উক্ত পত্রের জবাবে একটি তাহকীকী প্রবন্ধ রচনা করেছিলাম। যেটি পরে আমি কতিপয় আহলে হাদীছ আলেমের (হাফিযাহুমাল্লাহু তাআলা) কাছে প্রেরণ করেছিলাম। যখন কতিপয় মাস পর্যন্ত তাদের পক্ষ হতে কোন জবাব আসল না তখন ২/৫/২০০৭ইং-এর 'কুরবানী কে তীন দিন হ্যায়' প্রবন্ধটিকে খুরম ছাহেবের অব্যাহত দাবীর পর 'মাসিক আল-হাদীছ' (হাযরো, সংখ্যা-৪৪, জানুয়ারী ২০০৮ইং) এর মধ্যে প্রকাশ করে দেই।
এক্ষণে বহুদিন পর 'সাপ্তাহিক আহলে হাদীছ লাহোর' (খন্ড-৪০, সংখ্যা-৪৭, ২৮ নভেম্বর হতে ১১ ডিসেম্বর ২০০৯ইং পর্যন্ত) -এর জনাব ড. (প্রফেসর) হাফেয মুহাম্মাদ শারীফ শাকের ছাহেবের কলামে 'কুরবানী কে চারদিন' শিরোনামে এর খন্ডন প্রকাশিত হল (পৃ. ১৭-২০)।
(আমার) এই প্রবন্ধটির প্রসঙ্গে কতিপয় অভিযোগ নিম্নরূপ-
(১) ড. ছাহেব লিখেছেন, 'ঈদুল আযহা এবং তারপরের তিনদিন হল কুরবানী করার দিন। হযরত আলী এর প্রবক্তা এবং এই মাযহাবটি... (পৃ. ১৭)।
বিনীত নিবেদন যে, সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু তাআলা আনহুর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এই কথাটি কোন্ গ্রন্থে ছহীহ বা হাসান সনদে উল্লেখিত রয়েছে? উদ্ধৃতি পেশ করুন!
হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম এবং আল্লামা নববীর উক্তিসমূহ পেশ করার কোন দরকার নেই। কেননা তারা সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু পর্যন্ত নিজেদের বর্ণনাকৃত উক্তিসমূহের পক্ষে কোন 'ছহীহ মুত্তাছিল' অথবা 'হাসান মুত্তাছিল' সনদ পেশ করেন নি। আর এটি সাধারণ জনতাও অবগত আছেন যে, এই দুজনের জন্মের পূর্বে শত শত বছর আগে সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহুর শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ড. ছাহেব হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম এবং আল্লামা নববীর সনদবিহীন বরাতসমূহের ভিত্তিতে এই কথাটিও লিখে দিয়েছেন যে, 'যুবায়ের আলী যাঈ হযরত আলী রাযিআল্লাহু আনহুর তিন দিন কুরবানী সংক্রান্ত উক্তিটি তো বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হযরত আলী রাযিআল্লাহু আনহুর চারদিন সংক্রান্ত নিম্নোক্ত কথাটি কিভাবে দৃষ্টি হতে হারিয়ে ফেললেন?' (পৃ. ১৯)।
নিবেদন হল যে, হারিয়ে ফেলার বিষয়টি তো পরে আলোচিত হবে। প্রথমে আপনি এই উক্তিটির 'ছহীহ' বা 'হাসান' সনদ পেশ করুন!
(২) প্রফেসর ছাহেব লিখেছেন, 'আর আছারসমূহের মধ্যেও মতানৈক্য আছে। তবে যুবায়ের আলী যাঈকে আহলে হাদীছের ঐক্যমতকৃত মাসলাক (পেশ করা উচিৎ ছিল)' (পৃ. ১৭)।
আরয রইল যে, সাইয়েদুনা আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযিআল্লাহু আনহু আহলে হাদীছের মাসলাক হতে বাইরে ছিলেন? কুরবানীর দিন ব্যতীত পরের দুদিন হল (কুরবানীর পশু) যবাই করার দিন (মুওয়াত্তা ইমাম মালেক ২/৪৮৭, এর সনদ ছহীহ)।
(৩) ড. ছাহেব লিখেছেন, 'হাদীছের কায়েদা মোতাবেক ছহীহ সনদের মোকাবেলায় হাসান সনদ অনগ্রগণ্য হয়ে থাকে, অগ্রগণ্য হয় না। তাহলে যুবায়ের আলী যাঈ ছহীহ সনদের মোকাবেলায় হাসান সনদকে কোন উছুলের আলোকে অগ্রগণ্য আখ্যা দিচ্ছেন?'
