📄 জরুরিয়াতে দীন
১. জরুরিয়াতে দীনের পরিচয়
জরুরিয়াতে দীন হলো ইসলামের সেসব মৌলিক বিষয়, যার জ্ঞান এতটা ব্যাপক ও প্রসিদ্ধ যে, তা বোঝার জন্য কোনো দলিল-প্রমাণের প্রয়োজন হয় না; বরং তা আলিম ও সাধারণ দীনদার শ্রেণির কাছে সুস্পষ্টভাবে জানা থাকে। কথাটি এভাবেও বলা যায়, 'জরুরিয়াতে দীন' ইসলামের অধিভুক্ত সেসব বিষয়কে বলে, যা সন্দেহাতীতভাবে যুগপরম্পরায় আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং উম্মাহর সাধারণ দীনদার শ্রেণিও যেসব বিষয়কে নবিজির শিক্ষা বলে জানে। আলিমগণের পরিভাষায় এ ধরনের বিষয়কে 'জরুরিয়াতে দীন' বলা হয়। যেমন: আল্লাহ একমাত্র মাবুদ, তাঁর কোনো শরিক নেই। মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর রাসুল ও শেষ নবি। কিয়ামত ও আখিরাত সত্য। কুরআন আল্লাহর নাজিল করা কিতাব। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ। পবিত্র মক্কা নগরীর কাবাঘর হলো মুসলিমদের কিবলা ইত্যাদি। এগুলো এমন বিষয়, ইসলাম ও তাঁর নবি সম্পর্কে যার সামান্য জানাশোনা আছে, সে-ই নিশ্চিতভাবে জানে যে, নবিজি উম্মাহকে এসব বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন। এতে সন্দেহ পোষণের কোনো অবকাশ নেই।
সুতরাং মুসলিম হওয়ার জন্য এ জাতীয় বিষয়ের অস্বীকার থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। কেননা, এ ধরনের বিষয় অস্বীকারের অর্থ হলো সরাসরি নবিজির শিক্ষা ও পথনির্দেশকে অস্বীকার করা, যার পর ইসলামের সঙ্গে তার আর কোনো সম্পর্কই বাকি থাকে না।
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশমিরি রাহ. লেখেন,
والمراد "بالضروريات" على ما اشتهر في الكتب ما علم كونه من دين محمد ﷺ بالضرورة، بأن تواتر عنه واستفاض، وعلمته العامة، كالوحدانية، والنبوة، وختمها بخاتم الأنبياء، وانقطاعها بعده.
'জরুরিয়াতে দীনের প্রসিদ্ধ সংজ্ঞা হচ্ছে এমন সব বিষয়, যা মুহাম্মাদ ﷺ -এর দীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি আবশ্যিকভাবে সুবিদিত। আর তা এভাবে যে, বিষয়গুলো রাসুল থেকে সন্দেহাতীতভাবে যুগপরম্পরায় আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং জনসাধারণও তা জানে। যেমন: একত্ববাদ, নবুওয়াত, রাসুল সর্বশেষ নবি হওয়া এবং তাঁর পরে নবি পাঠানোর ধারার পরিসমাপ্তি ইত্যাদি。
বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তিনি লেখেন,
سمي: ضرورياً، لأن كل أحد يعلم أن هذا الأمر مثلاً من دين النبي ﷺ ، ولابد، فكونها من الدين ضروري وتدخل في الإيمان، لا يريدون أن الإتيان بها بالجوارح لا بد منه، كما يتوهم، فقد يكون استحباب شيء أو إباحته ضرورياً يكفر جاحده، ولا يجب الإتيان به، فالضرورة في الثبوت عن حضرة الرسالة، وفي كونه من الدين، لا من حيث العمل، ولا من حيث الحكم المتضمن، فقد يكون حديث متواتراً ويعلم ثبوته عنه ﷺ ضرورة، ولا بد، ويكون الحكم المتضمن فيه نظرياً من حيث العقل، كحديث عذاب القبر، ثبوته عنه ﷺ مستفيض، وفهم كيفية العذاب مشكل.
