📘 কুফর ও তাকফির > 📄 জরুরিয়াতে দীনের প্রকার

📄 জরুরিয়াতে দীনের প্রকার


ইমাম তাকিউদ্দিন সুবকি রাহ. লেখেন,
لَكِنِّي أُنَبِّهُ هُنَا عَلَى شَيْءٍ وَهُوَ أَنَّ الْمَعْلُومَ بِالضَّرُورَةِ مِنْ الشَّرْعِ قِسْمَانِ: أَحَدُهُمَا يَعْرِفُهُ الْخَاصُّ وَالْعَامُ، وَالثَّانِي: قَدْ يَخْفَى عَلَى بَعْضِ الْعَوَامِّ، وَلَا يُنَافِي هَذَا قَوْلُنَا: إِنَّهُ مَعْلُومُ بِالضَّرُورَةِ؛ لِأَنَّ الْمُرَادَ أَنَّ مَنْ مَارَسَ الشَّرِيعَةَ وَعَلِمَ مِنْهَا مَا يَحْصُلُ بِهِ الْعِلْمُ الضَّرُورِيُّ بِذَلِكَ وَهَذَا قَدْ يَحْصُلُ لِبَعْضِ النَّاسِ دُونَ بَعْضٍ بِحَسَبِ الْمُمَارَسَةِ وَكَثْرَتِهَا أَوْ قِلَّتِهَا أَوْ عَدَمِهَا فَالْقِسْمُ الْأَوَّلُ مَنْ أَنْكَرَهُ الْعَوَامُّ أَوْ الْخَوَاصُّ فَقَدْ كَفَرَ؛ لِأَنَّهُ مُكَذِّبُ لِلنَّبِيِّ ﷺ فِي خَبَرِهِ.
وَمِنْ هَذَا الْقِسْمِ إِنْكَارُ وُجُوبِ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصَّوْمِ وَالْحَجِّ وَنَحْوِهَا وَتَخْصِيصُ رِسَالَتِهِ بِبَعْضِ الْإِنْسِ. فَمَنْ قَالَ ذَلِكَ فَلَا شَكٍّ فِي كُفْرِهِ وَإِنْ اعْتَرَفَ بِأَنَّهُ رَسُولُ إِلَيْهِ لِأَنَّ عُمُومَ رِسَالَتِهِ إِلَى جَمِيعِ الْإِنْسِ مِمَّا يَعْلَمُهُ الْخَوَاصُّ وَالْعَوَامُّ بِالضَّرُورَةِ مِنْ الدِّينِ، وَالْقِسْمُ الثَّانِي مَنْ أَنْكَرَهُ مِنْ الْعَوَامِّ الَّذِينَ لَمْ يَحْصُلْ لَهُمْ مِنْ مُمَارَسَتِهِ الشَّرْعَ مِمَّا يَحْصُلُ لَهُ بِهِ الْعِلْمُ الضَّرُورِيُّ وَإِنْ كَانَتْ كَثْرَةُ الْمُمَارَسَةِ أَوْجَبَتْ لِلْعُلَمَاءِ الْعِلْمَ الضَّرُورِيَّ بِذَلِكَ، وَمِنْ هَذَا الْقِسْمِ عُمُومُ رِسَالَتِهِ ﷺ إِلَى الْجِنِّ فَإِنَّا نَعْلَمُ بِالضَّرُورَةِ ذَلِكَ لِكَثْرَةِ مُمَارَسَتِنَا لِأَدِلَّةِ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَأَخْبَارِ الْأُمَّةِ.
وَأَمَّا الْعَامِّيُّ الَّذِي لَمْ يَحْصُلْ لَهُ ذَلِكَ إِذَا أَنْكَرَ ذَلِكَ فَإِنْ قَيَّدَ الشَّهَادَةَ بِالرِّسَالَةِ إِلَى الْإِنْسِ خَاصَّةٌ خَشِيت عَلَيْهِ الْكُفْرَ كَمَا قَدَّمْته فِي أَوَّلِ هَذِهِ الْفَتْوَى، وَإِنْ أَطْلَقَ الشَّهَادَةَ بِأَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ وَلَمْ يَنْتَبِهُ؛ لِأَنَّ إِنْكَارَهُ لِعُمُومِ الدَّعْوَى لِلْجِنِّ يُخَالِفُ ذَلِكَ فَلَا أَرَى الْحُكْمَ بِكُفْرِهِ وَلَكِنْ يُؤَدِّبُ عَلَى كَلَامِهِ فِي الدِّيْنِ بِالْجَهْلِ وَيُؤْمَرُ بِأَنْ يَتَعَلَّمَ الْحَقَّ فِي ذَلِكَ لِتَزُولَ عَنْهُ الشَّبْهَةُ الَّتِي أَوْجَبَتْ الْإِنْكَارَ.
‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শরিয়তে জরুরিয়াতে দীনসমূহ দু-প্রকার : (ক) যা আলিম ও সাধারণ মানুষ সবাই জানে। (খ) যা কিছুসংখ্যক সাধারণ মানুষের কাছে অস্পষ্ট থাকে। আমরা এটাকে যে জরুরিয়াতে দীন বলছি, এর সঙ্গে এ বিষয়টি সাংঘর্ষিক নয়। কারণ, জরুরিয়াতে দীন সর্বজনবিদিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, যারা শরিয়তের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এবং শরিয়তের এতটুকু ইলম হাসিল করে, যা দ্বারা জরুরিয়াতে দীনের জ্ঞান অর্জিত হয়, বিষয়গুলো তাদের কাছে সুবিদিত।
এটা কিছু মানুষের অর্জিত হবে আর কিছু মানুষের হবে না। শরিয়তের সঙ্গে সম্পর্কের আধিক্য, স্বল্পতা বা মোটেও সম্পর্ক না থাকার ভিত্তিতে এর তারতম্য হবে। প্রথম প্রকারকে যে আলিম বা সাধারণ মানুষ অস্বীকার করবে, সে কাফির হয়ে যাবে। কারণ, সে রাসুল -কে তাঁর সংবাদের ক্ষেত্রে অস্বীকার করেছে।
এই প্রকারের উদাহরণ হলো, সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজ ইত্যাদির আবশ্যকতা অস্বীকার করা এবং রাসুলের রিসালাতকে কিছু মানুষের সঙ্গে সীমাবদ্ধ বলে অভিহিত করা। যে ব্যক্তি এরূপ কথা বলবে, তার কুফরের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এমনকি সে যদি এ কথাও স্বীকার করে যে, রাসুল তার কাছে রাসুল, তবু সে কাফির। কারণ, তিনি ব্যাপকভাবে সকল মানুষের কাছে প্রেরিত হওয়ার বিষয়টি জরুরিয়াতে দীন, যা আলিম ও সাধারণ জনতা সবাই জানে।
দ্বিতীয় প্রকার হলো, কোনো সাধারণ মানুষ যদি তা অস্বীকার করে, শরিয়তের সঙ্গে যার এতটুকু সম্পর্ক নেই, যা দ্বারা জরুরিয়াতে দীনের জ্ঞান অর্জন হয়। যদিও শরিয়তের সঙ্গে অধিক সম্পর্ক আলিমদের জন্য এসব ব্যাপারে আবশ্যিক জ্ঞান অপরিহার্য করে। এ প্রকারের উদাহরণ হলো, জিনদের উদ্দেশে রাসুলের রিসালাতের ব্যাপকতা। কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার দলিলসমূহের সঙ্গে আমাদের অধিক সম্পর্ক থাকার সুবাদে আমরা আবশ্যিকভাবে বিষয়টি জানি; কিন্তু যে-সকল সাধারণ মানুষের এই জ্ঞান অর্জিত হয়নি, সে যদি বিষয়টি অস্বীকার করে আর রাসুলের রিসালাত শুধু মানবজাতির জন্য সীমাবদ্ধ বলে কালিমার সাক্ষ্য দেয়, তাহলে আমি তার ওপর কুফরের আশঙ্কা করি, যেমনটা এই ফাতওয়ার শুরুতে বলে এসেছি। আর সে যদি শুধু এই সাক্ষ্য দেয় যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ আর এই সাক্ষ্যকে সীমাবদ্ধ করে ফেলার দিকে মনোযোগ না দেয়, তাহলে আমি তার ওপর কুফরের ফাতওয়া আরোপ করা সংগত মনে করি না। কারণ, কালিমার সাক্ষ্যকে ব্যাপক রাখলে জিনদের জন্য রাসুলের দাওয়াতের ব্যাপকতা অস্বীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। তবে এ ক্ষেত্রে তাকে তাকফির না করা হলেও দীনের ব্যাপারে এই অজ্ঞতাপ্রসূত মন্তব্যের কারণে আদব শিখিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে আদেশ করা হবে, সে যেন এ ব্যাপারে হক বিষয়টি জেনে নেয়, যাতে তার সংশয় দূর হয়, যা (এ ব্যাপারে তার) অস্বীকার অপরিহার্য করেছিল।