কল্পিত ও বানোয়াট কায়েদার প্রতি পর্যবেক্ষণ ব্যতীত আরয হল যে, সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু হতে এটি প্রমাণিত আছে যে, কুরবানীর তিন দিন রয়েছে (আর সেটি হাসান)। যদি এর মোকাবেলায় আপনার নিকটে কোন ছহীহ সনদ থাকে; তবে সেটি পেশ করুন। এবং যদি ছহীহ না থাকে তবে হাসান পেশ করুন। আর যদি কোন মুত্তাছিল সনদ নাই থাকে তাহলে হাসানের সাথে অজ্ঞাত ছহীহ হাদীছের (?)- কে টক্কার লাগানো ভুল।
(৪) প্রফেসর ছাহেব আল্লামা কুরতুবীর বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, ‘সাইয়েদুনা ইবনে ওমর রাযিআল্লাহু এর নিকটে চার দিন হল কুরবানীর দিন’।
আরয রইল যে, এই দ্বিতীয় উক্তিটি সনদবিহীন হওয়ার কারণে অপ্রমাণিত ও প্রত্যাখ্যাত। সুতরাং মুআরাযাহ হল কিভাবে? ছহীহ সনদের মোকাবেলায় সনদবিহীন উক্তিসমূহ পেশ করায় লাভ কি?
(৫) ড. ছাহেব শাওকানী ইয়ামানীর বরাতে লিখেছেন, ‘আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেছেন, নির্দিষ্ট দিনগুলি হল চারদিন’ (পৃ. ২০)।
আরয রইল যে, এই সনদবিহীন উক্তিটি ত্বাহাবীর ‘আহকামুল কুরআন’ (হা/১৫৭১, ২/২০৫)-এর ঐ রেওয়ায়াতের মোকাবেলায় প্রত্যাখ্যাত। যেখানে এসেছে যে, সাইয়েদুনা আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু বলেছেন, ‘কুরবানীর দিনের পর দুদিন কুরবানী (হিসাবে অবশিষ্ট) থাকে। আর উত্তম কুরবানী হল নহরের (প্রথম) দিনের কুরবানী (দেখুন আল-হাদীছ হাযরো-৪৪, পৃ. ১০)।
(৬) সনদবিহীন উক্তি সংযুক্ত এই প্রবন্ধের শেষে প্রফেসর ছাহেব লিখেছেন, ‘এটি যুবায়ের আলী যাঈ-ই বলতে পারেন যে, জমহূর ছাহাবার মধ্যে কোন্ কোন্ ছাহাবা শামিল রয়েছেন? (পৃ. ২০)।
আরয রইল যে, সাইয়েদুনা আবূ উমামা রাযিআল্লাহু আনহুর (ছোট ছাহাবী) আছারের মোকাবেলায় যদি সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু, সাইয়েদুনা আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযিআল্লাহু আনহু, সাইয়েদুনা আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু এবং সাইয়েদুনা আনাস বিন মালেক রাযিআল্লাহু আনহুর আছারসমূহ জমহূর ছাহাবার আছার না হয় তবে জমহুর দ্বারা উদ্দেশ্য কি?
স্মর্তব্য যে, সাইয়েদুনা আবু উমামাহ রাযিআল্লাহু আনহুর আছার- ‘অতঃপর ঈদুল আযহার পর শেষ যুলহিজ্জা পর্যন্ত যবাই করতেন’ (আল-হাদীছ : ৪৪ পৃ. ১১)-কে খোদ জনাব ড. ছাহেব এবং প্রফেসর ছাহেবও প্রবক্তা নন; বরং চার দিন পর্যন্ত কুরবানী করার প্রবক্তা। দ্বিতীয় এই যে, উপরোল্লিখিত এই আছারটি জমহূর ছাহাবাদের বিরোধী।
(৭) প্রফেসর ছাহেব লিখেছেন, ‘হাফেয যুবায়ের আলী যাঈ ছাহেবের দাবী এই যে, কুরবানীর দিন হল তিন দিন’। আর নিজের এই দাবীর পক্ষে তিনি প্রথম দলীল হিসাবে এটা পেশ করেছেন যে, 'নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূচনাতে তিন দিনের অধিক গোশত সংরক্ষণ করতে নিষেধ করেছিলেন' (পৃ. ১৭)।
আরয রইল যে, এটি আমার প্রথম দলীল নয়। বরং যায়লী ও (মূল দলীলের অধীনে পেশকৃত) সমর্থন-সূচক দলীল। কেননা প্রথম দলীল তো সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু এবং জমহূর ছাহাবায়ে কেরামের আছারসমূহ। আর এটি আমার দাবীর সাথে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। যায়লী দলীলকে প্রথম দলীল হিসাবে আখ্যা দিয়ে আমার প্রতি তা সম্বন্ধ করে প্রফেসর ছাহেব ভুল করেছেন।
অমা আলাইনা ইল্লাল বালাগ
(২৫/১১/২০০৯ইং)