'এ বিষয়গুলোকে “জরুরিয়াত” নামে নামকরণের কারণ হলো, তা রাসুলের দীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারটি সবাই জানে। সুতরাং এগুলো দীন ও ইমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি আবশ্যকীয় (তত্ত্বীয় নয়)। “জরুরিয়াত” শব্দ দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে, এগুলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা পালন করা আবশ্যক, যেমনটা কেউ কেউ ভুলবশত ধারণা করে। কখনো এমন হয়, একটা বিষয়ের মুসতাহাব বা বৈধ হওয়ার ব্যাপারটি জরুরিয়াতে দীন হয়ে থাকে, যা অস্বীকারকারীকে তাকফির করা হয়। অথচ তা আমল করা অপরিহার্য নয়। সুতরাং আবশ্যক হচ্ছে, রাসুল ﷺ থেকে সাব্যস্ত হওয়া এবং দীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিবেচনায়; আমলের বিবেচনায় নয় এবং তার অন্তর্ভুক্ত বিধানের বিবেচনায়ও নয়। কখনো এমন হয়, একটা হাদিস মুতাওয়াতির এবং তা রাসুল ﷺ থেকে সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি আবশ্যিকভাবে বিদিত; কিন্তু তার অন্তর্ভুক্ত বিধানটি আকলের বিবেচনায় তত্ত্বীয়। যেমন : জাহান্নামের শাস্তি। এ বিষয়টি রাসুল ﷺ থেকে প্রমাণিত হওয়া স্বতঃসিদ্ধ; কিন্তু আজাবের পদ্ধতি উপলব্ধি করা দুরূহ।’
আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি রাহ. লেখেন,
والمراد حصول العلم الضروري بثبوته عن النبي ﷺ ، لا كون الثابت ضروريا. وهذا العلم إنما يحصل بالتواتر.
'উদ্দেশ্য হলো, তা রাসুল ﷺ থেকে প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারে আবশ্যকীয় জ্ঞান থাকবে। যা প্রমাণিত, তা (আমলের বিবেচনায়) আবশ্যক হতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। আর এই জ্ঞান অর্জিত হয় তাওয়াতুর (প্রজন্ম পরম্পরায় অবিচ্ছিন্নভাবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের দ্বারা) আমাদের কাছে পৌঁছার মাধ্যমে, (যারা মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব)।
সুতরাং বোঝা গেল, কোনো বিষয় জরুরিয়াতে দীন হওয়ার অর্থ এটা নয় যে, তা ফরজ-ওয়াজিব হতে হবে; বরং সাধারণ মুসতাহাব ও বৈধ বিষয়ও জরুরিয়াতে দীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। মূলত বিবেচ্য হলো, কোন বিষয়টি তাওয়াতুর দ্বারা আমাদের কাছে পৌঁছেছে। যা কিছু তাওয়াতুর দ্বারা আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং সর্বশ্রেণির দীনদার মুসলিম যে ব্যাপারে অবগত, তা-ই জরুরিয়াতে দীন বলে বিবেচিত হবে। তাওয়াতুর শুধু হাদিসের বর্ণনাসূত্রের দ্বারা হয় না; বরং বিভিন্নভাবেই হতে পারে। আল্লামা কাশমিরি রাহ. বলেন,
ثم إن التواتر قد يكون من حيث الإسناد: كحديث: "من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار"، ذكر في "الفتح": أنه ثبت صحيحاً وحسناً من طريق ثلاثين صحابياً... وقد يكون من حيث الطبقة، كتواتر "القرآن"، تواتر على البسيطة شرقاً وغرباً، درساً وتلاوة وقراءة، وتلقاه الكافة عن الكافة طبقة عن طبقة، اقرأ وارق إلى حضرة الرسالة، ولا تحتاج إلى إسناد يكون عن فلان عن فلان. وقد يكون تواتر عمل وتواتر توارث، وقد تجتمع أقسام كما في أشياء من: الوضوء كالسواك من المضمضة، والاستنشاق. ثم إن التواتر يزعمه بعض الناس قليلاً، وهو في الواقع يفوت الحصر في شريعتنا، ويعجز الإنسان أن يفهرسه، ويذهل الإنسان عن التفاته، فإذا التفت إليه رآه متواتراً، وهذا كالبديهي كثيراً ما يذهل عنه ويحفظ النظري. وإذا علمت هذا فنقول: الصلاة فريضة، واعتقاد فرضيتها فرض، وتحصيل علمها فرض, وجحدها كفر, وكذا جهلها، والسواك سنة، وإعتقاد سنيته فرض, وتحصيل علمه سنة, وجحودها كفر, وجهله حرمان, وتركه عتاب أو عقاب. ثم أثبتنا في الفصول الآتية إجماع أهل الحل والعقد على أن تأويل الضروريات وإخراجها عن صورة ما تواتر عليه، وكما جاء، وكما فهمه، وجرى عليه أهل التواتر, أنه كفر. وذهبت الحنفية بعد هذا إلى أن إنكار الأمر القطعي وإن لم يبلغ إلى حد الضرورة কفر।
صرح به الشيخ ابن الهمام في "المسايرة" وهو متجه من حيث الدليل.