টিকাঃ
২৭২ যেমন: সে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ একমাত্র মানবজাতির নবি।
১৯৭ ফাতাওয়াস সুবকি: ২/৬২১; আল-ফাতাওয়াল হাদিসিয়া: ২৬৯।

📘 কুফর ও তাকফির > 📄 উসুলুল ফিকহের বিশ্লেষণ

📄 উসুলুল ফিকহের বিশ্লেষণ


হানাফি মাজহাবের উসুলুল ফিকহের গ্রন্থসমূহ যারা পড়েছেন, তাদের অজানা নয় যে, হানাফি ফকিহগণ ফরজ ও ওয়াজিব পরিভাষার মধ্যে পার্থক্য করে থাকেন। যেসব বিধান এমন নুসুস দ্বারা সাব্যস্ত, যা প্রামাণিকতার বিচারে অকাট্য এবং অর্থ প্রকাশেও অকাট্য ও দ্ব্যর্থহীন, সেগুলোকে তারা ফরজ বলে থাকেন। পক্ষান্তরে প্রামাণিকতা বা অর্থ প্রকাশ-কোনো একটির ক্ষেত্রে যদি অকাট্যতা না থাকে, তবে অপরটি অকাট্য হয়, তাহলে ফকিহগণ সেটাকে ওয়াজিব বলেন। ফরজ বিধান আকিদা ও আমল উভয়টি অপরিহার্য করে। সুতরাং কেউ যদি তা অস্বীকার করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যায়। অপরদিকে ওয়াজিব বিধান আমল অপরিহার্য করলেও আকিদা অপরিহার্য করে না। তাই কেউ তা অস্বীকার করলে ফাসিক ও গোমরাহ হলেও কাফির হয় না। ১৯৭৪ এর দ্বারা বোঝা গেল, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রবিদগণ তাকফিরের ভিত্তি রেখেছেন অকাট্য বিধান অস্বীকারের ওপর; এটাকে তারা জরুরিয়াতে দীন অস্বীকারের সঙ্গে সীমাবদ্ধ করেননি।
একইভাবে মুতাওয়াতির ও মাশহুর সুন্নাহ এবং ইজমা প্রসঙ্গেও তারা তাকফিরের আলোচনা করে থাকেন। সেখানেও তাকফিরের মূল কারণ হিসেবে অকাট্য বিধান অস্বীকারের কথা বলেন। যেহেতু ইজমা ও মুতাওয়াতির উভয়টিই অকাট্য ইলম অপরিহার্য করে আর মাশহুরকেও অনেকে মুতাওয়াতিরের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করে থাকেন, তাই এগুলো অস্বীকারের কারণে তারা তাকফিরের ফাতওয়া আরোপ করেন。

টিকাঃ
১৯৭৪ দ্রষ্টব্য-উসুলুস সারাখসি : ১/১১০; উসুলুল বাজদাওয়ি মাআ কাশফিল আসরার: ২/৩০৩।
১৯৯০ দ্রষ্টব্য-নুরুল আনওয়ার: ৬২৯, ৫০৩; উসুলুশ শাশি : ২৭২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00