📄 শরিয়তের আদেশ অমান্য করা
ক. শরিয়া যেসব আকিদা অপরিহার্য করেছে, কেউ যদি এমন কোনো আকিদা না রাখে; কিংবা তা অস্বীকার করে, আর সেই আকিদাটি শরিয়তে তাওয়াতুরের সঙ্গে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে সে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে। তবে যেসব আকিদা অকাট্য নয়— যেমন, ফেরেশতা উত্তম নাকি সাধারণ মানুষ, এমন আকিদা কেউ না রাখলে তাকে কাফির বলার সুযোগ নেই, তবে অনেক সময় ফাসিক বলে আখ্যায়িত করা হবে। কাজি ইয়াজ রাহ. লেখেন,
وَكَذَلِكَ نَقْطَع بِتَكْفِير كل من كذب وأنكر قاعِدَة من قَوَاعِدَ الشَّرْعِ وَمَا عُرِف يقينا بالنقل الْمُتَواتر من فِعْل الرَّسُول وَوَقَع الإجماع الْمُتَّصِل عَلَيْهِ كَمِن أَنْكَر وجوب الصلوات الخمس وعَدَد ركعاتها وسَجَداتِها وَيَقُولُ إِنَّمَا أَوْجَبِ اللَّهُ عَلَيْنَا في كتابه الصَّلَاة عَلَى الْجُمْلَة وَكَوْنُها خَمْسًا وَعَلَى هَذِه الصفات والشروط لَا أَعْلَمُه.
'আমরা প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে অকাট্যভাবে তাকফির করি, যে শরিয়তের মূলনীতিসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি মূলনীতি অথবা রাসুলের এমন কোনো কাজ অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করে, যা তার থেকে সুনিশ্চিতভাবে তাওয়াতুরের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। যেমন, কেউ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আবশ্যকতা এবং তার রাকাআত ও সিজদাসংখ্যা অস্বীকার করে বলল, আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমাদের ওপর শুধু সালাত ফরজ করেছেন; কিন্তু সেই সালাত যে পাঁচ ওয়াক্ত হতে হবে এবং এসব গুণ ও শর্তবিশিষ্ট হতে হবে, এমন কিছু আমি জানি না, (তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে)।
খ. শরিয়া বান্দার ওপর তাওহিদ ও রিসালাতের মৌখিক সাক্ষ্য অপরিহার্য করেছে। এখন কেউ যদি এই সাক্ষ্য প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সে কাফির বিবেচিত হবে। এ কারণে ইমাম আবু হানিফা রাহ. ইমানের সংজ্ঞার মধ্যেই মৌখিক স্বীকারোক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য ছাড়া মৌখিকভাবে আদায়কৃত আরও যত ইবাদত রয়েছে-যেমন : তিলাওয়াত, আজান, ইকামত, জিকির, দাওয়াত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ-কেউ যদি সারা জীবনে মুখ দ্বারা তা না করে, তবু তা অনুচিত হলেও কুফর নয়। একমাত্র তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য একান্ত অপরিহার্য ও আবশ্যক বিষয়। যে-কেউ তা পরিহার করবে, তাকে তাকফির করা হবে। ইমাম ইবনুল হুমام রাহ. লেখেন,
اتفق القائلون بعدم اعتبار الإقرار على أن يعتقد أنه متى طولب به أتى به، فإن طولب به فلم يقر فهو كفر عناد، وهذا ما قالوا إن ترك العناد شرط وفسروه به.
'যারা মৌখিক স্বীকারোক্তিকে (ইমানের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত বলে) বিবেচনা করেননি, তারা সবাই এই আকিদার ব্যাপারে একমত যে, যখন তার কাছে মৌখিক স্বীকারোক্তি তলব করা হবে, তখন তাকে স্বীকারোক্তি প্রদান করতে হবে। যদি তার কাছে মৌখিক স্বীকারোক্তি তলব করা সত্ত্বেও সে তা প্রদান না করে, তাহলে তা কুফরে ইনাদ। ফকিহগণ যে বলেছেন, ইমানের একটি শর্ত হলো 'ইনাদ' পরিহার করা, তার ব্যাখ্যা তারা এটাই করেছেন। (অর্থাৎ, মৌখিক স্বীকারোক্তি প্রদান না করা।)
ইমাম ইবনু হাজম জাহিরি রাহ. লেখেন,
مَنْ اعْتَقَدَ الْإِيمَانَ بِقَلْبِهِ وَلَمْ يَنْطِقُ بِهِ بِلِسَانِهِ دُونَ تَقِيَّةٍ فَهُوَ كَافِرُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى وَعِنْدَ الْمُسْلِمِينَ.