'তাওয়াতুর কখনো বর্ণনাসূত্রের বিবেচনায় হয়। যেমন, “যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামকে নিজের আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করে নেয়।” ফাতহুল বারি গ্রন্থে বলা হয়েছে, এই হাদিসটি ৩০ জন সাহাবি থেকে সহিহ ও হাসান সনদে প্রমাণিত রয়েছে।
তাওয়াতুর কখনো শ্রেণিগত বিবেচনায়ও হয়। যেমন, কুরআনের তাওয়াতুর। প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পুরো পৃথিবীতেই দারস, তিলাওয়াত ও পাঠের দ্বারা তা মুতাওয়াতির হয়ে আছে। সর্বযুগের লোকেরাই পূর্বযুগের লোকদের থেকে এই কুরআন পেয়েছে। এভাবে যুগ-পরম্পরায় আমাদের সূত্র রাসুল ﷺ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এর আলাদা কোনো বর্ণনাসূত্রের প্রয়োজন পড়ে না যে, অমুক অমুকের থেকে বর্ণনা করেছে।
তাওয়াতুর কখনো আমল ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের উত্তরাধিকারের বিবেচনায় হয়। কিছু কিছু বিধানের মধ্যে তিন প্রকারের তাওয়াতুর সমষ্টিগতভাবে বিদ্যমান থাকে। যেমন: অজুতে মিসওয়াক করা, কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া।
অনেকে (তাওয়াতুরের এই তিন প্রকার সম্পর্কে জ্ঞান না রাখার কারণে) মুতাওয়াতিরের সংখ্যা অনেক কম মনে করে থাকে; অথচ আমাদের শরিয়তে মুতাওয়াতিরের সংখ্যা অগণিত, যা মানুষের গণনা ও তালিকাভুক্ত করা অসম্ভব।
কিছু কিছু বিধান এমন রয়েছে, যেগুলো মুতাওয়াতির হওয়া সত্ত্বেও আমরা সে সম্পর্কে উদাসীন; কিন্তু সামান্য চিন্তাভাবনা করলেও আমরা তাকে মুতাওয়াতির হিসেবে পাই। এর দৃষ্টান্ত হলো, কখনো মানুষ একেবারে সুস্পষ্ট বিষয়ের প্রতি লক্ষ না করে তত্ত্বীয় বিষয় মুখস্থ করা শুরু করে দেয়।
জরুরিয়াতে দীন ও মুতাওয়াতিরের পরিচয় জানার পর আমরা এর আলোকে এ কথা বলতে পারি, সালাত আদায় করা ফরজ। সালাত ফরজ হওয়ার আকিদা পোষণ করাও ফরজ। সালাত শিক্ষা করা ফরজ। সালাত অস্বীকার করা বা এর ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা কুফর। অপরদিকে মিসওয়াক করা সুন্নাত। তবে তা সুন্নাত হওয়ার আকিদা পোষণ করা ফরজ। মিসওয়াকের জ্ঞান অর্জন করা সুন্নাত। তবে মিসওয়াক সুন্নাত হওয়ার বিধান অস্বীকার করা কুফর। এর জ্ঞান অর্জন করা থেকে বিরত থাকলে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত থাকবে। আর এর ওপর আমল করা ত্যাগ করলে সুন্নাত ত্যাগের কারণে যে শাস্তি ও তিরস্কারের কথা রয়েছে, সে তার উপযুক্ত হবে।
আমরা সামনে এ ব্যাপারে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদের ইজমা উল্লেখ করব যে, জরুরিয়াতে দীনের মধ্যে এমন অপব্যাখ্যা করা কুফর, যা দ্বারা তার ধারাবাহিক সূত্রে প্রমাণিত মূল রূপ পরিবর্তন হয়ে যায়। বিধানটি যেভাবে এসেছে, মানুষ এর যে অর্থ ও মর্ম বুঝেছে এবং অবিচ্ছিন্নভাবে প্রতি যুগে এর ওপর যেভাবে আমল হয়েছে, তা বিকৃত হয়ে যায়।
হানাফি আলিমগণের মত হলো, কোনো অকাট্য বিষয় অস্বীকার করাও কুফর, যদিও তা জরুরিয়াতে দীনের পর্যায়ে না পৌঁছায়। ইবনুল হুমাম রাহ. মুসায়ারা গ্রন্থে এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। দলিলের বিচারে এটি সঠিক।
এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, কোন কোন বিষয় জরুরিয়াতে দীনের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবে, এর ভিত্তি হচ্ছে প্রসিদ্ধির ওপর। সুতরাং কখনো এমনও হতে পারে, একটি বিষয় কোনো সম্প্রদায়ের কাছে স্বতঃসিদ্ধ ও সর্বজনবিদিত; কিন্তু অপর কোনো সম্প্রদায়ের কাছে তা শুধু জ্ঞানীদের মধ্যেই পরিচিত ও সুবিদিত। সাধারণ দীনদার শ্রেণি সে ব্যাপারে অবগত নয়। আবার এমনও হতে পারে, একটি বিষয় পূর্বের শতাব্দীগুলোতে সর্বজনবিদিত ছিল; কিন্তু এই শতাব্দীতে এসে তার চর্চা ও প্রসিদ্ধি কমে যাওয়ায় তা আর সর্বজনবিদিত থাকেনি। সুতরাং কোন বিষয়টি জরুরিয়াতে দীনের অন্তর্ভুক্ত হবে, তা নির্ধারণের জন্য প্রাচীন গ্রন্থাবলির সাহায্য নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সমাজ ও পরিবেশ-পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে। ইমাম ইবনু হাজার হাইতামي রাহ. লেখেন,
قَدْ يَكُونُ الشَّيْئُ مُتَوَاتِرًا مَعْلُومًا بِالضَّرُورَةِ عِنْدَ قَوْمٍ دُونَ غَيْرِهِمْ، فَيَكْفُرُ مَنْ تَوَاتَر عِنْدَهُ دُونَ غَيْرِهِ.
'কখনো একটি বিষয় এক সম্প্রদায়ের কাছে মুতাওয়াতির এবং আবশ্যিকভাবে বিদিত থাকে; কিন্তু অপর কোনো সম্প্রদায়ের কাছে তা এমন থাকে না। সুতরাং যাদের কাছে বিষয়টি মুতাওয়াতির, তাদের তাকফির করা হবে; কিন্তু যাদের কাছে বিষয়টি মুতাওয়াতির নয়, তাদের তাকফির করা যাবে না।’
একটি হাদিস থেকেও আল্লামা হাইতামি রাহ.-এর বক্তব্যের পক্ষে সমর্থন পাওয়া যায়। হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রা. বর্ণনা করেন; রাসুল বলেছেন,
يَدْرُسُ الْإِسْلَامُ كَمَا يَدْرُسُ وَشْيُ الثَّوْبِ، لَا يُدْرَى مَا صِيَامُ وَلَا صَدَقَةٌ وَلَا نُسُكُ، وَيُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي لَيْلَةٍ فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ آيَةٌ، وَيَبْقَى طَوَائِفُ مِنَ النَّاسِ : الشَّيْخُ الْكَبِيرُ، وَالْعَجُوزُ الْكَبِيرَةُ، يَقُولُونَ: أَدْرَكْنَا آبَاءَنَا عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَنَحْنُ نَقُولُهَا " فَقَالَ صِلَةُ: فَمَا تُغْنِي عَنْهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَا يَدْرُونَ مَا صِيَامُ وَلَا صَدَقَةٌ وَلَا نُسُكُ؟ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حُذَيْفَةُ فَرَدَّدَ عَلَيْهِ ثَلَاثًا كُلُّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فِي الثَّالِثَةِ، فَقَالَ: «يَا صِلَةُ تُنْجِيهِمْ مِنَ النَّارِ ، تُنْجِيهِمْ مِنَ النَّارِ، تُنْجِيهِمْ مِنَ النَّارِ»
