📘 কুফর ও তাকফির > 📄 তাচ্ছিল্য ও উপহাসের কারণে কাউকে তাকফির করার শর্ত

📄 তাচ্ছিল্য ও উপহাসের কারণে কাউকে তাকফির করার শর্ত


ক. তাচ্ছিল্য ও উপহাসের কারণে কাউকে তখনই তাকফির করা যাবে, যখন শরিয়তের বিধানের তাচ্ছিল্য ও উপহাস করাই তার উদ্দেশ্য হবে। যদি এমন হয়, শরিয়তের বিধানের তাচ্ছিল্য ও উপহাস করা তার উদ্দেশ্য নয়, তবে যে বিষয়ের তাচ্ছিল্য ও উপহাস করছে, তা শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত বা শরিয়তের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাহলে এর দ্বারা তার ইমান ঝুঁকিতে পড়ে গেলেও স্রেফ এর ভিত্তিতে কাউকে তাকফির করা সংগত নয়। যেমন: কারও দাড়ি সর্বদা অগোছালো ও এলোমেলো থাকে। এটা দেখে কেউ তার এই অবস্থা নিয়ে হাসিঠাট্টা করল। শরিয়তের বিধান হিসেবে দাড়ি নিয়ে হাসিঠাট্টা করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। তাহলে এর কারণে তাকে তাকফির করা যাবে না।
একইভাবে কেউ যদি দীনের হকপন্থي কোনো আলিমকে তাচ্ছিল্য ও অবমাননা করে, তাহলে দেখতে হবে তাচ্ছিল্য ও অবমাননাকারীর মূল উদ্দেশ্য কী। সে যদি আলিমের ব্যক্তিগত দোষত্রুটির কারণে এমনটি করে থাকে, তাহলে তা কবিরা গুনাহ হলেও কুফর হবে না। আর যদি সে আলিমকে কেবলই দীন ও ইলমের ধারক-বাহক হওয়ার কারণেই এই তাচ্ছিল্য ও অবমাননা করে থাকে, তাহলে সে নিঃসন্দেহে কাফির হয়ে যাবে। আল্লামা ইবনু কাজি সামাওয়া রাহ. লেখেন,
أبغض عالماً أو فقيهاً بلا سبب ظاهر خيف عليه الكفر... جلس على مكان مرتفع وتشبه بالمذكرين ويتمسخر والقوم يضحكون كفروا وكذا من تشبه بالمعلمين في مجمع ويضحك القوم كفروا جميعاً.
'কেউ যদি কোনো আলিম বা ফকিহকে প্রকাশ্য কারণ ছাড়া ঘৃণা করে, তাহলে তার ওপর কুফরের আশঙ্কা রয়েছে। ... কেউ যদি কোনো উঁচু স্থানে বসে বক্তাদের সাদৃশ্য ধারণ করে হাসিঠাট্টা করে; আর উপস্থিত সবাই হাসতে থাকে, তাহলে তারা সবাই কাফির হয়ে যাবে। একইভাবে কেউ যদি কোনো সভায় দীনের শিক্ষকদের সাদৃশ্য ধারণ করে আর উপস্থিত সবাই হাসাহাসি করতে থাকে, তাহলে তারা সবাই কাফির হয়ে যাবে।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, প্রথম সুরতের ব্যাপারে বলা হলো, 'কুফরের আশঙ্কা রয়েছে' আর পরের দুই সুরতে নিশ্চিতভাবে বলা হলো, 'কাফির হয়ে যাবে'। এই পার্থক্যের কারণ হলো, প্রথম সুরতে দীন ও ইলমকে তাচ্ছিল্য করাই যে তার উদ্দেশ্য ছিল, এটা সুনিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। পরবর্তী দুই সুরতে বিষয়টি সুস্পষ্ট ও সুনিশ্চিত। আল্লামা ইবনু নুজায়ম রাহ. লেখেন,
يَكْفُرُ الْجَمِيعُ لِاسْتِخْفَافِهِمْ بِالشَّرْعِ، وَكَذَا لَوْ لَمْ يَجْلِسْ عَلَى مَكَانَ مُرْتَفِعٍ وَلَكِنْ يَسْتَهْزِئُ بِالْمُذَكَّرِينَ وَيَتَمَشَّى وَالْقَوْمُ يَضْحَكُونَ.
'শরিয়তের অবজ্ঞা করার কারণে তারা সবাই কাফির হয়ে যাবে। একইভাবে কেউ যদি উঁচু স্থানে না বসেও দীনের উপদেশদাতাদের উপহাস করে, তাদের নকল করে বিদ্রূপের হাঁটা হাঁটে এবং উপস্থিত সবাই তা দেখে হাসাহাসি করে, তাহলে তারা সবাই কাফির হয়ে যাবে。
হাসলেও কাফির হবে এ কারণে যে, হাসি হচ্ছে বিদ্রুপের প্রতীক। তবে কেউ যদি বিদ্রুপের কারণে না হাসে; বরং উপদেশদাতা বক্তার কথা ও অভিনয়টিই এমন হয় যে, তা দেখে অনিচ্ছাসত্ত্বেও হাসি আটকে রাখতে পারেনি, তাহলে কাফির হবে না। আল্লামা মোল্লা খসরু রাহ. লেখেন,
وَمَنْ تَكَلَّمَ بِكَلِمَةِ الْكُفْرِ وَضَحِكَ غَيْرُهُ يَكْفُرُ الضَّاحِكُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ الضَّحِكُ ضَرُورِيًّا بِأَنْ يَكُونَ الْكَلَامُ مُضْحِكًا.
কেউ যদি কুফরি কথা বলে আর অন্যরা হাসে, তাহলে যে হাসবে সে কাফির হয়ে যাবে। তবে হাসা যদি জরুরি হয়, তাহলে ভিন্ন কথা। যেমন, কথাটিই এমন, যা হাসতে বাধ্য করে।
খ. যে ব্যক্তি শরিয়তের কোনো বিধান নিয়ে তাচ্ছিল্য ও উপহাস করছে, সেটা যে শরিয়তের বিধান এ ব্যাপারে তার ইলম থাকতে হবে। যদি অজ্ঞতার কারণে না বুঝে এরূপ করে থাকে, তাহলে শুধু এর কারণে তাকে তাকফির করা যাবে না। তবে তাকে এ ব্যাপারে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি অবগত করার পরও সে যদি নিজ অবস্থার ওপর অবিচলতা প্রদর্শন করে, তাহলে তাকে তাকফির করা হবে। পূর্বে এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

টিকাঃ
* জামিউল ফুসুলাইন: ২/১৭১।
** আল-বাহরুর রায়িক: ৫/১৩২
*” দুরারুল হুক্কাম শারহু গুরারিল আহকাম : ১/৩২৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00