'যে ব্যক্তি অন্তরে ইমানের আকিদা রাখবে আর কোনো তাকিয়া ছাড়া মুখে তা বলবে না, সে আল্লাহর কাছেও কাফির; আর মুসলিমদের কাছেও কাফির।’
গ. কিছু আমল এমন, যা ত্যাগ করা কুফর কি না, এ ব্যাপারে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমামগণের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। আর কিছু আমল এমন, যা ত্যাগ করা কুফর না হওয়ার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সকল ইমামের ঐকমত্য রয়েছে। প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো, তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য ছাড়া ইসলামের বাকি চার স্তম্ভ; হাদিসে যেগুলোকে ইসলামের খুঁটি বা ভিত্তি বলে অভিহিত করা হয়েছে। রাসুল বলেন,
بني الإسْلامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ.
'ইসলামকে পাঁচটি স্তম্ভের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে: (১) আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। (২) সালাত কায়িম করা। (৩) জাকাত আদায় করা। (৪) হজ করা এবং (৫) রমজানের সিয়াম পালন করা (রোজা রাখা)।
কিছুসংখ্যক আলিম কিছু হাদিসের কারণে শুধু ইচ্ছাকৃত সালাত ত্যাগ করাকে কুফর বলেছেন। কেউ আবার সালাত, সিয়াম, হজ ও জাকাত, এর কোনো একটি ত্যাগ করাকেই কুফর বলেছেন। ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি রাহ. জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম গ্রন্থে উল্লেখিত হাদিসের ব্যাখ্যায় এ প্রসঙ্গে সুদীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এই চারটি আমল ছাড়া অন্য সব আমলের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর ইমামগণের ঐকমত্য রয়েছে, তা না করার কারণে কেউ কাফির হবে না।
হানাফি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগণের মত হলো, সালাত ও বাকি তিনটি আমল না করার কারণে গুনাহগার হলেও কেউ কাফির হবে না। কারণ, ইমান হচ্ছে সত্যায়নের নাম। আর কুফর হচ্ছে ইমানের বিপরীত জিনিস। সালাত আদায় না করা এ কথার প্রমাণ বহন করে না যে, অন্তরে ইমান নেই; বরং অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান রয়েছে। কারণ, মানুষ অনেক সময় আলস্য ও উদাসীনতাবশত সালাত ছেড়ে দেয়। ইমাম জায়নুদ্দিন ইরাকি রাহ. লেখেন,
ذهب جمهور أهل العلم إلى أنه لا يكفر بترك الصلاة إذا كان غير جاحد لوجوبها، وهو قول بقية الأئمة أبي حنيفة ومالك والشافعي، وهي رواية عن أحمد بن حنبل أيضا.
'সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিম এই মত পোষণ করেছেন, সালাত ছেড়ে দেওয়ার কারণে ব্যক্তি কাফির হয় না, যদি সে সালাতের আবশ্যকতা অস্বীকার না করে। ইমাম আহমাদ রাহ. ছাড়া অন্য সকল ইমাম—আবু হানিফা, মালিক ও শাফিয়ি রাহ.-এর মত এটাই। আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহ.-এর একটি বর্ণনাও এমন রয়েছে。
টিকাঃ
৩১৫ আশ-শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুসতাফা: ২/২৮৭।
৩১৬ দ্রষ্টব্য-আল-মুসায়ারা: ২৭৪।
৩১৭ আল-মুসায়ারা, আল-খাতিমা ফি বাহসিল ইমান: ২৭৯।
৩১৮ আল-মুহাল্লা: ১/৬১।
৩১৯ সহিহ বুখারি: ৮।
৩২০ জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১৪৩-১৫৩।
৩২১ তারহুত তাসরিব ফি শারহিত তাকরিব: ২/১৪৭।
📄 নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত হওয়া
ক. শরিয়া যেসব বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করেছে, কেউ যদি এমন কোনো বিশ্বাস লালন করে; অথবা নিজের পক্ষ থেকে এমন কোনো আকিদা উদ্ভাবন করে, যা শরিয়তের স্বীকৃত আকিদা, জরুরিয়াতে দীন বা ইমানের শর্ত ও তার অপরিহার্য বিষয়সমূহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বিরোধপূর্ণ হয়, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে।
খ. গ্রন্থের শুরুতে আমরা ইমানের পাঁচটি মৌলিক শর্তের কথা উল্লেখ করেছি। এই শর্তগুলোর কোনো একটি যদি অবিদ্যমান থাকে, তাহলে ব্যক্তির ইমান নষ্ট হয়ে যায়। যেমন: একটি শর্ত হচ্ছে সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা। এখন কেউ যদি ইসলামের কোনো অকাট্য বিধানকে ভালো না বাসে বা তার প্রতি ঘৃণা লালন করে; কিংবা জেনেবুঝে কুফরি কোনো বিষয়ের ওপর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা প্রকাশ করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। আরেকটি শর্ত হচ্ছে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা। এখন কেউ যদি আল্লাহ, তাঁর রাসুল বা ইসলামের যেকোনো স্বীকৃত বিষয়কে সম্মান ও শ্রদ্ধা না করে বা তার অবমাননা করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। আরেকটি শর্ত হচ্ছে আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ। এখন কেউ যদি জেনেবুঝে ইসলামের শাশ্বত কোনো বিধানের ব্যাপারে আত্মসমর্পণ না করে কিংবা তা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। আরেকটি শর্ত হচ্ছে ইসলাম ছাড়া অন্য সব ধর্ম-আদর্শ-মতবাদ-দীন থেকে সম্পর্কহীন হওয়া। এখন কেউ যদি নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়েও ইয়াহুদিধর্ম, খ্রিষ্টধর্ম, হিন্দুধর্ম, কাদিয়ানি মতবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদির সঙ্গে নিজেকে সম্পর্কযুক্ত রাখে; কিংবা সেগুলোকে হক, অনুসরণীয় এবং এই যুগের জন্য আদর্শ ব্যবস্থা বলে মনে করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। এই তাকফিরের মূল কারণ কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া নয়; বরং এর মূল কারণ হচ্ছে, ইমানের মৌলিক শর্ত নষ্ট বা অবিদ্যমান হয়ে যাওয়া।
📄 কুফরের প্রতি সন্তুষ্টিও কুফর
কুফর ও এর প্রচার-প্রসারে সন্তুষ্ট হওয়া এবং স্বেচ্ছায়-সাগ্রহে নিজে কুফর প্রচার করা ও তার শিক্ষা দেওয়াকেও ফকিহগণ কুফর বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম ইবনু হাজার হাইতামي রাহ. লেখেন,
وَمِنَ الْمُكَفِّرَاتِ أَيْضاً أَنْ يَرْضَى بِالْكُفْرِ وَلَوْ ضِمْناً كَأَنْ يَسْأَلَهُ كَافِرٌ يُرِيدُ الْإِسْلَامَ أن يلقنه كلمة الإسلام فلا يفعل، أو يقول له: اصبر حتى أفرغ من شغلي أو خطبتي. لو كان خطيباً, أو كأن يشير عليه بأن لا يسلم وإن لم يكن طالباً للإسلام فيما يظهر... والذي يظهر أنه يكفر بذلك... أو يشير على مسلم بأن يرتد، وإن كان مريداً للردة، كما هو ظاهر. أو يكرهه على الكفر على الأصح أو يطلب منه أو من كافر الكفر... حيث قال في يهودي تنصر.