ইসলাম মলিন হয়ে যাবে, যেভাবে কাপড়ের নকশা মলিন হয়ে যায়। মানুষ জানবে না সিয়াম কী, সাদাকা কী, কুরবানি কী। একরাতের মধ্যে আল্লাহর কিতাব (কুরআন) উঠিয়ে নেওয়া হবে; ফলে পৃথিবীতে তার একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না। মানুষের মধ্যে অধিক বয়স্ক কতিপয় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থাকবে, যারা বলবে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এই কালিমা পাঠ করতে দেখেছি, তাই আমরাও তা পাঠ করছি। বর্ণনাকারী সিলাহ রাহ. বললেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তাদের কী কাজে আসবে; অথচ তারা সিয়াম, সাদাকা ও কুরবানি কী, তা জানে না? হুজায়ফা রা. এ কথা শুনে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সিলাহ রাহ. তিনবার এই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলেন। প্রতিবার হুজায়ফা রা. তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তৃতীয়বার তার দিকে ফিরে বললেন, 'হে সিলাহ, এই কালিমা জাহান্নাম থেকে তাদের বাঁচাবে। এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাবে। এই কালিমা জাহান্নাম থেকে তাদের বাঁচাবে।
নিশ্চয়ই সিয়াম, সাদাকা ও কুরবানি জরুরিয়াতে দীনের অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু তাদের কাছে এই মৌলিক বিষয়গুলোই থাকবে অজ্ঞাত। এতৎসত্ত্বেও বর্ণনার শেষাংশ দ্বারা অনুমিত হচ্ছে, এমন ভয়াবহ অজ্ঞতা থাকার পরও তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্যের কারণে তারা মুমিন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তারা একদিন জাহান্নাম থেকেও নিষ্কৃতি পাবে।
জরুরিয়াতে দীনের অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয় জনসাধারণের প্রত্যেকের জানা থাকা অপরিহার্য নয়; বরং সব শ্রেণির দীনদার ব্যক্তিদের জানা থাকাই যথেষ্ট। ইমাম ইবনু হাজার হাইতামي রাহ. লেখেন,
وقوله فَمَا القدر المَعْلُوم من الدين بِالضَّرُورَةِ؟ جَوَابه: أنه قد سبق ضابطه وَهُوَ أَن يكون قطعيا مَشْهُورا بِحَيْثُ لا يخفى على العامة المخالطين للعُلَماء بأن يعرفوه بداهة من غير إفتقار إلى نظر واستدلال.
'বাকি থাকল এই আলোচনা যে, জরুরিয়াতে দীনের মোট সংখ্যা কত? এর উত্তর হলো, পূর্বে এর মূলনীতি উল্লিখিত হয়েছে। ইসলামের কিছু বিধান এতটাই অকাট্য ও সুপ্রসিদ্ধ যে, তা শুধু আলিমদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এমন নয়; বরং জনসাধারণের কাছেও তা অস্পষ্ট নয়। তারা গবেষণা ও যুক্তি-প্রমাণ ছাড়াই সুস্পষ্টভাবে তা চেনে।
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশমিরি রাহ. ইকফারুল মুলহিদিন গ্রন্থের টীকায় লেখেন, 'জরুরিয়াতে দীনের ক্ষেত্রে যে ব্যাপক প্রসিদ্ধির কথা বলা হয়, এর মাপকাঠি হলো সর্বসাধারণের প্রত্যেক শ্রেণির কাছে তার জ্ঞান পৌঁছে যাওয়া। প্রত্যেক শ্রেণির কাছে জ্ঞান পৌঁছাই যথেষ্ট; প্রত্যেক সদস্যের তা অবগত হওয়া জরুরি নয়। একইভাবে সর্বসাধারণের ওই শ্রেণির অবগত হওয়ারও দরকার নেই, যারা দীন ও শরিয়তের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই রাখে না; বরং সর্বসাধারণের মধ্য থেকে শুধু ওই শ্রেণি পর্যন্ত তার জ্ঞান পৌঁছে যাওয়া জরুরি, যারা দীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে; তারা আলিম-উলামার দলভুক্ত হোক বা না হোক।'
২. জরুরিয়াতে দীনের সংখ্যা
