📘 কুরবানীর আহকাম ও মাসায়েল 📄 কুরবানীর উদ্দেশ্য

📄 কুরবানীর উদ্দেশ্য


কুরবানীর উদ্দেশ্য হল আল্লাহ তাআলাকে রাযী করা এবং রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুত-পবিত্র বরকতময় সুন্নাতের উপর একনিষ্ঠ নিয়াত দ্বারা আমল করা। আর এর অনেক বড় ছওয়াব মিলবে ইনশাআল্লাহ।

📘 কুরবানীর আহকাম ও মাসায়েল 📄 কুরবানীর পশুর শর্তসমূহ

📄 কুরবানীর পশুর শর্তসমূহ


কোন্ প্রকারের পশুকে কুরবানী করতে হবে এবং তার কি কি শর্তসমূহ আছে তা বিভিন্ন উক্তি এবং ক্রমিকের মধ্যে এর বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা হল-
(১) স্রেফ মুসিন্নাহ অর্থাৎ দাঁতবিশিষ্ট পশুই কুরবানী করা জায়েয। আর যদি ‘সংকির্ণতার’ কারণে দাঁত বিশিষ্ট পশু পাওয়া সম্ভব না হয় তবে এক বছর বয়স্ক দুম্বা কুরবানী করা জায়েয (দেখুন: ছহীহ মুসলিম হা/১৯৬৩)।
‘সংকির্ণতা’ দ্বারা উদ্দেশ্য এই যে, হাট-বাজারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং অনুসন্ধানের পরও দাঁতবিশিষ্ট পশু পেতে সক্ষম না হওয়া।
(২) হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, চার (প্রকারের) পশু কুরবানী করা জায়েয নেই- (১) স্পষ্ট কানা। (২) স্পষ্ট অসুস্থ। (৩) স্পষ্ট লেংড়া। (৪) আর খুবই দুর্বল পশু যা হাড্ডিসার (দেখুন: সুনানে আবী দাউদ হা/২৮০২, সনদ ছহীহ)।
(৩) সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা আছে যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিং কাটা পশু কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'এমন পশু যার অর্ধেক শিং বা ততোধিক ভেঙ্গে গিয়েছে' (সুনানে তিরমিযী হা/১৫০৪, তিনি বলেছেন, হাদীছটি হাসান ছহীহ)।
サイয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহু থেকে আরেকটি বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে (কুরবানীর পশুর মধ্যে) চোখ এবং কান দেখার হুকুম দিয়েছেন (সুনানে তিরমিযী হা/১৫০৩, তিনি বলেছেন, হাসান ছহীহ)।
এর উপর ইজমা আছে যে, অন্ধ পশু কুরবানী করা জায়েয নেই (আল-মাজমূ শারহুল মুহায্যাব ৮/৪০৪)।
ইমাম খাত্তাবী রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৩৮৮ হি.) বলেছেন, 'এই হাদীছের (যেটি ২ নং ক্রমিকে গত হয়েছে) মধ্যে এই দলীল আছে যে, কুরবানীর পশুর মাঝে থাকা সাধারণ ত্রুটি ক্ষমাযোগ্য' (মাআলিমুস সুনান ২/১৯৯)।
উবায়েদ বিন ফায়রূয (তাবেঈ) সাইয়েদুনা বারা বিন আযেব রাযিআল্লাহু আনহুকে (ছাহাবী) জিজ্ঞাসা করলেন, 'আমি এমন পশুও অপছন্দ করি যার দাঁতের মধ্যে ত্রুটি থাকে। তিনি বললেন, যা তুমি অপছন্দ কর তা বর্জন কর এবং অন্যের জন্য সেটি হারাম করবে না' (সুনানে আবী দাউদ হা/২৮০৩, সনদ ছহীহ)।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি কোন পশুর শিং-এর উপর ঘর্ষণ জনিত সাধারণ ত্রুটি হয়ে থাকে অথবা শিং-এর উপরের আবরণটি ভেঙ্গে যায় তাহলে ইমাম সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রহিমাহুল্লাহ্র উপরোল্লিখিত বর্ণনার আলোকে অত্র পশুর কুরবানী করা জায়েয।

📘 কুরবানীর আহকাম ও মাসায়েল 📄 কুরবানীর চামড়া

📄 কুরবানীর চামড়া


কুরবানীর চামড়া মিসকীন লোকদের মধ্যে বন্টন করে দিবেন। যেমনটি সাইয়েদুনা আলী রাযিআল্লাহু আনহুর হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত আছে (ছহীহ মুসলিম হা/ ১৩১৭)।
যবাইকারী অথবা কশাইকে কুরবানীর চামড়া হতে মজুরী প্রদান করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে মজুরী হিসাবে কুরবানীর গোশত প্রদান করাও জায়েয নেই। বরং হারাম।

📘 কুরবানীর আহকাম ও মাসায়েল 📄 গোশত বন্টন

📄 গোশত বন্টন


কুরবানীর সকল গোশত স্বয়ং ভক্ষণ করা বা সংরক্ষণ করা জায়েয। আর গোশতের তিনটি ভাগ করে একটি ভাগ নিজের জন্য, একটি গরীব-মিসকীন লোকদের জন্য এবং একটি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের জন্য নির্ধারিত করাও জায়েয। বরং এটি উত্তম (দেখুন : সূরা হাজ্জ, আয়াত ২৮, ৩৬)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px