'কুফর অপরিহার্যকারী আরেকটি বিষয় হলো কোনো মুসলিম কুফরের ওপর সন্তুষ্ট হওয়া, যদিও তা পরোক্ষভাবেই হোক না কেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কাফির ইসলামগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে তাকে কালিমা পড়ানোর জন্য বলল; কিন্তু সে তা করল না অথবা এ কথা বলে বসল যে, তুমি ধৈর্য ধরো; আমি আমার ব্যস্ততা বা বক্তৃতা শেষ করে আসি— যদি সে বৃক্তা হয়। অথবা কাউকে এই পরামর্শ দিলো যে, সে যেন ইসলামগ্রহণ না করে। যদি বাহ্যিকভাবে সেই ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করতে আগ্রহী না-ও হয়, তবু পরামর্শদাতা কাফির হয়ে যাবে। অথবা কোনো মুসলিমকে এই পরামর্শ দিলো যে, সে যেন মুরতাদ হয়ে যায়, বাস্তবেই সেই ব্যক্তি মুরতাদ হতে ইচ্ছুক হলেও পরামর্শদাতা কাফির হয়ে যাবে। অথবা কাউকে যদি কুফরের ওপর বাধ্য করে; কিংবা কারও থেকে কুফর তলব করে, এমনকি কোনো কাফিরের থেকেও যদি কুফর তলব করে— যেমন: কোনো ইয়াহুদিকে বলল, তুই খ্রিষ্টান হয়ে যা, তাহলেও সে কাফির হয়ে যাবে。
আল্লামা ইবনু নুজায়ম রাহ. লেখেন,
وَبِأَمْرِهِ امْرَأَةً بِالارْتِدَادِ لِتَبِينَ مِنْ زَوْجِهَا وَبِالْإِفْتَاءِ بِذَلِكَ وَإِنْ لَمْ تَكْفُرُ الْمَرْأَةُ بِنَاءً عَلَى أَنَّ الرِّضَا بِكُفْرِ غَيْرِهِ كُفْرُ.
'কেউ যদি কোনো নারীকে মুরতাদ হতে আদেশ দেয় বা ফাতওয়া দেয়, যাতে সে তার স্বামী থেকে পৃথক হয়ে যেতে পারে, তাহলে সে (আদেশ বা ফাতওয়াদাতা) কাফির হয়ে যাবে; যদি সে নারী মুরতাদ না-ও হয়। কারণ, অন্যের কুফরের ওপর সন্তুষ্টিও কুফর।’
কুফরের প্রতি সন্তুষ্টির কারণে ব্যক্তি কাফির হলেও কোনো কাফির ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট হলে তাকে মুমিন বলা হয় না। কারণ, কুফরের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার দ্বারা ইমানের একটি অপরিহার্য মৌলিক শর্ত নষ্ট হয় বিধায় ব্যক্তির ইমানও ভঙ্গ হয়; কিন্তু একজন কাফিরের মধ্যে ইমানের হাকিকত ও অন্যান্য শর্তের উপস্থিতি ছাড়া কেবল একটিমাত্র শর্ত বিদ্যমান থাকার কারণে তাকে ইমানদার বলার সুযোগ নেই। ইমাম ইবনু হাজার হাইতামি রাহ. লেখেন,
ولو رضي كافر بالإسلام أو أكره كافراً آخر عليه أو عزم عليه في المستقبل لم يكن بذلك مسلماً.
'কোনো কাফির যদি ইসলামের ওপর সন্তুষ্ট হয়; অথবা অন্য কোনো কাফিরকে ইসলামগ্রহণে বাধ্য করে; কিংবা ভবিষ্যতে ইসলাম গ্রহণ করার প্রত্যয় রাখে, তাহলে এর দ্বারা সে মুসলিম হয় না。
টিকাঃ
৩২২ আল-ইলাম বি কাওয়াতিয়িল ইসলাম: ১৩৩।
৩২৩ আল-বাহরুর রায়িক: ৫/১৩৩।
৩২৪ আল-ইলাম বি কাওয়াতিয়িল ইসলাম: ১০০।
📄 ইসলাম ছাড়া অন্যান্য দীনের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন না করা কুফর
কাজি ইয়াজ রাহ. লেখেন,
ولهذا نُكَفِّر من لم يُكَفِّر من دَانِ بِغَيْر ملّة الْمُسْلِمِين مِن المِلَلِ أَو وَقَفَ فِيهِم أَو شَكٍّ أَو صَحَّح مَذْهَبَهُم وإن أَظْهَر مَع ذَلِكَ الْإِسْلَامِ وَاعْتَقَدَه وَاعْتَقَدَ إِبْطَالَ كُلَّ مذْهَب سِواه فَهُو كَافِر بِإِظْهَارِهِ مَا أَظْهَر من خِلَاف ذَلِك.