পূর্বে জরুরিয়াতে দীন চিহ্নিতকরণের মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ব্যাপক প্রসিদ্ধির বিষয়টি যে আপেক্ষিক, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে অধিকাংশ মানুষ যেহেতু জরুরিয়াতে দীনের সংখ্যা খুবই কম মনে করে থাকে, এ জন্য প্রসঙ্গক্রমে এর কিছু দৃষ্টান্ত এখানে উল্লেখ করা যায়। এখন (১৪৪২ হিজরি) থেকে ৬৮ বছর আগে ১৩৭৪ হিজরিতে আল্লামা ইউসুফ বানুরি রাহ. কিয়ামতের পূর্বে ইসা আ.-এর অবতরণের ব্যাপারে অত্যন্ত উপকারী ও গবেষণালব্ধ একটি নিবন্ধ লেখেন। সেখানে তিনি জরুরিয়াতে দীন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পর ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, আকিদা ও উসুলুল হাদিসের গ্রন্থাদি থেকে এর ৫১টি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন,
'জরুরিয়াতে দীনের উদাহরণ প্রসঙ্গে উম্মাহর আলিমগণ নিজ নিজ গ্রন্থে মাত্র দু-চারটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে থাকেন। তা দেখে পাঠক ভুল ধারণা করে বসে যে, জরুরিয়াতে দীন বোধ হয় এই কয়েকটি মাত্র! অথচ এ সকল আকাবিরের উদ্দেশ্য ছিল শুধু উদাহরণ দেওয়া; সবগুলো উল্লেখ করা কিংবা সীমাবদ্ধ বা বিশেষায়িত করা নয়। এই ভুল ধারণা দূর করতে আমরা এখানে এর উদাহরণগুলো একত্রে উল্লেখ করব, যেগুলো হালকা দৃষ্টিতেই ধরা পড়ে। সংক্ষিপ্ত এই তালিকা দেখে যাতে এই বাস্তবতা সুস্পষ্ট হয় যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল শুধুই উদাহরণ দেওয়া; পূর্ণাঙ্গ তালিকা উল্লেখ করা নয়। ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, আকিদা ও উসুলুল হাদিসের গ্রন্থাদিতে এই দৃষ্টান্তগুলোর বিবরণ পাওয়া যায়-
আল্লাহর ইলম (জ্ঞান), সর্বব্যাপী কুদরত (ক্ষমতা-কর্তৃত্ব), পরিপূর্ণ ইচ্ছা, কালাম গুণ-আল কুরআন, আল্লাহর গুণসমূহের নিত্যতা (চিরন্তনতা ও অবিনশ্বরতা), গোটা সৃষ্টিজগৎ অনিত্য ও সৃষ্ট হওয়া, দৈহিক পুনরুত্থান, কবরের আজাব, পুরস্কার ও শান্তি, কিয়ামতের দিন আল্লাহর দর্শন, শাফাআতে কুবরা, হাউজে কাউসার, ফেরেশতাদের অস্তিত্ব, কিরামান কাতিবিনের অস্তিত্ব, খতমে নবুওয়াত, নবুওয়াত স্রষ্টাপ্রদত্ত হওয়া, মুহাজির ও আনসারদের মানহানির অবৈধতা, আহলে বাইতের ভালোবাসা, আবু বকর ও উমর রা.-এর খিলাফত, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, ফরজ রাকাআত-সংখ্যা, সিজদার সংখ্যা, রমজানের রোজা, জাকাত, জাকাতের পরিমাণ, হজ, আরাফায় অবস্থান, তাওয়াফের সংখ্যা, জিহাদ, সালাতে কাবামুখী হওয়া, জুমুআ, দুই ইদ, মোজার ওপর মাসাহের বৈধতা, রাসুলকে গালি দেওয়ার অবৈধতা, আবু বকর ও উমর রা.-কে গালি দেওয়ার অবৈধতা, আল্লাহর দেহ না থাকা, আল্লাহর হুলুল (অবতারিত) না হওয়া, হারামসমূহকে হালাল মনে না করা, বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথরের আঘাতে হত্যা করা, রেশমের পোশাক হারাম হওয়া, ব্যবসার বৈধতা, ফরজ গোসল, মায়েদের বিয়ে করার অবৈধতা, কন্যাদের বিয়ে করার অবৈধতা, মাহরামদের বিয়ে করার অবৈধতা, মদ হারাম হওয়া, জুয়া হারাম হওয়া। আপাতত এই ৫১টি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হলো।’
