📘 কুফর ও তাকফির > 📄 উসুলুল ফিকহের বিশ্লেষণ

📄 উসুলুল ফিকহের বিশ্লেষণ


হানাফি মাজহাবের উসুলুল ফিকহের গ্রন্থসমূহ যারা পড়েছেন, তাদের অজানা নয় যে, হানাফি ফকিহগণ ফরজ ও ওয়াজিব পরিভাষার মধ্যে পার্থক্য করে থাকেন। যেসব বিধান এমন নুসুস দ্বারা সাব্যস্ত, যা প্রামাণিকতার বিচারে অকাট্য এবং অর্থ প্রকাশেও অকাট্য ও দ্ব্যর্থহীন, সেগুলোকে তারা ফরজ বলে থাকেন। পক্ষান্তরে প্রামাণিকতা বা অর্থ প্রকাশ-কোনো একটির ক্ষেত্রে যদি অকাট্যতা না থাকে, তবে অপরটি অকাট্য হয়, তাহলে ফকিহগণ সেটাকে ওয়াজিব বলেন। ফরজ বিধান আকিদা ও আমল উভয়টি অপরিহার্য করে। সুতরাং কেউ যদি তা অস্বীকার করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যায়। অপরদিকে ওয়াজিব বিধান আমল অপরিহার্য করলেও আকিদা অপরিহার্য করে না। তাই কেউ তা অস্বীকার করলে ফাসিক ও গোমরাহ হলেও কাফির হয় না। ১৯৭৪ এর দ্বারা বোঝা গেল, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রবিদগণ তাকফিরের ভিত্তি রেখেছেন অকাট্য বিধান অস্বীকারের ওপর; এটাকে তারা জরুরিয়াতে দীন অস্বীকারের সঙ্গে সীমাবদ্ধ করেননি।
একইভাবে মুতাওয়াতির ও মাশহুর সুন্নাহ এবং ইজমা প্রসঙ্গেও তারা তাকফিরের আলোচনা করে থাকেন। সেখানেও তাকফিরের মূল কারণ হিসেবে অকাট্য বিধান অস্বীকারের কথা বলেন। যেহেতু ইজমা ও মুতাওয়াতির উভয়টিই অকাট্য ইলম অপরিহার্য করে আর মাশহুরকেও অনেকে মুতাওয়াতিরের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করে থাকেন, তাই এগুলো অস্বীকারের কারণে তারা তাকফিরের ফাতওয়া আরোপ করেন。

টিকাঃ
১৯৭৪ দ্রষ্টব্য-উসুলুস সারাখসি : ১/১১০; উসুলুল বাজদাওয়ি মাআ কাশফিল আসরার: ২/৩০৩।
১৯৯০ দ্রষ্টব্য-নুরুল আনওয়ার: ৬২৯, ৫০৩; উসুলুশ শাশি : ২৭২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00