'মুসলিমদের দীন ছাড়া যারা অন্য কোনো দীনের আনুগত্য করে; যে ব্যক্তি তাদের তাকফির করে না; কিংবা তাদের কুফরের ব্যাপারে নীরব অবস্থান গ্রহণ করে বা তাদের কুফরের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে; অথবা তাদের মতবাদকে বিশুদ্ধ বলে, আমরা এমন লোকদেরও তাকফির করি। তারা যদি এর পাশাপাশি নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে, ইসলামের আকিদা রাখে, ইসলাম ছাড়া অন্য সব মতবাদকে বাতিল বলে বিশ্বাস করে, তবু তারা কাফির। কারণ, তারা আচরণে এর বিপরীত বিষয় প্রকাশ করেছে。
সুস্পষ্ট কাফিরদের তাকফির না করা বা তাদের কুফরের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করাও কুফর। কারণ, এর দ্বারা ইসলাম ছাড়া অন্য সব দীনের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন হয় না। সুতরাং যারা কাদিয়ানি, ধর্মনিরপেক্ষ (Secular) বা গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের তাকফির করবে না বা তাদের কুফরের ব্যাপারে সন্দেহ করবে, তারাও কাফির হয়ে যাবে। তারা মুখে যতই বলুক না কেন ইসলাম একমাত্র সত্য ধর্ম এবং ইসলাম ছাড়া সবকিছু বাতিল; কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে এর ভিন্ন আচরণের কারণে তাদের কাজ তাদের উক্তিকে সমর্থন করে না। এ কারণে বাহ্যিক অবস্থা বিবেচনা করেই তাদের ব্যাপারে কুফরের সিদ্ধান্ত প্রদান করা হবে। এভাবে কেউ যদি সন্তুষ্টিচিত্তে কুফরের প্রতীক ব্যবহার করে, তা ক্রুশ হোক কিংবা অন্য কোনো প্রতীক, তাহলেও সে কাফির হয়ে যাবে। আল্লামা ইবনু নুজায়ম রাহ. লেখেন,
وَبِوَضْعِ فَلَنْسُوَةِ الْمَجُوسِيِّ عَلَى رَأْسِهِ عَلَى الصَّحِيحِ إِلَّا لِضَرُورَةِ دَفْعِ الْحَرِّ أَوْ الْبَرْدِ وَبِشَدِّ الزُّنَّارِ فِي وَسَطِهِ إِلَّا إِذَا فَعَلَ ذَلِكَ خَدِيعَةً فِي الْحَرْبِ وَطَلِيعَةً لِلْمُسْلِمِينَ وَبِقَوْلِهِ مُعَلِّمُ صِبْيَانِ الْيَهُودِ خَيْرُ مِنْ الْمُسْلِمِينَ بِكَثِيرٍ فَإِنَّهُمْ يَقْضُونَ حُقُوقَ مُعَلِّمِي صِبْيَانِهِمْ.
'মাজুসিদের (পারসিক ধর্মের অনুসারী অগ্নিপূজক) ধর্মীয় টুপি মাথায় রাখলে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী কাফির হয়ে যাবে; তবে রোদ বা শীত প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করলে ভিন্ন কথা। শরীরের মধ্যভাগে বিধর্মীদের বিশেষ বেল্ট ব্যবহার করলেও কাফির হয়ে যাবে; তবে যুদ্ধে তাদের ধোঁকা দিতে বা মুসলিম সৈন্যদের কোনো লক্ষণ বোঝানোর জন্য ব্যবহার করলে ভিন্ন কথা। কেউ যদি বলে, ইয়াহুদি শিশুদের শিক্ষকরা মুসলিমদের চেয়ে অনেক উত্তম। কারণ, তারা শিশুদের শিক্ষক হওয়ার হক আদায় করে, তাহলেও সে কাফির হয়ে যাবে。
টিকাঃ
আশ-শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুসতাফা মাআ হাশিয়াতিশ শুমুন্নি: ২/২৮৬।
আল-বাহরুর রায়িক: ৫/১৩৩।