ইমাম ইবনু হাজার হাইতামি রাহ.-ও জরুরিয়াতে দীনের ওপর সুদীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি জরুরিয়াতে দীনকে দু-ভাগে ভাগ করেছেন, (ক) আকিদাগত, (খ) আমলগত। এরপর উভয় প্রকারের অনেক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে কিছু দৃষ্টান্তের বিবরণ আল্লামা ইউসুফ বানুরি রাহ.-এর আলোচনায় চলে এসেছে। এ ছাড়াও আরও ৪০-এরও অধিক দৃষ্টান্ত তিনি উল্লেখ করেছেন, যার বিবরণ বানুরির আলোচনায় আসেনি। এ দুজন মনীষীর আলোচনাকে সামনে রাখলেই প্রায় শ-খানেক জরুরিয়াতে দীনের বিবরণ উঠে আসে।
৩. জরুরিয়াতে দীন অস্বীকার করার বিধান
এ ব্যাপারে সকল ফকিহ একমত যে, জরুরিয়াতে দীনের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি বিষয়ের ওপর ইমান আনা ফরজ। এর কোনোটি অস্বীকার করা কিংবা এর ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া বা তাওয়িল করা কুফর। ইমাম ইবনুল হুমাম এবং আবুল মাআলি কামালুদ্দিন মাকদিসি রাহ. লেখেন,
(و) أنه قد اختلف) أي اختلف أهل السنة ( في تكفير المخالف) في بعض العقائد (بعد الاتفاق) منهم على أن ما كان من أصول الدين وضرورياته) وهذا العطف كالتفسير أي من الأصول المعلومة من الدين ضرورة (يكفر المخالف فيه) أي يحكم بكفره بمخالفته فيه.
'আহলুস সুন্নাহ এ ব্যাপারে একমত যে, যারা জরুরিয়াতে দীনের ক্ষেত্রে বিরোধিতা করবে তারা কাফির। তবে জরুরিয়াতে দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন কোনো আকিদার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করলে কাফির হবে কি না, এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে。
আল্লামা আবুল বাকা আইয়ুব ইবনু মুসা হানাফি রাহ. লেখেন,
أما منكر شيئ من ضروريات الدين، فلا نزاع في إكفاره.
'যে ব্যক্তি জরুরিয়াতে দীনের কোনো বিষয় অস্বীকার করবে, তাকে তাকফির করার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই。
আল্লামা কাজي আজদুদ্দিন রাহ. লেখেন,
لا نكفر أحدا من أهل القبلة إلا بما فيه نفي للصانع أو ما علم مجيئه ضرورة أو لمجمع عليه كاستحلال المحرمات.
‘আমরা আহলে কিবলার কাউকে তাকফির করি না, তবে (সে ক্ষেত্রে তাকফির করি, সে) সে যদি এমন কিছু করে, যা দ্বারা স্রষ্টার অস্তিত্ব নাকচ হয়; অথবা জরুরিয়াতে দীন বা সর্বসম্মত কোনো বিষয় অস্বীকার হয়। যেমন, হারামসমূহকে হালাল মনে করা。
ইমাম ইবনু হাজার হাইতামي রাহ. লেখেন,
اعلم أن التردد في المعلوم من الدين بالضرورة كالإنكار.
'জেনে রেখো, জরুরিয়াতে দীনের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়াও অস্বীকারের মতোই。
ইমাম ইবনুল ওয়াজির ইয়ামানি রাহ. লেখেন,
لا خلاف في كفر من جحد ذَلِكَ الْمَعْلُوم بِالضَّرُورَةِ الْجَمِيع وتستر باسم التَّأْوِيل فيما لا يُمكن تأويله كالملاحدة في تأويل جميع الْأَسْمَاء الحسنى بل جميع الْقُرْآن والشرائع والمعاد الأخروي من الْبَعْثِ وَالْقِيَامَةِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ.
