📄 ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যিনি সমস্ত জগতের প্রতিপালক। ছলাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার বিশ্বস্ত রাসূলের উপর। অতঃপর-
এই সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ প্রবন্ধে কুরবানীর কতিপয় আহকাম ও মাসায়েল দলীলসহ পেশ করা হল।-
📄 কুরবানী করা সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ
রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আজকের দিনে (ঈদুল আযহা) আমরা সর্বপ্রথম ছলাত পড়ব। অতঃপর প্রত্যাবর্তন করে কুরবানী করব (ইনশাআল্লাহ)।
যে এমনটি করল সে আমার সুন্নাত পালন করল। আর যে (ছলাতের আগে) যবাই করল তার কুরবানী হল না (বুখারী হা/৫৫৪৫ 'কুরবানীর সুন্নাত' অনুচ্ছেদ)।
কতিপয় আলেমের নিকটে কুরবানী ওয়াজিব। কিন্তু এর পক্ষে তাদের নিকটে কোন স্পষ্ট দলীল নেই। পক্ষান্তরে ছহীহ মুসলিমের হাদীছ (হা/১৯৭৭, দারুস সালামের ক্রমিক অনুসারে হা/৫১১৯) দ্বারা কুরবানীর ওয়াজিব না হওয়া প্রমাণিত হয়। উপরন্তু সাইয়েদুনা আবূ বকর ও সাইয়েদুনা ওমর রাযিআল্লাহু আনহুমার নিকটে কুরবানী ওয়াজিব নয় (দেখুন মারিফাতুস সুনান ওয়াল আছার ৭/১৯৮, এর সনদ হাসান)।
ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'কুরবানী করা সুন্নাত, ওয়াজিব নয়। আর যে ব্যক্তি এর ক্ষমতা রাখে, আমার পছন্দ নয় যে, সে কুরবানীকে বর্জন করুক' (মুওয়াত্তা ইমাম মালেক ২/৪৮৭)।
ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'কুরবানী করা সুন্নাত (এবং) আমি একে বর্জন করা পছন্দ করি না' (কিতাবুল উম্ম ১/২২১)।
প্রমাণিত হল যে, ঈদুল আযহায় ঈদের ছলাতের পর কুরবানী করা সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। আর শারঈ কারণ ব্যতীত কুরবানী না করা অপছন্দনীয় কাজ।
কতিপয় হাদীছ অস্বীকারকারী অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ আক্বায়েদ এবং মাসায়েলকে অস্বীকারের সাথে কুরবানীর সুন্নাত হওয়াকেও অস্বীকার করেছেন। অথচ কুরবানী করার প্রমাণ ছহীহ, মুতাওয়াতির হাদীছসমূহ বরং কুরআন মাজীদেও বিদ্যমান আছে (যেমন দেখুন : সূরা আছ-ছফ্ফাত, আয়াত ১০৭; সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৩৪; সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৬২)।
📄 কুরবানীর পারিভাষিক অর্থ
ঈদুল আযহার ছলাতের পর প্রথম দিন অথবা কুরবানীর দিনগুলিতে গৃহপালিত জন্তুর (যেমন বকরী, ভেড়া, গাভী, উট) মধ্য হতে কোন পশুকে শারঈ পন্থায় উৎসর্গ এবং নৈকট্য অর্জন করার লক্ষে যবাই করাকে কুরবানী বলা হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শহর হোক বা গ্রাম হোক, ঈদের ছলাতের পূর্বে কুরবানী করা জায়েয নেই।
📄 কুরবানীদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ
(১) কুরবানী দাতাকে ছহীহ আক্বীদাসম্পন্ন মুসলিম, কিতাব ও সুন্নাতের আনুগত্যকারী হওয়া, শিরক ও কুফর, বিদআতসমূহ হতে পাক হওয়া যরূরী। আর যার আক্বীদা নষ্ট, তার কোন আমল কবুলযোগ্য নয়। কুরআন, হাদীছ ও ইজমার প্রতি পর্যবেক্ষণ করতঃ প্রতিটি মুহুর্তে স্বীয় ঈমান ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
(২) রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যখন তোমরা যুল হজ্জ মাসের চাঁদ দেখ এবং তোমাদের মধ্য হতে কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা কর; তখন তাকে স্বীয় চুল, নখ কাটা হতে বিরত থাকতে হবে' (ছহীহ মুসলিম হা/১৯৭৭)।
এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, কুরবানী দাতাকে যুল হজ্জের শুরু হতে কুরবানী করা পর্যন্ত নিজের চুল কাটানো উচিৎ না। আর নখ কাটাও উচিৎ নয়।
যদি কারো নখ ভেঙ্গে যায় অথবা এমন খারাপ হয়ে যায় যে, নখ তুলে ফেলা/কাটা যরূরী হয়ে পড়ে; তাহলে এমন করা জায়েয। যেমনটি ইজমা দ্বারা প্রমাণিত আছে।
(৩) একটি হাদীছে এসেছে যে, এক ব্যক্তি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, যদি আমি স্রেফ মাদী (দুধ দেয় এমন পশু) কুরবানী করার জন্য পাই তাহলে আমি কি সেটি কুরবানী করব?
তিনি বললেন, 'না। কিন্তু তুমি নখ, চুল কেটে ফেলবে, গোঁফ ছাঁটবে এবং লজ্জাস্থানের চুল মুন্ডিয়ে ফেলবে। তাহলে আল্লাহ্র কাছে এটি সম্পূর্ণ কুরবানী হিসাবে গণ্য হয়ে যাবে' (সুনানে আবী দাউদ হা/২৭৮৯, সনদ হাসান)।
এই হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হয়, যে ব্যক্তি কুরবানীর ক্ষমতা রাখে না, সে যদি প্রথম যুল হজ হতে শুরু করে ঈদের ছলাত পর্যন্ত চুল না কাটে এবং নখ না কাটে তবে সে কুরবানীর পুরো নেকী পাবে। সুবহানাল্লাহ।