'যে ব্যক্তি জরুরিয়াতে দীনের কোনো বিষয় অস্বীকার করবে এবং যে ক্ষেত্রে তাওয়িল সম্ভব নয়, সেখানে তাওয়িল করবে, তার কুফরের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। যেমন : মুলহিদরা আল্লাহর সুন্দর নামগুলোতে তাওয়িল করে; বরং তারা পুরো কুরআন, শরিয়ত, পারলৌকিক পুনরুত্থান, কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয়েও তাওয়িল করে থাকে。
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশমিরি রাহ. লেখেন,
أن التصرف في ضروريات الدين، والتأول فيها، وتحويلها إلى غير ما كانت عليه، واخراجها عن صورة ما تواترت عليه كفر، فإن ما تواتر لفظاً أو معنى، وكان مكشوف المراد، فقد تواتر مراده، فتأويله رد للشريعه القطعية، وهو كفر بواح، وإن لم يكذب صاحب الشرع، وإنه ليس فيه إلا الإستتابة
'জরুরিয়াতে দীনের মধ্যে হস্তক্ষেপ করা, এর মধ্যে তাওয়িল করা, একে মুতাওয়াতিরভাবে চলে আসা স্বরূপ থেকে বের করে ভিন্নরূপে পরিবর্তিত করা নিশ্চিতভাবে কুফর। কারণ, যা শাব্দিক বা অর্থগতভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম- পরম্পরায় মুতাওয়াতিরভাবে চলে এসেছে এবং যার অর্থও সুস্পষ্ট, তার উদ্দিষ্ট মর্মও মুতাওয়াতির। সুতরাং এর ভিন্ন ব্যাখ্যা করা অকাট্য শরিয়াকে প্রত্যাখ্যান করার নামান্তর, যা সুস্পষ্ট কুফর-যদিও সে প্রত্যক্ষভাবে শরিয়ত-প্রণেতাকে অস্বীকার করেনি। এ অপরাধের একমাত্র শাস্তি হলো তাকে আবশ্যিকভাবে তাওবা করতে বলা হবে। '
টিকাঃ
২২৬ ইকফারুল মুলহিদিন: ২
২২৭ ইকফারুল মুলহিদিন: ২
২২৮ ফাতহুল মুলহিম: ১/৪০৫।
২২৯ বর্ণনাসূত্রের তাওয়াতুর হলো, কোনো হাদিসের বর্ণনাকারী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এত বেশি পরিমাণে হওয়া, যাঁরা যেকোনো যুগে একত্রিত হওয়া ও সর্বসম্মতভাবে কোনো অমূলক কথাকে হাদিস বলে চালিয়ে দেওয়া অসম্ভব।
২৩০ প্রত্যেক যুগের লোকই তাদের পূর্ববর্তী লোকদের থেকে অবিচ্ছিন্নভাবে দীনের স্বীকৃত যেসব বিষয় পাচ্ছে এবং বর্ণনা করছে, সেগুলোকে শ্রেণিগত তাওয়াতুর বলা হয়।
২৩১ প্রত্যেক যুগের লোকেরা দীনের যেসব বিষয়ের ওপর আমল করে আসছে এবং যেগুলোর ওপর অটল রয়েছে, সেই বিষয়গুলো মুতাওয়াতির।
২৩২ ইকফারুল মুলহিদিন: ৩।
২৩৩ আল-ফাতাওয়াল হাদিসিয়া: ১৫৮।
২০৪ আল-মুসতাদরাক, হাকিম: ৮৪৬০। ইমাম হাকিম রাহ. হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন, هَذَا حَدِيثُ صَحِيحُ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ، وَلَمْ يُخْرِجَاهُ।
এই হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুসারে সহিহ। তবে ইমাম বুখারি ও মুসলিম রাহ. এটি বর্ণনা করেননি। ইমাম জাহাবিও তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করেননি।
*** আল-ফাতাওয়াল হাদিসিয়া: ১৪১।
** ইকফারুল মুলহিদিন: ২।
২৩৮ ইহতিসাবে কাদিয়ানিয়াত: ১৬/২৬৬।
২০৯ আল-ফাতাওয়াল হাদিসিয়া: ২৬৬-২৬৭।
২০০ আল-মুসামারা ফি শারহিল মুসায়ারা: ৩১৬।
২৪১ আল-কুল্লিয়াত: ৭৬৫।
২৪২ আল-মাওয়াকিফ: ৩/৭১৭।
২৪০ আল-ফাতাওয়াল হাদিসিয়া: ১৪২।
২৪৪ ইসারুল হাক্কি আলাল খালক: ১/৩৭৭।
২৪৫ ইকফারুল মুলহিদিন: ১২৮